27/05/2026
হিন্দুরা কেন গরুর মাংস খায় না?
এই প্রশ্নটি শোনেনি এমন হিন্দু হয়তো খুঁজে পাওয়া দুষ্কর! আমার অনেক অহিন্দু বন্ধু প্রায়ই এই প্রশ্ন করে। আবার অনেক হিন্দুই এখনও জানেন না কেন সনাতন ধর্মে গরুর মাংস ভক্ষণ করা হয় না।
হিন্দু ধর্মে গরুকে শুধুমাত্র একটি প্রাণী হিসেবে নয়, বরং পবিত্রতা, মাতৃত্ব, জীবিকা ও ধর্মীয় প্রতীকের রূপে দেখা হয়। তাই অধিকাংশ হিন্দু গরুর মাংস ভক্ষণ করেন না। এর পেছনে ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক—সব ধরনের ব্যাখ্যা রয়েছে।
হিন্দু শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা: হিন্দু ধর্মগ্রন্থে গরুকে “গোমাতা” বলা হয়। কারণ গরু মানুষকে দুধ দেয়, কৃষিকাজে সাহায্য করে এবং প্রাচীন সমাজে জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। বেদ, পুরাণ ও মহাভারতের বিভিন্ন অংশে গরুর গুরুত্ব উল্লেখ রয়েছে।
বিশেষ করে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে গরুর সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। তিনি “গোপাল” নামে পরিচিত, যার অর্থ গরুর রক্ষক।
অহিংসা বা প্রাণী হত্যা থেকে বিরত থাকার ধারণাও হিন্দু দর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই অনেক হিন্দু নিরামিষভোজী হন কিংবা নির্দিষ্ট প্রাণীর মাংস পরিহার করেন।
ঐতিহাসিক ও সামাজিক কারণ: প্রাচীন ভারতীয় সমাজ ছিল কৃষিনির্ভর। গরু ছিল— • দুধের উৎস
• জমি চাষের সহায়ক
• গোবর জ্বালানি ও সার হিসেবে ব্যবহৃত হতো
তাই গরুকে অর্থনৈতিক ও পারিবারিক সম্পদ হিসেবে সম্মান করা হতো। ধীরে ধীরে এটি ধর্মীয় মর্যাদাও লাভ করে।
ঋগ্বেদে বলা হয়েছে— “গাভো বিশ্বস্য মাতারঃ” (Gāvo viśvasya mātaraḥ)
অর্থ: “গাভীগণ সমগ্র বিশ্বের মাতার ন্যায়।”
অথর্ববেদে বলা হয়েছে— “মাতা রুদ্রাণাং দুহিতা বসূনাং
স্বসাদিত্যানাম অমৃতস্য নাভিঃ।”
অর্থ: “গাভী রুদ্রদের মাতা, বসুদের কন্যা এবং অমৃতের কেন্দ্রস্বরূপ।”
মহাভারতে বলা হয়েছে— “গাভঃ পবিত্রাঃ মঙ্গল্যাঃ
গাভঃ স্বর্গস্য সাধনম্।”
অর্থ: “গরু পবিত্র ও মঙ্গলময়; গরু স্বর্গ লাভের সহায়ক।”
আবার স্কন্দ পুরাণে বলা হয়েছে— “গোহত্যা ব্রহ্মহত্যাসমং পাপম্।”
অর্থ: “গো-হত্যা ব্রহ্মহত্যার সমান পাপ।”
তাই সবকিছু বিবেচনায় সনাতন ধর্মে গোমাংস ভক্ষণকে গুরুতর পাপ হিসেবে দেখা হয়। যারা সনাতন ধর্মে বিশ্বাসী, তারা সাধারণত গোমাংস ভক্ষণ থেকে বিরত থাকেন।
সবার কাছেই নিজ নিজ ধর্মের বিশ্বাস গুরুত্বপূর্ণ তাই,
সবার প্রতি অনুরোধ—ধর্মীয় উগ্রতা পরিহার করে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও মানবিক আচরণ বজায় রাখুন।
প্রচারে-
ব্রাহ্মণবাড়ী পূজা উদযাপন পরিষদ
২৭ মে ২০২৬ইং