27/08/2026
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে মাদকসেবী ও মাদক কারবারির অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে থানা পুলিশ আটকের পর ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় মাদকবিরোধী প্রতিরোধ কমিটির সদস্যসহ এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) রাতে উপজেলার ৩ নম্বর ভাদুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সমেষপুর গ্রামে আটক ব্যক্তিরা হলেন—ওই গ্রামের তালেব আলি বাড়ির সিরাজ মিয়ার ছেলে মুন্নি রুবেল এবং মজিদ বেপারি বাড়ির রাসেল ওরফে ধইল্লা।
গত রোববার (২৩ আগস্ট) রাতে মুন্নি রুবেল ও রাসেলসহ ৪-৫ জনকে সমেষপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত মনির হোসেনের ঘরে বসে মাদক সেবন করতে দেখা যায়—এমন একটি ভিডিও এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরীর নজরে আসে বলে জানা গেছে।
এর পরপরই তিনি দুই অভিযুক্ত কে গ্রেফতার করে।
মুন্নি রুবেলকে অসুস্থ ও মানসিক সমস্যাগ্রস্ত বলে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আর রাসেল ওরফে ধইল্লাকে ছাড়িয়ে আনতে ৩৫ হাজার টাকা লেগেছে ।
স্থানীয় মাদকবিরোধী প্রতিরোধ কমিটির আহ্বায়ক ও ৩ নম্বর ভাদুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম মিজি বলেন, “এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। মাদকসেবী বা ব্যবসায়ী হিসেবে কাউকে আটক করে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানব।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্হানীয় জামাত নেতা মো জহিরুল ইসলাম রুবেল পাটোয়ারী বলেন বিষয়টি আমি শুনেছি, এলাকার কয়েকজন মিলে কিছু টাকার বিনিময়ে তাদের ছাড়িয়ে আনে,আমি এলাকার বাহিরে থাকার কারণে বিস্তারিত কিছুই বলতে পারছিনা, এলাকায় গিয়ে খোঁজখবর নিয়ে জানাতে পারবো।
অভিযোগের বিষয়ে রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, “একজনের মাদক নিরাময় চিকিৎসা চলছে। তার বাবা ও অন্যরা সুপারিশ করায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অন্য আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।”
এদিকে স্থানীয় ৫ থেকে ৭ ব্যক্তি বলেন- মাদক সেবনের সরাসরি ভিডিও দ্বারা প্রমান থাকার পরও ছেড়ে দেওয়া ঘটনাটি মাদক নির্মূলে প্রশাসনের ভুমিকা সন্দেহের সৃষ্টি করছে।
মাদক নির্মূলে অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং কোনো অনিয়ম বা প্রভাবের অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত করে শাস্তির বিধান নিশ্চিত করা।