02/01/2024
#বন্যপ্রানী_পরিচিতি
#পর্ব_৬
আজ আলোচনা করবো
★★বন বিড়াল বা jungle cat. (Felis chaus) : বন বিড়াল কে জংলিবিড়াল, খাগড়াবিড়াল, টুলা, বনটুলা এবং সিলেটে ভাড়ল সহ সারাদেশে আরো বিভিন্ন নামে ডাকা হয়।
বন বিড়াল বাংলাদেশের প্রায় সবধরনের পরিবেশেই কোন রকম টিকে আছে।
এরা মাঝারি আকারের এর বিড়াল। এদের এশিয়ার দহ্মিণ চীন, মধ্য দহ্মিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে পশ্চিম নীল নদ পর্যন্ত দেখতে পাওয়া যায়। বনবিড়ালের খাবারের বড় আংশ হচ্ছে ইঁদুর ও পাখি, পাশাপাশি মাছ, সাপ, ব্যাঙ, বড় পোকা ও শিকার করে।
বাংলাদেশের পরিবেশ এর ভারসাম্য রক্ষায় এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ন।
যে সকল প্রানীগুলো আমাদের ক্ষেত খামারে থাকে এবং ফসলের ক্ষতিসাধন করে এদের নিয়ন্ত্রনে তার জুড়ি নেই।
বনবিড়াল গৃহপালিত মুরগি কবুতর ধরে নিয়ে খেয়ে নেওয়ার অপরাধে মারা পরে, এর কারন অবশ্য ওর বাসস্থানে খাদ্যসল্পতা।
যতটুকু ক্ষতি করে তার থেকে অনেক বেশি উপকার সাধন করে পার্শ্ববর্তী কৃষিজমিগুলোর।
বনবিড়াল নিশাচর প্রানী।
বনবিড়াল এক লাফে কয়েক ফুট পৌঁছে যেতে পারে।
দিনের বেলায় লতাপাতা ঘেরা কোথাও, গর্তে বা বড় গাছের কোটরে ঘুমায় বা তন্দ্রাচ্ছন্ন থাকে।
এরা প্রজনন মৌসুমে গাছের কোটরে, পুরাতন ঘর,ফসলের মাঠে, ঝোপে সুরক্ষিত জায়গা খোজে ও দু থেকে চারটি ছানা প্রসব করে থাকে।
★বনবিড়াল CITES Appendix II এর তালিকাভুক্ত এবং আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন) বনবিড়াল কে 'নূন্যতম বিপদগ্রস্ত 'বলে তালিকাভুক্ত করে রাখলেও দিন দিন এরা হারিয়ে যাচ্ছে।
★★গ্রামগঞ্জ থেকে ও প্রাকৃতিক জঙ্গল, জলাভূমিগুলো, চারণভূমি ধ্বংস হবার কারনে এই সুন্দর প্রানিটীর পাশাপাশি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে সেখানে বসবাসরত অনেক স্থানীয় বন্যপ্রানীরা।
তাই সকলেই সচেতন হই, বন্যপ্রানী সম্পর্কে জানি, অন্যকে সচেতন করি, বন্যপ্রানী রক্ষা করি।
যেকোন বন্যপ্রানী সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য জানতে আমাদের গ্রুপের সাথেই থাকুন।
চকরিয়া জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটি।