06/06/2025
গতকাল রাত থেকে ঢাকাস্থ কোরবানীর হাটগুলো পশু শুণ্য হয়ে যায়।
এ সমস্যার কারণ ঢাকায় বৃহৎ দুটি হাট বসতে না দেয়া।
একটি মেরাদিয়া হাট এবং অন্যটি আফতাবনগর হাট।
ফলে অন্য হাটগুলোর চাপ পড়ে, যা মারাত্মক পশু সংকট তৈরী করে।
দেখা যায়, পরিবেশবাদের অজুহাত দিয়ে বেশ কয়েক বছর যাবত এ দুটি হাট বসতে দেয়ার বিরোধীতা হচ্ছিলো, তবে ইউনুস সরকারের আমলে পরিবেশবাদীরা শক্তিশালী হয়ে ওঠায় এ বছর তারা চূড়ান্ত সফলতা লাভ করে।
বিশেষ করে মেরাদিয়া পশুর হাট বন্ধে কাজ করে শাহবুদ্দিন শিকদার নামক এক ব্যক্তি।
যে বনশ্রী এলাকায় পরিবেশবাদী এনজিওদের সাথে সম্পৃক্ত।
সেই হাটকোর্টে রিট করে এবং লোকজন একত্র করে হাট বসতে বাধা দেয়।
আসলে ঢাকা শহর একটি অতি-জনবহুল শহর।
কোরবানী একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় পর্ব।
কোরবানীর পশু ক্রয়ও ধর্মীয় অনুসঙ্গ হয়ে দাড়ায়।
সেই পশু ক্রয় করার স্থান বসতে বাধা দেয়া, কোরবানীতে বাধা দেয়ারই নামান্তর।
নিয়ম অনুসারে হাট বসে শেষ ৩দিন এবং মানুষ পশুও ক্রয় করে ৩ দিন।
কিন্তু আওয়ামী আমল থেকেই পরিবেশবাদী গ্রুপগুলো পরিবেশবাদের অজুহাত দিয়ে ৩ দিনের হাটও সহ্য করতে পারতো না। হাট বসায় বাধা দিতো এবং হাটগুলো ঢাকার সীমানা এলাকায় দূরদূরান্তে ঢেলে দিতো।
দেখা যায়, দূর্গা পূজার সময ১০ দিন ধরে পূ*জার প্যান্ডেল করে রাস্তা বন্ধ করে পূ*জা হয়।
তখন কেউ বিরক্তি প্রকাশ করে না।
কনসার্ট পিকনিক নিয়মিত হয়, তখন কেউ বিরক্তি প্রকাশ করে না।
কিন্তু ৩ দিন হাট বসলে পরিবেশ দূষণ, যানজটসহ নানান যুক্তি তর্ক নিয়ে আসে।
অথচ ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠু হলে হাট কোন সমস্যা নয়। দেখা যায়, সুষ্ঠু ব্যবস্থপনা নিশ্চিত না করে হাট বন্ধ করে দেয়া হয়, মাথা ব্যথা হলে মাথা কেটে ফেলাই যেন সমাধান। ফলে বিপাকে পড়তে হয় মুসলমানদের ধর্ম পালনে।
হাট কাছাকাছি থাকলে যাতায়াত খরচ যেমন কমে তেমনি নিরাপত্তাও নিশ্চিত হয়।
ফলেও কোরবানী সহজ হয় এবং কোরবানীর সংখ্যা বাড়ে।
কিন্তু ঢাকার শেষ সীমান্ত থেকে গরু ক্রয় করতে গেলে
খরচ যেমন বাড়ে, তেমনি নিরাপত্তারও অভাব হয়।
ফলে কোরবানী বাধাগ্রস্ত হয়ে কোরবানীর সংখ্যা কমে।
ভারতে হিন্দুত্ববাদীরা যেমন গরু জবাই বাধা দেয়,
বাংলাদেশে সেই গরু জ*বাইয়ে বাধা দেয়ার আরেক রূপ হলো,
এই কোরবানীর হাট বসতে বাধা দেয়।
দেখা যায়-
সরকার দূর্গা পূ*জার সময় ঢাকায় আড়াইশ’ মণ্ড*পের যায়গা দিতে পারে,
কিন্তু ২৫টা হাটের যায়গা দিতে পারে না।
অথচ মুসলিম জনসংখ্যা ৯৫% এর উপরে।