22/05/2026
ছোট্ট রামিশা…
রামিশা একটা নাম, একটা নিষ্পাপ মুখ, একটা অসমাপ্ত শৈশব।
যে বয়সে তার স্কুলব্যাগ কাঁধে নিয়ে হাসিমুখে ছুটে যাওয়ার কথা ছিল, সেই বয়সেই তাকে নিয়ে লিখতে হচ্ছে মৃত্যু, নিষ্ঠুরতা আর মানবতার পরাজয়ের গল্প।
বাংলাদেশ আজ শুধু একটি শিশুকে হারায়নি, হারিয়েছে নিজের বিবেকের একটা অংশ।
রামিশার মায়ের কান্না আজ প্রতিটি মায়ের কান্না।
তার বাবার নিঃশব্দ হয়ে যাওয়া আজ প্রতিটি বাবার আতঙ্ক।
আর আমাদের এই সমাজ—যেখানে একটি শিশুও নিরাপদ নয়—সেখানে উন্নয়ন, সভ্যতা, আধুনিকতা—সব শব্দই আজ বড় নিষ্ঠুর শোনায়।
রামিশা হয়তো বুঝতেই পারেনি পৃথিবী এত ভয়ংকর হতে পারে।
সে হয়তো শেষ মুহূর্তেও ভেবেছিল কেউ তাকে বাঁচাতে আসবে।
কিন্তু আমরা পারিনি।
আমরা শুধু ঘটনার পর প্রতিবাদ করি, স্ট্যাটাস দিই, বিচার চাই… তারপর একসময় সব ভুলে যাই।
কিন্তু একটা পরিবার কোনোদিন ভুলতে পারে না।
একটা খালি বিছানা, ছোট্ট জুতো, বইয়ের ভাঁজে রাখা নাম—প্রতিদিন তাদের মনে করিয়ে দেয়, রামিশা আর নেই।
এই দেশের প্রতিটি শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত, প্রতিটি রামিশার বিচার না হওয়া পর্যন্ত—আমাদের লজ্জা শেষ হবে না।
রামিশা,
তুমি ক্ষমা করে দিও এই সমাজকে।
আমরা তোমাকে নিরাপদ একটা পৃথিবী দিতে পারিনি।
রামিশাদের বাবা।