03/09/2026
সাভারের ৭ বছরের বাচ্চাটার সাথে যা ঘটল, এর দায় মোছন কীভাবে সম্ভব?? কোন উপায়ে সম্ভব??
একটা মাদরাসাতে পড়ত বাচ্চা ছেলেটা। একদিন তার এক সিনিয়র সহপাঠী মাদরাসারই বাথরুমে তাকে বলাত কার করে৷ এই ঘটনা জানতে পেরে যায় তার আরও কিছু সিনিয়র সহপাঠীরা৷ তারাও সুযোগ পায় আর সুযোগ পেয়ে তারাও সাত বছরের বাচ্চা ছেলেটার সাথে ক্রমান্বয়ে, দিনের পর দিন বলাত কারের মতো কাজ করে যেতে থাকে।
একটা সাত বছরের বাচ্চা ছেলে। জীবনটাকে শিখে উঠার আগেই তাকে সহ্য করতে হচ্ছিল এক অভিশপ্ত যন্ত্রণা।
কিন্তু ছেলেটা বাঁচতে চাইল৷ সে ভাবল, মাদরাসার ওস্তাদদের যদি এই ঘটনা জানিয়ে দেওয়া যায়, তাহলে তার মুক্তি মিলবে৷ সহপাঠীরা আর তার সাথে এই অভিশপ্ত কাজ করার সাহস পাবে না।
সে তাই করল৷ সাহস করে মাদরাসার কয়েকজন জুনিয়র আর সিনিয়র উস্তাদদের ব্যাপারটা বলে দিলো।
তাতে কী হলো, জানেন??
সাত বছরের বাচ্চা ছেলেটার এই অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে, সেই সিনিয়র আর জুনিয়র উস্তাদেরাও বাচ্চাটাকে নিয়মিতভাবে বলাত কার করে যেতে লাগল।
একদিন বা দুই দিন নয়৷ টানা ছয়টা মাস! ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই।
ছেলেটা ঘরে ফিরলে মন মরা হয়ে থাকত। বাপকেও বলতে পারত না। হয়তো লজ্জায় অথবা ভয়ে। বাবা প্রথমে পাত্তা না দিলেও, পরে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়৷ ডাক্তার পরীক্ষা নীরিক্ষা করতে গিয়ে উদঘাটন করে এই ঘটনা।
সাত বছরের সেই বাচ্চাটাকে তার যে সহপাঠী আর উস্তাদেরা মিলে বলাত কার করেছে টানা ছয়টি মাস, তাদের বিরুদ্ধে ছেলের বাবা মামলা করেছে।
হয়তো গ্রেফতার হবে, বিচার হবে, জেলে যাবে কালপ্রিটগুলো।
কিন্তু, একটা ছোট্ট কুসুমকলি বাচ্চা ছেলের গোটা জিন্দেগিটা যে জাহান্নাম হয়ে গেল, এটা কী দিয়ে ক্ষতিপূরণ সম্ভব? দুনিয়ার কোন আদালত, কোন বিচারক, কোন সালিশি বৈঠক এই বাচ্চাটাকে একটা স্বাভাবিক, ছন্দময়, গতিময় জীবন ফিরিয়ে দিতে পারবে?