02/08/2026
প্রথমবার বিদেশে পড়তে যাচ্ছেন – এয়ারপোর্টে কী কী করণীয়...
বিদেশে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে প্রথমবার যাত্রা করা একজন শিক্ষার্থীর জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। অনেকের কাছেই এয়ারপোর্টের পুরো প্রক্রিয়াটি নতুন ও কিছুটা ভীতিকর মনে হতে পারে। তবে আগে থেকেই সঠিক ধারণা থাকলে পুরো যাত্রা অনেক সহজ ও স্বস্তিদায়ক হয়। এই অধ্যায়ে ধাপে ধাপে আলোচনা করা হলো এয়ারপোর্টে একজন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর কী কী করণীয়।
যাত্রার আগে প্রস্তুতি
এয়ারপোর্টে যাওয়ার আগে নিশ্চিত করুন যে আপনার কাছে নিম্নলিখিত গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র রয়েছে—
➡️পাসপোর্ট
➡️স্টুডেন্ট ভিসা
➡️এয়ার টিকিট
➡️বিশ্ববিদ্যালয়ের অফার লেটার
➡️CAS/COE/I-20 (দেশভেদে)
➡️টিউশন ফি পরিশোধের রসিদ
➡️ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা আর্থিক নথি
➡️স্বাস্থ্যবীমা সংক্রান্ত কাগজপত্র (যদি প্রয়োজন হয়)
➡️বাসস্থানের তথ্য
➡️জরুরি যোগাযোগ নম্বর
সব কাগজপত্রের প্রিন্ট কপি এবং ডিজিটাল কপি উভয়ই সংরক্ষণ করা বাঞ্ছনীয়।
কখন এয়ারপোর্টে পৌঁছাবেন?
আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে সাধারণত ফ্লাইট ছাড়ার কমপক্ষে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা আগে এয়ারপোর্টে পৌঁছানো উচিত। এতে চেক-ইন, ইমিগ্রেশন ও নিরাপত্তা পরীক্ষার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায়।
এয়ারপোর্টে প্রবেশ
এয়ারপোর্টের প্রবেশপথে নিরাপত্তাকর্মীরা সাধারণত পাসপোর্ট ও টিকিট দেখতে চান। সেগুলো দেখিয়ে আপনি টার্মিনালে প্রবেশ করতে পারবেন।
বিদেশগামী শিক্ষার্থীদের জন্য পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিদায়পর্ব আগেই সম্পন্ন করা ভালো, যাতে ভেতরে প্রবেশের সময় অপ্রয়োজনীয় মানসিক চাপ না থাকে।
চেক-ইন কাউন্টার
এয়ারলাইনের নির্ধারিত কাউন্টারে গিয়ে—
পাসপোর্ট ও টিকিট প্রদান করুন।
লাগেজ জমা দিন।
বোর্ডিং পাস সংগ্রহ করুন।
প্রয়োজন হলে আসন পরিবর্তনের অনুরোধ করতে পারেন।
চেক-ইনের সময় আপনার ব্যাগের ওজন নির্ধারিত সীমার মধ্যে আছে কিনা তা নিশ্চিত করুন। অতিরিক্ত ওজন থাকলে অতিরিক্ত চার্জ দিতে হতে পারে।
লাগেজ সংক্রান্ত পরামর্শ
হ্যান্ড ব্যাগে রাখুন—
পাসপোর্ট
টাকা ও ব্যাংক কার্ড
মোবাইল ফোন ও চার্জার
প্রয়োজনীয় ওষুধ
বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র
একটি কলম
চেক-ইন লাগেজে কখনোই গুরুত্বপূর্ণ নথি বা মূল্যবান জিনিসপত্র রাখবেন না।
ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া
চেক-ইনের পর আপনাকে ইমিগ্রেশন কাউন্টারে যেতে হবে।
ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা কিছু প্রশ্ন করতে পারেন, যেমন—
কোথায় যাচ্ছেন?
কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বেন?
কী বিষয়ে পড়াশোনা করবেন?
কতদিন থাকবেন?
আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সত্য ও সংক্ষিপ্ত উত্তর দিন। সাধারণত বৈধ কাগজপত্র থাকলে কোনো সমস্যা হয় না।
নিরাপত্তা পরীক্ষা (Security Check)
ইমিগ্রেশনের পর নিরাপত্তা পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
এ সময়—
ল্যাপটপ আলাদা ট্রেতে রাখতে হতে পারে।
ধাতব বস্তু, বেল্ট বা ঘড়ি খুলতে বলা হতে পারে।
তরল পদার্থ বহনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে।
নিরাপত্তাকর্মীদের নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
বোর্ডিং গেট খুঁজে নেওয়া
বোর্ডিং পাসে আপনার গেট নম্বর উল্লেখ থাকবে। বিমানবন্দরের মনিটরেও ফ্লাইটের তথ্য প্রদর্শিত হয়।
গেট পরিবর্তন হয়েছে কিনা তা মাঝে মাঝে মনিটরে দেখে নেওয়া ভালো।
বোর্ডিংয়ের সময়
এয়ারলাইন কর্তৃপক্ষ বোর্ডিং ঘোষণা দিলে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ান।
সাধারণত প্রয়োজন হবে—
বোর্ডিং পাস
পাসপোর্ট
বিমানে প্রবেশের পর নিজের আসন খুঁজে নিয়ে হ্যান্ড ব্যাগ নির্ধারিত স্থানে রাখুন।
ট্রানজিট এয়ারপোর্টে করণীয়
অনেক শিক্ষার্থীর যাত্রাপথে ট্রানজিট থাকে।
ট্রানজিটে—
পরবর্তী ফ্লাইটের গেট নম্বর দেখে নিন।
মনিটরে ফ্লাইট তথ্য যাচাই করুন।
পর্যাপ্ত সময় হাতে রাখুন।
অপরিচিত কারও লাগেজ বহন করবেন না।
কোনো সমস্যায় পড়লে এয়ারপোর্ট ইনফরমেশন ডেস্ক বা এয়ারলাইনের কর্মীদের সাহায্য নিন।
গন্তব্য দেশে পৌঁছানোর পর
গন্তব্যে পৌঁছে সাধারণত নিম্নলিখিত ধাপগুলো অনুসরণ করতে হয়—
১. ইমিগ্রেশন
অভিবাসন কর্মকর্তা আপনার—
পাসপোর্ট
ভিসা
বিশ্ববিদ্যালয়ের অফার লেটার
আবাসনের তথ্য
দেখতে চাইতে পারেন।
২. লাগেজ সংগ্রহ
বিমানবন্দরের মনিটরে আপনার ফ্লাইটের ব্যাগেজ বেল্ট নম্বর দেখে লাগেজ সংগ্রহ করুন।
৩. কাস্টমস
প্রয়োজনে কাস্টমস চেক সম্পন্ন করুন।
৪. বিশ্ববিদ্যালয় বা বাসস্থানে যাত্রা
আগেই পরিবহন ব্যবস্থা সম্পর্কে জেনে রাখুন। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য এয়ারপোর্ট পিকআপ সুবিধাও দিয়ে থাকে।
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
>পাসপোর্ট কখনো চোখের আড়াল করবেন না।
>অপরিচিত ব্যক্তির কাছ থেকে কোনো প্যাকেট গ্রহণ করবেন না।
>সবসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ নম্বর কাছে রাখুন।
>মোবাইল ফোন চার্জ করে রাখুন।
>জরুরি প্রয়োজনে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন।
প্রথমবার বিদেশে পড়তে যাওয়ার অভিজ্ঞতা যেমন রোমাঞ্চকর, তেমনি কিছুটা উদ্বেগেরও হতে পারে। তবে এয়ারপোর্টের প্রতিটি ধাপ সম্পর্কে আগে থেকে ধারণা থাকলে পুরো যাত্রা সহজ, নিরাপদ ও আত্মবিশ্বাসপূর্ণ হয়ে ওঠে। মনে রাখবেন, হাজারো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী প্রতিদিন একই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তাদের স্বপ্নের পথে যাত্রা শুরু করে। সঠিক প্রস্তুতি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং ধৈর্যই আপনার সফল যাত্রার চাবিকাঠি। শুভকামনা আপনার নতুন শিক্ষাজীবনের জন্য।
©Sayed Nadimul Ahasan
CEO: Go-Educate Consultancy
Founder: Prospective Bangladeshi Planning to Study Abroad (PBSPTSA)