03/06/2026
শহীদ ছাত্রনেতা আনন্দ তঞ্চঙ্গ্যার ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকী অমর হোক
আজ ৩ জুন ২০২৬ সাবেক ছাত্রনেতা আনন্দ তঞ্চঙ্গ্যার ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকী। আজ থেকে ১৬ বছর আগে ২০১০ সালের আজকের এইদিনে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার রাজস্থলী উপজেলার সদরে বাজার এলাকায় পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিবিরোধী ইউপিডিএফের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা এলোপাতারি গুলিবর্ষণ করলে ছাত্রনেতা আনন্দ তঞ্চঙ্গ্যা নিহত হন। শহীদ ছাত্রনেতা আনন্দ তঞ্চঙ্গ্যা পিসিপি রোয়াংছড়ি থানা শাখার সদস্য ছিলেন। আজকের এই দিনে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ শহীদ ছাত্রনেতা আনন্দ তঞ্চঙ্গ্যার আত্মত্যাগের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছে।
২০১০ সালের ৩ জুন সকাল ৮:১৫ ঘটিকায় রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার রাজস্থলী উপজেলা সদরে ইউপিডিএফ (প্রসিত গ্রুপ) এর ২০/২৫ জনের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ৪/৫ ভাগে বিভক্ত হয়ে একযোগে বাজারে অবস্থিত জেএসএস, যুব সমিতি ও পিসিপির অফিস, কর্মীদের আবাসস্থল, সরকারি রেস্ট হাউজে ৩৫ মিনিট ব্যাপী গুলিবর্ষণ করে সশস্ত্র হামলা চালায়। এ সময় পিছন দিক হতে পিঠে গুলি লেগে সাংগঠনিক কাজে নিয়োজিত পিসিপি নেতা আনন্দ তঞ্চঙ্গ্যা (২২), পীং- গণেশ তঞ্চঙ্গ্যা, সাং- ওয়াগ্গাপাড়া, রোয়াংছড়ি উপজেলা ঘটনাস্থলে নিহত হন। ঐ সময় তিনি বাজারের দোকানে নাস্তা করতে বের হয়েছিলেন। একই সময়ে কর্মীদের আবাসস্থলে সশস্ত্র হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। তখন সন্ত্রাসীরা এলোপাতারি গুলিবর্ষণ করলে রান্নায় কাজে ব্যস্ত জেএসএস সদস্য পলাশ চাকমা (৩২), পীং-সুমন চাকমা, সাং- হেডম্যান পাড়া, জীবতলী, রাঙ্গামাটি সদর উপজেলা হাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতরভাবে আহত হন।
প্রসিত খীসার লেলিয়ে দেয়া ইউপিডিএফের সশস্ত্র সন্ত্রাসী হামলায় নেতৃত্ব দেয় কালাইয়া চাকমা চন্দন ওরফে ডায়মন্ড সাং-বন্দুকভাঙা ইউনিয়ন, রাঙ্গামাটি সদর উপজেলা, জীবন তঞ্চঙ্গ্যা সাং- বালাঘাটা, বান্দরবান সদর উপজেলা, সুনীল তঞ্চঙ্গ্যা সাং- খাগড়াছড়ি পাড়া, রাজস্থলী, রতন তঞ্চঙ্গ্যা সাং- ম্যাগাইন পাড়া, রাজস্থলী, চিনু মারমা সাং- কাউখালী, ধর্মজয় তঞ্চঙ্গ্যা সাং- ম্যাগাইন পাড়া, রাজস্থলী এবং রূপময় তঞ্চঙ্গ্যা, রাজস্থলী প্রমুখ।
বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, উক্ত ঘটনার আগের দিন ২ জুন ২০১০ রাত আনুমানিক ৮/৯ ঘটিকার সময় সেনাবাহিনীর সদস্য ও পুলিশ সদস্যরা রাজস্থলীতে সাংগঠনিক কাজে সফররত জেএসএস ও পিসিপির নেতাকর্মীদের বাড়ি ও অফিসে গিয়ে ব্যাপক তল্লাশী চালায়। জেএসএস ও পিসিপি সদস্যদের কাছ থেকে আপত্তিকর কোন কিছু না পাওয়া তারা চলে যায়। এখন প্রশ্ন হল- রাতে সেনা ও পুলিশের তল্লাসী ও পরদিন ভোর হওয়ার পরপরই জেএসএস ও পিসিপির নিরস্ত্র সদস্যদের উপর ইউপিডিএফ (প্রসিত গ্রুপ) এর সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের প্রকাশ্যে দিবালোকে গুলিবর্ষণ- এই দুই ঘটনার মধ্যে যোগসূত্র রয়েছে বলে অনেকেই মনে করেন। উল্লেখ্য যে, এই হামলাস্থলের অত্যন্ত নিকটে রাজস্থলী থানা পুলিশের অবস্থান এবং মাত্র কয়েকগজ দূরত্বে রয়েছে সেনাক্যাম্প। অথচ সেনাবাহিনী বা পুলিশ কোন সন্ত্রাসীকে গ্রেফতারও করেনি।
উল্লেখ্য শাসকগোষ্ঠীর পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ মদদে সৃষ্ট পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বিরোধী সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন ইউপিডিএফ জন্মলগ্ন থেকেই পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনকে চিরতরে ধ্বংস করে দেওয়ার লক্ষ্যে জনসংহতি সমিতি ও এর সহযোগী সংগঠন এবং চুক্তি সমর্থকদের খুন, গুম,মারধর, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়সহ নানা ধরণের অপকর্ম পরিচালনা করে আসছে। ইউপিডিএফ (প্রসিত গ্রুপ) এর সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে একশ জনের অধিক জনসংহতি সমিতির প্রত্যাগত সদস্যসহ অগণিত চুক্তি সমর্থক হত্যাকাণ্ডের শিকার হলেও সেসব সন্ত্রাসীদের এখনও বিচারের আওতায় আনা হয়নি।