21/02/2026
$১৯ বিলিয়ন থেকে $৩৪ বিলিয়ন রিজার্ভ—
একই সঙ্গে ২১ লাখ কোটি টাকার বিশাল ঋণের বোঝা পরিশোধের পথ তৈরি!
এমন অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার—আর কে করতে পারতেন?
Muhammad Yunus
তিনি যখন দায়িত্ব নেন, দেশ ছিল প্রায় অচল এক ইঞ্জিনের মতো।
প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়ে গিয়েছিল, ব্যাংকিং খাত ছিল বিধ্বস্ত, আর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নেমে গিয়েছিল তলানিতে।
জানেন কি, ২৩৪ বিলিয়ন ডলার বাংলাদেশি টাকায় কত?
প্রায় ২৮,৬৬২,০০৪,৮০০,০০০ টাকা!
সময় পেয়েছিলেন মাত্র ১৮ মাস।
কিন্তু এই স্বল্প সময়েই তিনি গড়েছেন একাধিক ঐতিহাসিক মাইলফলক—
🟣 বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ১৯ বিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে ৩৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করেছেন। যে দেশ ঋণদাতাদের ভয়ে কাঁপছিল, আজ সে দেশ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারছে।
🟣 যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করে শুল্কহার ৩৭% থেকে ১৯%-এ নামিয়ে এনেছেন—যা বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য ছিল এক বিশাল স্বস্তি। একই সঙ্গে জাপানের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদার এবং চীনের সঙ্গে তিস্তা প্রকল্পে অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।
🟣 বিদায়ী ভাষণে তিনি বলেছিলেন এক শক্তিশালী কথা—
“ভয়ে আর কাউকে ‘ডিলিট’ বাটন চাপতে হবে না।”
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের জন্য যে নিরাপদ পরিসর তিনি সৃষ্টি করেছেন, তা আমাদের রক্ষা করতেই হবে।
🟣 ১৩০টি নতুন আইন, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ ২০২৫, এবং পূর্ণ বিচারিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা—এসব ছিল না কেবল কাগুজে পদক্ষেপ; এগুলো রাষ্ট্র পুনর্গঠনের শক্ত ভিত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
🟣 ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে “জুলাই চার্টার” প্রণয়ন করেছেন, যেন আর কখনও স্বৈরাচারের প্রত্যাবর্তন না ঘটে।
আর জানেন কি সবচেয়ে বড় অর্জন কী?
১৭ বছর পর তিনি উপহার দিয়েছেন উৎসবমুখর, অংশগ্রহণমূলক একটি জাতীয় নির্বাচন। প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিরাও ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছেন। জয়-পরাজয় যাই হোক—তিনি প্রমাণ করেছেন, গণতন্ত্র সত্যিই হতে পারে এক উৎসব।
বিদায়ের সময় তাঁর চোখেমুখে ছিল ক্লান্তি, কিন্তু হৃদয়ে ছিল গভীর দেশপ্রেম। তিনি ক্ষমতা চাননি; শিক্ষার্থীদের আহ্বানে দায়িত্ব নিয়েছিলেন। নিজের ভাবমূর্তি নয়, দেশকে অর্থনৈতিক আইসিইউ থেকে বের করে আনাই ছিল তাঁর লক্ষ্য।
হ্যাঁ, তাঁর প্রশাসনের ভুল ছিল, সমালোচনাও ছিল। কিন্তু এটাও সত্য—আমাদের বিভক্ত রাজনীতি তাঁর বৈশ্বিক সুনামকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেনি।
তবুও তিনি অভিযোগ করেননি।
ব্যর্থতার ভার নিজের কাঁধে নিয়েই হাসিমুখে বিদায় নিয়েছেন।
স্যার, আপনি রেখে গেলেন—৩৪ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভ, খাদ্য নিরাপত্তা, আর নির্ভয়ে কথা বলার সাহস।
এগুলোই আমাদের অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।
বিদায়, ড. মুহাম্মদ ইউনুস।
কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য শব্দ যথেষ্ট নয়।
#সংবাদ #অর্থনীতি #ব্যবসা #বাংলাদেশ #গণতন্ত্র #নির্বাচন