18/10/2025
হাজার বছরের বাঙলীর ইতিহাসে বাংলা বহুবার একক ভাবে ও যুক্ত প্রদেশের মাধ্যমে বহিরাগত বিভিন্ন শাসক দ্বারা শাসিত হলেও তা ছিলো ভারত বর্ষেরই অংশ,,,
মুলত হাজার বছরের ইতিহাসে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা লাভের পর এই বদ্বীপ অঞ্চলের মানুষ নিজেরা নিজেদের জন্য একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র লাভ করে।
যেখানে তারা নিজেরা স্বতন্ত্র ভাবে নিজেদের ভুমি ও জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করার অধিকার লাভ করে।
ভারত বর্ষের পুর্বাঞ্চল তথা বাংলা প্রদেশটি ভৌগলিক ভাবে সবুজেঘেরা নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া এবং উর্বর ফসলি জমি হওয়ার কারণে এই অঞ্চলের মানুষ প্রাকৃতিক ভাবে প্রাচুর্যপুর্ন ছিলো।
তাদের গোলাভরা ধান, গোয়ালভরা গরু ও পুকুর ভরা মাছ ছিলো,,,,
তাই অপেক্ষাকৃত অনুন্নত হওয়ার পরেও বাঙ্গালী স্বভাব সুলভ আরামপ্রিয় ও অলস প্রকৃতির ছিলো।
প্রাকৃতিক প্রাচুর্যতার কারনে আয়েশী বাঙ্গালী পর্যাপ্ত জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা, যুদ্ধরন কৌশল ও উচ্চতর শিক্ষা বিষয়ে ছিলো অনাগ্রহ, যে চরিত্র এখনো আমাদের আবহমান সমাজে স্পষ্ট ভাবেই প্রতিয়মান।
বঙ্গপ্রদেশের এই প্রাচুর্য এবং একই সাথে বাঙ্গালি জাতির দুর্বল মানসিকতা এই দুইটি বিষয়কে সামনে রেখেই,,এই অঞ্চলে বাড়তে শুরুকরে বিদেশী বনিকদের আনাগোনা,,,,
পর্যায়ক্রমে ডাচ, পর্তুগীজ, ফরাসী, আরব, তাতার, ইউরোপীয় বিভিন্ন দেশিয় বনিকরা এ অঞ্চলে তাদের বানিজ্যিক ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে,,,
তারই ধারাবাহিকতায় ষোলশো শতকে বৃটিশ বেনিয়ারা
ভারতবর্ষের পুর্বাঞ্চল এর কথা মাথায় রেখে তাদের দেশে একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করে যার নাম দেয়
#ইস্ট_ইন্ডিয়া_কোম্পানি,
আর এই কোম্পানি বানিজ্যের উদ্দেশ্যে ভারতে আসে
এবং ভারত বর্ষের তৎকালিন মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর এর কাছে শর্ত সাপেক্ষে অনুমতি নিয়ে বানিজ্যিক কুঠি স্থাপন করে।
তারপরের বিশাল বিস্তর ইতিহাসে না ঘেটে চলেযাই পলাশিতে,,,,,
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাঙ্গালির স্বভাবগত বৈশিষ্ট্য কাজে লাগিয়ে,,, ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন পলাশির আম্রকাননে তৎকালিন নবাব সিরাজুদ্দৌলার প্রধান সেনাপতি মীর জাফর আলী খানের বিশ্বাসঘাতকতার মধ্য দিয়ে বাংলার স্বাধীনতার সুর্যকে অস্তমিত করে দেয় এবং ভারতবর্ষে প্রথম এই বাংলা প্রদেশ(বাংলা, বিহার, উরিষ্যা) থেকে তাদের বৃটিশরাজের সুচনা ঘটে।
এবং এখান থেকেই ধীরে ধীরে ব্রিটিশরা সমগ্র ভারতবর্ষ দখল করে।
তারপর দুইশত বছর যাবৎ বাংলা তথা সমগ্র ভারতবর্ষের অর্থ সম্পদ প্রাচুর্য তারা লুটপাট করে জমা করে তাদের দেশ বিলেতে আর শোষনের চপেটাঘাত চালাতে থাকে এই দেশে।
দুইশত বছরে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে অনেক ছোট বড় আন্দোলন হয়েছে,,, ব্রিটিশরাও তাদের কুটচাল দিয়েই সব মোকাবেলা করেছিলো,,,
মুলত ব্রিটিশরা নিজেদের অস্ত্র ব্যাবহার এরচেয়ে বুদ্ধি খাটিয়ে কাজ করতে পছন্দ করতো বেশী,,
তাদের ধারনা ছিলো এমন যে,,,
তাদের একটি বুলেট এর যে দাম তার চেয়ে কম দাম হলো এসব নিম্নশ্রেণীর ভারতীয় উপমহাদেশের মানুষের তাই তারা তাদের বুলেট খরচ করতে নিরুৎসাহিত করতো,,
আঠারোশ শতকের মাঝামাঝি বৃটিশবিরোধী সিপাহী বিদ্রোহ ব্যাপক আলোড়ল সৃষ্টি করে সমগ্র ভারতবর্ষে,,,,
দল মত ধর্ম বর্ন নির্বিশেষে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে জাগরন ঘনিভুত হতে থাকে এবং আঠারোশ শতকের শেষের দিকে ব্রিটিশদের বিতাড়িত করার আন্দোলনকে বেগবান করার লক্ষে ১৮৮৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর একটি রাজনৈতিক সংগঠন তৈরী হয় যার নাম #ভারতীয়_জাতীয়_কংগ্রেস,,,,
আগেই বলেছি ব্রিটিশরা নিজে খেলার চাইতে খেলার ক্ষেত্র তৈরী করে সেই খেলা দেখতে পছন্দ করে,,,
তাই তারাও সব দেখে শুনে খেলার ক্ষেত্র তৈরী করতে লাগলো,,,
তারা প্রমোট করলো তাদের ঐতিহাসিক থিওরী
#ডিভাইড_এন্ড_রূল / #ভাগকরো_স্বাশন_করো
যেহেতু ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন সবচেয়ে বেশি সোচ্চার ছিলো বাংলা তাই তারা স্বাসন ব্যবস্থা সুশৃঙ্খল করার নামে বাংলা ভাগ করলো ১৯০৫ সালে,,,
আবার প্রবল প্রতিরোধের মুখে ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ ও হলো।
ব্রিটিশরা কৌশলে সাম্প্রদায়িক উস্কানি ছরিয়ে ব্রিটিশ বিরোধী একক রাজনৈতীক শক্তি #কংগ্রেস,,,, ভাগ করেদিলো
১৯০৬ সালের ৩০শে ডিসেম্বর তৈরী হলো ধর্মীয় উগ্রবাদী রাজনৈতিক সংগঠন #মুসলীমলীগ
পরবর্তীতে ১৯২৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তৈরী হলো ধর্মীয় অতি উগ্রবাদী আরেক রাজনৈতিক সংগঠন
আর এরই মাঝে বিভাজিত হয়েগেলো সাম্প্রদায়িক ঐক্য,,, বেরে গেলো স্বগোত্রীয় রাজনৈতিক বিভাজন
আর #দাঙ্গা
দাঙ্গা নিয়ে আলাদা লেখার বিষয় আছে সেটা আরেক ভয়ঙ্কর বিভৎস আলোচনা।
সর্ট করে বলে ইতি টানি,,,,,,,,
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এমনিতেও সারা পৃথিবীতে ব্রিটিশ প্রভাব ছুটে যাচ্ছে,,,
আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময় ব্রিটিশ রা তাদের যুদ্ধ চালানোর জন্যে এই উপমহাদেশে তাদের শোষন আর লুটপাটের মাত্রা এতোই তিব্র করেছিলো যে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষে বিপর্যস্ত সারা দেশ,,,
শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীনের ছবিতে আমরা এর ছাপ দেখতে পাই।
সুতরাং এই লুটে নেওয়া ভগ্ন দেশে তাদের আর কিছু পাওয়ার নাই,,,,
এদিকে ব্রিটিশ বিরোধী অসহোযোগ আন্দোলন ও চরম আকার ধারন করছে,
চলছে বৈঠকের পর বৈঠক,,,
তারাতো যাবে কিন্তু কিভাবে যাবে,,,,
যাবার আগে শেষ একটা কুটচাল তো দিয়ে যেতেই হবে যাতে পরবর্তী দুইশ বছরেও সে চালের ঘোড়েই পরে থাকে এই কমিন কমজাত জাতি।
তাই তারা লাখো রক্তপাতের বিনিময়ে ও দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে দুটি রাষ্ট্রের থিওরি দিয়ে গেলো,,
তারা কিন্তু কোন রক্তপাত করেনি, তারা কাউকে মারেও নি,,,,,
ধর্মীয় দাঙ্গার নামে রায়ট ঘটিয়েছে এই উপমহাদেশের লাখো লাখো মানুষ, রক্ত ঝরিয়েছে, বাস্তুচুত হয়েছে,,,
২০০ বছর আমাদের রক্তচুষে ১৯৪৭ সালে বৃটিশরা আমাদের নিজেদের একে অপরের রক্তপিপাসু বানিয়ে দিয়ে গিয়েছিলো,,,,
এই প্রতিহিংসার রাজনীতির ধারাবাহিকতা এখনো চলমান।
#বাংলা ঐতিহাসিক ভাবে এই উপমহাদেশের হৃদপিণ্ড
তা ১৯৪৭ এর পর পশ্চিম পাকিস্তানিরা ভুলে গেছে,
তাই তারাও আবার সেই বৃটিশ বেনিয়াদের মতোই বাঙ্গালিদের শোষন করতে শুরুকরে,,
একই নিয়ম, একই আচরন প্রকাশ পায় তৎকালিন পাকিস্তানি স্বৈরশাসকদের মাঝে।
এবং তিব্র ধর্মীয় উগ্রবাদীতা ফুটে ওঠে মুসলিমলীগার দের মাঝে,,,,,
ঠিক তখন আবহমান বাংলার সাধারণ জনগনের আবেগ ও ভালোবাসার নির্যাসমিশ্রিত আরেকটি রাজনৈতিক সংগঠনের জন্ম হয় এই বঙ্গভুমিতে।
১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন বাংলার স্বাধীনতার যে সুর্য অস্তমিত হয়েছিলো পলাশীর প্রান্তরে, কাকতালীয় ভাবে ১৯৪৯ সালের ২৩শে জুন পরবর্তী বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও পরবর্তী রাজনৈতিক বিবর্তনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠা লাভ করে #আওয়ামীলীগ
বাঙ্গালী কালে কালে স্বাধীন হতে চেয়েছে,,,
কিন্তু পেরে ওঠেনি,,, বাঙ্গালীর স্বভাবগত মীরজাফরদের কারনে,,
কিন্তু অবশেষে আওয়ামীলিগের নেতৃত্বে ২৩ বছরের শোষন নিপিড়ন ও সংগ্রাম শেষে ১৯৭১ সালে
বাঙ্গালী সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে বিজয়ে অর্জন করে স্বাধীনতা লাভ করে।
তাই আমরা বুক উচুকরে বলতে পারি আমরা বাঙ্গালীরা আজ স্বাধীন সার্বভৌম জাতী,,
মনে রাখবেন #বাংলা ঐতিহাসিক ভাবে এই উপমহাদেশের হৃদপিণ্ড