02/06/2026
কী ভয়ংকর এক দৃশ্য দেখলাম!
এক ছেলে সচিব, এক ছেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর, আরেক ছেলে কানাডা প্রবাসী, সমাজের চোখে সবাই প্রতিষ্ঠিত, সবাই সফল।
কিন্তু যে মা নিজের ঘুমহীন রাত, অসংখ্য কষ্ট, ত্যাগ আর ভালোবাসা দিয়ে সন্তানদের এই অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছেন, সেই মায়ের নিথর দেহ সাত দিন ধরে ঘরে পড়ে ছিল। লাশ পচে দুর্গন্ধ ছড়িয়েছে। প্রতিবেশীরা দুর্গন্ধ পেয়ে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ এসে পোকায় কিলবিল করা সেই অসহায় মায়ের মরদেহ উদ্ধার করে। ঈদের দিনেও কেউ তাঁর খোঁজ নেয়নি!
তাহলে এ কেমন সাফল্য? এ কেমন অর্জন? এ কেমন সন্তান?
আজ আমরা বড় হওয়ার প্রতিযোগিতায় এতটাই ব্যস্ত হয়ে পড়েছি যে, যাদের ত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে আমাদের এই বড় হওয়া, তাদের প্রতিই দায়িত্ব ও কর্তব্য ভুলে যাচ্ছি। পদ-পদবি, অর্থ-সম্পদ, ক্ষমতা কিংবা বিদেশের চাকচিক্য সবই একদিন মাটির সঙ্গে মিশে যাবে। কিন্তু মা-বাবার হক আদায় করেছি কি না, সেই হিসাব থেকে কেউ রেহাই পাবে না।
এমন ঘটনা শুধু একটি পরিবারের নয়, আমাদের সমাজের নৈতিক অবক্ষয়েরও নির্মম প্রতিচ্ছবি। যে সন্তানেরা মায়ের জীবদ্দশায় তাঁর খোঁজ রাখেনি, তাদের তথাকথিত সাফল্য আসলে কতটা অর্থবহ, সেই প্রশ্ন আজ আমাদের সবার সামনে।
ইচ্ছে করে, এসব সন্তানের পরিচয় সমাজ জানুক; যেন মানুষ বুঝতে পারে, প্রকৃত সফলতা পদ-পদবিতে নয়, বরং মা-বাবার প্রতি দায়িত্ব, ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায়।
মা-বাবাকে ভালোবাসুন, তাঁদের খোঁজ নিন। কারণ তাঁরা চলে গেলে আফসোস করার সুযোগও অনেক সময় আর থাকে না।