14/05/2026
১৭ মে - স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস:
ইতিহাস আবারও অপরিহার্য প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায়
১৭ মে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে স্মরণীয় এবং দুঃসময়ে আশার পুনর্জাগরণের দিন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর নির্বাসিত, বিপর্যস্ত ও নেতৃত্বশূন্য বাংলাদেশে মৃত্যুঝুঁকি উপেক্ষা করে ১৯৮১ সালের ১৭ মে স্বদেশে ফিরে আসেন বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা। সেই প্রত্যাবর্তন ছিল কোটি মানুষের দীর্ঘশ্বাসের জবাব ; একটি পরাজিত ও বিপর্যস্ত জাতির মেরুদণ্ড সোজা করার ঐতিহাসিক ঘোষণা; ছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, গণতন্ত্র, অসাম্প্রদায়িকতা ও বাংলাদেশের আত্মমর্যাদা পুনরুদ্ধারের এক ঐতিহাসিক অঙ্গীকার।
১৯৮১ সালের বাংলাদেশ ছিল ষড়যন্ত্র, সামরিক শাসন, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন ও মুক্তিযুদ্ধবিরোধী অপশক্তির উত্থানে ক্ষতবিক্ষত। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে যে প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি বাংলাদেশের ইতিহাসকে উল্টো পথে নিতে চেয়েছিল, শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন সেই অন্ধকারের বিরুদ্ধে বজ্রনিনাদের মতো আবির্ভূত হয়েছিল। তাঁর নেতৃত্বেই পরবর্তীতে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়েছে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন হয়েছে, বাংলাদেশ বিশ্বদরবারে উন্নয়ন ও মর্যাদার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে।
গভীর উদ্বেগের সঙ্গে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ লক্ষ্য করছে আগস্ট-পরবর্তী বাংলাদেশ আবারও ভয়, প্রতিহিংসা, মব-সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িক উগ্রতা ও রাজনৈতিক নিপীড়নের এক ভয়ংকর বাস্তবতায় নিমজ্জিত। গণতন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকারের পক্ষের নেতাকর্মীদের ওপর ধারাবাহিক হামলা, গুম, মিথ্যা মামলা, শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাসের পুনরুত্থান, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন এবং গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের মধ্য দিয়ে দেশকে পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। যে বাংলাদেশ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও মানবিক অগ্রগতির পথে এগিয়েছিল, আজ সেই বাংলাদেশকে আবারও প্রতিক্রিয়াশীল অপশক্তির কবলে নেওয়ার অপচেষ্টা চলছে।
এই প্রেক্ষাপটে ১৭ মে’র তাৎপর্য আজ আরও গভীর, আরও রাজনৈতিক, আরও ঐতিহাসিক। জাতি আজ আবারও সেই নেতৃত্ব, সেই সাহস, সেই রাষ্ট্রনায়কোচিত দূরদর্শিতার প্রয়োজন অনুভব করছে, যা সংকটময় বাংলাদেশকে বারবার পথ দেখিয়েছে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যখনই বাংলাদেশ অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়েছে, শেখ হাসিনা তখনই আশা, প্রতিরোধ ও পুনর্জাগরণের প্রতীক হয়ে আবির্ভূত হয়েছেন।
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, বাংলাদেশের গণতন্ত্র, উন্নয়ন, অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রচেতনা ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্ব আজও অপরিহার্য। একইসঙ্গে আমরা দাবি জানাচ্ছি তাঁর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে, ষড়যন্ত্রমূলক রায় বাতিল করতে হবে এবং গণতন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের নেতাকর্মীদের ওপর চলমান দমন-পীড়ন বন্ধ করতে হবে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও সাংবিধানিক শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং জনগণের ভোটাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।
স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ দেশব্যাপী নিম্নোক্ত কর্মসূচি ঘোষণা করছে:
১. 'দেশরত্ন শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক রায় বাতিল ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার' শীর্ষক দেশব্যাপি সকল সাংগঠনিক ইউনিটে (বিশ্ববিদ্যালয়, মহানগর, জেলা, উপজেলা, কলেজ, পৌর, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড) মানববন্ধন আয়োজন।
তারিখ: ১৬-১৮ মে, ২০২৬
১. গণতন্ত্রের মানসকন্যার জন্য 'স্বদেশ প্রত্যাবর্তন মিছিল।'
২. ‘স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে প্রত্যয় আরেক প্রত্যাবর্তনের' শীর্ষক আলোচনা সভা
৩. মসজিদ, মন্দির, গীর্জা, প্যাগোডায় প্রার্থনা
৪. অসহায় মানুষের মধ্যে খাদ্য বিতরণ, ধানকাটা কর্মসূচি ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মসূচি পালন
৬. সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্যাম্পেইন ও জনসংযোগ
৭. বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কর্তৃক নির্ধারিত কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ দেশের প্রতিটি প্রগতিশীল মানুষের কাছে স্পষ্ট বার্তা দিতে চায় - নীরব থাকার সময় শেষ। যখন গণতন্ত্র বিপন্ন, যখন ন্যায়বিচার কারাবন্দী, যখন মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশকে হত্যার ষড়যন্ত্র চলছে তখন ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধই একমাত্র উত্তর। ইতিহাস সাক্ষী, যতবার এই জাতি সংকটে পড়েছে, ততবার শেখ হাসিনা আশা, সাহস ও পুনর্জাগরণের প্রতীক হয়ে জাতিকে পথ দেখিয়েছেন। বাংলাদেশ প্রতিবার অন্ধকার থেকে ফিরে এসেছে, এবারও আসবে।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।