01/04/2020
আজ USA তে আক্রান্তের সংখ্যা ১৮৮৫৩০, ইতালিও লাখ ছাড়ালো (১০৫৭৯২) , স্পেইন ৯৫৯২৩
প্রত্যেকটি দেশের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী ।
আমাদের কি হবে???
প্রচন্ড ছোঁয়াচে এই ভাইরাসটির প্রকোপ আমাদের এই অঞ্চলে শেষ পর্যন্ত কতটুকু হবে সেটা কেউ সংখ্যা উল্লেখ করে গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারবেনা।
তবে সর্বোচ্চ খারাপ অবস্থা বিবেচনা করে প্রস্তুতি নেয়াটা হবে বুদ্ধিমানের কাজ আর প্রস্তুতিটা নিতে হবে ব্যাক্তি পর্যায় থেকে কারন এখানে ঐক্যবদ্ধভাবে কিছু করার সুযোগ নাই।
কোয়ারান্টাইনে থাকাকালীন সময় কি করা যেতে পারে? তা নিয়ে WHO এর ডিরেক্টর জেনারেলের কিছুদিন আগে বাস্তবসম্মত কিছু পরামর্শ দিয়েছেন।
ওনার প্রথম পয়েন্ট ছিল “Eat healthy to boost your immune system” অর্থাৎ আমাদের স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে যেন আমাদের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। Immune System অর্থাৎ নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ব্যাপারটা আমাদের শরীরের কিছু কোষ এবং অর্গানের সমন্বয়ে হয়ে থাকে এগুলোর মধ্যে হোয়াইট ব্লাড সেল(WBC) এর ভূমিকাটাই বেশি। হোয়াইট ব্লাড সেল আমাদের রক্তে থাকে এবং কোন ফরেইন পারটিক্যাল যেমন ভাইরাস ,ব্যাকটেরিয়া বা অন্যকিছু আমাদের শরীরে আক্রমন করলে সেগুলোকে প্রতিহত করে ঠিক যেমন কোন একটি দেশে আর্মি বা ডিফেন্স বাহিরের শত্রু আক্রমনের ক্ষেত্রে করে।
আমাদের দেশে পাওয়া যায় এমন কিছু খাবার আছে যেগুলো WBC তথা আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে।
১। লেবু বা কমলা: (Citrus fruits) যাতে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি থাকে।
২। ব্রকলি: Packed with vitamin A, C and E
৩। রসুন : যাতে উপস্থিত Allicin নামক উপাদান immune-booster হিসেবে কাজ করে।
৪। আদা
৫। দই: মিষ্টি দইয়ের থেকে টক দই ভাল।দইয়ে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন D থাকে যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে।
৬। পেঁপে : একটি প্রমান সাইজের পেঁপেতে আমাদের দৈনিক চাহিদার ২২৪% ভিটামিন C থাকে ।
৭। পোলট্রি : (মুরগী বা টার্কির মাংস ) ৩ আউন্স বা প্রায় ৯০ গ্রাম মাংস আমাদের দৈনিক চাহিদার ৪০-৫০ ভাগ ভিটামিন B-6 পুরন করে। এছাড়া হাড়ে থাকা জেলাটিন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
এছাড়া আরও কিছু খাবার আছে কিন্তু সেগুলো আমাদের দেশে সহজলভ্য না। আর তথ্য গুলো U.S. Department of Health & Human Services সহ কিছু trusted source থেকে নেয়া হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, ব্যায়াম ! জি ব্যায়াম করতে হবে। বড়দের ৩০ মিনিট আর ছোটদের ১ ঘণ্টা । একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে একজন ৬৫ বছরের লোক যিনি নিয়মিত ব্যায়াম করেন তার T-cells ( এক ধরনের WBC) এর পরিমান ৩০ বছরের ব্যায়াম না করা যুবকের থেকে বেশি।
তৃতীয়ত, যদি বিড়ি সিগারেট খাওয়ার অভ্যাস থাকে তাহলে ছেড়ে দেন।আপনি জানেন যে করোনায় আক্রান্ত রোগীর প্রচন্ড শ্বাসকষ্ট হয় এবং শ্বাসকষ্ট আমাদের শ্বসনতন্ত্র তথা ফুসফুসের সাথে সম্পর্কিত আর ধূমপান করে যদি আগে থেকেই সেটার বারোটা বাজিয়ে রাখেন তাহলে COVID 19 আপনাকে পেয়ে বসতে পারে।
চতুর্থত, যারা বাসায় একটানা বসে অফিসের বা অন্য কোন কাজ করছেন তারা একটানা ৩০ মিনিটের বেশি কাজ করবেন না, অর্থাৎ ৩০ মিনিট কাজ করে ৩-৪ মিনিট হাঁটাহাঁটি করুন।
সবশেষে, পজিটিভ থাকবেন প্যানিক হবেন না, ভয় পাবেন না, কারন ভয়ের সাথে আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার সম্পর্ক রয়েছে।আপনার যথেষ্ট রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকলে এই ভাইরাস ৪-৫ দিনও টিকতে পারবেনা।
করোনায় আক্রান্ত ইতালির একজন ডাক্তার বলেছিলেন "এই রোগের ভয়াবহতা সম্পর্কে মানুষ যদি জানত তাহলে বাহিরে যাওয়া তো দুরের কথা জানালা দিয়েও উঁকি দিত না।" তাই বলব বাসায় থাকুন নিরাপদ থাকুন আর আপনার পরিবারকেও নিরাপদ রাখুন।