30/04/2017
নারীরা সাবধান!!!
আজ আমার সরকারি চাকুরীজীবী মা অফিস থেকে ফেরার পথে অলংকার মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকার সময়ে বোরকা পরিহিত এক নারী এসে মাকে জড়িয়ে ধরে আকুতি করে বলে, "আমারে রাস্তা পার করি দেন। আমি রাস্তা পার হইতে পারতেছি না। খুব ভয় লাগতেছে।"
তো যথারীতি মা সেই নারীকে রাস্তা পার করিয়ে দেয়ার সময়ে মায়ের পাশাপাশি আরেক নারীও রাস্তা পার হচ্ছিল একেবারে গা ঘেঁষে। রাস্তা পার হবার সময়েই মায়ের সাথে থাকা কাঁধ থেকে ঝুলে থাকা ব্যাগ (যেটি বেশির ভাগ নারীই বহন করে) এর চেন খুলে ভিতরে থাকা আরেকটি ছোট ব্যাগ হাতিয়ে নেয়। যেটিতে মোবাইল, এনআইডি, বাড়ির চাবিসমূহ ছিল। রাস্তা পার করে দেয়ার পর মা রাস্তার অপর প্রান্তে এসে ব্যাপারটি বুঝতে পারল। মায়ের সেই মোবাইলে থাকা টেলিটক এবং রবি সিম দুটোই বন্ধ পেয়ে ঘটনা বুঝতে পারা গেল। এরপর মা আমাকে কল দিয়ে জানালে আমিও আসছি বলে বাড়ির পাশেই অবস্থিত আকবর শাহ্ থানায় মাকে চলে আসতে বললাম জিডি করার জন্য।
যেহেতু মোবাইল, এনআইডি, বাড়ির চাবিসমূহ হারিয়ে গেছে, সেহেতু জিডি করা বাধ্যতামূলক নিয়মানুসারে। আমি যথারীতি থানার সামনে অপেক্ষা করছি মা আসবে বলে। থানা বাইরে পরিচিত এক অফিসার ভাই দেখেই জিজ্ঞেস করলেন, "ভাই কি খবর? বেশ কয়েকদিন পর দেখা।" উনার সাথে কথা বলতে বলতেই আমাদের এলাকার আরেক পরিচিত ইলিয়াস ভাই কল দিলেন আমাকে।
আমাকে বললেন যে, আন্টি (মা) সহ আমাদের বাড়ির পিছনের রাস্তাতেই দাঁড়িয়ে আছে। সেখানে যেতে বলল।
গিয়ে দেখি মায়ের সেই ছোট ব্যাগটা। যেটাতে মোবাইল ছাড়া আর সবকিছুই আছে। কোন এক ব্যক্তি সেই ব্যাগ কুঁড়িয়ে পেয়ে সেখানে থাকা মায়ের হাতে লিখা মোবাইল নম্বর পেল যেখানে ইলিয়াস ভাইয়ের নম্বর লিখা ছিল। তো ইলিয়াস ভাইয়ের সেই নম্বরে কল দিয়ে উক্ত ব্যক্তি ব্যাগের কথা বললেও ইলিয়াস ভাই বুঝতে পারেননি আসলে কার ব্যাগ হারিয়েছে। পরবর্তীতে উনি কল দিয়ে এ কে খাঁন বাইক নিয়ে গিয়ে আবার কল দিলে সেই ব্যক্তি কোন এক দোকানে ব্যাগটি রাখার কথা বললে ইলিয়াস ভাই সেই দোকানে গিয়ে ব্যাগে থাকা এনআইডি এর ছবি দেখে মাকে চিনে ব্যাগটি নিয়ে এসে ফেরত দেন।
মোবাইল গেলেও এনআইডি আর চাবিসমূহ ফেরত পাওয়ায় অনেক উপকারই হল। এজন্য ইলিয়াস ভাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ মা এবং আমার দুইজনেরই।
তবে ব্যাপারটি হল যে, সতর্কতার বিষয়। এখানে একটি প্রতারক চক্র কাজ করছে। সাহায্য চেয়ে প্রতারিত করে মূল্যবান জিনিষ হাতিয়ে নিচ্ছে। কোন কারণে ধরা খেলে কিংবা ধরা খাওয়ার উপক্রম হলে হয়তবা ভিক্টিমকেই গাড়ির নিচে ফেলে দিতেও পিছপা হবে না এই চক্র।
তাই বলে কাউকে সাহায্য করা যাবে না কিংবা সাহায্য করা ঠিক না তা কিন্তু না। এমনও হতে পারে সত্যিকারের কারো উপকার প্রয়োজন। তাই বুঝে শুনে তৎক্ষণাৎ সাহায্য করাই উচিত।