26/05/2026
জনগণের মুক্তির দিশা অনুসন্ধানে অবিচল ছিলেন অ্যাড. আবদুস সালাম
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সংবিধান প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের অন্যতম রূপকার অ্যাডভোকেট আবদুস সালামের ৯ম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা ও স্মরণ
আজ ২৬ মে ২০২৬ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও আজীবন মুক্তিসংগ্রামী, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সংবিধান প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের অন্যতম রূপকার, গণসংহতি আন্দোলন-জিএসএর প্রথম নির্বাহী সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট আবদুস সালামের ৯ম মৃত্যুবার্ষিকী। এই উপলক্ষে আজ জিএসএর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও স্মরণ করা হয়।
জিএসএর নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেলের নেতৃত্বে অ্যাডভোকেট আবদুস সালামের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দ। শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের আগে অ্যাডভোকেট আবদুস সালামের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন উপস্থিত দলীয় নেতাকর্মীরা। তাঁর জীবনী পাঠ করেন জিএসএর কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক সম্পাদক আবদুল আলিম। ছাত্রজীবন থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সংগঠক হিসেবে ভূমিকা নেওয়া, সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ, পরবর্তীতে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সংবিধান প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় রাজনৈতিক সংগঠন ও জোট গঠন, এবং গণতান্ত্রিক সংবিধানকে গণতান্ত্রিক রাজনীতির অন্যতম কেন্দ্রীয় প্রশ্নে পরিণত করা সহ অ্যাডভোকেট আবদুস সালামের জীবনের বিভিন্ন ঘটনা উঠে আসে জীবনী পাঠে।
জিএসএর নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল বলেন, একজন মানুষ কীভাবে সবার হয়ে উঠতে পারেন, তার উদাহরণ ছিলেন অ্যাড. আবদুস সালাম। জনগণের মুক্তির দিশা অনুসন্ধানে তিনি অবিচল ছিলেন। কীভাবে সাংবিধানিক স্বৈরতন্ত্র বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে উঠেছিল, সেটা তিনি উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন। কোনোসময় চিন্তাকে স্থির থাকতে না দিয়ে, সবসময় নতুনকে গ্রহণ করার মানসিকতাকে ধারণ করতেন তিনি। চিন্তার বদ্ধতা ও যান্ত্রিকতা থেকে মুক্ত হয়ে বাংলাদেশে জনগণের পক্ষে ও জনগণের জন্য বোধগম্য ভাষায় রাজনীতি নির্মাণের ক্ষেত্রে অ্যাড. আবদুস সালামের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জিএসএর রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য মনির উদ্দীন পাপ্পু বলেন, অ্যাড. আবদুস সালামের জীবন থেকে আমাদের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো তাঁর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি সবসময় তরুণদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই-সংগ্রামে রত ছিলেন। তাঁর চিন্তা, আদর্শ ও সাহস আমাদের সবসময় অনুপ্রেরণা ও শক্তি জোগায়।
জিএসএর কেন্দ্রীয় সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আহবায়ক মনিরুল হুদা বাবন বলেন, আবদুস সালাম বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক সংবিধানের লড়াইয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে গিয়েছিলেন। রাজনীতিতে তার আচরণ ছিল আমাদের জন্য অনুকরণীয়। তিনি নিজ দলের কর্মীদের যেমন খোঁজখবর রাখতেন, তেমনি লড়াইয়ের সঙ্গী অন্যান্য দলের নেতাকর্মীদেরও খবর নিতেন।
জিএসএর শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক দীপক কুমার রায়ের সঞ্চালনায় শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ ও স্মরণের আয়োজনে আরও বক্তব্য রাখেন জিএসএর প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক বাচ্চু ভূঁইয়া, ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব মাহবুব আলম রতন, বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির প্রতিষ্ঠাতা মান্নান ভাসানী, মোহাম্মদপুরের সংগঠক পারভেজ হাসান সুমন ও বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক জিন্নাত আরা সুমু। উপস্থিত ছিলেন জিএসএর ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জুলহাসনাইন বাবু, দপ্তর সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, গণমাধ্যম ও ডিজিটাল বিষয়ক সম্পাদক তাহসিন মাহমুদ, কেন্দ্রীয় সদস্য লুভানা তাবাসসুম, বেনু আক্তার, রোকনুজ্জামান মনি, সাইফুল্লাহ সিদ্দিক রুমন, পল্লবী থানার নির্বাহী সমন্বয়কারী প্রদীপ রায় সহ দলের বিভিন্ন শাখার নেতাকর্মীবৃন্দ।