18/05/2026
চুয়াডাঙ্গা এর ঘোরার জায়গা : পর্ব -৩
ঠাকুরপুর জামে মসজিদ
ঠাকুরপুর জামে মসজিদ চুয়াডাঙ্গা জেলার একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী ইসলামিক স্থাপনা, যা ইতিহাস ও নান্দনিক সৌন্দর্যের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। চুয়াডাঙ্গা শহর থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দূরে চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ মহাসড়কের পাশে ঠাকুরপুর গ্রামে এই মসজিদটির অবস্থান। স্থানীয়দের কাছে এটি পীরগঞ্জ জামে মসজিদ নামেও পরিচিত। মসজিদটি কবে নির্মিত হয়েছিল তার সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকলেও জনশ্রুতি রয়েছে যে, ১৬৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গ থেকে আগত সাধক হযরত আবু শাহ ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে এখানে একটি খানকা প্রতিষ্ঠা করেন। কথিত আছে, তিনি অলৌকিক শক্তির সাহায্যে মাত্র এক রাতেই মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন। এ কারণেই অনেকে একে “জিনের মসজিদ” বলে ডাকেন।
প্রায় ৩০ বিঘা জমির ওপর নির্মিত এই মসজিদে প্রবেশের সময় নজরে আসে দৃষ্টিনন্দন আধুনিক একটি প্রবেশদ্বার। মসজিদের পেছনে রয়েছে বড় একটি পুকুর, নারিকেল গাছের সারি এবং একটি কবরস্থান। স্থানীয় লোককথা অনুযায়ী, প্রতি বৃহস্পতিবার এখানে জিনেরা ইবাদত করতে আসে এবং মানুষের রেখে যাওয়া পানি বা তেলে দোয়া পড়ে যায়। অনেকের বিশ্বাস, সেই পানি বা তেল বিভিন্ন সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। বহুবার সংস্কার করা হলেও মসজিদের প্রাচীন কাঠামো অক্ষুণ্ণ রাখা হয়েছে। প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো ঐতিহ্য অনুসারে প্রতিবছর বাংলা ফাল্গুন মাসের ১২ তারিখে এখানে বার্ষিক ওরস অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় দূর-দূরান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ ঐতিহাসিক এই মসজিদটি দেখতে ও ওরসে অংশ নিতে আসেন।
কীভাবে যাবেন :
ঢাকার গাবতলী অথবা সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে রয়েল এক্সপ্রেস পূর্বাশা, দর্শনা ডিলাক্স, চুয়াডাঙ্গা এক্সপ্রেস কিংবা বাসে সহজেই চুয়াডাঙ্গায় পৌঁছানো যায়। বাসের ধরন অনুযায়ী ভাড়া সাধারণত ৬৫০ থেকে ২০০০ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে। এছাড়া ট্রেনে যেতে চাইলে ঢাকা থেকে চিত্রা, সুন্দরবন এক্সপ্রেস ও বেনাপোল এক্সপ্রেসে চুয়াডাঙ্গা যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। ট্রেনের শ্রেণীভেদে ভাড়া প্রায় ৪৬৫ থেকে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। চুয়াডাঙ্গা শহরে পৌঁছে ইজিবাইক বা রিকশায় করে সহজেই ঠাকুরপুর জামে মসজিদে যাওয়া যায়।