31/12/2021
বিসিএস ক্যাডার চয়েস নিয়ে সফলদের মতামত
বিসিএসের ক্যাডার চয়েসঃ সঠিক ক্যাডার পছন্দক্রম কিভাবে নির্ধারণ করবেন
Md. Anwar Hossan (Shamim Anwar)
বিসিএস (পুলিশ); এএসপি-রাঙ্গুনিয়া সার্কেল
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ।
নিজের উপযোগী সঠিক ক্যাডার চয়েস নির্ধারণ বিসিএস পরীক্ষার আবেদন প্রক্রিয়ায় প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। ভাল পরীক্ষা দেওয়া সত্ত্বেও শুধু চয়েস দেওয়ার ভুলে প্রত্যাশিত ক্যাডার যেমন হাতের মুঠো থেকে ফসকে যেতে পারে, তেমনি ভাইভা বোর্ডের সামনেও প্রার্থী পড়তে পারেন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে । সুতরাং আবেদন করার পূর্বেই এ সংক্রান্ত সুচিন্তিত - সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা প্রত্যেক বিসিএস পরীক্ষার্থীর অবশ্য কর্তব্য। অনেকেরই জিজ্ঞাসা, কোন কোন ক্যাডার চয়েস দিব এবং সেগুলোর মধ্যে কোনটি ফার্স্ট, সেকেন্ড, থার্ড চয়েসে রাখব?
প্রথমেই বলে রাখি, চাকুরীরত না থাকলে যে যে ক্যাডার চয়েস দেওয়ার যোগ্যতা আপনার আছে, চয়েস লিস্টে তার সবগুলো রেখে দেওয়াই সমীচীন হবে । আর আপনি যদি কোন সরকারি /বেসরকারি জবে থাকেন, তাহলে শুধু সেই ক্যাডারগুলোই চয়েস দিন যেগুলোতে সুপারিশকৃত হলে আপনি যোগদান করবেন।
পছন্দক্রম নির্ধারণঃ
সঠিক ক্যাডার চয়েস ক্রম ঠিক করার জন্য
বিসিএসের ক্যাডারসমূহকে আমরা প্রধানত তিনটি শ্রেণীতে ভাগ করতে পারি--
ক. আইন প্রয়োগ ও প্রশাসন সংক্রান্তঃ
১. পুলিশ
২.প্রশাসন
৩.আনসার
খ. অর্থ, বাণিজ্য রাজস্ব, আর্থিক প্রক্রিয়া সংক্রান্তঃ
১. কাস্টমস
২.ট্যাক্সেশন
৩.অডিট এন্ড একাউন্টস
৪. বাণিজ্য
গ. পেশাগত
১. স্বাস্থ্য
২.শিক্ষা
৩. কৃষি
৪. বন
৫. প্রকৌশল
ঘ. অন্যান্য
১. পররাষ্ট্র
২. খাদ্য
৩. রেলওয়ে
৪. পরিবার পরিকল্পনা ইত্যাদি
এখন যদি আপনি
ক. মাঠপর্যায়ে নিত্যনতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে আপনার কর্মজীবনে দায়িত্ব পালন করতে চান।
খ. আইন প্রয়োগ, বিচার ইত্যাদি প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখতে চান
গ. অন্যায় প্রতিরোধ ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখার আগ্রহ আপনার থাকে।
ঘ. ছুটি শব্দটি ভুলে যেতে হতে পারে -- যদি এই বাস্তবতা হাসিমুখে মেনে নিতে পারেন।
ঙ. জনগনের দোরগোড়ায় পৌঁছে সরাসরি সেবা দেওয়ার ইচ্ছা থাকে।
চ. সমাজে, কর্মস্থলে নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ দেখার প্রবল বাসনা।
ছ. রোদে পুড়ে, ঘামে ভিজে দায়িত্ব পালন করতে আপত্তি নেই।
তাহলে নিশ্চিন্তে আপনার ক্যাডার ক্রম হতে পারে
---------------
ক>খ>গ>ঘ
----------------
অর্থাৎ এক্ষেত্রে আপনার প্রথম তিনটি ক্যাডার চয়েস হবে পুলিশ, এডমিন, আনসার। এ তিনটি ক্যাডারের মধ্যে আপনার পছন্দ ও বাস্তবতা বিবেচনায় ১,২,৩ ক্রম নির্ধারণ করুন। এর পর ৪,৫,৬....... নম্বরে খ,গ, ঘ এর ক্যাডার সমূহ চয়েস দিন। ( পররাষ্ট্র ছাড়া, কারন প্রথম তিনটি ক্যাডার চয়েস যেহেতু পুলিশ, এডমিন, আনসার, তাই পররাষ্ট্র চয়েস দেওয়া এখানে অর্থহীন)
আবার যদি আপনিঃ
---------------------------
১. ঝামেলামুক্ত জীবন যাপন করতে চান
২. নয়টা -পাঁচটা অফিস করার ইচ্ছা
৩.এসি রুম ছাড়া আপনার চলে না
৪.বেতনের বাইরেও প্রচুর বৈধ আর্থিক প্রণোদনা পেতে চান
৫.বিদেশ ভ্রমন ট্রেনিং ইত্যাদির দিকে ঝোঁক।
তাহলে নিশ্চিন্তে আপনার ক্যাডার ক্রম হতে পারে
----------------
খ>ক>গ>ঘ
----------------
যদি আপনি
-----------------
১. আপনার একাডেমিক অর্জিত জ্ঞানকে সরাসরি পেশাগত কাজে লাগাতে চান।
২. অর্থবিত্তের ( আমি বৈধ অর্থের কথা বলছি) বদলে সততাকে, ক্ষমতার বদলে সদারচারকে, কৃত্রিম অভিজাততন্ত্রের বদলে মানুষের শ্রদ্ধা ভালবাসা লাভকে জীবনের চরম মোক্ষ জ্ঞান করে থাকেন,
তাহলে আপনার ক্যাডার ক্রম হওয়া উচিত
-----------------
গ>ক>খ> ঘ
-----------------
এছাড়াও
আপনি যদি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে চান বা কূটনৈতিক উচ্চ মর্যাদা ভোগ করতে চান, তাহলে পররাষ্ট্র ফার্স্ট চয়েস হিসেবে রাখতে পারেন। পূর্বেই উল্লেখ করেছি, পররাষ্ট্র ক্যাডার সাধারণত অন্য সব ক্যাডারের আগেই পূরণ হয়ে যায়, তাই চয়েস দিতে চাইলে পররাষ্ট্র ক্যাডার এক নম্বরেই দেওয়া উচিত বলে মনে করি। অন্য ক্যাডার ফার্স্ট চয়েস দিয়ে পরের দিকে পররাষ্ট্র ক্যাডার চয়েস দেওয়ার ক্ষেত্রে আইনগত কোন বিধিনিষেধ না থাকলেও এটা ভাইভাবোর্ড সদস্যগনের নিকট আপনার চিন্তার অপরিপক্বতা ও ক্যাডার চয়েস সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের অযৌক্তিকতাকেই প্রকাশ করবে।
জেনে রাখুনঃ
------------------
১. জাতীয় পরিচয় পত্রে যে স্বাক্ষর ব্যবহার করছেন ( এমনকি যদি বাংলা বা ইংরেজিতে নামও লিখে থাকেন) বিসিএসের আবেদন করার সময় সেই একই স্বাক্ষর ব্যবহার করুন, অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত জটিলতা থেকে রেহাই পাবেন।
২. আবেদন করার সময় সাম্প্রতিক ছবি ব্যবহার করুন। ছবিটি যেন এমনভাবে এডিট করা না হয়, যাতে আপনার বয়স, গায়ের রঙ, স্বাস্থ্য ইত্যাদি পরিবর্তিত হয়ে যায়।
৩. পররাষ্ট্র ক্যাডার চয়েস দিতে চাইলে ফার্স্ট চয়েস হিসেবেই দেওয়া উচিত। ইংরেজিতে দক্ষতা না থাকলে এই ক্যাডার চয়েস দেওয়ার চিন্তা বাদ দেওয়াটাই মঙ্গলজনক হবে।
৪.আপনি যে ক্যাডারেই চাকুরী করুন, সেখান থেকেও আপনি উপসচিব, যুগ্মসচিব, অতিরিক্ত সচিব, সচিব হতে পারবেন। উপসচিব পদের ৭০% পূরণ করা হয় প্রশাসন ক্যাডার থেকে অবশিষ্ট ৩০% পূরণ হয় অন্যান্য ক্যাডার থেকে।
৫.অনেকেই আমার নিজের পছন্দক্রম জানতে চেয়েছেন।আমার নিজের পছন্দক্রম ছিল নিম্নরূপ--
১.পুলিশ
২. প্রশাসন
৩. আনসার
৬. পুলিশ ও আনসার ক্যাডারে আবেদন করতে হলে ন্যুনতম উচ্চতা ছেলেদের ক্ষেত্রে ৫'৪" আর মেয়েদের ক্ষেত্রে ৫'০" চাওয়া হয়েছে। এই উচ্চতার শর্ত যাদের পূরণ হয় না, তারা কোনভাবেই এই দুটি ক্যাডার পছন্দ তালিকায় রাখবেন না। এছাড়াও যাদের মেজর শারীরিক সমস্যা আছে, তাদেরও এ দুটি ক্যাডার চয়েস দেওয়া হতে বিরত থাকা সমীচীন হবে।
৭. পুলিশ ও আনসার ব্যতীত অন্যান্য ক্যাডারের জন্য ন্যূনতম উচ্চতা পুরুষ প্রার্থীদের ৫.০", নারী প্রার্থীদের ৪'১০" প্রয়োজন হবে। ( অনেকে জানতে চান, এর চেয়ে কম উচ্চতাসম্পন্ন প্রার্থীদেরকে বাদ দিয়ে দেওয়া হবে কিনা বা তারা বিসিএসে আবেদন করতে পারবেন কিনা। আমার ধারনা, এই উচ্চতার শর্ত অনেকটাই আনুষ্ঠানিক, কারন আজ পর্যন্ত এমন কোন উদাহরণ পাওয়া যায় নি যে সুপারিশকৃত কোন প্রার্থীকে শুধু উচ্চতার কারনে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাই আবেদন করতে পারেন নিশ্চিন্তে)।
৮.বর্তমান ঠিকানায় আপনি যদি দীর্ঘদিন অবস্থান না করেন, বা ওই এলাকায় আপনার তেমন চেনাজানা না থাকে, ভবিষ্যত ঝামেলা এড়ানোর জন্য আপনার স্থায়ী ঠিকানাকেই বর্তমান ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করতে পারেন। অর্থাৎ স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা একই দিতে পারেন। আর একজন পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে আমার পরামর্শ থাকবে, আপনার বাবা/মায়ের নামে রেজিস্ট্রিকৃত জমি আছে, এমন জায়গাকে স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে দিতে সচেষ্ট হোন। স্থায়ী ঠিকানা সম্পর্কিত ঝামেলার কারনে প্রতি বিসিএসেই অনেক প্রার্থী পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় বাদ পড়ে যান। তাই সাবধানতার বিকল্প নেই।
সবশেষে একটা বিষয় মনে করিয়ে দিতে চাই, বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে আপনি যে ক্যাডারেই চাকুরী লাভ করেন না কেন আক্ষরিক অর্থে আপনি জনগণের চাকরই হতে যাচ্ছেন। আপনি যদি মনে করে থাকেন নির্দিষ্ট কোন ক্যাডার ফকির থেকে আপনাকে আমির বানিয়ে দিবে, সমাজের নগন্য বাসিন্দা থেকে কেউকেটার স্তরে আপনার উত্তরণ ঘটাবে, ক্ষমতার প্রবল দাপটে চাকরের পদে থেকেও মালিকায় ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারবেন, আইন প্রয়োগের অধিকার, বৈধ-অবৈধ অর্থবিত্তের জোরে যা খুশি তা করার লাইসেন্স পেয়ে যাবেন , তাহলে করজোড়ে ক্ষমা চেয়ে মিনতি রাখব, আমার এ পরামর্শ আপনার জন্য নয়। এ গরীব দেশের সিভিল সার্ভিসকে কলুষিত না করে আপনি বরং অন্য পেশায় ট্রাই করুন। হয়ত আপনি আপনার লক্ষ্য অর্জন করতে পারবেন। আর একজন শিক্ষিত, সচেতন, দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে জনগনের প্রকৃত চাকরের দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাওয়ার জন্য আপনারা যারা দিনরাত নির্ঘুম একাগ্র অধ্যবসায় করে চলেছেন, ভবিষ্যতের একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশের জনবান্ধব, দুর্নীতিমুক্ত ও নাগরিক সেবা মুখী সিভিল সার্ভিসে আপনাকে স্বাগতম।
///
ক্যাডার চয়েস দেওয়া সম্পর্কিত কিছু বহুল প্রচলিত ভুল ধারনা
Shamim Anwar
এএসপি (RAB) ৩৪তম বিসিএস (পুলিশ)
এক্স একাউন্টিং, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
সঠিকভাবে ক্যাডার চয়েস প্রদান নিশ্চিত করা একজন প্রার্থীর কাঙ্ক্ষিত ক্যাডার পাবার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পূর্বশর্ত। অথচ আমার নিজের অভিজ্ঞতায় দেখেছি, বিসিএস প্রার্থীদের মধ্যে ক্যাডার চয়েস সম্পর্কে প্রচলিত অনেক ভুল ধারনা রয়েছে, আবেদন করার পূর্বে যা নিরসন না হলে বড় ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। নিম্নে তেমন কিছু ভুল ধারনা ও সে সম্পর্কিত সঠিক তথ্য তুলে ধরা হল, আশা করি, আপনাদের কাজে আসবে।
>>যে ক্যাডারে পদ সংখ্যা বেশি সেই ক্যাডার চয়েস আগে দেওয়া নাকি ভাল? কম পোস্ট সম্পন্ন ক্যাডার আগে, আর বেশি পোস্ট সম্পন্ন ক্যাডার পরে চয়েস দিলে পরে নাকি কোন ক্যাডারই পাওয়া যায় না?
উত্তরঃ পিএসসির ক্যাডার বণ্টন প্রক্রিয়া সম্পর্কে ধারনার অভাব থেকেই এই ভুলের জন্ম। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বর যোগ করে প্রার্থীদের যে মেধাতালিকা হবে, তার ভিত্তিতেই ক্যাডার বন্টিত হবে, আপনার ক্যাডার চয়েস যাই হোক, সেটা এ ক্ষেত্রে গুরুত্ববহ নয়।
উদাহরণস্বরূপ আমরা লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা মিলে নম্বরের ভিত্তিতে ১ম থেকে ৫০ তম প্রার্থীর ক্যাডার প্রাপ্তির প্রক্রিয়াটি পর্যালোচনা করতে পারি।
> প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে যিনি প্রথম হয়েছেন, তিনি যে ক্যাডার ফার্স্ট চয়েস দিয়েছেন, সেটা নিশ্চিত ভাবেই পাবেন, কারন তখনো সব ক্যাডার পদ এভেইলেবল রয়েছে।( এভাবে প্রথম বেশ কয়েকজনই হয়ত সেটা পাবেন।)
> যিনি মেধাতালিকায় ৩০ তম হয়েছেন, তার ফার্স্ট চয়েস ছিল পররাষ্ট্র। দেখা গেল পররাষ্ট্র ক্যাডার শেষ,( অর্থাৎ তার আগের মেধাক্রমের কমপক্ষে ২১ জন প্রার্থীর ফার্স্ট চয়েস ছিল পররাষ্ট্র, এবং সে মোতাবেক তারা পররাষ্ট্র ক্যাডার পেয়েছেন) তাহলে দেখা হবে তার দ্বিতীয় চয়েস কি, সেটি যদি হয় পুলিশ, তাহলে তিনি এখন সেই পুলিশ ক্যাডারই পাবেন।
> যিনি ৭০ তম হয়েছেন, তার ফার্স্ট চয়েস যদি হয় প্রশাসন, তাহলে তিনি তার পছন্দের ক্যাডারই পাবেন। কারন প্রশাসন ক্যাডার তো তখনো শেষ হয় নি। যদি তার ফার্স্ট চয়েস হত পররাষ্ট্র, তাহলে, যেহেতু সেই ক্যাডার অলরেডি শেষ, তাই দেখা হত তার দ্বিতীয় চয়েস কি।
>যিনি ২০০ তম হয়েছেন, দেখা গেল তার ফার্স্ট চয়েস ছিল পররাষ্ট্র, তা যে তিনি পাবেন না, তা তো বুঝাই যাচ্ছে, কারন সেটা তো আগেই শেষ। এবার দেখা হবে তার সেকেন্ড চয়েস কি, ধরি সেকেন্ড চয়েস পুলিশ, দেখা গেল, পুলিশ ক্যাডারও শেষ, অর্থাৎ এর আগেই ১০০ টি পুলিশ ক্যাডারের পদ মেধাক্রম অনুযায়ী পূরণ হয়ে গেছে, তখন দেখা হবে তার থার্ড চয়েস কি ছিল,ধরি থার্ড চয়েস এডমিন, কর্তৃপক্ষ দেখলেন যে প্রশাসনে এখনো পদ পূর্ণ হয় নি, তখন তিনি এডমিন ক্যাডারই পাবেন।
এককথায় ১০ টা প্লেটে ভালমন্দ মিলিয়ে ১০ ধরনের ফল আছে। যাদের মার্কস বেশি তারা তাদের ফল বেছে নেওয়ার পর সেই ফল অবশিষ্ট থাকবে সেখান থেকে তার পরের জন ফল গ্রহন করবে।
তাই পদ সংখ্যা কম বেশি যাই হোক, আপনি আপনার পছন্দের ক্যাডারগুলোই একের পর এক পূরন করে যাবেন।
>> ২/৩ টার বেশি ক্যাডার চয়েস দেওয়া নাকি ভাল নয়?
উত্তরঃ আমি মনে করি আপনি যদি কোন চাকুরীতে না থাকেন, তাহলে যে কয়টি ক্যাডার চয়েস দেওয়া সম্ভব, তার সবগুলোই ধারাবাহিক ভাবে একের পর এক চয়েস লিস্টে দিয়ে দিন। কারন পছন্দের ক্যাডার পেলে তো ভাল, আর না হয় অন্তত বেকারত্ব ঘোচানোর জন্য হলেও আপনার যে কোন একটা চাকুরি দরকার।
আর আপনি যদি সরকারি /বেসরকারি কোন ভাল চাকুরী তে থাকেন, তাহলে আপনি সিদ্ধান্ত নিন যে, কোন কোন ক্যাডারে সুপারিশকৃত হলে আপনি চাকুরি করবেন, তারপর সে মোতাবেক ক্যাডার চয়েস দিন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এডি, এনএসআই এর এডি, বা পাবলিক ভার্সিটির টিচারদের পছন্দের দু তিনটির বেশি ক্যাডার চয়েস দেওয়ার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না (পুলিশ, পররাষ্ট্র ও এডমিন দেওয়ার প্রবণতাই বেশি।)
>> আবেদনের সময়সীমার শেষমুহূর্তে আবেদন করলে নাকি ভাইভায় সুবিধা হয়। তখন নাকি আগের দিনগুলোর ভাইভা প্রশ্ন বাজারে পাওয়া যায়, এবং সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিয়ে ভাল ফল লাভ করা যায়
উত্তরঃ ভুল। যে সুবিধার কথা বলা হচ্ছে, সেটা এক শ্রেণীর মানুষের ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে পরিচালিত প্রচারনার ফলে সৃষ্ট ভুল ধারনা মাত্র। এরা নিজেরা ভাইভা উপযোগী কিছু প্রশ্ন লিখে বিগত বছরের ভাইভার কিছু প্রশ্ন তার সাথে মিশিয়ে সেগুলো চলতি বছরের ভাইভা প্রশ্ন হিসেবে বাজারে বিক্রি করে। তারা তাদের সুচতুর ব্যবসায়িক বুদ্ধি খাটিয়ে এমনভাবে তারিখ দিয়ে দিয়ে কথিত ভাইভার প্রশ্ন বাজারে আনে, সুক্ষ্মভাবে চিন্তা না করলে যে কেউই তাদের কথায় বিশ্বাস স্থাপন করে বোকা বনে যাবেন।
উল্টো দেরিতে আবেদন করলে আপনার পরীক্ষার সেন্টার পড়বে গাজীপুর, উত্তরা, শনির আখড়া ইত্যাদি দূরবর্তী কেন্দ্রে, যা আপনার দুর্ভোগই শুধু বাড়াবে। আমি মনে করি আবেদন করা উচিত ১৫/১৬ তম দিনে, তাতে মোটামুটি মাঝামাঝি একটা জায়গায় রেজি: নম্বর পাওয়া যায়, তখন আশা করা যায় যে ঢাকা শহরের কোন স্কুল কলেজেই আপনার প্রিলি রিটেনের সেন্টার পড়বে। তখন একেবারে প্রথম দিকে ভাইভা দেওয়ার ঝুঁকি(!!) টাও এড়ানো যায়।
>> আমার হাত-পা ছোটবেলায় ভাঙ্গা/ চোখের নিম্ন দৃষ্টিসীমা / হার্টের প্রবলেম/ অঙ্গহানি/ অন্য কোন মেজর শারীরিক সমস্যা আছে, আমি কোন কোন ক্যাডার চয়েস দিতে পারব?
উত্তরঃ পিএসসির আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী আপনি সব ক্যাডারই চয়েস দিতে পারেন। তবে পুলিশ বা আনসার ক্যাডারে যোগ দিলে যে ট্রেনিং করতে হয়, এই শারীরিক সমস্যা সেখানে আপনার বড় প্রতিবন্ধক হিসেবে দেখা দিবে। তাই পুলিশ এবং আনসার বাদ দিয়ে অন্য সকল ক্যাডার আপনি চয়েস দিতে পারেন।
>> বিসিএস ক্যাডার হবার জন্য সর্বনিম্ন কতটুকু উচ্চতা থাকতে হয়?
উত্তরঃ পুলিশ এবং আনসার ক্যাডারের জন্য পুরুষ প্রার্থীগণের সর্বনিম্ন ৫'৪" এবং নারী প্রার্থীগণের জন্য সর্বনিম্ন ৫'০"" উচ্চতার অধিকারী হতে হয়। অন্যথায় চূড়ান্ত মেডিকেলে আপনি বাদ পড়ে যাবেন। পুলিশ ও আনসার ব্যতীত অন্যান্য ক্যাডারের জন্য ন্যূনতম উচ্চতা পুরুষ প্রার্থীদের ৫.০", নারী প্রার্থীদের ৪'১০" প্রয়োজন হবে।
>> চশমা বা কন্টাক্ট লেন্স যারা ইউজ করেন, তারা কি পুলিশ ক্যাডার চয়েস দিতে পারবেন?
উত্তরঃ কোন সমস্যা নেই, দেওয়া যাবে।
>>পররাষ্ট্র ক্যাডার ফার্স্ট চয়েস দিলে নাকি সব পরীক্ষা ইংরেজি তে দিতে হয়?
উত্তরঃ আপনার ক্যাডার চয়েস যা-ই হোক, প্রিলি রিটেনে অভিন্ন প্রশ্নপত্রেই আপনাকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। তবে হ্যা, পররাষ্ট্র ক্যাডার ফার্স্ট চয়েস দিলে ভাইভা পুরোপুরি ইংরেজি মাধ্যমে হওয়ার সম্ভাবনা ৯৯.৯৯%। তাই যাদের স্পোকেন ইংলিশে আত্মবিশ্বাসের অভাব আছে, তারা পররাষ্ট্র ফার্স্ট চয়েস দেওয়ার আগে দুবার ভেবে নিলে ভাল হবে
>>শিক্ষা ক্যাডারকে চয়েজে সবার শেষে রাখলে ভাইভা বোর্ড কি নেতিবাচক হিসেবে নেয় !
উত্তরঃ নেতিবাচক নেওয়ার কোন কারন নেই। তবে বোর্ড অনেক সময় জানতে চাইতে পারে, এত মহান পেশা সবার শেষে কেন? তখন আপনি সন্তোষজনক উত্তর দিলে কোন প্রবলেম নেই
>> যদি ১ম চয়েস প্রশাসন, ২য় চয়েস শিক্ষা ক্যাডার হয়, তাহলে প্রশাসনের যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও বোর্ড কি শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশ করতে পারেন?
উত্তরঃ ভাইভা বোর্ড সুপারিশ করার কেউ না। বোর্ড শুধু আপনার পারফর্মেন্স অনুযায়ী ২০০ নম্বরের মধ্যে ভাইভার মার্কস দিবে, নাথিং এলস। তার পর আপনার লিখিত ও ভাইভায় প্রাপ্ত মার্কস অনুযায়ী আপনি প্রথম/ দ্বিতীয়/তৃতীয় পছন্দের ক্যাডারে সুপারিশকৃত হবেন।
>> ১ম ও ২য় চয়েস পুলিশ ও প্রশাসন দেওয়ার পর ৩য় চয়েস পররাষ্ট্র দেওয়া কি উচিত হবে?
উত্তরঃ যৌক্তিক হবে না, কারন পরীক্ষা যত ভাল বা খারাপ হোক, পুলিশ এবং প্রশাসন ছাড়া কোন অবস্থাতেই আপনি পররাষ্ট্র পাবেন না। তাই দিতে চাইলে পররাষ্ট্র ফার্স্ট চয়েস হিসেবেই দেওয়া উচিত।........
ক্যাডার চয়েস বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা:
আপনারা যাঁরা বিসিএস আবেদন ফর্ম পূরন করছেন বা করবেন তাঁদেরকে বলবো ক্যাডার চয়েসের বিষয়ে অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করুন। কারন, ক্যাডার চয়েসের ভুলে যেমন আপনি আপনার সত্যিকার পছন্দের ক্যাডার পাওয়া থেকে বঞ্চিত হতে পারেন একইভাবে এই একটি ভুলে আপনি বিসিএস মৌখিক পরীক্ষায় আপনি অত্যন্ত কম নম্বর পাওয়া বা অকৃতকার্য হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। বিধায় বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে দেখা উচিৎ। ক্যাডার চয়েসের সময় কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করুন তাহলেই আপনার পছন্দক্রম ঠিক হয়ে যাবে। যেহেতু এক জনের সাথে অন্য জনের কিছুটা পার্থক্য আসাটাই স্বাভাবিক।
বিবেচ্য বিষয় সমূহ:
০১. সবার আগে প্রতিটি ক্যাডার সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা আছে কিনা? যেমন ক্যাডারে কাজে সুযোগ,পদন্নোতি, কাজের চাপ, উচ্চ শিক্ষা গ্রহনের সুযোগ, রাষ্ট্রের জন্য অবদান রাখার সুযোগ ইত্যাদি। যদি এ বিষয়ে ধারনা না থাকে তাহলে আগে সে ধারনা৷ নেওয়ার চেষ্টা করুন।
০২. সার্কুলারে কোন ক্যাডারে কতগুলি পদ আছে এটা মাথা থেকে মুছে ফেলুন। কারন, আপনার দরকার একটি পদ। শুধু বিবেচনায় রাখুন প্রতিটি ক্যাডারে একটি করে পদ আছে আপনার অপেক্ষায়, আপনি মাত্র একটিকে বেছে নিতে পারবেন তাহলে সবার আগে আপনি কোন ক্যাডারটি নিবেন। এরপর কোনটা তারপর কোনটা এভাবে।
০৩. বিশেষ কোন দূর্বল দিক থাকলে (যেমন উচ্চতা কম থাকলে পুলিশ ও আনসার ক্যাডার) আপনি চয়েস থেকে বাদ দিতে পারেন। তবে সেটা আপনাকে ভাল করে বুঝে বাদ দিতে হবে। আর যদি অন্য কারনে কোন ক্যাডার চয়েস থেকে বাদ দেন তাহলে ধরে নিতে হবে আপনি ঐ ক্যাডারে চাকুরি হলেও করবেন না।
০৪. আপনার অনার্স বা মাস্টার্স এর বিষয়টিও গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় রাখুন।
০৫. ক্যাডার চয়েসের সামঞ্জস্যতা বজায় রাখুন। যেমন আপনি কাস্টমস ও কর ক্যাডার দুটিকে অনেক আগে পিছে দিবেন না কারন এই দুটি ক্যাডারের কাজের ধরন কাছাকাছি। সর্বোপরি না বুঝে চয়েস দিবেন না।
মনেরাখবেন, একটি সঠিক ক্যাডার আপনাকে যেমন সফল করে দিতে পারে আবার ভুল ক্যাডার চয়েস আপনাকে যোগ্যতা থাকার পরও কাঙ্খিত পদ বঞ্চিত করে দিতে পারে এবং কিছুক্ষেত্রে পুরোপুরি ব্যর্থ করেও দিতে পারে।
তাই বিষয়টি মোটেও অবহেলার বিষয় নয়।
আমি ধারনা করি, আমি ৩০তম বিসিএস মৌখিক পরীক্ষায় ২০০এর মধ্যে হয়তো ১৭০+ নম্বর পেয়েছিলাম (কারন লিখিত পরীক্ষায় যাঁরা আমার চেয়ে ৪০/৫০ নম্বর বেশি পেয়েছিলো প্রশাসন ক্যাডারের মেরিটে তাঁদের অনেকেই থেকে আমার মেধাক্রম সামনে চলে এসেছিলো) যেখানে ভাইবা ভালোর পাশাপাশি ক্যাডার চয়েসেরও ভূমিকা ছিলো বলে আমি মনে করি।
সকলের জন্য শুভকামনা
মুহম্মদ শামীম কিবরিয়া
///
ক্যাডার চয়েস এর ক্রম নির্ধারণের সময় দুটি বিষয় খেয়াল রাখুন:
১. ভুলে যান কোন ক্যাডারে কয়টি পদের বিপরীতে নিয়োগ দেওয়া হবে। কারন আপনার তো মাত্র একটি চাকুরী দরকার।
২. নিজের পছন্দকে সবচেয়ে গুরুত্ব দিন। ঠিক যেন বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়ার পর আপনি সাবজেক্ট চয়েস দিচ্ছেন। মনে রাখবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো এখানেও সম্মিলিত মেধা তালিকা হয় এবং মেধার ক্রম অনুসারে ক্যাডার চয়েসে যে ক্যাডারটি আপনি পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করবেন ঠিক সেই ক্যাডারটি আপনাকে দেওয়া হবে।
একটু উদাহরণ দিলে বিষয়টি পরিস্কার হবে, ধরুন আপনি সম্মিলিত মেধায় ১৮৫তম হলেন আপনার কোন কোটার সুবিধা নাই। আপনার প্রথম পছন্দ পুলিশ ক্যাডার তারপর পররাষ্ট্র তারপর প্রশাসন তারপর তথ্য তারপর অডিট। তাহলে দেখা হবে, আপনার থেকে মেধায় উপরে থাকা ১৮৪ জনকে তাঁদের পছন্দের ক্যাডার দেওয়ার পর কোন ক্যাডারে কতগুলো পোস্ট বাকি আছে। এই বাকি থাকা পোস্ট গুলো থেকে আপনার পছন্দের সর্বোচ্চ উপরের দিকে থাকা ক্যাডার আপনাকে দেওয়া হবে। ১৮৪ জনকে তাঁদের পছন্দের ক্যাডার দেওয়ার পর পররাষ্ট্র, প্রশাসন,পুলিশ ক্যাডার শেষ হয়ে গেলো কিন্তু বাকি সব ক্যাডারে কিছু কিছু পোস্ট শূন্য আছে। আপনি হয়তো অডিট ক্যাডার পেলে বেশি খুশি হতেন এবং পাওয়ার জন্য মেধা তালিকার যে অবস্থানে আপনার থাকার কথা ছিলো আপনি সেখানে ছিলেনও কিন্তু তথ্য ক্যাডারে পদ শূন্য থাকায় এবং আপনার পছন্দের উপরের দিকে তথ্য ক্যাডার থাকায় আপনাকে তথ্য ক্যাডারের জন্য বিবেচনা করা হলো।
এজন্য ক্যাডার চয়েস দেওয়ার সময় আপনি ভালভাবে ভেবে ও সঠিক চিন্তা করে তারপর ক্যাডার চয়েস দিবেন। কোন ভাবেই কোন ক্যাডারে পোস্ট বেশি এটা আমলে নিবেন না। (বি.দ্র.- এখানে আমি শুধু উদাহরণ হিসেবে কয়েকটি ক্যাডারের নাম উল্লেখ করেছি আপনাদের বুঝানোর স্বার্থে। কোন ক্যাডার কম গুরুত্বপূর্ণ বা বেশি গুরুত্বপূর্ণ বুঝাতে চাইনি। আপনাদের শুধুমাত্র নিজের পছন্দকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি বুঝাতে চেয়েছি)
শুভ কামনা
সবার জন্য
মুহম্মদ শামীম কিবরিয়া
বিসিএস (প্রশাসন)
////////////////
৪১ তম বিসিএস ক্যাডার চয়েস বিষয়ে কিছু কথাঃ
Rafsan Jani
#চয়েস সবসময় নিজের যোগ্যতা অনুযায়ি দিতে হবে। #একাধিক ক্রমে ২০ টা ক্যডার চয়েস দেওয়া যায়।
#জেনারেল ক্যাডার তালিকার কিছু বিষয় জানানোর প্রয়াস দেখালাম।....
১। এডমিন ক্যডারঃ সবার পছন্দের প্রথম ও দ্বিতীয়তে এটা থাকে। সকল ক্যাডারে এখান থেকে যাওয়া যায়৷ শুরুতে উপজেলা পর্যায়ে পোস্টিং হয় সচরাচর। সর্বোচ্চ পদ সিনিয়র সচিব। এই ক্যাডার পেতে গেলে লিখিততে মোটামুটি ৬৫% মার্ক লাগে।
২। পররাষ্ট্র ক্যাডারঃ চয়েস তালিকায় প্রথমে না রাখলে রাখা আর না রাখা এক কথা। ইংরেজিতে সুস্পষ্ট কথা বলার অভ্যাস রাখতে হবে। শুরুতেই পোস্টিং সচিবালয়ে এবং চাকরি জীবনের ২/৩ অংশ বিদেশে কাটানোর সুযোগ। সচিবালয়ে পোস্টিং হওয়ায় সহকারি সচিব হিসাবে জয়েনিং এবং ডিপ্লম্যাট পাসপোর্ট পাওয়া যায়। বলা হয় ৭০% মতো মার্ক লাগে।
৩। কাস্টমস এন্ড ট্যাক্সঃ কয়েক বিসিএস পরপর নিয়োগ হয়। পদ সংখ্যা বেশী না থাকায় অনেকে ক্যাডার তালিকায় প্রথম দ্বিতীয়তে রাখেন। জেলাভিত্তিক পদ তবে ১০ টা উপজেলা ভিত্তিক পদ আছে। বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ অনেক। ৬৩-৬৪% নাম্বার লাগে।
৪। অডিট এন্ড একাউন্টসঃ সর্বোচ্চ পদ কম্পট্রোলার জেনারেল অফ অডিট এন্ড একাউন্টস। শতকরা ৮০ ভাগ পদের পোস্টিং ঢাকা ভিত্তিক। এর শাখা ৩ টি। ১০ বছর পর একবার বিদেশ ভ্রমণ সুযোগ ৬২-৬৩% নাম্বার লাগে।
৫। পুলিশ ক্যাডারঃ পাওয়ার হোল্ড করায় এই ক্যাডারে চয়েস প্রথম দ্বিতীয় ও তৃতীয়তে থাকে সবার। শারীরিক যোগ্যতা চাওয়া হয় ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি লম্বা ছেলেদের মেয়েদের ও উপজাতীর একটু কম। জীবনে ৩ বার UN মিশনে পোস্টিং। সর্বোচ্চ পদ আইজিপি। চয়েস অনেক বেশী হওয়ায় প্রায় এডমিনের সমান নম্বর তুলতে হয়।
৬। আনসার ক্যাডারঃ সর্বোচ্চ পদ ডাইরেক্টর জেনারেল। অনেকেই এটাকে রয়েল ক্যাডার বলেন। শুরুতেই বাংলো একাধিক ব্যক্তিগত ফরমায়েশ খাটার জন্য কর্মচারী পাওয়া যায় সাথে গাড়ি। ৬২-৬৩% নাম্বার তুলতে হয়।
৭। ইকোনোমিক ক্যাডারঃ ১০০ ভাগ পদ ঢাকা ভিত্তিক। পৃথিবীর সেরা ৪ টা বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি ডিগ্রি নেওয়ার সুযোগ। ক্যাডার চয়েসে প্রথম দ্বিতীয় তৃতীয়ে রাখা উচিত। সহকারি সচিব হিসাবে জয়েনিং এবং সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প পরিচালনায় সুযোগ। এডমিন ক্যাডারের সকল সুবিধা পাওয়া যায় তাই এডমিনের কাছাকাছি নম্বর লাগে।
৮। সমবায় ক্যাডারঃ জেলা ভিত্তিক পদ। পদোন্নতি মধ্যম। ১ নং গ্রেডে যাওয়া সম্ভব। ৬০% নম্বর তুলতে হয়।
৯। খাদ্য ক্যাডারঃ জেলা ভিত্তিক পদ। শুরুতেই টেলিফোন বিল ও গাড়ি পাওয়া যায়। পদোন্নতি মধ্যম। পদ কম থাকায় মচয়েস তালিকার মাঝামাঝিতে রাখে সবাই।
১০। তথ্য ক্যাডারঃ তিন ধরণের পোস্ট ১. সাধারণ তথ্য
২. রেডিও ও ৩. টেলিভিশন। তারকাদের সাথে উঠাবসার সুযোগ। সুযোগ সুবিধা ভালোই। ৬০% কাছাকাছি নম্বর লাগে।
১১। পোস্টাল ক্যাডারঃ ততটা ইমেজ নেই এ ক্যাডারে। পুরাতন জেলা সদরে পোস্টিং। শুরু থেকেই orderly ও গাড়ি পাওয়া যায়। চ্যালেজ্ঞ কম।
১২। রেলওয়ে ক্যাডারঃ রেল সদর তথা জংশনে পোস্টিং। সর্বোচ্চ পদ মহাপরিচালক। বিদেশ ভ্রমণের সযোগ।
এছাড়া অন্য ক্যাডার গুলোতে এখন অনেক প্রতিযোগিতা অনেক বেশী তাই সব ক্যাডার চয়েস তালিকায় রাখা ভালো।
বি. দ্র.ঃ লিখিত নাম্বার প্রশ্নের মানের উপর নির্ভর করে।
#নতুনদের জন্য লেখা।
///////////////
বিসিএস ক্যাডার চয়েস (ক্যাডার কীভাবে বন্টন করে তা সহ) পরামর্শ
-জোনায়েদ হোসেন
সহকারী কর কমিশনার
===========================
বিসিএস পরীক্ষায় আবেদন করার শিক্ষাগত, শারীরিক ও অন্যান্য যোগ্যতা পূরণ করতে পারলে আপনি যে বিষয়েই স্নাতক/
স্নাতকোত্তর করুন না কেন, সাধারণ ক্যাডার তালিকার সবই পছন্দক্রমে রাখতে পারবেন। কিন্তু প্রফেশনাল/টেকনিক্যাল ক্যাডার তালিকা থেকে কোন কোন ক্যাডার পছন্দ তালিকায় রাখার সুযোগ পাবেন, তা নির্ভর করবে আপনার স্নাতকে পঠিত বিষয়ের ওপর। যেমন—এমবিবিএস/
বিডিএস ডিগ্রি সম্পন্ন করা প্রার্থীরা প্রফেশনাল ক্যাডার হিসেবে শুধু স্বাস্থ্য ক্যাডার পছন্দের তালিকায় রাখতে পারবেন। কিন্তু পরিসংখ্যান বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করা প্রার্থীরা প্রফেশনাল ক্যাডার হিসেবে পরিসংখ্যান ও শিক্ষা ক্যাডার রাখতে পারবেন। আবার পুরকৌশল (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং) সম্পন্ন করা প্রার্থীরা টেকনিক্যাল/প্রফেশনাল ক্যাডার তালিকায় গণপূর্ত, সড়ক ও জনপথ, রেলওয়ে প্রকৌশল, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল প্রভৃতি ক্যাডার রাখতে পারবেন (কারণ ওপরের চার ক্যাডারের নিয়োগ শিক্ষাগত যোগ্যতায় পুরকৌশল বিষয়ের কথা বলা আছে)।
ক্যাডার বণ্টন প্রক্রিয়াঃ
বিসিএস পরীক্ষার মূল ধাপ তিনটি। ২০০ নম্বরের এমসিকিউ পদ্ধতির প্রিলিমিনারি পরীক্ষা, এরপর ৯০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা এবং ২০০ নম্বরের ভাইভা। প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব চাকরিপ্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান। পরবর্তী সময়ে লিখিত পরীক্ষায় ৫০ শতাংশ নম্বরপ্রাপ্ত প্রার্থীরা ভাইভায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান। ভাইভায়ও পাস নম্বর শতকরা ৫০ ভাগ। লিখিত ও ভাইভায় প্রাপ্ত নম্বর যোগ করে একটি মেধাতালিকা তৈরি করা হয় ক্যাডার বণ্টনের জন্য।
এরপর এই মেধাতালিকা অনুসারে বেশি নম্বরপ্রাপ্ত থেকে ক্যাডার বণ্টন শুরু করে পিএসসি। যিনি সবচেয়ে বেশি নম্বর পেয়েছেন, তিনি প্রথমে সুযোগ পাবেন। তাঁর চয়েস অনুযায়ী প্রথম চয়েসের ক্যাডারটি তিনি পাবেন। এ ক্ষেত্রে তাঁর প্রথম চয়েস যদি সমবায় ক্যাডার হয়, তিনি সমবায় ক্যাডার পাবেন; আবার প্রথম চয়েস যদি পররাষ্ট্র ক্যাডার হয়, তিনি পররাষ্ট্র ক্যাডার পাবেন।
প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় এভাবে ক্রমানুসারে তাঁদের পছন্দের ক্রম (ক্যাডার চয়েস) অনুযায়ী ক্যাডার পেতে থাকবেন। সব ক্যাডার পদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই প্রক্রিয়াটি চলতে থাকবে। এবার কয়েকটি উদাহরণ দিলে বিষয়টি আরো স্পস্ট হবে—
১। ধরুন, যিনি প্রথম হয়েছেন, তাঁর পছন্দের ক্রম কাস্টমস, পররাষ্ট্র, পুলিশ, তথ্য ইত্যাদি। যেহেতু তাঁর সিরিয়াল আগে, তিনি আগে সুযোগ পাবেন এবং যেহেতু এখনো কোনো পদ বণ্টিত হয়নি, সেহেতু তিনি প্রথম পছন্দ কাস্টমস ক্যাডার পাবেন।
২। আরেকজনের কথা বিবেচনা করি, তাঁর ক্যাডার পছন্দক্রম এ রকম—প্রশাসন, অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস, পুলিশ, তথ্য ইত্যাদি। মনে করি, তিনি ৪০০তম। এবার ক্যাডার বণ্টনের সময় দেখা গেল প্রশাসন ক্যাডারের পদ বণ্টন শেষ। এরপর দেখবে প্রার্থীর দ্বিতীয় পছন্দ অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস আছে কি না? যদি অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস ক্যাডারে তখনো পদ থাকে তাহলে তিনি অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস ক্যাডার পাবেন। আর যদি না থাকে তাহলে তাঁর তৃতীয় পছন্দ ‘পুলিশ’ দেখাবে। এভাবে প্রক্রিয়াটি চলতে থাকে।
৩। আরেকজনের কথা বিবেচনা করি, পছন্দক্রমে তিনি শুধু তিনটি ক্যাডার দিয়েছেন—পুলিশ, কর, কাস্টমস অ্যান্ড এক্সাইজ। মনে করি যখন তাঁর সিরিয়াল এলো, তখন ওপরের তিনটি ক্যাডারের পদ পূরণ হয়ে গেছে। খালি আছে তথ্য, খাদ্য, সমবায় ক্যাডারের পদ। এ ক্ষেত্রে যেহেতু তাঁর পছন্দক্রমে এসব ক্যাডার নেই, সেহেতু তিনি কোনো ক্যাডারই পাবেন না।
৪। ধরুন, একজনের পছন্দক্রম—প্রশাসন, স্বাস্থ্য, পুলিশ ও কর। অর্থাৎ তিনি সাধারণ ও প্রফেশনাল বা টেকনিক্যাল উভয় ক্যাডারে আবেদন করেছেন। সাধারণ ক্যাডারে যখন তাঁর সিরিয়াল আসবে, তখন দেখবে প্রশাসন ক্যাডারের কোনো পদ খালি আছে কি না। যদি থাকে তাহলে তিনি প্রশাসন ক্যাডার পাবেন। যদি না থাকে তখন তাঁর প্রফেশনাল বা টেকনিক্যাল ক্যাডারের সিরিয়াল বিবেচনা করা হবে। যদি সেখানে পদ খালি থাকে, তাহলে তিনি স্বাস্থ্য ক্যাডার পাবেন। যদি খালি না থাকে তখন আবার সাধারণ ক্যাডার বিবেচনা করা হবে। তখন প্রথমে দেখা হবে পুলিশ ক্যাডারের পদ খালি আছে কি না? এভাবে ক্রমানুসারে বিবেচনা করা হয়।
৫। কেউ যদি শুধু প্রফেশনাল বা টেকনিক্যাল ক্যাডারে (স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রকৌশল, কৃষি ইত্যাদি) আবেদন করেন তাহলে ক্যাডার বণ্টনের ক্ষেত্রে তাঁর সংশ্লিষ্ট ক্যাডারটিই বিবেচনা করা হবে।
তিনি কোনো সাধারণ ক্যাডার পাবেন না (মেধাতালিকা অনুযায়ী পদ খালি থাকলেও)।
ক্যাডার চয়েসের সময় বিবেচ্য বিষয়ঃ
ক্যাডার পদ কিভাবে বণ্টন করা হয়—এটা বুঝতে পারলে ক্যাডার চয়েস বা পছন্দক্রম ঠিক করা সহজ হয়ে যাবে। ক্যাডার চয়েসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—নিজের আগ্রহ, পরিবার, চাকরির সুযোগ-সুবিধা, কর্মপরিবেশ, কর্মস্থল, পঠিত বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্ক, সামাজিক মর্যাদা ইত্যাদি বিষয় বিবেচনা করে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা। ক্যাডারগুলো সম্পর্কে অনেক ভুল ধারণা সমাজে প্রচলিত আছে। আবার আমাদের সামাজিক বাস্তবতা ও অন্যান্য কারণে অনেক চাকরিজীবী চাকরিতে যোগদানের পর হতাশায় ভোগেন। পছন্দক্রম নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয়গুলো ভালোভাবে বিবেচনা করে অনলাইনে আবেদন করার আগে একটা খসড়া করে নেওয়া ভালো।
ক্যাডার চয়েস দেওয়ার সময় চিন্তা করবেন—আপনার সামনে সব ক্যাডার রাখা আছে। সব কিছু বিবেচনা করার পর আপনি কোন চাকরিটি করতে চান, সেটি ১ নম্বরে দিন। ১ নম্বরের চাকরিটি না পেলে কোন চাকরিটি করতে চান, সেটি ২ নম্বরে দিন। এভাবে আপনি যে চাকরিগুলোর যেকোনোটি হলেই করবেন সব লিস্টে রাখবেন। যে চাকরিগুলো করার সুযোগ পেলেও আপনি করবেন না, শুধু সেগুলো বাদ দেবেন। যেমন ধরুন, এরই মধ্যে আপনি ভালো একটি চাকরি করছেন। পররাষ্ট্র বা প্রশাসন ক্যাডারে কাজ করার আগ্রহ আপনার, অন্য কোনো চাকরি হলেও করবেন না, সে ক্ষেত্রে শুধু এই দুটি ক্যাডারই পছন্দক্রমে রাখবেন। কিন্তু যেকোনো চাকরি হলেই করবেন, সে ক্ষেত্রে সব ক্যাডারই আগ্রহের ক্রমানুসারে লিস্টে রাখবেন।
অনলাইনে আবেদন করার সময় আবেদন ফরমে ব্যক্তিগত তথ্য (পার্ট-১) ও
শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য (পার্ট-২) পূরণ করার পর আপনার পছন্দক্রমে রাখতে পারবেন—এ রকম সব ক্যাডারের তালিকা (পার্ট-৩) স্ক্রিনে আসবে। আপনার কাজ হবে ক্যাডারগুলো থেকে পছন্দের একটা ক্রম তৈরি করা।
ক্যাডার চয়েস দেওয়ার সময় বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত পদের সংখ্যা দেখার দরকার নেই। ‘এই ক্যাডারে পদ বেশি, এটা আগে দিব’ এ ধরনের চিন্তা করা বোকামি। আপনি চিন্তা করবেন—সব বিবেচনায় আপনার আগ্রহ কোনটিতে বেশি, পদসংখ্যা যা-ই হোক, সেটি আগে। ভাইভায় ক্যাডার চয়েস একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ক্যাডার চয়েসের ক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয়গুলো যাঁরা ভাইভা নেবেন, তাঁরাও জানেন। চয়েস দেখে তাঁরা আপনার বিবেচনাবোধ সম্পর্কে একটি ধারণা পাবেন। চেষ্টা করবেন আপনার চিন্তা যেন অদ্ভুত না হয়। আর ভাইভা বোর্ডে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় চয়েস থেকেই বেশির ভাগ