27/08/2021
জিয়ার নেতৃত্বে সর্বপ্রথম পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু হয়েছে। তিনি মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সেক্টর কমান্ডার এবং তাঁর নামের আদ্যক্ষরের নামে প্রতিষ্ঠিত প্রথম ‘জেড ফোর্স’-এর কমান্ডার ছিলেন। স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই শহীদ জিয়াকে জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ খেতাব ‘বীর-উত্তম’ প্রদান করা হয়েছিল। গত এক যুগ যাবৎ শুধু রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার হীন উদ্দেশ্যে শহীদ জিয়া, তাঁর পরিবার ও তাঁর প্রতিষ্ঠিত দল ‘বিএনপি’ সম্পর্কে ইতিহাস পাল্টে দেওয়ার নানা অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
শহীদ জিয়া তৎকালীন মেজর জিয়া পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ‘বিদ্রোহ’ করে ২৭ মার্চ চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে ‘স্বাধীনতা ঘোষণা’ দিয়েছেন এবং সর্বপ্রথম পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ শুরু করেছিলেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সেক্টর ও ফোর্সেস কমান্ডার হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অতুলনীয় বীরত্ব ও সাহসী ভূমিকা রাখতে সমর্থ হয়েছিলেন। স্বাধীনতার পর ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতিকে আবার দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন। সিপাহি জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে এসে দেশে ‘বহুদলীয় গণতন্ত্র’ পুনঃপ্রতিষ্ঠা, জাতিসত্তার পূর্ণাঙ্গ পরিচয় ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ ও সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ সংযোজন, ‘সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির’ নামে লুটপাটের অর্থনীতির পরিবর্তে সামাজিক ন্যায়বিচারের অর্থনীতি প্রবর্তন ও মুক্তবাজার অর্থনীতির দ্বার উন্মোচন, ‘ধর্মনিরপেক্ষতার’ পরিবর্তে ধর্মীয় মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা ও সব ধর্মের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠাসহ বহু মৌলিক পরিবর্তন সাধন করেছিলেন। শহীদ জিয়া বাংলাদেশে পররাষ্ট্রনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিলেন। তাঁর সময়ে চীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করেন। তিনি মুসলিম উম্মাহর সঙ্গে বিশেষ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। প্রেসিডেন্ট জিয়া আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে ‘সার্ক’ গঠন করেছিলেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়া দেশের স্বাধীনতা অর্জনে এবং মহান ভাষা আন্দোলনে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালনকারীদের সম্মান প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে ১৯৭৭ সালে ‘একুশে পদক’ এবং ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ প্রবর্তন করেন। বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনীতির মেরুদণ্ডের ভিত্তি মুক্তবাজার অর্থনীতি, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী গার্মেন্টশিল্প এবং জনশক্তি রপ্তানির মাধ্যমে রেমিট্যান্স অর্জন শহীদ জিয়ার অনন্য অবদান।
সরকার বিএনপির অগণিত নেতাকর্মীকে গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং প্রায় ৩৫ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে এক লাখের বেশি মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দিয়ে বিএনপিকে দুর্বল করার অপচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ও স্বাধীনতার ৫০ বছরের প্রকৃত ইতিহাস দেশের ঐতিহাসিকরা লিপিবদ্ধ করবেন। জনগণ, বিশেষ করে বর্তমান প্রজন্ম দেশের প্রকৃত ইতিহাস ও সত্য জানতে পারবে। সত্য ও ন্যায় সব সময়ই পরিশেষে জয়লাভ করে এবং টিকে থাকে। মিথ্যা ও অন্যায় জনগণের ঘৃণা ও প্রতিরোধের সামনে খড়কুটার মতো ভেসে যায়। বিশ্বের রাজনৈতিক ইতিহাস তারই সাক্ষ্য দেয়। বাংলাদেশেও ইতিহাসের সেই কঠিন সত্য প্রতিষ্ঠিত হবে। ন্যায় ও সত্যের জয় হবে ইনশাআল্লাহ ।