20/12/2025
দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী এবং পরীক্ষা স্বরূপ। তাই জীবনে দুশ্চিন্তা, পেরেশানি বা বিপদ-আপদ আসা খুবই স্বাভাবিক। তবে ইসলামের দিকনির্দেশনা মেনে চললে এই পেরেশানি থেকে মুক্তি পাওয়া সহজ হয়ে ওঠে। নিচে কিছু সহজ উপায় তুলে ধরা হলো।
.
👉১. আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখা:
আল্লাহর উপর এই বিশ্বাস রাখা যে, জীবনে যা কিছু ঘটছে, তা আল্লাহর পূর্বনির্ধারিত এবং এর মধ্যেই কল্যাণ নিহিত আছে। আল্লাহ বলেছেন: "আর যে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে, আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট।" (সূরা তালাক: ৩) এবং সবসময় আল্লাহর প্রতি সুধারণা রাখা যে, তিনি আপনার জন্য উত্তমটাই করবেন এবং খারাপ অবস্থা থেকে অবশ্যই উত্তরণ করবেন।
.
👉২. ধৈর্য ধারণ করা:
বিপদ-মসিবতে অস্থির না হয়ে ধৈর্য ধারণ করা। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দিয়েছেন এবং কষ্টের পর স্বাচ্ছন্দ্য আসার আশ্বাস দিয়েছেন: "নিশ্চয় কষ্টের পর স্বাচ্ছন্দ্য আছে; অবশ্যই স্বাচ্ছন্দ্য আছে কষ্টের পর।" (সূরা ইনশিরাহ: ৫-৬)
.
👉৩. আল্লাহর সাহায্য চাওয়া ও দোয়া করা:
পেরেশানি দূর করার জন্য আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়া করা এবং সালাতুল হাজাত (বিশেষ প্রয়োজন পূরণের নামাজ) আদায় করা। এবং বিপদে পড়লে বেশিবেশি "ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন" পড়া।
.
👉৪. রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দুশ্চিন্তা ও দুঃখ থেকে মুক্তির জন্য যে দোয়াটি করতেন সেটা পড়া:
উচ্চারণ: 'আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হুাযানি, ওয়াল আজাযি ওয়াল কাসালি, ওয়াল বুখলি ওয়াল জুবনি, ওয়া দালায়িদ দাইনি ওয়া গালাবাতির রিজালি।'
অর্থ: 'হে আল্লাহ, আমি আপনার আশ্রয় নিচ্ছি দুশ্চিন্তা ও দুঃখ থেকে, অপারগতা ও অলসতা থেকে, কৃপণতা ও ভীরুতা থেকে, ঋণের ভার ও মানুষদের নিপীড়ন থেকে।' (সুনানে নাসাঈ ৫৪৪৯)
.
👉৫. ইস্তেগফার ও দরূদ পাঠ
নিয়মিত ইস্তেগফার পাঠ করলে আল্লাহ সব সংকট থেকে উত্তরণের পথ বের করে দেন, সব দুশ্চিন্তা মিটিয়ে দেন এবং অকল্পনীয় উৎস থেকে রিজিকের সংস্থান করে দেন। এবং রাসূল (ﷺ)-এর ওপর দরূদ পাঠ করলেও তা পেরেশানি দূর করার জন্য এবং পাপ মোচনের জন্য যথেষ্ট।