09/05/2026
নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসঃ সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত।
সারাদেশের মতো পার্বত্য জেলা বান্দরবান এ বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে “নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬”। গত মঙ্গলবার(৫মে) জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফুটবল ও কাবাডি প্রতিযোগিতার ফাইনাল খেলাকে ঘিরে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। বালিকা ফুটবলে থানচি উপজেলা দল ২-০ গোলে নাইক্ষ্যংছড়ি একাদশকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়। শুধু ফুটবল নয়, ক্রিকেট, কাবাডি, মার্শাল আর্ট, দাবা, ব্যাডমিন্টন, অ্যাথলেটিক্স ও সাঁতারের মতো আটটি ইভেন্টে এ প্রতিযোগীতা চলছে।
লিংক :- https://notunkurisports.gov.bd/
পার্বত্য অঞ্চলে খেলাধুলার সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল। পাহাড়ি শিশু-কিশোরদের শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক দৃঢ়তা এবং দলগত চেতনা অনেক ক্ষেত্রেই স্বাভাবিকভাবে গড়ে ওঠে। দুর্গম পরিবেশে বেড়ে ওঠার কারণে তাদের মধ্যে সহনশীলতা ও প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা প্রবল থাকে, যা খেলাধুলার জন্য বড় একটি সম্পদ। বিশেষ করে ফুটবল, অ্যাথলেটিক্স, ব্যাডমিন্টন মার্শাল আর্ট কিংবা কাবাডির মতো খেলায় পার্বত্য অঞ্চলের তরুণদের জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও এগিয়ে যাওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। “নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস” এর মতো আয়োজন সেই প্রতিভাগুলোকে খুঁজে বের করার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।
তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি কিছু প্রতিবন্ধকতাও স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। প্রথমত, পার্বত্য অঞ্চলে মানসম্মত ক্রীড়া অবকাঠামোর ঘাটতি রয়েছে। অনেক উপজেলায় এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে পর্যাপ্ত খেলার মাঠ, প্রশিক্ষণ সুবিধা কিংবা প্রয়োজনীয় ক্রীড়া সরঞ্জাম নেই। দ্বিতীয়ত, দক্ষ প্রশিক্ষকের অভাব এবং নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম না থাকায় অনেক প্রতিভা মাঝপথেই হারিয়ে যায়। তৃতীয়ত, আর্থিক সীমাবদ্ধতা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে প্রত্যন্ত এলাকার খেলোয়াড়দের জেলা কিংবা জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ কঠিন হয়ে পড়ে। এছাড়া অভিভাবকদের মধ্যে খেলাধুলাকে পেশা বা সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে দেখার মানসিকতাও এখনো পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি।
তাই প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও সমন্বিত উদ্যোগ। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নিয়মিত টুর্নামেন্ট আয়োজন, আধুনিক প্রশিক্ষণ সুবিধা বৃদ্ধি, বিদ্যালয়ভিত্তিক ক্রীড়া কার্যক্রম জোরদার এবং প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ক্রীড়া সংগঠনগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। গণমাধ্যমও এ ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
নিঃসন্দেহে বলা যায়, “নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস” শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয় এটি বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের স্বপ্ন, আত্মবিশ্বাস ও সম্ভাবনার প্রতীক। যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা ও পরিকল্পনা থাকলে বান্দরবানের পাহাড় থেকেই ভবিষ্যতে আরো বেশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় উঠে আসবে,এমন প্রত্যাশা করাই যায়।
বার্তা প্রধান
বাংলাদেশ বেতার বান্দরবান।