18/07/2026
"ভয়াবহ তাপ তরঙ্গে অস্থির জীবন যাপন,
প্রকৃতির রোষ বহ্নির আমরাই মনে হয় মূখ্য কারণ"।
ভয়াবহ তাপ তরঙ্গের তীব্র দাহে আজ আমাদের জীবন ওষ্ঠাগত, বড্ড বেশি অস্থির! চারপাশের চেনা প্রকৃতি যেন বুক ফাটানো এক উষ্ণ দীর্ঘশ্বাস ছড়াচ্ছে। কিন্তু কেন প্রকৃতির এই আকস্মিক রুদ্ররূপ? কেন ক্ষণে ক্ষণে জেগে উঠছে এই তীব্র রোষ? একটু গভীরে গিয়ে যদি আত্মানুসন্ধান করি, তবে আয়নার সামনে অপরাধীর কাঠগড়ায় আমরা নিজেরাই এসে দাঁড়াব। বুকভরা অনুতাপ নিয়ে আজ স্বীকার করতেই হয়—এই চরম জলবায়ু বিপর্যয়ের নেপথ্য কারিগর অন্য কেউ নয়, আমরাই!
একটি চিরন্তন সত্য কথা আছে—প্রকৃতি কোনো নিশ্চল, নিথর পূজনীয় মন্দির নয় যে মানুষের সব অত্যাচার সে মুখ বুজে সয়ে যাবে। প্রকৃতি তো আসলে এক বিশাল কর্মশালা, আর মানুষ সেখানে পরম আস্থার একনিষ্ঠ কর্মী। কিন্তু সেই কর্মশালার কারিগর যখন নিজের সীমাহীন লোভ আর অসচেতনতায় চারপাশের সবুজ সুন্দর ভারসাম্যকে দুপায়ে দলে পিষে ফেলে, তখন প্রকৃতিও তীব্র দাবদাহের রুদ্ররূপে তার নির্মম রোষ প্রকাশ করতে বাধ্য হয়।
তবুও মানুষ তো চিরকাল আশার আলোয় বুক বাঁধে, অন্ধকারের ওপারেই খোঁজে আলোর রেখা। আমরা বিশ্বাস করি, এই দুঃসহ উত্তাপের দিন ফুরোবে, সব অমঙ্গল আর জরাজীর্ণতার অবসান ঘটবেই। সমস্ত গ্লানি ধুয়ে-মুছে প্রকৃতির বুকে আবার ডানা মেলুক এক চিলতে স্নিগ্ধতা; ফিরে আসুক সুশীতল, শান্ত আর এক নতুন ভোরের গান!