30/05/2026
পঁ/চে-গলে যাওয়ায় পারভীন আক্তারের লা/শ নিলো না স্বামী-সন্তানেরা, দাফন হবে বাতিঘরের উদ্যোগে!
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বিরাসার এলাকায় পারভীন আক্তার (৫৫) নামে এক নারীর পঁ/চাগলিত ম/রদেহ স্বামী-সন্তান ও স্বজনরা গ্রহণ না করায় মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর-এর উদ্যোগে দাফন করা হবে৷
শুক্রবার (২৯ মে) বিকেল ৫টার দিকে পারভীন আক্তারের ম/রদেহ দাফনের জন্য প্রথমে পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়। পরে ম/রদেহটি আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
আগামীকাল শনিবার (৩০ মে) বিকেলে শহরের পূর্ব মেড্ডা তিতাস নদী সংলগ্ন বে/ওয়ারিশ লা/শের ক/বরস্থানে Brahmanbaria Batighar - ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর-এর উদ্যোগে পারভীন আক্তারের ম/রদেহটি সম্মানের সঙ্গে দাফন করা হবে।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ঈদের দিন সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নাটাই উত্তর ইউনিয়নের বিরাসার গ্রামের পাল্লা পুকুরপাড় এলাকার খোদেজা বেগমের তিনতলা ভবনের নিচতলার একটি ফ্ল্যাট থেকে পারভীন আক্তারের ম/রদেহ উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে ম/রদেহটি পড়ে থাকায় সেটি সম্পূর্ণ পঁ/চে-গলে যায় এবং শরীরে কি/রা-পোঁ/কা ধরে যায়। চারদিকে পঁ/চা দু/র্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে বাড়ির মালিক পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ম/রদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ম/র্গে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে ম/রদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলেও অতিরিক্ত পঁ/চন, কি/রা-পোঁ/কা ও অতিরিক্ত দু/র্গন্ধের কারণে সাবেক স্বামী বাচ্চু মিয়া, দুই মেয়ে রত্না ও ফাতেমা এবং বড় মেয়ের জামাই কবির মিয়াসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা পারভীন আক্তারের ম/রদেহ গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান। পরে বাচ্চু মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের কাছে পারভীন আক্তারের ম/রদেহটি হস্তান্তর করে দাফনের অনুরোধ জানান।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পারভীন আক্তার কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলার মৃত রেজ্জাক মিয়ার মেয়ে। প্রায় ৩৫ বছর আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার ভলাকুট ইউনিয়নের বারুইচিড়া গ্রামের দুর্গাপুর এলাকার মৃ/ত সনু মিয়ার ছেলে বাচ্চু মিয়ার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে জন্ম নেয়। পরে সড়ক দু/র্ঘটনায় ছেলেটির মৃ/ত্যু হয়। বড় মেয়ে রত্না বেগমের (২৭) বিয়ে দেওয়া হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ঘাটুরা এলাকার কবির মিয়ার সঙ্গে। পরবর্তীতে পারভীন আক্তার প্রথম স্বামী বাচ্চু মিয়াকে তালাক দিয়ে আশুগঞ্জ উপজেলার তালশহর এলাকার চাকরিজীবী ইসহাক মৃধাকে বিয়ে করেন। দ্বিতীয় সংসারে তাদের একটি কন্যাসন্তান ফাতেমার (১৮) জন্ম হয়। দীর্ঘদিন ভালোভাবেই সংসার চললেও হঠাৎ স্ট্রো/ক করে দ্বিতীয় স্বামী ইসহাক মৃধার মৃ/ত্যু হয়। এরপর পারভীন আক্তারও একাধিকবার স্ট্রো/কে করেম। তার ছোট মেয়ে ফাতেমার বিয়ের পর দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিরাসার একটি ভাড়া বাসায় একাই বসবাস করতেন। জীবিকার তাগিদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কোর্ট এলাকায় একটি ভাসমান দোকান চালিয়ে জীবনের সংগ্রাম চালিয়ে যান তিনি। শেষ পর্যন্ত নিঃসঙ্গভাবেই তার জীবনের সমাপ্তি ঘটে।
পারভীন আক্তারের এই নীরব বিদায় যেন সমাজের সামনে এক নির্মম বাস্তবতা তুলে ধরে। অর্থ, ক্ষমতা, দম্ভ কিংবা প্রভাব সবকিছুই ক্ষণস্থায়ী। একদিন সবকিছু ফেলে মানুষকে চলে যেতে হয়। শেষ সময়ে মানুষ খোঁজে না সম্পদ কিংবা প্রভাবের পরিচয়, খোঁজে শুধু একটু ভালোবাসা, আপনজনের স্নেহ আর সামান্য মানবিকতা।
শেষ যাত্রায় সঙ্গে যায় না কোনো দালান-কোঠা বা অর্থসম্পদ। থেকে যায় শুধু কিছু স্মৃতি, কিছু ভালোবাসা কিংবা না-পাওয়ার গভীর শূন্যতা। পারভীন আক্তারের মৃ/ত্যু আমাদের মনে করিয়ে দেয়, জীবনের শেষ সময়ে মানুষ কেবল মানুষকেই খোঁজে। আর সেই মানবিক উপস্থিতির বিকল্প পৃথিবীতে আর কিছুই নয়।
শোকাহত ও মর্মাহত:
ইঞ্জিনিয়ার মো. আজহার উদ্দিন,
প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান-
Brahmanbaria Batighar - ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর।
মোবা: 01798-091721