24/11/2016
প্রজেক্ট "5 FOR 1" ও পাঁচটি সুসংবাদ :)
আপনার একটি খিচুড়ির টাকা (৫০ টাকা) কত হড় শক্তি হয়ে ওঠতে পারে লেখাটি তার প্রমান। দয়া করে পড়বেন সবাই। এতে আদ্র ও এদের কার্যক্রম সম্পর্কে সঠিক তথ্যটি পাবেন :)
বুক থেকে অনেক বড় একটা পাথর কাল রাতে নেমে গেছে। যে স্বপগুলো মাত্র ১৪ দিন আগে আমরা কয়েকজন তরুন তরুনী দেখতে শুরু করি, যে স্বপ্নগুলো আমরা সবাইকে দেখানো শুরু করি সে স্বপ্নগুলো এক এক করে ধরা দিচ্ছে, আপন করে নিচ্ছে সেই স্বপ্নগুলো আমাদের :)
সবার জন্য সুসংবাদ হল, আমরা টিম আদ্র কাল ২৫০ টি কম্বল কচুয়ার উদ্দেশ্য পৌঁছে দিয়েছি। আর আজকে দুপুর একটায় আমরা যাচ্ছি কচুয়ার উদ্দেশ্যে।
তবে যাওয়ার আগে কিছু সুসংবাদ ও স্বপ্ন শেয়ার করে যেতে চাই :)
★ সুসংবাদ ০১: আমাদের এখন পর্যন্ত কালেকশন যা দাড়িয়েছে তার অংক আনুমানিক ৫৫ হাজারের কাছাকাছি।
★সুসংবাদ ০২: আমাদের টার্গেট ছিল ২০০ থেকে ২৫০ কম্বল। ভেবেছিলাম ভাল কম্বল যদি কেউ কম টাকায় দিত তাহলে বেঁচে যাওয়া টাকায় অন্য সেবামূলক কাজে লাগানো যাবে। "নিয়ত আমান বরকত" - কথাটির সত্যতা হারে হারে টের পেয়েছি এই কয়েকদিন। আমার সাথে ছবিতে যে ভদ্র লোক দাঁড়িয়ে আছেন (মুখে দাড়ি) উনি একজন কম্বল বিক্রেতা। আমি যখন বলি যে আমার টার্গেট হল কিছু দুস্থ অসহায় মানুষের সাহায্য করা, নিজের পরিবারকে দেয়ার সময় মানুষ যেরকম কম দামে ভাল জিনিষ খোঁজে আমারো তাই ইচ্ছা, কেউ যেন বলতে না পারে ত্রানে পাওয়া কম্বল এত ভাল হয় জানতাম না! তখন এই ভদ্র লোক আমার কথা শুনে এতটাই খুশি হলেন যে উনি মাত্র ৫ থেকে ১০ টাকা লাভ রেখে তার কারখানা থেকে মোটামুটি ভাল একটা কম্বল নিয়ে আসল যা ওই অঞ্চল গুলোর জন্য উষ্ম হবে। ভাগ্য এতটাই ভাল যে উনার বাড়ি ওই কচুয়া - হাতিয়ার কাছাকাছি এবং উনি নিজেও বললেন আসলেই ওই জায়গা গুলো ভয়াবহ এবং ওদের দেখার কেউ নাই। ওনারও ইচ্ছা আছে কিন্তু একা কি ই বা করতে পারতেন। তাই উনিও আদ্র'র সাথে থেকে সওয়াব অর্জন করতে চান। বলেছেন নিজের সীমিত লাভ রেখেই দিতে চান আমাদের কম্বল। আলহামদুলিল্লাহ ভাল মানের এই কম্বল গুলো উনি আমাদের ১৬০ টাকা করে ছেড়ে দিলেন। আর বললেন এমন মহৎ কাজে যেন আজীবন তাকে শামিল রাখতে পারি :)
মোস্তাফিজুর ভাই, আপনার মত পজিটিভ মানুষের খোঁজেই আদ্র!! অবশ্যই আমরা আমাদের পাশে আপনাকে চাই :)
★ সুসংবাদ ০৩: যেহেতু কম্বলে প্রায় অনেকটাই খরচ কমে গেছে তাই আমরা টিম আদ্র সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা কচুয়া-হাতিয়াতে হতে যাওয়া মেডিকেল ক্যাম্পেইন এ স্পন্সর করব। প্রায় ৬০০-৭০০ মানুষ এর প্রাইমারী মেডিকেল ট্রিটমেন্ট এর (ডায়বেটিস চেক, নিউমিনিয়া, হাঁপানী, যক্ষা, অ্যানেমিয়া বা রক্তশূন্যতা, ব্লাডপ্রেসার, ব্লাড গ্রুপ টেস্ট প্রভৃতি) স্পন্সর করতে যাচ্ছে টিম আদ্র। আমরা গর্বিত আরো একটি মানবতার কাজে এগিয়ে আসতে পারছি বলে। পুরো টিম আদ্র ও আদ্রের সাথে সম্পৃক্ত সবাইকে কে অভিনন্দন :)
সুসংবাদ ০৪: "ডোনেটিং এ হাইজেনিক প্যাড ফর আ উইমেন" আমরা টিম আদ্র এই ক্যাম্পেইনের সাথেও আছি। মেয়েদের মাসিকের সময় ঢাকার বাইরের বেশিরভাগ জায়গায় মেয়েরা প্যাডের পরিবর্তে অস্বাস্থ্যকর ন্যাকড়া বা টুকরো কাপড় ইউজ করে। আমরা ফেমিনিজম বাংলা ও অন্যান্য সংস্থার সাথে মিলিত প্রয়াসে কাজ করে যাব। এবং প্রতি নারীর সুস্থতার জন্য তাদের সচেতনতা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি আমরা তাদের খুবই কম দামে অথবা বিনা পয়সায় প্যাড দিব। এতে করে আমাদের মেয়েরা বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার ও অন্যান্য সমস্যা থেকে রক্ষা পাবে। কাজটা আমাদের সবার, লজ্জার না- সচেতনতার :) আমরা আদ্র আছি এদের পাশে।
সুসংবাদ ০৫: যেহেতু এখনো অনেক ডিপার্টমেন্ট (বিবিএ,টেক্সটাইল, আইপিই) ও ট্রিপলি ডিপার্টমেন্টের কয়েকটি সেকশন ( বিশেষ করে ৩.২, ৪.২, ২.২) এর টাকা আমি এখনো হাতে পাইনি তাই আমি আশাবাদী তারা আমাদের এখনো টাকা দিয়ে আমাদের এই মহৎ কাজগুলোর পাশে দাঁড়াবে এবং আমাদের আরো একটি ভাল কাজ এর সুযোগ করে দিবে। ৫০ টাকা এখানে মূখ্য না, আবারো বলছি - মূখ্য হল পার্টিসিপেশন। তোমরা সবাই যদি নূন্যতম সহযোগীতা করে এগিয়ে আসো তাহলে আমাদের টাকার অংকটা কম্বল, মেডিকেল ক্যাম্পেইন মিলে ৪৭ হাজার টাকার যাওয়ার পরেও আনুমানিক ভাবে বিশ থেকে ত্রিশ হাজার টাকার মত থেকে যাবে। আমাদের একটা লক্ষ্য আছে। উত্তরা মৈনারটেক নামের এক জায়গায় একটা দোতালা বাড়িতে সেলিনা আপা নামের একজন স্থানীয় নারী রাস্তা থেকে কিছু অসহায় মা দের (২৫ জন) তুলে এনে পুনর্বাসন করেছেন। উনি নিজেই চালান এই ২৫ জন কে। এদের কেউ অন্ধ, বোবা,কানা, মানসিক ভাবে অসুস্থ অথবা যৌন হয়রানির বিক্রিত চর্চার স্বীকার। রাস্তায় থাকাটা তাদের জন্য নিরাপদ ছিলনা বলেই সেলিনা আপা তার "আপন নিবাস বৃদ্ধাশ্রম" এ এদের আশ্রয় দেন। অনেক বিদেশি অনুদান সেলিনা আপা ফিরিয়ে দিয়েছেন কারন উনি চাননা নিজের সত্তা কে বিকিয়ে দিতে। উনি চান না ব্যবসা করতে। তবে আমি ও আমার টিম যখন ওইখানে যাই তখন দেখতে পাই এই ২৫ জন মা এর শোবার জায়গা নেই, নেই প্রাথমিক চিকিৎসার কোন যন্ত্রপাতি, নেই কোন আসবাব এমনকি চেয়ার পর্যন্ত নেই। আমার মতে একদিন বৃদ্ধাশ্রমে থেকে তাদের খাবার দিয়ে কোন লাভ হবে। আমরা চাই দীর্ঘস্থায়ী একটা সমাধান। আমরা টিম আদ্র আবার গিয়ে একটা লিস্ট করে নিয়ে আসব এই মা দের জন্য। যা যা পারি "প্রজেক্ট ফাইভ ফর ওয়ান" এর বাকি টাকা দিয়ে তাদের সাহায্য করব। আমরা সবাই একসাথে থাকলে আশাকরি এই স্বপ্ন ও পূরণ হবে। ধন্যবাদ Prioty Nabanita Jhilik ও তার মা কে এমন একটি আশ্রমের খোঁজ দেয়ার জন্য :)
টিম আদ্রের সাথে সম্পৃক্ত সবাইকে ভালবাসা ও পাশে থাকার জন্য অভিনন্দন 💜
ধন্যবাদ Dakpeon24.com, BDyouth.com এবং রেডিও ৭১ 98.4 Fm কে আমাদের মিডিয়া পার্টনার হিসেবে পাশে থাকার জন্য :)
বিঃদ্রঃ আদ্র কর্তৃক সমস্ত অর্থ কালেকশন ও ব্যয়ের হিসাবের একটা এক্সেল ফাইল আমি পোস্ট দিব কচুয়া থেকে ফিরে এসে :)
স্বচ্ছতা, সততা আর প্রতিরোধেই আমাদের স্বস্তি 💜