Bangladesh Chhatra League, Sarail Upazila Branch

Bangladesh Chhatra League, Sarail Upazila Branch সরাইল উপজেলা ছাত্রলীগ

03/03/2026

অগ্নিঝরা মার্চঃ ৩ মার্চ ১৯৭১
৭ কোটি মানুষকে হত্যা করতে পারবেন না। আমি না থাকলেও বাংলার মানুষ তাদের লক্ষ্যপথে এগিয়ে যাবে।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

#বঙ্গবন্ধু #শেখমুজিব #অগ্নিঝরামার্চ

05/02/2026
31/01/2026

*বিনা চিকিৎসায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে আ.লীগ নেতা আব্দুর রহমান মিয়া’র মৃত্যু *

স্টাফ রিপোর্টার । চট্টগ্রাম ।
চট্টগ্রামে নামাজ আদায় করতে গিয়ে গ্রেপ্তার হন প্রায় ৮০ বছর বয়সী এক আওয়ামী লীগ নেতা। গুরুতর অসুস্থ শরীর নিয়ে তাকে থানায় নেওয়া হয়, সেখান থেকে কারাগারে। পরবর্তী তিন মাস ধরে বিনা জামিনে, কার্যত বিনা চিকিৎসায় বন্দী থাকার পর শেষ পর্যন্ত স্ট্রোক করে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

নিহত আব্দুর রহমান মিয়া ছিলেন চট্টগ্রাম নগরের ২৪ নম্বর উত্তর আগ্রাবাদ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুস ক্যান্সার, শ্বাসকষ্ট ও একাধিক জটিল শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন।

পরিবার ও আইনজীবীদের দাবি, তার বিরুদ্ধে কোনো গুরুতর অপরাধের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল না। তিনি কোনো শীর্ষ নেতা নন, কোনো প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিও নন। স্থানীয় পর্যায়ের একজন সাধারণ রাজনৈতিক কর্মী।

ঘটনার দিন মসজিদে নামাজ পড়তে গেলে পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। কী অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়—এই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর আজও মেলেনি।

তার ছেলে বলেন,
“বাবা তখন হাঁটতেই পারতেন না, শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। তবুও তাকে থানায় বসিয়ে রাখা হলো। সেদিনই যদি হাসপাতালে নেওয়া হতো, হয়তো আজ তিনি বেঁচে থাকতেন।”

তিন মাসে জামিন নয়, চিকিৎসাও নয় গ্রেপ্তারের পর তাকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। হাজতী নম্বর ছিল ৪২১০। এই তিন মাসে একাধিকবার জামিন আবেদন করা হলেও প্রতিবারই তা নামঞ্জুর হয়।

আইনজীবীরা বলছেন, ক্যান্সার আক্রান্ত একজন প্রবীণ মানুষের ক্ষেত্রে মানবিক বিবেচনায় জামিন দেওয়ার আইনগত সুযোগ ছিল। কিন্তু বাস্তবে সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি।

কারাগারের একটি সূত্র জানায়, তাকে মাঝে মাঝে মেডিকেল ওয়ার্ডে নেওয়া হলেও ক্যান্সারের জন্য প্রয়োজনীয় কোনো বিশেষায়িত চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। কিছুক্ষণ পর আবার তাকে ফিরিয়ে আনা হতো সাধারণ বন্দী ওয়ার্ডে।

একজন সিনিয়র আইনজীবী বলেন এই দেশে হত্যা মামলার আসামিরাও জামিন পায়। অথচ একজন মুমূর্ষু ক্যান্সার রোগী তিন মাস জামিন পেল না। এটা আইনের ব্যর্থতা নয়, এটা মানবিকতার ব্যর্থতা।”

স্ট্রোকের পরও জামিন নয় গত তিন দিন আগে কারাগারে থাকা অবস্থায় আব্দুর রহমান মিয়া স্ট্রোক করেন। তখন তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানেও জামিনের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

আজ সকালে হাসপাতালেই তার মৃত্যু হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার ক্যান্সার ফুসফুস ছাড়িয়ে ইতোমধ্যে মস্তিষ্কেও ছড়িয়ে পড়েছিল।

কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, এটি একটি “স্বাভাবিক মৃত্যু”। তবে পরিবার ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো একে মানতে নারাজ।

মানবাধিকার কর্মী রাশেদ মাহমুদ বলেন,
“কারাগারে চিকিৎসার অভাবে কেউ মারা গেলে সেটিকে স্বাভাবিক বলা যায় না। এটা সরাসরি রাষ্ট্রীয় অবহেলা।”

সংবিধান অনুযায়ী, একজন নাগরিক বন্দী হলেও তার চিকিৎসার অধিকার থাকে। কিন্তু বাস্তবে কারাগারগুলোতে নেই পর্যাপ্ত ডাক্তার, নেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা, নেই আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা।

বর্তমান সরকারের আমলে মানবিকতা প্রশ্নের মুখে বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সরকারের সময় রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার সহজ হলেও জামিন পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এই প্রবণতা শুধু বিরোধী দলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরাও এর শিকার হচ্ছেন।

একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন,
“এই মৃত্যু প্রমাণ করে, এখন আইনের শাসনের চেয়ে ক্ষমতার শাসন বেশি কার্যকর। আপনি যতই অসুস্থ হন, রাষ্ট্র চাইলে আপনাকে মরতে দিতে পারে।”

তিন মাস আগে আব্দুর রহমান মিয়া নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে থানায়, থানায় থেকে কারাগারে। শেষ পর্যন্ত পরিবারের কাছে ফিরেছেন কফিনে।

একটি নির্মম সত্য—এই দেশে একজন ক্যান্সার আক্রান্ত বৃদ্ধ মানুষকে বাঁচার সুযোগ না দিয়ে রাষ্ট্র চাইলে তাকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকেই ঠেলে দিতে পারে।

Address

Brahmanbaria

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Bangladesh Chhatra League, Sarail Upazila Branch posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share