08/06/2022
পড়ুন,, হাসিনার ব্যর্থতাকে আওয়ামীরা চক্রান্ত কয়
বিশ্বব্যাংকের দশের সন্দেহ চল্লিশে সত্য হয়।
শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগকে শেষ করে দিচ্ছেন। ওনার গরু কোন্ দিক দিয়ে জবাই করবেন ওনার হিসাব। কিন্তু লেজ দিয়ে জবাই করতে গিয়ে আহত গরু দৌড়ঝাঁপ দিয়ে আমার গায়ে ওঠলে সেই হিসাবটা যে শেখ হাসিনাকে দিতে হয়! ফ্যাসিবাদ কি হিটলারের জন্য মঙ্গলজনক হয়েছে? না, হয়নি।
শহীদ জিয়াউর রহমানকে খুনি বলা শুরু করেছে শেখ হাসিনা। কিন্তু শেখ হাসিনা বিদেশে থাকলেও শহীদ জিয়াউর রহমান যে খুনের একশো মাইলের মধ্যেও ছিলেন না এটা ভালো করে জানেন। সরাসরি খুনিদের বাইরে পুরো জাতিকেই তিনি দোষী ভাবেন ১৫-ই আগস্টে প্রতিবাদ না-করার দরুন। আওয়ামী লীগের দায় সেজন্য বেশি বলে জিয়াউর রহমানের দিকে আওয়ামী সব কুলাঙ্গার শেখ হাসিনার দৃষ্টি ফিরিয়ে দিয়েছেন, এখন শেখ হাসিনারও উপায় নাই। প্রতিশোধ নিতে হলে এই কুলাঙ্গারের বাইরে কাকে নেবেন? মতিয়া, ইনুর মতো লোককেও বাদ দেননি। এরা সবাই জিয়াউর রহমানের ওপর দায় দিয়ে নিজেদের পাপমোচনের অপচেষ্টা করেছেন। তবে এরা মাথামোটা বলেই এই মিথ্যা কথাও তাদের মাথায় আসবে না। এরা এমন ফ্যাসিবাদী আইডিয়া পেয়েছে আব্দুল গাফফার চৌধুরী থেকে। তিনি কাহিনি বানাতে পটু ছিলেন। সেই কাহিনি প্রতিষ্ঠিত করেছে কুলাঙ্গার সাংবাদিক জাকারিয়া কাজল, নাইমুল ইসলাম খান, সুভাষ সিংহ রায়সহ কয়েকজন আর কিছু অপদার্থ বুদ্ধিজীবী যেমন ড মিজানুর রহমান । শেখ হাসিনা বলার পর আওয়ামী সব ফ্যাসিস্ট বলতে শুরু করেছে। এস এম কামাল হোসেন, আহম্মদ হোসেন, মনিরুজ্জামান মনির লাগাতার বলেই যাচ্ছে। এখন আমার অসুবিধা হলো তৃণমূল আওয়ামী যেসবে কর্মী আছে তারা বিচার বিশ্লেষণ না-করেই আমাকে হত্যা করাকে অন্যায় মনে করবে না। তারা ভাবে যেহেতু আমি খুনিকে ভালোবাসি সেহেতু আমি খুনে সহায়তা করেছি, সুতরাং আমাকে হত্যা করা পাপ মনে করবেনা। এই মনোভাবের কারণেই বিশ্বজিৎ, আবরার, নাহিদদের হত্যা ওরা করেছে। ছাত্রলীগ যুবলীগ করে যারা খুন করে তাদের ভিডিও ঘুরেফিরে একটু দেখুন, বুঝতে পারবেন ওদের চোখেমুখে কোনো পাপবোধের চিহ্ন নাই।
রাজনীতি পশুরাও করে। বনের রাজা সিংহ, সে প্রতিপক্ষকে মেরে ফেলে বলেই সে রাজা। মেরে ফেলা তার রাজনীতি। কিন্তু মানুষের রাজনীতি মূলত মানুষকে এমনকি পশুকেও বাঁচানো। সমাজের বৃহত্তর স্বার্থে বিচারের মাধ্যমে হত্যার আদেশ মানুষকে দিতে হয়, সেটা ভিন্ন কথা। তো আওয়ামী লীগ প্রতিপক্ষকে মোটেও সহ্য করে। আওয়ামী লীগ করলে তাদের কাছে রাজাকার হয়ে যায় মুক্তিযোদ্ধা, না-করলে মুক্তিযোদ্ধা হয় রাজাকার। তাহলে আওয়ামী লীগের রাজনীতি মানুষের রাজনীতির মধ্যে পড়ে কি-না ভেবে দেখুন।
পশুর চরিত্র মানুষের মধ্যে আছে। সেটাকে সহনশীল করে রাখাটাই মানুষের কাজ। কিন্তু প্রতিপক্ষকে হত্যা করে লাশের ওপর নৃত্য কিছুতেই সেই সহনশীলতা প্রকাশ পায়না। বিচারপতিদের বয়স বাড়ানো রাজনৈতিক কৌশল হতে পারে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করা যেকোনো অজুহাতে তা অবশ্যই সেই সহনশীলতার মাত্রা অতিক্রম করা যা পশু সুলভ আচরণকে নির্দেশ করে বটে। এতোটা ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা এক মূহুর্তে ধ্বংস করতে একবার হলেও কলিজাটা কাঁপার কথা। আওয়ামী লীগ হলে কলিজাও কাঁপেনা, হাতও কাঁপেনা। বঙ্গবন্ধু হত্যার জন্য মোশতাকের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগেরই এক অংশ দায়ী। বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে খালি জায়গায় জিয়াউর রহমান আসতে বাধ্য হয়েছিলেন। বিচারওতি সায়েম সাহেব থেকে জোর করে ক্ষমতা নেয়ার মতো লোভী মানুষ দুই বছরের বেশি অপেক্ষা করার মতো পৃথিবীতে থাকতে পারে না। ক্ষমতা চায়না মানুষ সেটাও বলছিনা, কিন্তু জোর করে নেয়ার মতো তীব্র আকাঙ্খা থাকলে দুই বছর অপেক্ষা করা মোটেও সম্ভব নয়। যদি বলেন বুদ্ধি করে করেছেন। বুদ্ধি ব্যবহার করলে সাতই নভেম্বর গোলযোগপূর্ণ পরিস্থিতিতেই ক্ষমতা নেয়া সহজ এবং বুদ্ধিমানের কাজ ছিলো। অতএব শাসন কাজে আসতে বাধ্য হয়েছিলেন জিয়াউর রহমান-এতে সন্দেহের কোনো অবকাশ নাই।
যাহোক, শেখ হাসিনা বুদ্ধিমানদের সহ্য কেন করেননি জানিনা। তবে অনুমান করা যায় যে দেশটাকে দুর্ভিক্ষের কাছাকাছি নিতে হলে বেকুবদের প্রয়োজন। কথা ও কাজ দুটোই মগজ থেকে বের হয়। তাদের কেউ বলে শেখ হাসিনাকে হযরত, কাদের সাহেব বলেন শেখ হাসিনা আমাদের পূর্ব পৃথিবীর সূর্য, হাসান মাহমুদের কথাতো সবাই জানেন। বি এন পি ফেলে দেয়া মুরাদ হাসান এবং হাজি মুহাম্মদ সেলিমকে শেখ হাসিনা নিবেন কেন? দুর্ভিক্ষের কাছাকাছি নিয়ে জাতিকে বোঝাতে চান য়ে বঙ্গবন্ধুকে তোরা হত্যা করার কারণই এই পরিণতি। ভালো রাখলে সেটা বোঝানো সহজ নয়। তো সেই হিসেবে আওয়ামী লীগকে জনগণের মাঝে আতঙ্কের দলে পরিণত করেছেন। আগামীই বলে দিবে তার ফল। আল্লাহ আমাদের সবাইকে বোঝার তৌফিক দান করুন আমিন।