28/07/2025
মানুষের বিবেক নাই------
আমি গত শনিবার রাত থেকে একটা বিষয় লক্ষ করলাম, ৫ আগষ্ট ২০২৪ এর পর ফ্যাসিষ্টের সাথে মানুষের বিবেক ও পালিয়ে গেছে। তা না হলে সামান্য দশ লক্ষ টাকা চাঁদা আদায়ের জন্য এভাবে হৈচৈ করে? নাহ! প্রাপ্ত বয়স্ক কোন বিবেকবান মানুষ আর দেশে অবশিষ্ট নাই। সবাই জয়বাংলা হয়ে গেছে।
এর আগে দেশের ব্যাংকগুলো থেকে লক্ষকোটি টাকা ডাকাতি হলো কোন আওয়াজ ছিল? না ছিল না। মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দুর্ণীতি হলো তখনও পরিবেশটা কত শান্তছিল। দরবেশ বাবা তার গ্যাং সহ পুঁজিবাজার লুট করলেন, এস আলম ইসলামি ব্যাংক নাম দিয়ে অনইসলামিক কাজ করলেন, আর শেখ পরিবারের কথা বলে পাপী হতে চাইনা।কারণ চরমোনাই তাদের খলিফার মর্যাদা দিয়ে দিয়েছন। এই খলিফাদের নতুন ভার্শন দূধকদু থুক্কু রেইন কদুভাত দেখলাম। চরমোনাইর ছোট খলিফা চশমার ফাকা দিয়ে রেইন কদুর কোন ছবিটা দেখলেন? এটা ফ্যাসিজমের সময়ের পুরনো কৌশল হতে পারে, যারা পেটমোটাদের আলোচনা অন্যদিকে নিতে চায়।
আর এই সামান্য কয়টা টাকা নিয়ে তোমরা বাড়াবাড়ি কর? টাকাটা নিয়ে সে কী করেছ? বাড়ির ভাঙ্গা ঘরটি পাকা বানাচ্ছে। খারাপ কী? সৎ ছেলে দেশের টাকা দেশে রাখছে। ও আর একটু সাহসী হলে লন্ডনে সাইদুজ্জামানের ফ্লাটের পাশের ফ্লাটটি কিনতে পারতো না? সৎ দেশপ্রেমী ছেলে দেশের অর্থ বিদেশে পাচার করেনি। ও আর কতটুকুই ভাগ পেয়েছ? হ্যা তবে পারবে গত এক বছরের পেটমোটা, গরুচোখা, পেঁচাচোখা বৈষম্যবিরোধী নতুন সেফুদাদের ডিসি বদলী, চীফ ইঞ্জিনিয়ার বদলী, সাব রেজিস্টার বদলী, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভার প্রশাসক নিয়োগ, পুলিশ, বন্দর, হাসপাতাল বিদেশি মিশন এমন কোন প্রতিষ্ঠান নাই যেখানে এই ছোকরাদের লোলুপ দৃষ্টি পরেনি। তবে হ্যা ওরা একটা সত্যি কথা ইতিমধ্যে বলেছে বিএনপি'র লোকজন ছ্যাছড়া ফুটপাথের, ময়লা ফেলার চাদা খায়, বাসষ্টান্ডে চাঁদা খায় একদম ঠিক বলেছে। ছোকরাগুলো ওদের কাজের মুন্সীয়ানার মাধ্যমে আওয়ামীলীগ ও ওদের কাছে শিশু প্রমান করেছে। সুতরাং যারা আজ নির্দেশ পালন করতে গিয়ে ফেঁসে গেছে, জেলে গেছে ওরা না পারলেও ওদের বসেরা পারবে।
রিয়াদদের বর্তমান হাল দেখে ছোট বেলায় দেখা সাদাকালো একটি সিনেমার দৃশ্য মনে পড়লো। এলাকার মোড়ল এ টি এম শামসুজ্জামান, সালিশ দরবার করে বেড়ায় সাথে দুইটা ফইটকা থাকে, একদিন সালিশি করে হাদিয়া হিসেবে এক মাটির হাড়ি রসগোল্লা পেয়ে আসন পেতেছে বসে আয়েশ করে খাচ্ছেন, আর ফইটকা দুটো হাড়ির দুপাশে চৈত্রের খড়তাপে কুকুর যেমন জিহবা বেড় করে শ্বাস নেয়, তেমনি জিহবা বেড় করে বসে আছে। আর জিব লালা পরছে। দৃশ্যটা কেমন একবার ভাবুন না। দাপুটে মোড়ল জিজ্ঞেস করে খাবি? ফইটকাদের হ্যা সুচক কোরাস জবাব। মোড়ল একটি রসগোল্লা তুলে চিপরিয়ে ওদের জিহবায় দুফোটা সিরা দিয়ে বলল নে তোরা রসা খা।
কথার পিঠে কথা আসে আবার সেই বিবেক, মানুষের বিবেক আছে? নাই, থাকলে বুঝতো রিয়াদ নামের ফইটকারা দুফোটা রসার চেয়ে বেশি কিছু পায়নি।
তাহলে রসগোল্লা যায় কই? হ্যা এবার আসেন আসল আলাপে। রসগোল্লা কারা খায়। এদের দৌড়াত্ব কোন পর্যায়ে গেছে এই পলিটিকাল লোমা হাতেনাতে ধরাপরার পরও থানায় বসে পুলিশে চাকুরী খাওয়ার হুমকি দেয়। তাহলে বুঝুন আসল রসগোল্লার মালিকদের দৌড়ত্ব।
আজ যদি দেশের সচেতন রাজনৈতিক মহল একটু নিগুড় চিন্তা করেন, রসগোল্লার মালিকদের চিনতে কষ্ট হওয়ার কথা নয়। কারা এদের ঘুড়ি বানিয়েছে, কাদের হাতে নাটাই? কে বেনিফিসারি? খুব সহজ, এটা বুঝতে নাসার বিজ্ঞানি হওয়ার দরকার পরেনা।
যারা ইলেকশনের কথা শুনলে ভূত দেখেন, যাদের জীবনের প্রায় সকল সম্ভাবনা শেষ হওয়ার পরও নব জীবনে নয়া দিগন্তে নতুন দক্ষিণা হাওয়া বইছে। যারা হাভাতে পরিবারের ছেলেকটির অপকর্ম আড়াল করার জন্য রেইন কদুভাত সামনে নিয়ে আসছেন তারাই আসল রসগোল্লার মালিক। তাই বলি বিবেক তোরা কবে বিবেকবান হবি?
কামরুজ্জামান দুলাল