31/05/2026
ডেনমার্কে মাত্র দেড় লক্ষ ছেলে-মেয়ে প্রতি বছর হাইস্কুল (দ্বাদশ গ্রেড) পরীক্ষা দেয়। এদিকে, বাংলাদেশের প্রায় ২০ লক্ষ ছেলে-মেয়ে শুধু এসএসসি পরীক্ষা দেয়।
অথচ, ডেনমার্ক অর্থনীতিতে শক্তিশালী। আবিষ্কার-উদ্ভাবনে সেরা। সমরাস্ত্রে সেরা। চাইলেই পারমাণবিক অস্ত্রে সমৃদ্ধ হতে পারবে।
যুগের পর যুগ আমাদের ছেলে-মেয়েরা শুধু পড়েই যাচ্ছে।
কি পড়ছে, কেন পড়ছে—সে নিয়ে রাষ্ট্রের কোন হুঁশ নাই।
অথচ ডেনমার্কের মতো একটা সমাজ থেকে আমরা শতবর্ষ পিছিয়ে। ডেনমার্কে আছে বিশ্বমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। গবেষণা প্রতিষ্ঠান। টেকসই অর্থনীতি ও শিল্প।
ডেনমার্কের জনসংখ্যা প্রায় ৬০ লক্ষ। অথচ আমাদের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট সংখ্যাই ৪০ লক্ষ।
কেউ প্রশ্ন করছে না—আমাদের এতো এতো শিক্ষার্থী মার্স্টাস পাশ করে, কিন্তু আমরা এগিয়ে যেতে পারছি না কেন?
জনসংখ্যা আর দারিদ্রতাকে হাইলাইট করে, গভীরের বহু সমস্যাকে নীতি-নির্ধারকরা এড়িয়ে যায়। আর এদিকে কোনটা কোচিং সেন্টার, কোনটা বিশ্ববিদ্যালয়—সেসব তর্ক-বিতর্ক জুড়ে বসে আছি। পাবলিক-প্রাইভেট দ্বন্দ্ব নিয়ে পড়ে থাকি।
আমরা কি প্রশ্ন করি, কেন ৫৫ বছরে একটা বিশ্ববিদ্যালয়ও বিশ্বমানের হয়ে উঠেনি? কেন হয়ে উঠেনি সেটা তো সবাই জানে। কিন্তু আমরা তো সমাধান করতে চাই না। করবো না। ডেনমার্কের তৃতীয় শ্রেণীর একটা বিশ্ববিদ্যালয় কিভাবে চলে, সেটাও আমরা অনুসরণ করবো না।
ফলে ৫০ লক্ষ ছেলে-মেয়েও যদি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে বের হয়, তাহলেও এগিয়ে যাওয়া সম্ভব না।
ডেনমার্কের দেড় লক্ষ ছেলে-মেয়ের সাথে আমরা মেধার লড়াইয়ে হেরে যাবো যুগের পর যুগ।
কারণ, আমরা তো সমাধান চাই না। জাতি হিসেবে আমাদের চিন্তাই হলো-যেভাবে চলছে চলুক! আর এদিকে, যারা ফয়দা লুটে নেয়ার, তারা লুটে নিচ্ছে।
…
যদি আপনাকে আগামী ১০ বছরের জন্য বাংলাদেশের শিক্ষা সংস্কারের দায়িত্ব দেওয়া হয়, তাহলে আপনি প্রথম কোন পাঁচটি পরিবর্তন করতেন?
………..
ALAM
(কমেন্টে ফুটনোট)