01/03/2022
ডেউচা-পাচামি কয়লা খনি প্রকল্প সংক্রান্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক এবং সামাজিক সংগঠন ও ব্যক্তিদের যৌথ বিবৃতি
বন্ধুগণ,
ডেউচা-পাচামি কয়লা খনি প্রকল্প বাস্তবায়িত করতে রাজ্য সরকার এখন পর্যন্ত যেভাবে এগিয়েছে তা চরম অগণতান্ত্রিক ও আইনবিরুদ্ধ। জমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসনের প্রশ্নে ২০১৩ সালের আইন অনুযায়ী প্রকল্পের সামাজিক প্রভাব ও পরিবেশগত প্রভাব খতিয়ে দেখে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট সর্বসমক্ষে হাজির করা, প্রকল্প এলাকার মানুষকে অবহিত করে জনশুনানি করা এবং পরিবেশবিদ, বিজ্ঞানী, অন্যান্য বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া আবশ্যক। এইসব প্রক্রিয়াকে জলাঞ্জলি দিয়ে রাজ্য সরকার আগেভাগে ক্ষতিপূরণের একটা প্যাকেজ ঘোষণা করে দিয়েছে। এখন বীরভূম জেলা প্রশাসন স্থানীয় মানুষের উপর চাপ সৃষ্টি করে জমি অধিগ্রহণের সম্মতি আদায় করে নিতে চাইছে। ইতিমধ্যেই স্থানীয় জনগণ এবং বিরোধীদের গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করা হচ্ছে, শুরু হয়ে গেছে পুলিশি দমন-নিপীড়ন। প্রশাসনের এই কার্যকলাপ আইন সম্মত নয়।
এই কয়লা খনি প্রকল্প নিয়ে আপত্তির আরও কারণ রয়েছে। এলাকার চার হাজারের উপর পরিবার উচ্ছেদ হবে, যাদের অধিকাংশই আদিবাসী-জনজাতি এবং সংখ্যালঘু। প্রকল্প এলাকার চারপাশের বহু গ্রাম, গঞ্জ ও শহরের আকাশ-বাতাস ও জনস্বাস্থ্য বিপর্যস্ত হবে এবং সামাজিক জীবন দুর্বিসহ হয়ে উঠবে। দ্বারকা নদী এবং প্রকল্পের বহু দূর পর্যন্ত কৃষিক্ষেত্রও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সর্বোপরি, নতুন করে আরও দুই শত কোটি টন কয়লা পোড়ালে যে বিপুল কার্বন নিঃসরণ ঘটবে তা বিশ্ব উষ্ণায়নকে ত্বরান্বিত করবে। সুন্দরবন সহ দুই চব্বিশ পরগণা ও পূর্ব মেদিনীপুরের বিস্তীর্ণ অঞ্চল আগামি কয়েক দশকে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে জলের তলায় তলিয়ে যাওয়ার বিপদসীমায় দাঁড়িয়ে আছে। জলবায়ু সঙ্কটের ধাক্কা ঘনঘন সমুদ্রঝড়ের মাধ্যমে আমরা খানিকটা প্রত্যক্ষ করতেও শুরু করেছি। কিন্তু রাজ্য সরকার এইসবের কোন তোয়াক্কা করছে না।
পরিবেশ দূষণ ও জলবায়ু সঙ্কটের প্রেক্ষিতে আগামী ১০০ বছর কয়লার যোগান দেওয়ার জন্য আরেকটা নতুন কয়লা খনির আদপেও কি কোন প্রয়োজন আছে? এতে বাড়তি কর্মসংস্থান কতই বা হবে এবং কিসের বিনিময়ে? বিশ্বজুড়ে যখন কয়লা এবং খনিজ তেলের বিকল্প হিসেবে সৌরবিদ্যুৎ এবং বায়ুচালিত বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ছে, ভারত বা পশ্চিমবঙ্গ সরকার সেই রাস্তায় হাঁটছে না কেন? এই সমস্ত প্রশ্নে রাজ্যজুড়ে গণবিতর্কের প্রয়োজন আছে বলে আমরা মনে করি।
দেয়ানগঞ্জ-হরিণসিঙা অঞ্চলে বলপূর্বক জমি অধিগ্রহণ রুখতে, স্থানীয় মানুষের জমি-জীবন-জীবিকার অধিকার রক্ষার্থে এবং কয়লা চালিত বিদ্যুতের বিকল্প, পরিবেশবান্ধব প্রক্রিয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের দাবিতে আগামী ৬ জানুয়ারি, বেলা ১২টায় সিউড়ি জেলাশাসক দপ্তরে বিক্ষোভ ও ডেপুটেশন কর্মসূচি গ্রহণ করেছি নিম্নস্বাক্ষরিত সংগঠন ও ব্যক্তিবর্গ। পশ্চিমবঙ্গের সকল প্রগতিশীল, গণতন্ত্রপ্রিয় শক্তি এবং ব্যক্তিদের এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সবান্ধবে শামিল হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি আমরা।
কর্মসূচিঃ
ডেউচা-পাচামি কয়লা খনি প্রকল্প নিয়ে সিউড়ি, বীরভূম জেলাশাসক দপ্তরেবিক্ষোভ ও ডেপুটেশন
৬ জানুয়ারি, ২০২২, বেলা ১২টা
নিম্নলিখিত দাবিগুলি তুলে ধরে জেলাশাসকের কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হবে:
# ডেউচা-পাচামি কয়লা খনি প্রকল্পের নামে বলপূর্বক জমি অধিগ্রহণ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
# আদিবাসী, সংখ্যালঘু এবং অন্যান্য স্থানীয় মানুষের জমি-জীবন-জীবিকার অধিকার হরণ করা চলবে না।
# পরিবেশ দূষণ ও জলবায়ু সঙ্কটের প্রেক্ষিতে নতুন কয়লা খনির বা তাপবিদ্যুৎ-এর বিকল্প, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে এগোতে হবে।
ধন্যবাদ সহ,
স্বাক্ষরকারীঃ
পার্থ ঘোষ। অভীক সাহা। প্রসেনজিৎ বসু। অভিজিৎ মজুমদার। সঞ্জীব মুখার্জি। সাগুন হেমব্রম। অমর্ত্য রায়। কুমার রাণা। অনিন্দ্য সরকার। মলয় তেওয়ারি। শুভপ্রতীম। সুরিন্দর সিং। জয়তু দেশমুখ। প্রবীর মিশ্র। জগন্নাথ টুডু। ইন্দ্রানী দত্ত। সুফিয়া খাতুন। সমর বাগচি। অজিত রায়। পানমুনি হাঁসদা। পার্থ চৌধুরী। নব দত্ত। শামিম আহমেদ। সরস্বতী বেসরা। বোবাই হেমব্রম। বুধি টুডু। সোমনাথ চ্যাটার্জি। মীর রাকেশ রৌশান। স্বর্ণেন্দু মিত্র। রণজয় সেনগুপ্ত। শরদিন্দু বিশ্বাস। সন্দীপ রায়। সজল অধিকারী। মোহন মন্ডল। বাসুদেব ব্যানার্জী। অম্লান ভট্টাচার্য। মঙ্গল হাঁসদা। সুনিরাম মুর্মু। পরিমল মুর্মু। অনন্ত হাঁসদা। রতন হেমব্রম
সংগঠন সমূহঃ
সিপিআই(এম-এল) লিবারেশন। স্বরাজ ইন্ডিয়া। আদিবাসী সংঘর্ষ মোর্চা। ইয়ং বেঙ্গল। আমরা - এক সচেতন প্রয়াস। এআইসিসিটিইউ। সারা ভারত কিসান মহাসভা। জয় কিষাণ আন্দোলন (সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা শরিক)। দেউচা পাঁচামি ভূমি রক্ষা কমিটি। সারা ভারত প্রগতিশীল মহিলা সমিতি। মহিলা স্বরাজ। ফ্যাসিবাদ-বিরোধী নাগরিক মঞ্চ - শিলিগুড়ি। বীরভূম গগ গাঁওতা। দামামা নাট্য সংস্থা। নাগরিক মঞ্চ। সাহিত্যিক। আদিবাসী অধিকার ও বিকাশ মঞ্চ। খেড়োয়াল ভাষা বন্ধন কমিটি। হড় সমাজ সুসৌরিয়া। মহলন্দী নাগরিক মঞ্চ। অল ইণ্ডিয়া স্টুডেন্টস' অ্যাসোসিয়েশন। বিপ্লবী যুব অ্যাসোসিয়েশন। জয় ভীম ইন্ডিয়া নেটওয়ার্ক। কালধ্বনি। সারা ভারত কৃষি ও গ্রামীণ মজুর সমিতি। উৎনৌ। পিইউসিএল। সান্তাড় মহল মারাংবুরু সমিতি। সিধো কানু চাঁদ ভৈরোব সেবাদল। আদিবাসী যৌয়ন গাঁওতা। ‘ল’ বীর মানঝি জলাবাঁধ। সাঁওতাল ইতিহাস সংসদ।
কলকাতা। ৩ জানুয়ারি, ২০২২
যোগাযোগঃ 7044281917; 9874873918
৩ রা জানুয়ারি, ২০২২ কলকাতা প্রেস ক্লাবে কমরেড পার্থ ঘোষ, অভীক সাহা, প্রসেনজিৎ বসু, সুফিয়া খাতুন ও সাগুন হেমব্রম এর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে থেকে এই বিবৃতি জারি হয়।