27/04/2021
কেউ কি খেয়াল করেছেন ভৈরবে সাথে অন্যান্য অঞ্চলের সি এন জি যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হওয়ার পর থেকে জমির দাম বৃদ্ধির ধারা আগের থেকে কমে গেছে?
সব ব্যাবসায় বাৎসরিক সেল কমে গেছে।
পার্শ্ববর্তী থানার ছাত্রদের আসার পরিমান কমায় মেস কমে গেছে।
শিক্ষকদের টিউশনি কমে গেছে।
ডিলারশিপ ব্যাবসায়ীদের এড়িয়া ছোট হয়ে গেছে।
কাপড়ের দোকান ও টেইলরদের কাজ কমে গেছে।
বেকারত্ব বেড়েছে।
ব্রীজের ঐ পারের কৃষক যারা তাদের উৎপাদিত পণ্য সিএনজিতে করে নিয়ে এসে সুলভ মূল্যে বিক্রি করতো তাদের না আসার কারণে কৃষি পণ্যের দাম ( যেমন বেলাবোর লেবু) বেড়ে গেছে।
সি এন জি না চলায় এবং পিক আপ ভ্যানের ভাড়া বেশি হওয়ায় পন্যের দাম বেড়েছে আবার একই সাথে পিকা আপ ভ্যান মাল পরিবহন করায় পৌর টোল আদায়ের মোট পরিমান বেড়েছে।
রুগীকে সি এন জি অটো দিয়ে ভৈরব আনতে না পারায় হাসপাতলে রুগী কমেছে পক্ষান্তরে ব্রাহ্মনবাড়িয়ায় রুগী বেড়েছে এতে ভৈরবের হাসপাতাল ও চিকিৎসকগণের আয় কমেছে।
বুধ বারের বাজারে নদীর দুইপারের ক্রেতা ও বিক্রেতার
আসার সংখ্যা কমেছে।
যেহেতু বয়স্ক মহিলারা পিক আপ কিংবা বাসে তার গ্রাম থেকে সরাসরি ভৈরবে আসতে পারেন না তাই বড় বিয়ের বাজার বা স্বর্নের বাজার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে পাশাপাশি ব্রাহ্মনবাড়িয়ায় ও নরসিংদীতে বিয়ের জিনিস ও স্বর্নের বাজার মুভ করেছে। (আপনি নিশ্চয়ই কয়েক লাখ টাকা নিয়ে বাসে বা হেটে আসবেন না, গ্রাম থেকে ব্যাক্তিগত গাড়িও অসম্ভব)
অসুস্থ মানুষ বাসে করে আসতে না পারায় ডায়গনিস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে আসতে পারে না এতে ডায়গনস্টিক সেন্টারগুলো ও রুগী উভয়েই অসুবিধায় পড়েছে।
মালের বস্তা নিয়ে বাসে উঠতে গেলে বাস স্ট্যান্ডে হয়রানি হওয়ার ভয়ে মাল কিনতে ও বিক্রি করতে মানুষ ভৈরবে আসে না।
ঈদের শপিং করে পরিবার নিয়ে রিজার্ভ সি এন জি নিয়ে নিরাপদে বাসায় যেতে না পারায় কেউ ভৈরবে আসে না। (হেটে গেলে ছিনতাই হয়)
পরিবার নিয়ে ভৈরবের ভালো কোন রেস্টুরেন্টে খেতে আসতে না পারায় রেস্টুরেন্ট ব্যাবসায় ধ্বস নেমেছে।
পরিবারের সারা মাসের বাজার করে নিয়ে যাওয়া যায় না বলে পাইকারি দোকানের ব্যাবসায় সেলস কমেছে।
ভৈরবে উৎপাদিত পন্য পাশের এলাকাগুলোতে না পাঠাতে পেরে বেকারী ও অন্যান্য উৎপাদন সংশ্লিষ্টদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে গেছে।
যেহেতু বাসে হাস, মুরগী নিয়ে উঠা যায় না তাই পাশের গ্রাম গুলোর গৃহস্থবাড়িতে পালা দেশি হাস, মুরগী আসা কমে যাওয়ার ফলে ব্যাবসায়ীরা পিকআপ ভ্যান ভাড়া করে পরিবহন করে আনেন এবং তিন হাত ঘুরে আপনার কাছে আসায় দেশি মুরগীর দাম বেড়ে গেছে।
আশপাশের জলাধারের মাছ পিক আপ ছাড়া আনতে না পারায় সেগুলো স্থানীয় পাইকারি বাজারে চলে যাওয়ায় আমরা আর সুলভ মূল্যে ক্রয় করতে পারি না।
সি এন জি দিয়ে আনতে না পারায় এবং পিক আপ ভ্যান দিয়ে আনায় ডাবের পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ডাবের দাম বেড়েছে।
সি এন জি না থাকায় আত্মিয়দের বাসায় গেলে প্রাইভেটকার ভাড়া করে যেতে হয় এতে এখন আমাদের আত্মিয়তা রক্ষা করাও ব্যায়বহুল হয়েছে।
আশুগঞ্জের গাড়ি গুলো ভৈরবের সি এন জি এবং পেট্রল পাম্প থেকে ফুয়েল না নেওয়ায় গ্রস সেলস কমেছে এবং জ্বালানী ব্যাবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
খুচরা ফল ব্যাবসায়ীদের আসা যাওয়ার অসুবিধায় পাইকারী ফল ব্যাবসায় ধ্বস নেমেছে।
কম্পিউটার প্রিন্টার ইত্যাদি মাল বাসেও নেয়া যায় না আবার ট্রান্সপোর্টেও দেয়া যায় না তাই টেক ব্যবসায়ীরাও ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
ওভেন, ফ্যান, এসি টিভি এ ধরনের পন্য পরিবহনের জন্য পিক আপ ভ্যান ভাড়া করা ব্যায়বহুল তাই এগুলো কিনতে এখন পারতপক্ষে ভৈরবে আর কেউ আসে না।
আসা যাওয়া সময় সাপেক্ষ তাই সিনেমা হল গুলোর দর্শক হারিয়েছে।
ব্যাংক ডি পি এস রেশিও কমেছে।
বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রাংশ হাল্কা ও ভারী মটর রিপেয়ার করার জন্যে মিস্ত্রিদের কাছে আসা যায় না তাই রিপেয়ারিং ওয়ার্কশপ এবং মিস্ত্রিরা কাজ হারিয়াছেন।
পাশের উপজেলায় যারা চাকরি করেন তারা আগে ভৈরবে বাসা নিতেন এবং তাদের বেতনের টাকা এখানে খরচ করতেন তাই আমাদের অর্থনৈতিক চাকা বেগবান হতো, কিন্তু এখন অফিসে যাওয়া আসা সমস্যা হওয়ায় তারা ভৈরবের বাসা ছেড়ে দিচ্ছেন।
লিস্ট টা আরও বড় করা প্রয়োজন, আপনিও কমেন্টে লিখুন।
-আসিফুল ইসলাম ভূঁইয়ার ওয়াল থেকে।