17/01/2026
আলীকদমে ম্রো আদিবাসীদের ওপর রোহিঙ্গা ও সেটেলার সন্ত্রাসীদের ধারাবাহিক হামলায় ১০ জনের বেশি আহত।
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের দুই দফা হামলায় জানালী পাড়ার ম্রো আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অন্তত ১০ জনের অধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগীদের সাথে এবং গ্রামবাসীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আলীকদম ৩নং ইউনিয়নের নয়া পাড়ার রোহিঙ্গা বাসিন্দা জাফর আলম (৪৫), ওরফে ‘বাইট্টা ডাকাত জাফর’ (পিতা: ফরিদ আলম), দীর্ঘদিন ধরে জানালী পাড়ার ম্রো আদিবাসীদের বাগানের ফসল—কলার, আনারস, হলুদসহ বিভিন্ন গাছপালা এবং গৃহপালিত পশু (ছাগল ও গরু) চুরি করে আসছিলেন। এই বিষয়টা এলাকার স্থানীয় ৩ নং নয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিনকে বারবার জানানো হলেও তিনি কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেননি বলে জানা যায়।
প্রথম দফা হামলা
১৭ জানুয়ারি ২০২৬ (শনিবার) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে জানালি পাড়ার একটি কলা বাগানে কলার ছড়া চুরি করা অবস্থায় গ্রামবাসীরা তাকে হাতেনাতে আটক করেন। এর কিছুক্ষণ পর সকাল ১০টা ৩০ মিনিটের দিকে জাফরের ছেলে ও তার সহযোগীসহ প্রায় ১০–১৫ জন রোহিঙ্গা দা, কোদাল ও কুঠারসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে গ্রামবাসীদের ওপর আকস্মিক হামলা চালায়। এ সময় ঘটনাস্থলে অংসং ম্রো (৩০) ও প্রেক্য ম্রো (২৬) গুরুতর আহত হন। হামলাকারীরা পরে জোরপূর্বক জাফরকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায় এবং গ্রামবাসীদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদান করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার পর সকাল ১১টা ৩০ মিনিটের দিকে গ্রামবাসীরা আলীকদম থানায় অভিযোগ জানালে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন তাদের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে ফিরে যেতে বলেন। পরে বিকাল আনুমানিক ৫টার দিকে থানার পক্ষ থেকে মুঠোফোনে গ্রামবাসীদের থানায় আসতে বলা হয়। গ্রামবাসীরা সেখানে উপস্থিত হলে ওসি জানান, ভুল নম্বরে কল করা হয়েছে—যা তাদের মধ্যে চরম বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
দ্বিতীয় দফা হামলা
পরবর্তীতে সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে গ্রামবাসীরা দুইটি টমটমে করে থানার দিক থেকে গ্রামে ফেরার পথে নয়া পাড়া কবরস্থান সংলগ্ন এলাকায় রোহিঙ্গা ও সেটেলার নারী-পুরুষ মিলে প্রায় ৪০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্রসহ তাদের ওপর আবারও আকস্মিক হামলা চালায়। এতে টমটমে থাকা ১৮ জনের সবাই আহত হন, যাদের মধ্যে ৮ জন গুরুতর আহত হন।
গুরুতর আহতদের তালিকা
১। ডাংয়া ম্রো (৫২), পিতা: মেনসাই ম্রো,
২।অমর ত্রিপুরা (৫০), পিতা: নয়া চন্দ্র ত্রিপুরা,
৩।প্রেকিক্য ম্রো (২৭), পিতা: মাংইন ম্রো,
৪। অংসং ম্রো (৩০), পিতা: কটঙং ম্রো, ৫। কটঙং ম্রো (৫০), পিতা: কাই ইন ম্রো,
৬।ঙানওয়াই ম্রো (২৭), পিতা: দন রুই ম্রো
৭।লাংছিং ম্রো (৩০), পিতা: মপম ম্রো
৮মেনরু ম্রো (৪০), পিতা: খাইন দই ম্রো।
এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত প্রশাসনের নীরব ভূমিকা এবং সন্ধ্যার দিকে পুলিশের বিভ্রান্তিকর ফোনকলকে গ্রামবাসীরা “প্রহসন” হিসেবে দেখছেন। তাদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—
কেন পুলিশ বিনা কারণে সন্ধ্যায় থানায় যেতে বলেছিল?
এবং এই হামলার ঘটনায় প্রশাসনের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা আছে কি না?
গ্রামবাসীদের মতে, যদি প্রশাসন এ ধরনের আচরণ করে, তবে পাহাড়ি অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়বে।
গ্রামবাসীরা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের গ্রেপ্তার এবং স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে এলাকার সাধারণ পাহাড়িরা কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করবেন বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।