30/03/2018
GLAD PÅSK till er alla vänner !
লেখক : সেলিনা জামান
অবশেষে বুঝি বসন্ত ঋতু সত্যি সত্যি বাতাসে ডানা মেলতে শুরু করেছে। চারিদিকে সামান্য সামান্য বরফ গলতে শুরু করেছে। কোথাও কোথাও জমাট বাধা বরফের স্তুপ রয়ে গেছে। পাখীরা ইতিমধ্যে লোকালয়ে আসতে শুরু করেছে। জানান দিচ্ছে বসন্তের উত্তাপ লাগতে শুরু করেছে গাছের শাখায়। এমন সময় আর চুপটি করে জঙ্গলের গভীরে থাকতে কার মনে চায়। শীতের পাখীদের পৃথিবী ঘুরে ঘরে ফেরার সময় হয়ে গেছে। বসন্ত আসতে না আসতে এই সময়ের কোন ফাঁকে যেন ইষ্টার উৎসব চলে এলো খেয়ালই করা হয়নি। ইষ্টার মানেই জব থেকে বিরতি। টানা এক নাগারে চার দিন ছুটি হাতের মুঠোয়। ব্যস্তময়, যান্ত্রিক জীবনে এ ধরনের উৎসবের ছুটির অর্থই হচ্ছে খুব কাছের মানুষের সাথে দু‘দন্ড নিভৃতে সময় কাটানো খাবার টেবিলে, ড্রইংরুমে। ইষ্টার এককালে এদেশের ধর্মীয় উৎসব হিসেবে যীশুক্রিষ্টের মৃত্যুর দিনটিকে স্মরনে এ দিনটি পালিত হতো। ছোট গাছের চিকণ চিকণ ডাল দিয়ে নিজেরা নিজেদের গায়ে আঘাত করতো। যীশুখ্রীষ্ট কে যেমন মৃত্যুর সময় ক্রসে বেঁধে আঘাত করেছিল। সেই ব্যাথা কে উপলব্ধি করার জন্য। কোন এক সময় এই উৎসবটি বাতিল করে দেয়া হয়। এখন ধর্মীয় নয় ট্রাডিশান হিসেবে ইষ্টারষউৎসব পালন করা হয় সুইডেনের ঘরে ঘরে। ইষ্টারের রং হলুদ। ডিমের কুসুমের রংয়ের মত। এর কারণ হচ্ছে শীত মৌসুমে মুরগী কোন ডিম পাড়ে না। বসন্তের শুরুতেই ডিম পাড়তে শুরু করে। ডিমের কুসুম থেকে প্রাণের সৃষ্টি হয়। আর এই বিষয়টিও এই উৎসবের সাথে সংযুক্ত হয়েছে। আগের দিনে সুইডিশরা ডাইনীতে বিশ্বাস করতো। ঠিক আজ বৃহস্পতিবার। দিনটিকে ষ্যার তুরসডগ বলে। এই দিনটি ইষ্টারের আগের দিন। এই দিনে সুইডেনের সকল স্থান থেকে ডাইনীরা ঝাড়ুতে চেপে ঝাড়ুর সামনে একটি কেটলি ও তার কালো বিড়ালটি কে বসিয়ে উড়ে উড়ে আসতো ‘ব্লোকুল্লা’ নামে একটি উঁচু পাহাড়ে। রাত্রে সব ডাইনীরা সেখানে জমায়েত হতো। সেখানে তারা জ্যাভুলেনের সাথে সাক্ষাৎ করতো। এ পর তারা আনন্দ উৎসবে মেতে উঠতো রাত বাড়ার সাথে সাথে। ব্যাঙ, কচ্ছপ, সাপ, মাঁকড়সা ও পোঁকা মাঁকড় দিয়ে স্যুপ তৈরী করতো। ডিনারে পরিবেশন করা হতো এই সেই স্যুপ। ডাইনীর সিম্বলিকে ছোট ছোট মেয়েরা মুখে ছোট ছোট কালো ফোঁটা দিয়ে গালের দু‘পাশে গোলাপী গাল করতো। একদম যেন ছোট ছোট একেক টি ডাইনী বুড়ি। ডাইনী বুড়ির পোষাক পরে ঝাড়ু ও কেটলি হাতে করে পাড়ার ঘরে ঘরে যেত। যে বাড়ীতে ছোট শিশু যেত সে বাড়ীর মালিক হয়ত তাদের কেটলিতে চকলেট দিতো। অথবা ছোট ছোট খুচরা পয়সা দিতো। ইদানীং অবশ্য ছোট শিশুদের এ ধরনের বাড়ী বাড়ী ঘুরে চকলেট সংগ্রহ করার চিত্র খুব একটা চোখে পড়ে না। শুক্রবার দিনটি ইষ্টার উৎসবের প্রধান ও প্রথম দিন। এইদিনে সুইডিশ ঘরগুলিতে টেবিল সাঁজিয়ে দুপুরে সবায় আয়োজন করে একসাথে খায়। অনেক পরিবার খুব কাছের আত্মীয় স্বজনের সাথে মিলিত হয়। নানা নানী, দাদা দাদীর সাথে মিলিত হবার মক্ষম একটি সুযোগ সুইডিশ শিশুদের। খাদ্য তালিকায় নানান ধরনের ট্রাডিশন্যাল সুইডিশ খাবারের মেন্যুর সাথে ডিম, কাভিয়ার থাকবেই। টেবিল ক্লথ, ন্যাপকিন হয় হলুদ রংয়ের ও ঘরের পর্দায় থাকে হলুদ রংয়ের মুরগী সম্বলিত ছবি। উৎসব মানেই আনন্দ। আনন্দ মানেই জীবন কে চেনা। জীবনের সুখ খোঁজা। এক আনন্দ হচ্ছে নিজে আনন্দ করে মজা পাওয়া। আরেক আনন্দ হচ্ছে অন্যের করা আনন্দ দেখে মজা পাওয়া। ইষ্টারের ছুটি সবার জন্য ভালো কাটুক। আনন্দে কাটুক। সবায় সুস্থ ও ভালো থাকি।
শুভ ইষ্টার
গ্লড পোষ্ক !!
২০১৮/২৯/০৩
উপসলা
((সেলিনা জামান ))