01/09/2023
বিশ্বাসী আর অবিশ্বাসী
এক বিশ্বাসীর কঠিন থেকে কঠিন পরীক্ষা চলছিলো, মানুষ রূপি কিছু শয়তান তার আল্লাহ দেয়া রিয্বিক ছিনিয়ে নিতে উঠে পরে লেগেছিলো, নিয়েও ছিলো, ঠকিয়ে ছিলো তাঁকে, ভয়ংকর ভাবে ঠকিয়েছিলো। তাতেও অবিশ্বাসীরা ক্ষান্ত হয়নি। যে কোনও মূল্যেই হোক বিশ্বাসীকে ধ্বংস কেরতে চায়।
অবিশ্বাসীরা বিশ্বাসীকে এমন কোনও জঘন্য উপায় নাই যার মাধ্যমে হেনস্তা করেনি, বিপরীতে বিশ্বাসী কেবল ধৈর্য্যই ধরে ছিলো, বিশ্বাসীকে আল্লাহ ধৈর্যের মাধ্যমে সবর নামক নেয়ামত দিয়েছিলেন। বিশ্বাসীর বিশ্বাস ছিলো একসময় অবিশ্বাসীদের হয়তো মহান আল্লাহ হেদায়েত দিলেও দিতে পারেন। সেই অপেক্ষাতেই ছিলো বিশ্বাসী..........
এভাবেই দিন যায়, মাস যায়, বছরের পর বছর যায়, না অবিশ্বাসীরা থামছেই না, থামার কোনও নাম গন্ধ নেই, একের পর এক অত্যাচার, সামাজিক - পারিবারিক - রাজনৈতিক, এমনকি কুফরি - শির্কী অত্যাচারও দিনের পর দিন চলতেই থাকলো।
বিশ্বাসী অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে আর টিকতে পারছিলো না, বিশ্বাসীও রক্তে মাংসে গড়া মানুষ, তারও রাগ হয়, তারও আল্লাহর দেয়া ক্ষমতা প্রয়োগ করতে ইচ্ছা হয়, তার যেনো ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাচ্ছিলো, একটা সময় থেকে বিশ্বাসী আতংকিত হতে থাকলো না জানি কখন মোক্ষম জবাব দিতে গিয়ে ঈমান হারিয়ে ফেলে, না জানি সে বেঈমান হয়ে মৃত্যু বরণ করে, না জানি সে এমন কোনও জঘন্য প্রতিশোধ নিতে গিয়ে আল্লাহর ক্রোধের শিকার হয়, না জানি সে......
বিশ্বাসী মহান আল্লাহর কাছে দুই হাত তুলে দোয়া করলো, বল্লো মালিক আপনি মহান, আপনি পবিত্র, আপনিই একমাত্র প্রকৃত ক্ষমতাবান, সত্যিকারের রব ও ইলাহা, আপনি চিরস্থায়ী.........
মালিক আপনি আপনার যে বার্তাবাহক প্রেরণ করেছেন আমি তাঁকে মেনে নিয়েছি হৃদয়ের গভীর থেকে, আমি তাঁর দেখানো পথে অটল ও অটুট থাকতে চাই, আপনিই একমাত্র সাহায্যকরী তাই বার্তাবাহকের সঠিক পথে আমৃত্যু টিকে থাকতে আমাকে সাহায্য করুন, আমিতো নিঃস্ব, অসহায়।
আপনি অবিশ্বাসীদের ব্যবস্থা করুন।
অবিশ্বাসীদের কাজতো তারা করেই যাচ্ছে ; হঠাৎ অবিশ্বাসীদের একজনের একমাত্র পুত্র সন্তান মারা গেলো,
এ কি যেমন তেমন মৃত্যু..........
ঐ অবিশ্বাসীর পুত্র সন্তান ঘুরতে ভালোবাসতো, হঠাৎ কোনও এক ট্যুরে যাচ্ছিলো নামি-দামি এক বাসে চরে, বাস চলছে পাহাড়ি রাস্তার আঁকাবাঁকা পথে, প্রচন্ড গতিতে, বাসের ভিতর সবাই সেকি হৈ হুল্লোড়, আনন্দ - ফুর্তি, নাচ-গান। হঠাৎ অবিশ্বাসীর পুত্র সন্তানকে সবাই প্রায় একযোগে বলে উঠলো গান ধরতে, কোনও এক ট্যুর মেটের প্রেমে হাবুডুবু খাওয়া ছেলেটি নিজ সিট থেকে দাঁড়িয়ে গলা ছেড়ে গান ধরলো........
রাস্তার দুইপাশের পাহাড়ে তখন সামরিক বাহিনীর গোপন মিশনে বেশ ক'জন সেনা তাদের অত্যাধুনিক বন্দুক তাক করে আছে বিপরীত পাশের আদিবাসী গেরিলা যোদ্ধাদের দিকে, সে কি টান টান উত্তেজনা। অতীব ভয়ংকর পরিস্থিতি......
অবিশ্বাসীর ছেলের বাস চলছেই তো চলছে। হঠাৎ গেরিলা কোনও এক যোদ্ধা গুলি অন করে, পরক্ষণেই সামরিক বাহিনীর গুলি অন হলেই হুন্দাই বাসের এসি কোচের কালো গ্লাস ভেধ করে একটি গুলি ঐ অবিশ্বাসীর ছেলের মাথায় আঘাত হানে, কেউ কিছু বুঝতেও পারে নাই, বাসে গানের শব্দে কেউ কিছু বুঝতেও পারে নাই, বাস চলছে তার নিজ গতিতে, প্রায় পয়তাল্লিশ সেকেন্ড পর পাশের ছেলেটা অবিশ্বাসীর ছেলেকে বলছে থামলি কেন, ভালোইতো গাইছিলি.......
অবিশ্বাসীর ছেলে ঐ দাঁড়ানো অবস্থাতেই নাই, কানের বরাবর এক ইঞ্চি উপরে সরাসরি মস্তিষ্কে আঘাত করে প্রায় পঞ্চাশ মিটার দূর থেকে ছোড়া একে ফিফটি সেভেনের গুলি, গুলিটি হুন্দাই বাসের কঠিন কাঁচের জানালা ভেধ করে অবিশ্বাসীর ছেলের মস্তিষ্কে ঢুকে পরে, গুলিটি মাথার অপর প্রান্ত দিয়ে আর বের হতে পারে নি। মস্তিষ্কের ভিতরে অপর প্রান্তের ঠিক আগে আগে থেমে যায় গুলির শক্তি।
পাশের ছেলেটা বলার প্রায় একমিনিট পার হওয়ার পরেও যখন অবিশ্বাসীর ছেলে নিশ্চুপ তখন সে তাকে ধাক্কা দেয় আর অমিনি সে এলিয়ে পরে। পাশের ছেলেটি তার মোবাইলের আলো অন করে তার দিকে দিতেই দেখে সে বাসের জানালায় এলিয়ে পরেছে, উঠে তাকে ধরতেই এক হাত গরম রক্তে ভিজে উঠে, মোবাইলের আলো হাতে মেরে দেখে রক্ত। এক বিকট চিৎকার দেয় সে, বাস ড্রাইভার হার্ড ব্রেক করে কোনও মতে পাহাড়ের সঙ্গে কিছুটা ধাক্কা লাগিয়ে বাস থামায়, বাস জুড়ে ভয়ংকর বিভৎস চিৎকার চেচামেচি আর.........
চলবে.........