25/08/2013
দীর্ঘদিন বন্ধ হয়ে পড়ে থাকা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কুচবিহার জেলার হলদীবাড়ির সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের নীলফামারী জেলার চিলাহাটি স্থলবন্দর ও আন্তর্জাতিক চেক পয়েন্ট অবশেষে চালু হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন ফেডারেশনের রংপুর বিভাগীয় সভাপতি আখতার হোসেন বাদল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। চলতি বছরের ৭ সেপ্টেম্বর এটির আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
নীলফামারীর ডোমার উপজেলার চিলাহাটিতে স্থলবন্দরের কার্যক্রম শুরু ছিল ১৯৬০ সালে। নিয়মিত পণ্য আমদানি-রফতানির পাশাপাশি ১৯৫৩ সালে এখানে স্থাপন করা হয় একটি আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট। কিন্তু ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের সময় শুধু চেকপোস্টটি চালু রেখে বন্ধ করে দেয়া হয় স্থলবন্দরটি। এদিকে ভারত-বাংলাদেশ রেল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৯৯৭ সালে চিলাহাটী থেকে ভারতের হলদিবাড়ী পর্যন্ত রেলপথ পুনঃ স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়। বাংলাদেশ অংশে আট দশমিক ১০ কিলোমিটার রেল লাইন স্থাপনের জন্য সাড়ে চার কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হলেও ১৬ বছরেও পাওয়া যায়নি সে অর্থ। অনেকদিন বন্ধ থাকা এ স্থলবন্দরটি পুনরায় চালুর ঘোষণায় আবার নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে এ অঞ্চলের মানুষ। জানা গেছে, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে স্থলবন্দর করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ বছরের ৭ সেপ্টেম্বর উদ্বোধন করা হবে কুড়িগ্রাম জেলার সোনাহাট ও নীলফামারী জেলার চিলাহাটি। নীলফামারীর চিলাহাটি শুল্ক স্টেশনকে স্থলবন্দর ঘোষণার লক্ষ্যে ওই স্টেশনটি কার্যকর করতে চিঠি দেয়া হয়েছে। দেশে বর্তমানে ১৭টি স্থলবন্দর রয়েছে। আর শুল্ক স্টেশন রয়েছে ১৭৯টি। ১৭টি স্থলবন্দরের মধ্যে মূলত, সাতটি স্থলবন্দর সচল। বাকি স্থলবন্দরগুলোতে আমদানি-রফতানি কম। দর্শনা স্থলবন্দর বন্ধ হয়ে চালু রয়েছে শুল্ক স্টেশনের কার্যক্রম।
সূত্র জানিয়েছে, নীলফামারী জেলার চিলাহাটিতে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই একটি চেকপোস্ট চালু ছিল। ২০০২ সালে চেকপোস্টটি বন্ধ হয়ে যায়। ভারতীয় অংশে এলসি স্টেশন বা চিলাহাটি শুল্ক স্টেশনটি অকার্যকর হয়ে পড়ে। ভারতীয় অংশে ইমিগ্রেশন ও এলসি স্টেশন স্থাপনে ভারত মতামত দিয়েছে। চিলাহাটির যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত ভালো।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন ফেডারেশনের রংপুর বিভাগীয় সভাপতি আখতার হোসেন বাদল বলেন, গেল ক’দিন আগে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান আমাকে মুঠোফোনে বলেছেন, নীলফামারীর চিলাহাটি স্থলবন্দর মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদনের পর গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে। আগামী ৭ সেপ্টেম্বর মন্ত্রী নিজে এসে ওই স্থলবন্দরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করবেন। চিলাহাটী স্থলবন্দর বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি আবু মুসা মাহমুদুল হক বলেন, আমরা চিলাহাটি স্থলবন্দর বাস্তবায়নের দাবিতে অনেক আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। যা আজ বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে। এতে উত্তরাঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি চিলাহাটি স্থলবন্দরটি আবার চালু হলে সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থান হবে কয়েক লাখ মানুষের। সুবিধাবঞ্চিত এ অঞ্চলের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে।
অপরদিকে নীলফামারী ১ (ডোমার-ডিমলা) আসনের মহাজোট সরকারের সংসদ সদস্য জাফর ইকবাল সিদ্দিকী চিলাহাটি স্থলবন্দর ও শুল্ক স্টেশন আগামী ৭ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী অথবা নৌপরিবহনমন্ত্রী কর্তৃক উদ্বোধন করা হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছে।
নীলফামারী জেলা প্রশাসক এস এম মাহফুজুর রহমান জানান, চিলাহাটি স্থলবন্দর ও শুল্ক স্টেশন আগামী ৭ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের মাধ্যমে চালু করা হবে বলে জানতে পেরেছি।
নীলফামারী চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আবদুল ওয়াহেদ সরকার বলেন, স্থলবন্দরটি চালু হলে এ অঞ্চলের ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে গতি ফিরে পাবে উত্তরা ইপিজেডের। তাছাড়া আমদানি-রফতানির বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারের প্রচুর রাজস্ব আয় বাড়বে, মনে করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, এ স্থলবন্দরটি আবার চালু হলে ভারত, নেপাল, ভুটান চীনসহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি দেশের সঙ্গে ব্যবসায়িক যোগাযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি দারিদ্র্যপীড়িত এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নতি হবে।