13/05/2026
যেভাবে শহিদ করা হয় ছাত্রসেনার সৈনিক কিশোর নঈমুদ্দীনকে
---------------------------------------------------------------
৯ এপ্রিল ২০১০ খ্রি.
আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের শীর্ষস্থানীয় ও বর্ষীয়ান আলেমেদ্বীন, নন্দিত মোফাসসির, আল্লামা গাজী শফিউল আলম নেজামী হুজুরের উপর হাটহাজারীর নজুমিয়াহাটে মাহফিল থেকে ফেরার পথে রাউজানের তরিকতপন্থী নামধারী কুখ্যাত সন্ত্রাস বাহিনীর হামলা করে (এলোপাথাড়ি কুপিয়ে, পায়ের রগ কেটে দেয়)। এক পর্যায়ে মৃতভেবে রাস্তায় ফেলে চলে যায়।
এই হামলার প্রতিবাদে প্রতিবাদে ১৫ এপ্রিল-১০ খ্রি. চট্টগ্রাম হাটহাজারী পার্বতী স্কুল মাঠে আয়োজন করা হয় বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশ।
এতে দূর-দূরান্ত থেকে আপামর নবি প্রেমিক, সুন্নি মুসলমান স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। কিন্ত এই সমাবেশ বানচাল করতে মরিয়া হয়ে উঠে সন্ত্রাসীরা।কিন্তু ব্যর্থ হয়।
সমাবেশে অন্যান্যদের মত অংশগ্রহণ করেন ছাত্রসেনার বীর সৈনিক, উত্তরসত্তা রাউজান নিবাসী,কিশোর মুহাম্মদ নঈমুদ্দিন। বয়স তখন মাত্র ১৪ বছর। ৮ম শ্রেণির মাদরাসা ছাত্র।
সন্ত্রাসীরা সমাবেশ বন্ধ করতে না পেরে ফের হামলার পরিকল্পনা করে, হামলার জন্য নিরাপদ জায়গা হিসেবে বেছে নেয় রাউজান মুন্সীরঘাটাকে।
মাগরীবের পর সমাবেশ থেকে ফিরে যাওয়া কিছু কর্মী উপর পূর্ব পরিকল্পিত হামলা করে সন্ত্রাসীরা। এলোপাথাড়ি কুপাথে থাকে তাদের।
কিশোর নঈমুদ্দিনের বাড়ীর ছেলেদেরকে কুপাতে দেখে প্রতিবাদ করে সে। কিন্তু তাঁর উপরও ঝাপিয়ে পড়ে হায়েনারা।
তাকে ৪-৫ জন চেপে ধরে লাঠি ও বাটাম দিয়ে আঘাত করতে থাকে। একপর্যায়ে লাঠি দিয়ে তলপেটে জোরে আঘাত করলে নঈমুদ্দীন নিস্তেজ হয়ে পড়ে। মৃতভেবে তাঁকে এমতাবস্থায় রেখে চলে যায় সন্ত্রাসীরা।
পরে সাধারণ মানুষ তাঁকেসহ ৫-৬ জনকে গুরুতর অবস্থায় চমেক হাসপাতালে নিয়ে যান। তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে তাদের দেখতে আসেন আল্লামা আবুল কাশেম নুরী, আল্লামা ইব্রাহীম কাদেরী, আল্লামা সৈয়দ মসিহুদ্দৌলা, সৈয়দ আবু আজম, ফরিদুল ইসলামসহ দূর-দূরান্ত থেকে শত শত সেনানী ও ওলামায়ে কেরাম।
চিকিৎসা চলতে থাকে। অন্যরা সপ্তাহ খানেকের মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেন কিন্তু নঈমুদ্দীনের অবস্থা প্রথম দিকে একটু ভালো হলেও পরে শোচনীয় হতে থাকে।
তাঁর দুটি অপরেশন হয়, পাইপ দিয়ে অল্প পানি খাওয়ানো যাচ্ছিলমাত্র। ধীরে ধীরে শরীর শুকিয়ে যাচ্ছিল।
এভাবে চলতে চলতে দীর্ঘ ২৯ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ার পর ১৩ মে ২০১০ সালে শাহাদাতের সুধা পান করেন ছাত্রসেনার সাহসী সৈনিক,কিশোর নঈমুদ্দীন।
(ইন্নালিল্লাহে........রাজেউন)।
কিশোর সেনানীর শাহাদাতে দেশজোড়া শোকের ছায়া নেমে আসে। ভণ্ডপীরের বিরোদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে উঠে দেশজোড়ে।
পরদিন লালদিঘী ময়দানে ১ম জানাযা, মুন্সীরঘাটায় ২য় জানাযা ও নিজ বাড়ীতে ৩য় জানাযা শেষে পার্শ্ববর্তী কবরস্থানে দাফন করা হয়।
ফুলে ফুলে ভরে উঠে শহীদ নঈমুদ্দিনের কবর। অসংখ্য ব্যানারে ফুঠে উঠে এক শোকাবহ পরিবেশ।
রাউজানের মাটি ধন্য নঈমুদ্দিন নামক নিষ্পাপ একজন শহিদি আত্মাকে বুকে ধারণ করতে পেরে।
© বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা চট্টগ্রাম উত্তর জেলা।