13/09/2026
যমুনা টেলিভিশনের একটা রিপোর্ট থেকে ছবিটা কোলাজ করেছি।
এমবিবিএস ডিগ্রী নেই, কিন্তু এমবিবিএস ডিগ্রীধারী বলে কিছু ভূয়া ডাক্তারদের নিয়ে যমুনা টিভি আজ একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। রিপোর্টে তারা দেখিয়েছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এমন অসংখ্য ভূয়া ডাক্তারের খোঁজ তারা পেয়েছে যাদের কোনো এমবিবিএস ডিগ্রী নেই, মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া তো দূরের কথা, শিক্ষাজীবনে বিজ্ঞান বিভাগেও পড়েনি অনেকে।
কিন্তু, রীতিমতো এমবিবিএস ডিগ্রীধারী বলে পরিচয় দিয়ে তারা চেম্বার করছে এবং রোগী দেখছে। চেম্বারের বাইরে রোগিদের লম্বা লম্বা লাইন।
আরও আশ্চর্যজনক তথ্য হলো, তাদের কাছে কিন্তু এমবিবিএস ডিগ্রীর সার্টিফিকেট রয়েছে। যদি তারা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে না-ই পড়ে, তাহলে এই সার্টিফিকেট তারা পেল কোথায়?
জবাবটাও আছে যমুনা টিভির রিপোর্টে।
এই সার্টিফিকেট তারা কিনছে কলকাতার আরেকটা চক্র থেকে, যারা কেবলমাত্র ২২ হাজার রুপির বিনিময়ে রাতারাতি বানিয়ে দিচ্ছে এমবিবিএস ডিগ্রীর সার্টিফিকেট, ডাক্তারি পাশের সনদ সহ ডাক্তারি প্র্যাকটিস করার যাবতীয় সকল ডকুমেন্টস।
কী চমৎকার, তাই না?
মফস্বল শহরের একটা অপরিচিত জায়গায় গিয়ে, ভালো ডেকোরেশন দিয়ে সাজিয়ে একটা চেম্বার খুলে বসে পড়লেন ডাক্তারিতে৷ নামের আগে লাগিয়েছেন ডাক্তার। নামের নিচে আছে এমবিবিএস ডিগ্রী সহ নানাবিধ ডিগ্রী আর এক্সপার্টিজের বহর! লাইন ধরে আসছে গ্রামের সরলমনা লোকজন।
বাংলাদেশ দুই নম্বরির, দুর্নীতির, অনিয়মের একটা অভয়ারণ্য জায়গা এটা আমি জানি এবং মেনেও নিয়েছি।
কিন্তু আমার খুব আফসোস লাগে কখন জানেন? যখন দেখি মুখে লম্বা সুন্নতি দাড়ি, গায়ে সুন্নতি পোশাক পরে লোকজন এইসব জোচ্চুরিতে নামে।
ছবির ব্যক্তিগুলোকে দেখুন।
দেখে মনে হচ্ছে না একদম পরগেযগার, তাকওয়াবান, প্রতি রাতে তাহাজ্জুদ পড়া কেউ? এদের চেহারা সুরত, লেবাস দেখলে সম্মানে মনটা বিগলিত হয়ে পড়তে চাচ্ছে না?
অথচ দেখুন। এই লেবাসকে ধারণ করে, অথবা বলা যায় এই লেবাসকে ঢাল বানিয়ে এরা এদের অসৎ কাজ, জোচ্চুরিগুলো চালিয়ে যাচ্ছে দিনের পর দিন।
উদ্দেশ্য কী জানেন?
উদ্দেশ্য একটাই। যদি কোনোদিন ধরা পড়ে অথবা সরকারের হাতে আটক হয়, যেন এইসব লেবাসের কারণে হলেও আমার-আপনার সিম্প্যাথি লাভ করতে পারে। এদের মার খেতে দেখলে আমাদের ভেতরে কোথাও যেন একটু মোঁচড় দিয়ে উঠে এই চিন্তা থেকে যে—আহারে, দাড়িঅলা লোকটার সাথে বেইনসাফি হচ্ছে।
সবচেয়ে বড় বেইনসাফি তো এই লোকগুলো দ্বীনের সাথে, সুন্নতি লেবাসের সাথে করছে। ধর্মকে ঢাল বানিয়ে, নিজেদের অসততা, জোচ্চুরি আর ভন্ডামির মাধ্যমে আখের গোছাচ্ছে।
এইসব লোকদের দেখেই এবং এদেরকে রেফারেন্স বানিয়ে যখন ইসলামবিদ্বেষী লোকজন দাড়িটুপি ওয়ালাদের ব্যাপারে মন্দ কথা বলে, সমাজে প্র্যাকটিসিং মুসলিমদের পরজীবী হিশেবে চিত্রায়িত করে—তখন আমাদের না বলার কোনো জায়গা থাকে, না যাওয়ার কোনো জায়গা থাকে।