02/03/2024
তাজুল ইসলাম স্যার আর নেই
(জাজাকাল্লাহু খাইরুন)
স্যারকে শিক্ষক হিসেবে কিছুদিন পেয়েছি। তারপর পেয়েছি ইউনিয়ন পরিষদ এর চেয়ারম্যান হিসেবে। সর্বশেষ একজন অবসরপ্রাপ্ত নাগরিক ছিলেন। সকালে একটা রিকশা নিতেন সারাদিনের জন্য আর দাগনভূঞা থেকে বসুরহাট। কিংবা কুতুবের হাট থেকে চৌধুরী হাট ৩ উপজেলার মোটামোটি ১৫/২০ বর্গকিলোমিটার এলাকা চষে বেড়াতেন। আর লোকেদের সাথে কথা বলতেন। বসতেন, চা খেতেন আড্ডা দিতেন। যতদিন চলতশক্তি ছিল ততদিন এই অভ্যাস বজায় ছিল।
চেয়ারম্যান ও শিক্ষক হিসেবে স্যারের সততার গল্প অনেকের মুখে মুখে থাকবে। আমি অন্য একটি বিষয় বলবো।
স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক হিসেবে ভালো বাগ্নি (বক্তা) ছিলেন। সব সময় সাধারণ মানুষের সাথে সমানভাবে মিশতেন। আর ছিলো অসাধারণ স্মৃতিশক্তি।
ক্লাস সিক্সে প্রথম দিন আমাকে মায়ের নাম, বাবার নাম, নানার নাম, নানির নাম, দাদার নাম আর দাদির নাম জিজ্ঞেস করেছেন। কিন্তু ২৫/৩০ বছরেও তিনি তা আর ভোলেন নি। যখন দেখা হতো তখনি আবার নামগুলো আমাকে শোনাতেন। শোনাতেন আরো নানা গল্প। কারণ তিনি আবার আশপাশের কয়েকটা ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষকে ও তার পরিবারকে চিনতেন এবং জানতেন তাদের জীবনের নানা ঘটনা।
অবসর গ্রহণের পর বেশ কয়েকবার স্যারের খপ্পরে পড়েছিলাম। মানে স্যার যখন রিজার্ভ রিকসা নিয়ে এ বাজার থেকে ও বাজার এ থানা থেকে ও থানায় ঘুরে বেড়াতেন। মাঝে মধ্যে ২/১ জন পাকড়াও করে সাথে নিয়ে যেতেন। কথা বলার সঙ্গীর হিসেবে। দেশ বিদেশের নানা গল্প করতেন। আমি ৪/৫ বার এরকম পাকড়াও হয়ে গিয়েছিলাম। একবার পাকড়াও হয়ে নোয়াখালীর চরাঞ্চলে চলে গিয়েছিলাম। রিকসায় করে বহুদূর যাওয়ার একটা অভিজ্ঞতা হলো সেদিন। জায়গাটার নাম মনে নেই। আমাদের এলাকার অনেকে হয়তো চিনবেন। একজন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার মৃত্যুর খবর শুনে তাদের বাড়িতে চলে গিয়েছিলেন। এতটা সামাজিক ছিলেন এতটা বহিমূখী ছিলেন। আর মানুষের সাথে মিশতে পছন্দ করতেন যে, তার সারামাসের রিকসাভাড়া আসতো বেশ অনেক টাকা। তবুও তিনি এটা বেশ পছন্দ করতেন। আরেকবার ধরে নিয়ে গিয়েছিলেন নূরনবী স্যারের বাড়িতে।
আমার মনে আছে। আমি যখন ২০০৩ সালের দিকে মোবাইল ফোন কিনি। তখন স্যারকে খুঁজে পাওয়ার জন্য অনেকের কাছে আমার ফোন নাম্বার দিয়ে রাখতেন। স্যারের খবর দেয়া আমার জন্য কঠিন ছিল। স্যারের বাড়ি বাদামতলী। সেদিকটায় আমাদের তেমন একটা যাওয়া হতো না। কিন্তু স্যার ঠিকই ২/৪ দিন পর পর আমার কাছে চলে আসতেন।
কালকে স্যারের মৃত্যু সংবাদ দেখে মনটা দু:খ ভারাক্রান্ত হয়ে গেল। এ সপ্তাহ গ্রামে যাওয়ার ছিল। কেন যে গেলাম না। সেটা ভেবে বেশ আফসোস হচ্ছে।
স্যার আজ নেই। এই স্মৃতিটা আমি চারণ করলাম।