03/05/2025
নির্বাচিত কলাম';:
শুধু বিএনপি না, বাংলাদেশের আগামী ৩ টা সরকার একদিনও শান্তিতে থাকতে পারবে না।
চাঁদাবাজি করে, জুলুম করে শান্তিতে থাকা শেষ সরকারটা হাসিনার সরকার।
এরপর আর একটা সরকারও এই সুযোগটা পাবে না।
ইউনূসই কি শান্তিতে আছে? নাই। ছাত্র উপদেষ্টাদেথও তুমুল গালিগালাজ সহ্য করতে হচ্ছে।
দুই উপদেষ্টার পিএসের দুর্নীতি নিয়ে যা হইছে, হাসিনার আমলে মন্ত্রীর দুর্নীতি নিয়েও এতো হাউকাউ হয় নাই।
কেন?
কারণ ৫ আগস্টের পর থেকে মানুষের ভয় ডর চলে গেছে। সবার হাতে মোবাইল ফোন। দেশ ভর্তি সাংবাদিক। একটা কিছু করবেন, ভিডাওটা জাস্ট আসবে।
এরপরের ধাপের জন্য আমরা আছি।
আমাদের পর আসতে শুরু করবে মিমাররা। জাস্ট একটা ভুল করে দেখেন, মানুষ আপনাকে জোক বানাইয়া ছাইড়া দেবে।
এইটা কারো ষড়যন্ত্র না।
এইখানে ষড়যন্ত্র খুজে লাভ নাই।
অমুক দল,তমুক দল আপনাকে শান্তিতে সরকার চালাতে দিবে না, এসব কান্নাকাটির ভাত নাই।
শান্তিতে থাকতে হলে নিজেদের আগে শান্তিপ্রিয় বানাতে হবে। সাবধানে কথা বলতে হবে। কাজ করতে হবে।
এর বাইরে আর অপশন নাই।
উদাহরণ দিই। মনে হয় না ইউনূস অনেক জনপ্রিয়? বা ইউনূস টাকা দিয়ে অনলাইন মেকানিজম করে জনপ্রিয়তা পাইছে?
ইউনূসের পেজে যান।
আয়নাঘর দেখতে যাওয়ার পোস্টে বা দাম কমানোর পোষ্টে লাখ লাখ পজিটিভ রিঅ্যাকশন।
আবার নারী কমিশন প্রশ্নে তীব্র গালিগালাজ।
কিনে নেওয়া রিঅ্যাকশন হলে তো সবই পজিটিভ হতো, নাকি?
কিছুদিন আগে খিলগাওতে এক পুলিশ এক রিকশাওয়ালার ঘাড়ে হাত দিয়ে ধাক্কা দিসিলো। রিকশাওয়ালা এসে পুলিশটাকে চড় মেরে জিগাইছে, আমার ঘাড় ধরলি কেন?
প্রতিটা মানুষ এখন ইউটিউবে নাটকের চে পলিটিক্স বেশি দ্যাখে।
গত দুইদিন বেশ কিছুটা মফস্বলে থাকার সৌভাগ্য হলো। গ্রাম এলাকা। খুবই স্লথ লাইফ। অথচ খাইতে বসে সবাই কথা বলতেছে পলিটিক্স নিয়ে।
গ্রামের মানুষের কাছে বাংলাদেশের সবচে বড় দুইটা মিডিয়া হলো পিনাকী ভট্টাচার্য আর ইলিয়াস হোসেন।
আমি রাস্তাঘাটে বেশ কয়েকজনকে দেখতে দেখলাম।
জেলা শহরের ব্যাংকের অফিসে আলোচনা কী চলতেছে জানেন?
হাসনাত আব্দুল্লাহ নাহিদকে ভবিষ্যতের প্রধানমন্ত্রী বলে পোস্ট দিছে, ঐটা।
সারা বাংলাদেশের মানুষই রাজনৈতিক হয়ে উঠছে।
এরা কোন দলকেই গালিগালাজ করতে ছাড়তেছে না, ইনক্লুডিং বৈষম্য বিরোধীরা।
তো, ব্ল্যাংক চেক পেয়ে দেশ চালানোর স্বপ্ন দেখে লাভ নাই।
ভয়ের সংস্কৃতি হাসিনার সাথে সাথেই বিদায় নিছে।
এতোটাই যে যে পুলিশকে দেখলে পলিটিশিয়ানরা বোরকা পরে পালাইতো, সেই পুলিশকে এখন রিকশাওয়ালাও তেড়ে মারতে যায়।
এই ভয়টা তৈরি হতে আরো ১০ বছর লাগবে।
হাসিনার মতো তিনটা জেনোসাইড আর ৫০০ গুম না হলে আগের ভয়টা আর তৈরি হবে না মানুষের মধ্যে।
আবার এইটা করতে গেলে ৫০০ না, ৫ টা করলেই সরকার পড়ে যাবে।
সো, শান্তিতে আকাম করার দিন শেষ হয়েছে। এই প্রথম বাংলাদেশের পলিটিক্যাল পার্টিগুলোকে কঠিন এক পরীক্ষার মধ্যে পড়ে যেতে হয়েছে।
১৯৭১ নিয়ে যতটুকু পড়েছি, মানুষ একাত্তরের পরেও এতোটাই রাজনৈতিক হয়ে উঠেছিলো। তবে এইটা সবসময়ই ভালো না। কারণ মুজিবকে এই জেনারেশন ঠান্ডা করতে ৪০,০০০ খুন করতে হয়েছিলো।
তবে শেষ রক্ষা হয়নি, নিজেরেও প্রাণ দিতে হয়েছে সপরিবারে।
আবারও সেইম সিচুয়েশন আমাদের সামনে হাজির হয়ে গেছে।
এই জেনারেশনের সাথে অশান্তি করলে এরাও চূড়ান্ত অশান্তি আপনাকে উপহার দেবে।
ইভেন ৭১ এর মুজিবকে মানুষ যে সুযোগ দিছিলো, ২৪ এর নাহিদদের সেই সুযোগটাও দেয় নাই। বরং গালিগালাজ শুরু করেছে।
পরের তিনটা সরকারকে এই আগুনের উপর দিয়েই হাঁটতে হবে।
আগামী ১০ বছর বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য সবচে ভয়ঙ্কর দশটা বছর হতে যাইতেছে।
বিপ্লব জিনিসটা ভূমিকম্পের মতো। একা আসে না, অনেকগুলো সাথে করে আসে।
জুলাই এর মতো আরো কিছু জুলাই এর হটস্পটে বসেই দেশ চালাতে হবে, যারাই চালান।
এই ১০ বছরে রাজনৈতিক ভুলের মাশুল খুব চড়া হতে যাইতেছে।
কোন দলের উপর দায় চাপাইয়া কোন লাভ হবে না। ভুল হলেই ডিরেক্ট মাটির তলে চলে যেতে হবে, আওয়ামীলীগের মতো।
আওয়ামীলীগ ১৭ বছর সময় পাইছিলো।
এরপরের ৩ টা সরকার ১৭ মাস পাবে কি না, আমার সন্দেহ আছে।
-সাদিকুর রহমান খান।