09/11/2025
▪️প্রবাসীদের আপন কে…?
রাজনৈতিক মঞ্চে প্রবাসীদের নাম গর্বের সঙ্গে উচ্চারিত হয়,
বলা হয়, “তারা দেশের রেমিট্যান্স হিরো, দেশের অর্থনীতির চালিকা শক্তি!
সমাজের উচ্চবিত্তরা তাদের নিয়ে গর্ব করে,
কিন্তু বাস্তবে প্রবাসীদের জীবনের কষ্ট, ত্যাগ আর অপমানের গল্প
কেউই জানতে চায় না… কেউই শুনতে চায় না।
প্রবাসীরা দিনের পর দিন ঘাম ঝরায় অচেনা দেশে,
বালির মরুভূমি থেকে শুরু করে নির্মাণ সাইটের উত্তপ্ত ছাদে
তারা কাজ করে শুধু একটা স্বপ্ন নিয়ে:
পরিবারটা যেন একটু ভালো থাকে,
দেশের মানুষ যেন তাদের ত্যাগটাকে সম্মান করে।
কিন্তু কী নির্মম বাস্তবতা!
প্রবাসীরা যতদিন পাঠায় টাকা, ততদিন তারা “অপরিহার্য”
তাদের পাঠানো টাকায় চলে সংসার, সমাজ, এমনকি রাষ্ট্রের অর্থনীতি।
কিন্তু যখন সেই প্রবাসী ক্লান্ত হয়, অসুস্থ হয়,
অথবা দেশে ফিরে আসে শূন্য হাতে
তখন সমাজের চোখে সে হয়ে যায় বোঝা,
রাজনীতির চোখে সে হয় “অপ্রয়োজনীয়”।
বড় বড় নেতা বলেন — “প্রবাসীরা দেশের সম্পদ।”
কিন্তু সেই সম্পদের পাশে কি কখনো তারা দাঁড়ায়?
যখন কোনো প্রবাসী নিঃশব্দে বিদেশের মাটিতে মারা যায়,
তার লাশ যখন কফিনে ভরে দেশে আসে
তখন কেউ তার কষ্টের গল্প শোনে না,
শুধু কিছু মুহূর্তের জন্য কান্নার ইমোজি,
তারপর আবার নীরবতা।
প্রবাসীরা আপন হয় কেবল তখনই,
যখন তাদের কষ্টের ঘাম মুদ্রায় পরিণত হয়।
কিন্তু যখন তাদের কান্না, তাদের নিঃসঙ্গতা,
তাদের একাকী রাত্রির নিঃশব্দ হাহাকার
সেগুলো কারো কানে পৌঁছায় না।
প্রবাসীরা শুধু বিদেশে নয়,
তারা প্রতিদিন হারায় আপনজনের কাছে,
হারায় নিজের অস্তিত্বের কাছে।
তাদের কাছে “বাড়ি ফেরা” মানে বিশ্রাম নয়,
বরং অচেনা হয়ে যাওয়া।
তাই প্রশ্নটা আজও থেকে যায়……..
“প্রবাসীদের আপন কে…?”………..??……..???
রাজনীতি? সমাজ? না কি কেবল সেই পরিবার,
যারা প্রতিদিন ফোনে বলে…
“আরো কিছু টাকা পাঠাও…”
#রেমিটেন্সযোদ্ধা #নীরব_যুদ্ধ #বিদেশ_জীবন #প্রবাসী #প্রবাসীদের_কষ্ট