24/07/2026
দীঘিনালায় পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের ৬ষ্ঠ থানা ও যৌথ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত-
অদ্য ২৪ জুলাই ২০২৬, বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) দীঘিনালা থানা শাখার উদ্যোগে উৎসবমুখর পরিবেশে ৬ষ্ঠ দীঘিনালা থানা ও যৌথ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়।
কাউন্সিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)-এর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শ্রী:অমর জ্যোতি চাকমা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় ছাত্র ও যুববিষয়ক সম্পাদক শ্রী: বিজয় চাকমা এবং বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি শ্রী:লবিয়ত চাকমা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) দীঘিনালা থানা শাখার সভাপতি শ্রী সমীর চাকমাসহ পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয়, থানা ও বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দীঘিনালা থানা শাখার সাধারণ সম্পাদক শ্রী জটিন ত্রিপুরা।
বক্তারা বলেন, "শিক্ষা, সংহতি, সাম্য ও প্রগতি"—এই মূলনীতিকে ধারণ করে পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য চট্টগ্রামের শিক্ষার্থী ও জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংগ্রাম করে আসছে। তারা বলেন, ছাত্রসমাজ সমাজ পরিবর্তনের অন্যতম চালিকাশক্তি। তাই আদর্শিক চর্চা, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে ধারণ করে নতুন প্রজন্মকে যোগ্য নেতৃত্ব হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
প্রধান অতিথি অমর জ্যোতি চাকমা তাঁর বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের অধিকার, শিক্ষা ও গণতান্ত্রিক চেতনার বিকাশে পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের ভূমিকা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি সকল স্তরের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে সংগঠনকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথি বিজয় চাকমা বলেন, শিক্ষার্থীদের কেবল পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞান অর্জন করলেই চলবে না; সমাজ, ইতিহাস ও সমসাময়িক বাস্তবতা সম্পর্কে সচেতন হয়ে দায়িত্বশীল নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হবে। তিনি শিক্ষা, অধিকার ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ছাত্রসমাজকে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি শ্রী লবিয়ত চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্তমান বাস্তবতায় শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ, সচেতন ও সংগঠিত হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষা, সংহতি, সাম্য ও প্রগতির আদর্শকে ধারণ করে ছাত্রসমাজকে সকল বৈষম্য, অবিচার ও পশ্চাৎপদতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। তিনি নবীন নেতৃত্বকে আদর্শিক, দায়িত্বশীল ও জনগণের স্বার্থে নিবেদিত থেকে সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার আহ্বান জানান।
কাউন্সিলের দ্বিতীয় অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে আপন চাকমাকে সভাপতি এবং অরুন চাকমাকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করে ২১ সদস্যবিশিষ্ট ৬ষ্ঠ দীঘিনালা থানা কমিটি গঠন করা হয়। এছাড়া পার্থ ত্রিপুরাকে সভাপতি ও নিত্য চাকমাকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করে ৩১ সদস্যবিশিষ্ট ৬ষ্ঠ দীঘিনালা সরকারি ডিগ্রি কলেজ কমিটি, দিস্টিন চাকমাকে সভাপতি ও অন্তর ত্রিপুরাকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করে ২১ সদস্যবিশিষ্ট ৫ম দীঘিনালা কুজেন্দ্র মল্লিকা মডার্ন কলেজ কমিটি, তুর্য চাকমাকে সভাপতি ও দিনান চাকমাকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করে ২১ সদস্যবিশিষ্ট ১ম দীঘিনালা টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ কমিটি, রিমেল চাকমাকে সভাপতি ও প্রাণে ত্রিপুরাকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করে ১৭ সদস্যবিশিষ্ট ২য় ১নং মেরুং ইউনিয়ন কমিটি এবং জয়কীর্তি চাকমাকে সভাপতি ও প্রিয়দ্বীপ চাকমাকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করে ২য় ২নং বোয়ালখালী ইউনিয়ন কমিটি গঠন করা হয়।
কাউন্সিল শেষে নবনির্বাচিত সকল কমিটির নেতৃবৃন্দকে অভিনন্দন জানিয়ে পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারন সম্পাদক বিজয় চাকমা বলেন, নবনির্বাচিত নেতৃত্বের ওপর সংগঠনের আদর্শ, শৃঙ্খলা ও ঐতিহ্য সমুন্নত রাখার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে। শিক্ষা, সংহতি, সাম্য ও প্রগতির মূলনীতিকে ধারণ করে শিক্ষার্থীদের অধিকার, জাতিসত্তার ন্যায্য দাবি এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। তিনি আদর্শিক চর্চা, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও জনগণের স্বার্থে আত্মনিয়োগের মাধ্যমে পাহাড়ী ছাত্র পরিষদকে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আরও সুসংগঠিত ও কার্যকর সংগঠনে পরিণত করতে নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান।
পরিশেষে দীঘিনালা থানা শাখার বিদায়ী কমিটির সভাপতি শ্রী বিতরণ চাকমার সভাপতিত্বে সমাপনী অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় নবনির্বাচিত কমিটির নেতৃবৃন্দকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয় এবং সংগঠনের আদর্শ, ঐক্য ও সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। পরে ৬ষ্ঠ দীঘিনালা থানা ও যৌথ কাউন্সিলের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।