25/09/2025
জন্মের পরেই মৃত্যু: চাঁদাবাজি-কেলেঙ্কারিতে
বিলীন নাহিদের দল, আশ্রয় নুরের
শিবিরে।
বিশেষ প্রতিবেদক,
আত্মপ্রকাশের মাত্র কয়েক মাসের মাথায় বিলুপ্তির পথে নতুন রাজনৈতিক দল ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)’। দলের আহ্বায়ক নাহিদ হোসেন ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, নারীঘটিত কেলেঙ্কারি এবং বদলি বাণিজ্যের মতো গুরুতর সব অভিযোগ ওঠার পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দলটি বিলুপ্ত করে এর নেতাকর্মীরা নুরুল হক নুরের নেতৃত্বাধীন গণ অধিকার পরিষদে যোগ দিচ্ছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
জানা যায়, মাস কয়েক আগে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের ডাক দিয়ে আত্মপ্রকাশ করেছিল নাহিদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন এনসিপি। তরুণদের মধ্যে কিছুটা আগ্রহ তৈরি করলেও খুব অল্প সময়ের মধ্যেই দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে একের পর এক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে।
দলীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় কমিটি গঠনের নাম করে চাঁদাবাজি, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা, পদ-পদবি দেওয়ার লোভ দেখিয়ে নেতাকর্মীদের থেকে অর্থ আদায় এবং নারী কর্মীদের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠে দলের কেন্দ্রীয় কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে। এছাড়া, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে বদলি বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের একটি চক্র গড়ে তোলার অভিযোগও দলটিকে ভেতর থেকে দুর্বল করে দেয়।
এইসব অভিযোগের ফলে দলের ভাবমূর্তি ব্যাপকভাবে ক্ষুণ্ণ হয় এবং নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও বিভেদ দেখা দেয়। অভ্যন্তরীণ কোন্দল যখন তুঙ্গে, তখনই দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এই বিতর্ক থেকে বাঁচতে দল বিলুপ্ত করে ভিন্ন কোনো প্ল্যাটফর্মে যোগ দেওয়ার উপায় খুঁজতে থাকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনসিপির একজন কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, "আমাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। তবে আমরা এই মুহূর্তে কোনো বিবাদে না জড়িয়ে বৃহত্তর গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শরিক হতে চাই। তাই আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে আমরা গণ অধিকার পরিষদে একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।"
এ বিষয়ে গণ অধিকার পরিষদের এক শীর্ষস্থানীয় নেতার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, "যারা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে যোগ দিতে চায়, তাদের জন্য আমাদের দরজা খোলা। তবে কারো ব্যক্তিগত অপরাধের দায় দল নেবে না। কেউ যদি আমাদের দলে এসে শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে বা কোনো অপরাধমূলক কাজে জড়ায়, তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, গঠনের মধ্যে অল্প সময়ের মধ্যে গুরুতর অপরাধমূলক অভিযোগে একটি দলের বিলুপ্তি বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি বিরল ঘটনা। এই একীভূতকরণের ফলে নুরের নেতৃত্বাধীন গণ অধিকার পরিষদ সংখ্যাগতভাবে লাভবান হলেও, বিলুপ্ত দলটির বিতর্কিত নেতাদের কারণে তাদের ভাবমূর্তিও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
#রাজনৈতিক_বিতর্ক
#নতুন_দলের_পতন