29/12/2025
“আজ সেই ২৯শে ডিসেম্বর বালুর ট্রাক দিবস।”
বিএনপি ভুলে গেলেও আমরা ভুলে যায়নি, চাইলেও ভুলতে পারবো না, আপনাদের মনে থাকার কথা, ২০১৩ সালে ২৯ ডিসেম্বর খালেদা জিয়া 'মার্চ ফর ডেমোক্রেসি'র ডাক দেন। খালেদা জিয়া যাতে বের না হতে পারেন, তাই তার বাসার গেটে বালুর ট্রাক দিয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।
কথিত আছে, মির্যা আব্বাস দলের সাথে ও জোটের সাথে গাদ্দারী করে নিজের লোকদেরকে রাস্তায় না নামিয়ে বরং নিজের ব্যাবসা ও ব্যাংক বাঁচাতে লীগের সাথে আঁতাত করে বেগম খালেদা জিয়াকে আটকানোর জন্য পুলিশকে বালুর ট্রাক সাপ্লাই দিয়েছে।
সেই ট্রাক সরানোর জন্য আমাদের লোকজন রেডি ছিলো, কিন্তু বিএনপির কাউকে সেদিন ফোনে পাওয়া যায়নি, আজকে তারা খুব সংগ্রামী নেতা হয়েছে। হেনতেন অনেক কিছুই করছে, অথচ বাড়ি থেকে বের হতে না পেরে বেগম খালেদা জিয়া সেই কর্মসূচি ২৯ ও ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত করলেন এবং এ দুইদিনও মাঠে নেমেছিল জামায়াত এবং ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। কিন্তু বরই দু : খের বিষয় হলো, জোটের সবাই একসাথে আন্দোলনে থাকার কথা থাকলেও বিএনপির কোনো পর্যায়ের নেতাকর্মীরা মাঠে নামেনি। দলটির এমন নিষ্ক্রিয়তায় অনেকটা ক্ষুব্ধ ও হতাশ হয়েছিল গোটা জাতি।
খালেদা জিয়া বাসা থেকে বের হতে গিয়ে পুলিশের পিপার স্প্রে খেয়ে বলেছিলো, বাড়ি কই গোপালী? গোপালগঞ্জের নাম পালটিয়ে দেবো। সেদিন বিএনপির কোনো নেতা সেখানে উপস্থিত হয়নি, টিভিতে বেগম জিয়ার আর্তচিৎকার দেখে মজা নিয়েছে। একই কাজ করেছিল যখন ক্যান্টনমেন্টের বাসা থেকে তাকে বের করে দিয়েছে সেই দিনও।
মার্চ ফর ডেমোক্রেসি সফল করে, হাসিনার পতনের লক্ষ্যে জামায়াত এবং ছাত্রশিবির সেসময় সারাদেশ থেকে ঢাকা শহরে কয়েক লক্ষ নেতাকর্মীকে নিয়ে এসেছিল। আমাদের নারায়ণগঞ্জ মহানগরী থেকে আসার সময় রাস্তায় গ্রেফতার হয় সাইফুদ্দিন, হাফেজ রাসেল, নাসিম ফেরদৌস শাওন, ফয়সাল সহ সারাদেশ থেকে আসা আমাদের হাজারের অধিক নেতা কর্মীরা।
জোটের অংশ হিসেবে কথা ছিলো ছাত্রশিবির, ছাত্রদল ও যুবদল একসাথে মাঠে নামবে। কিন্তু শিবিরকর্মীরা উপস্থিত হয়ে এক ঘণ্টা অপেক্ষা করলেও ছাত্রদল যুবদলের একজন ব্যক্তিও সেদিন আসেনি। আমরা বেলা ১১টায় পলটন টাওয়ারের সমনে থেকে মিছিল শুরু করি আমাদের সাথে পুলিশের ব্যাপক ধাওয়া পালটা ধাওয়া হয়। আরেকটি মিছিল শুরু হয় মালিবাগ পদ্মা সিনেমা হলের সামনে থেকে, এসময় মিছিলে নির্বিচারে গুলি চালায় পুলিশ। আহত হয় অন্তত কয়েকশো শিবিরকর্মী। দেশ ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য শহিদ হন ছাত্রশিবির আশকোনার ৩ নং ওয়ার্ড সভাপতি মনসুর প্রধানীয়।
আর এই মির্যা আব্বাসের মতো ভারতীয় গুপ্তচরেরা সেদিন লেপ মুরিয়ে ঘুমিয়ে ছিলো, সেদিন থেকেই বিএনপির মাঠ পর্যায়ের ত্যাগী নেতা কর্মীরা এই আব্বাসের মতো দু-মুখো নেতাদের বর্জন শুরু করেছে সাথে জাতির শত্রুতে পরিণত হয়েছে।
বেগম জিয়া এক বক্তৃতায় বলেছিলেন- খালেদা জিয়ার ভয় নাই, রাজপথ ছারিনাই, এই স্লোগান শুনে আক্ষেপ করেই বলেছিলো, যখন রাস্তায় নামার কথা ছিলো সেইদিন নেতারা রাস্তায় নামেনি। এই স্লোগান বন্ধ করো, এমন আজে বাজে স্লোগান আর দিবে না, পড়াশুনা করো ভালো স্লোগান শিখো।
ইতিহাস সাক্ষী, খালেদা জিয়াকে যেদিন বালুর ট্রাকে বন্দী রাখা হয়েছিল, সেদিন তার ডাকে বিএনপি-ছাত্রদলের কেউ সাড়া না দিলেও রাস্তায় নেমে এসে শহীদ হয়েছিলেন শিবির নেতা মনসুর।
দেশ বাঁচাতে, মানুষ বাঁচাতে ভোটাধিকার রক্ষায়, গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে 'গণতন্ত্রের অভিযাত্রায়' প্রথম শহীদ হলেন ছাত্রশিবিরের সাথী আমাদের প্রিয় ভাই কোরানের হাফেজ শহীদ মনসুর আহমেদ।