28/08/2021
অন্তিম দিনগুলোতে বিদ্রোহী কবি...... প্রয়াণ দিবসে জানাই বিনম্র বৈপ্লবিক শ্রদ্ধার্ঘ্য🇮🇳🇮🇳🇮🇳
তাঁর জীবনের শেষ চৌত্রিশটা বছর ছিল বড় মর্মান্তিক। কবির অসুস্থ হয়ে পড়ার দিন নিয়েও সঠিক তথ্য জানা যায় না। কেউ বলেন রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুদিবসে (৭ই অগস্ট ১৯৪১) কলকাতা রেডিওতে ‘রবিহারা’ কবিতাটি ঐদিনই লিখে আবৃত্তি করার সময় কবির কন্ঠস্বর জড়িয়ে আসে, কবি অসুস্থ হয়ে পড়েন। হতে পারে একটা প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিয়েছিল ঐদিন থেকে। এর আগে ১৯৪০ সালে কবি পত্নী প্রমীলা ইসলাম নিদারুণ পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হন। স্ত্রীর নিরাময়তার জন্য তিনি অজস্র অর্থ ব্যয় করেন। কিস্তিতে কেনা মোটরগাড়ি, বালিগঞ্জের ভক্তের দান করা জমি, গ্রন্থাবলির কপিরাইট, রেকর্ড করা গানের রয়ালটির টাকা সবই স্ত্রীর চিকিৎসায় খরচ করলেন। কিন্তু কোনও চেষ্টাই সফল হয়নি। এদিকে অসুখের জন্য কবির কথা বলার ও লেখার শক্তি আস্তে আস্তে সম্পূর্ণ চলে যায়। একবছর পর ১০ই জুলাই নজরুল জুলফিকার হায়দারকে একটি চিঠি লিখেছিলেন “তুমি এখনি চলে এসো … আমি কাল থেকে অসুস্থ”। কবি তখন আক্ষরিক ভাবেই কপর্দকহীন। সংসারে দুই শিশু পুত্র, পক্ষাঘাতগ্রস্ত স্ত্রী প্রমীলা, সর্বক্ষণের অভিভাবক শাশুড়ি গিরিবালা। ১৭০০ গানের রেকর্ডে লক্ষলক্ষ টাকা মুনাফার সন্ধান দেওয়া গ্রামফোন কোম্পানী কোন রয়ালটি, প্রাপ্য পারিশ্রমিক দিচ্ছে না, তাঁর লেখার প্রকাশকরা ফিরেও তাকাচ্ছে না। ১৭ই জুলাই ১৯৪২, শারীরিক যন্ত্রণাউপেক্ষা করে এক বন্ধুকে পত্র লেখেন কবি। লিখেছিলেন- “আমি blood pressure এ শয্যাগত, অতিকষ্টে চিঠি লিখছি। আমার বাড়িতে অসুখ, ঋণ, পাওনাদারদের তাগাদা, প্রভৃতি worries, সকাল থেকে রাত্রি পর্যন্ত খাটুনি। তারপর নবযুগের worries ৩/৪মাস পর্যন্ত। এইসব কারণে আমার nerves shattered হয়ে গেছে। … কথা বন্ধ হয়ে গিয়ে অতি কষ্টে দু’একটা কথা বলতেপারি,বললে যন্ত্রণা হয় সর্ব শরীরে”।
তথাপি যতদিন কবিপত্নী প্রমীলা জীবিত ছিলেন কবির প্রতি যত্নআত্তি ভক্তি ভালোবাসার কোনও ত্রুটি ছিল না। পক্ষাঘাতাক্রান্ত অবস্থায় শুয়ে শুয়ে সংসার চালানো ছাড়াও কবির সেবা-শুশ্রুষা করে গেছেন জীবনের শেষদিন পর্যন্ত। কবির যত্নের ব্যাপারে প্রমীলা সম্বন্ধে কবির পুত্রবধূ কল্যাণী কাজী বলেছেন:‘যতদিন বেঁচে ছিলেন, প্রমিলা বেশিরভাগ দিন-ই তিনি নিজের হাতে বাবাকে খাইয়ে দিতেন। খাওয়া শেষ হলে তাঁর হাতমুখ ধুইয়ে সযত্নে তোয়ালে দিয়ে মুছিয়ে দিতেন। তিনি খাবার পরিবেশন না করলে, বা তার সামনে বসে না খেলে আমাদের তৃপ্তি হোত না। বাবার সম্বন্ধে তাঁর দায়িত্বজ্ঞান ও কর্তব্যবোধ ছিল অসাধারণ, গভীর রাত্রে সবাই যখন সুপ্তির কোলে নিমগ্ন তখন তিনি একা খেলে চলেছেন হয় লুডো, নয় তাস, নয়ত বা চাইনীজ চেকার। উদ্দেশ্য, বাবাকে অতন্দ্র প্রহরীর মতো পাহারা দেয়া। কারণ, বাবা ঠিক এক নাগাড়ে ঘুমোতেন না। তাই মাঝরাতে ঘুম ভেঙে গেলে মাঝে মাঝে শুনতে পেতাম, ঠক্ ঠক্ করে ঘুটির আওয়াজ হচ্ছে আর থেকে থেকে একটি কণ্ঠস্বর বলে উঠছেন এসো, বাইরে যেয়ো না। শোনো, শুয়ে পড়ো।’
সে সময়ের লেখক মোহাম্মদ কাশেম তাঁর স্মৃতিকথায় জানিয়েছেন সেই দুর্ঘটনার কথা ।
কবি তখন নবপর্যায়ে ‘নবযুগ’ পত্রিকার সম্পাদক। ভারতবর্ষ বিভাগের প্রাক আয়োজন চলছে। সমস্ত ক্ষমতা কোলকাতার শিক্ষিত শ্রেণীর হাতে। তরুণ মুসলিম লীগ নেতা বদরুদ্দোজা, আলম হোসেন, জুলফিকার হায়দার তখন পাকিস্তান আন্দোলন করছেন। এই উচ্ছ্বাস আন্দোলনে বাঁধ সাধলেন নজরুল। তিনি বললেন এটি মেকি, ভুয়া আন্দোলন; পূর্ববাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ নিরক্ষর মুসলমানদের মুখের গ্রাস কেড়ে এরাঁ নেতা বনতে চান।
‘নবযুগ’ পত্রিকায় কবি তখন স্বাক্ষরযুক্ত সম্পাদকীয় লেখেন। এক সংখ্যায় লিখলেন ‘পাকিস্তান না ফাঁকিস্থান?’ আর যায় কোথায়, ভীমরুলের চাকে ঢিল ছোঁড়া ছাড়া আর কী? তরুণ এই পাকিস্তান আন্দোলনকারীরা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হলেন। কবি পত্রিকা অফিসের কাজ সেরে অনেক রাতে ফেরেন, সুযোগ মতো পেতে হবে; ছ’ফিট লম্বা এই কবিকে সামনাসামনি ধরাশয়ী করা যাবে না। কবিকে পেছন থেকে আক্রমণ। যারা কবির স্নেহ নিয়ে কোলকাতায় দাপটের সাথে চলতেন, তারাই কবির জীবনের জন্য হুমকী হয়ে দাঁড়ালেন।
আক্রমণের পর ১৯৪২ সালের মাঝামাঝি কবি বাকরুদ্ধ হয়ে গেলেন। তার পিঠে সেই আঘাতের চিহ্ন মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত কবি বহন করছিলেন। বাংলাদেশে কবির ব্যক্তিগত সহকারী শফি চাকলাদার সেকথা অকপটে স্বীকার করেছেন। ছবি তুলে রেখেছেন, কিন্তু কাউকে দেননি। তাঁর চিকিৎসার সুব্যবস্থা করার জন্য সমিতি হলো, ‘নজরুল রোগ নিরাময় সমিতি’। সেখানেও ঢুকে গেল দু’একজন পাকিস্তানপন্থী। তারাই নিয়ন্ত্রণ করত তার চিকিৎসা, দেখাশোনা, অর্থ সংরক্ষণ। তাদের দীর্ঘসূত্রিতায় রোগ ধীরে ধীরে নিরাময়ের অযোগ্য হয়ে উঠলো। জুলফিকার লুম্বিনী হাসপাতালে শেকল দিয়ে বেঁধে, লোক-আড়ালে কবিকে নিঃশেষ করে দেয়া হলো ।
পঞ্চাশের প্রথম দিকে ডাক্তার বিধান চন্দ্র রায় কবির চিকিৎসার ব্যবস্থা করলেন। রবীউদ্দীনকে সাথে দিয়ে কবিকে ভিয়েনায় পাঠানো হলো। কিন্তু ততদিনে নিভেছে দেউটি। কবি আর ভাল হলেন না. পেছনের যে নার্ভটি ঘাড়ে গিয়ে পৌঁছায়, সেটি শুকিয়ে মরে গেছে।
শোনা যায় নির্বাক কবি যখন বাংলাদেশে (১৯৭২), তখন নাকি তাঁর চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ড, কবির ঘাড়ে পুরাতন কঠিন আঘাতের চিহ্নটি সনাক্ত করেছিলেন।
বিস্ময়ে হতবাক হতে হয় – কি নিদারুণ অব্যবস্থা হয়েছিল তাঁর অসুস্থতা প্রকট হওয়ার পর। প্রথম সাতদিন চিকিৎসা করেন হোমিওপ্যাথিক মতে, নজরুলেরই বাড়িওয়ালা ডাক্তার ডি এল সরকার। অথচ মাত্র তিনদিন চিকিৎসার পর অতি উৎসাহী হয়ে নজরুলের সেই বন্ধু জুলফিকার হায়দার খবরের কাগজে কবির অসুস্থতার সংবাদ পাঠিয়ে প্রচার করে দেন নজরুল ‘উন্মাদ’ হয়ে গেছেন বলে। বাইশ বছর পরে লেখা তাঁর গ্রন্থে (‘নজরুল জীবনের শেষ অধ্যায় – ১৯৬৪) জুলফিকার হায়দার এই মিথ্যা সংবাদ প্রচারের সাফাই দিয়েছিলেন যে তাঁর উদ্দেশ্য ছিল ‘হয়তো অসুখের সংবাদ পেয়ে কাজীদার অনেক বন্ধুবান্ধব এবং ভক্ত অনুরক্তদের মধ্যে একটা সাড়া পড়ে যাবে, দেখতে আসবে’। অথচ জুলফিকার হায়দার প্রচারিত কবির‘মস্তিষ্ক বিকৃতি’র মিথ্যা সংবাদ প্রচারের দুইবছর পরেও ১৯৪৪এর ২৭শে ফেব্রুয়ারি নুরুল ইসলামকে একটা কাগজে লিখিয়ে নজরুল জানিয়েছিলেন – “শ্রীমান মোহম্মদ নুরুল ইসলাম, তুমি চিরঞ্জীবি হয়ে থেকো। আমায় ও আমার ছেলে দুটিরে চিরদিন মনে রেখো”।
‘কাজী নজরুল ইসলাম স্মৃতিকথা’ গ্রন্থে শ্রদ্ধেয় মুজফ্ফর আহমেদ লিখেছেন: ‘১৯৪২ সালে জুলাই মাসে তার রোগ যখন সকলের চোখে প্রকাশ পেল তখন চিকিৎসা হয়েছিল বটে কিন্তু প্রাথমিক চিকিৎসা অত্যন্ত অপরিমিত ও অসম্পূর্ণ হয়েছে। তখন অবশ্য কোন কোন ডাক্তার বলেছিলেন যে বড় দেরি হয়ে গেছে, তখন যদি কবিকে ইউরোপে পাঠানো যেত তাহলে তার মস্তিষ্কে অপারেশন অন্তত হতে পারতো...কিন্তু নজরুল নিরাময় সমিতি গঠিত হয়েছিল বড় দেরিতেÑ ১৯৫২ সালের জুন মাসে।’
শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আর্থিক সহায়তায় কবিকে স্বাস্থ্য উদ্ধারের জন্য মধুপুর পাঠানো হল ১৯৪২এর ১৯শে জুলাই, কিন্তু অর্থ শেষ হয়ে যাবার পর কলকাতায় ফিরিয়ে আনা হয় ২১শে সেপ্টেম্বর। ১৯৪৪এর ২৪শে মে আনন্দবাজার পত্রিকায় ‘কবি নজরুল পীড়িত’ শিরোনামে একটি আবেদন প্রচারিত হয়। আবেদনে বলা হয়েছিল‘বাংলার বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম বহুদিন যাবত পক্ষাঘাতে শয্যাগত। অসক্ত হইয়া পড়ায় তিনি এখন নিঃস্ব ও কপর্দকহীন। তাঁহার স্ত্রীও পক্ষাঘাতে শয্যাশায়িনী। চিকিৎসা দূরের কথা, এমন সঙ্গতি নাই যে শিশু পুত্রদ্বয়, রুগণা পত্নী ও নিজের আহার্যটুকু জোটে। বাংলার জাতীয় কবির প্রাণরক্ষায় সহৃদয় সর্বসাধারণের অকুন্ঠ সাহায্য একান্ত আবশ্যক’। ভাবা যায়, নজরুলের মত মানুষের খাওয়া পরার জন্য সাহায্যের আবেদন করতে হয়েছিল!
এরপর কয়েকটি সাহায্য সমিতি গঠিত হয়। কলকাতার সুখ্যাত চিকিৎসকেরা কবিকে দেখেন একাধিকবার, কিন্তু নিরাময়ের কোন লক্ষণ দেখা যায় না। কবি কাজী আবদুল ওদুদের উদ্যগে গঠিত‘নজরুল নিরাময় সমিতি’র উদ্যোগে কবিকে রাঁচির মানসিক চিকিৎসালয়ে পাঠানো হয় ১৯৫২র ২৫শে জুলাই। কিন্তু চার মাস চিকিৎসাধীন থেকেও কোন উন্নতি না হওয়ায় ফিরিয়ে আনা হয় কলকাতায়।
কবি এবং তাঁর পত্নীকে পাঠানো হল লন্ডনে ১৯৫৩ সালে। ডা. উইলিয়ম স্যারগ্যান্ট, ই এ বেটন, রাসেল ব্রেন নজরুলকে পরীক্ষা করেন। কিন্তু চিকিৎসার ব্যাপারে তাঁরা একমত হতে না পারায় কবি ও তাঁর স্ত্রীকে পাঠানো হয় ভিয়েনাতে। ৯ ডিসেম্বর নজরুলের উপর সেরিব্র্যাল অ্যানজিওগ্রাফি পরীক্ষা করা হয়। ফলস্বরূপ প্রখ্যাত স্নায়ু বিশেষজ্ঞ ডা. হ্যান্স হক বলেন যে, নজরুল ‘পিকসডিজিজ’ নামক এক প্রকার মস্তিষ্কের রোগে ভুগছেন যা নিরাময়ের বাইরে। এই রোগে রোগী শিশুর মতো ব্যবহার করেন এবং মস্তিষ্কের সামনের ও পাশের অংশগুলো সংকুচিত হয়ে যায়। এরপরেও পূর্ব জার্মানীর বন বিশ্বিবিদ্যালয়ের ছাত্ররা এক রুশ ডাক্তারকে দিয়ে পরীক্ষা করিয়ে ছিলেন। তাঁর অভিমত ছিল যে অনেক দেরি করে রোগীকে আনা হয়েছে। সাতমাস বিদেশে বৃথা চেষ্টার পর কবিকে ফিরিয়ে আনা হয় কলকাতায় ১৯৫৩’র ১৪ই ডিসেম্বর। ১৯৭৫ সালে চলে গেলেন কবির কনিষ্ঠ পুত্র ‘নিনি’ অর্থাৎ কাজী অনিরুদ্ধ ইসলাম। স্তব্ধবাক কবি কিছুই বুঝলেন না, কিছুই জানলেন না।
১৯৭১ সালে জন্ম হল স্বাধীন বাংলাদেশের। ১৯৭২ সালের ২৪ মে রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসেবে কবিকে নিয়ে আসা হল ঢাকায়। জীবনের শেষ চার বৎসর কবি এখানেই ছিলেন। নজরুল সংগীত গুরু প্রয়াত ধীরেন বসু কবি সম্বন্ধে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে এক জায়গায় বলেছিলেন, ঢাকায় কবির ৭৩তম জন্মবার্ষিকীতে আমন্ত্রিত শিল্পী হিসেবে কাজী সব্যসাচী, মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়, কল্যাণী কাজী, ধীরেন বসু সকলেই কবিকে মাল্যদান করতে গেছেন কিন্তু কবি কিছুতেই মাথা তুলছেন না। এমতাবস্থায় কাজী সব্যসাচী ধীরেন বসুকে বললেন, ‘ধীরেন তোমার গাওয়া সেই গানটি ধরো।’ হারমোনিয়াম টেনে নিয়ে ধীরেন বসু গাইলেন, ‘ফুলের জলসায় নীরব কেন কবি।’ গান শেষ হলো, কবি মাথা তুলে সকলকে দেখলেন, মাল্যদানের পালা শেষ হলো।
অভাবের তাড়না, মানসিক কষ্ট, নিঃসঙ্গতা, পরিচিত বন্ধুদের দূরে চলে যাওয়া, অবহেলা এসবই ছিল কবির শেষ জীবনের সঙ্গী। পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্তৃক বিনা ভাড়ায় থাকার জন্য ফ্ল্যাটের বন্দোবস্ত ও দুইবাংলা থেকেই লিটারারি পেনশনের ব্যবস্থা হওয়ার পর কিছুটা স্বস্তি এসেছিল। ১৯৬২র ২৩শে জুন দীর্ঘ ২৩বছর ধরে পক্ষাঘাতে শয্যাগত স্ত্রী প্রমীলার দেহাবসান হ’ল, কবি আরো নিঃসঙ্গ হয়ে গেলেন। কবির আশা ছিল মৃত্যুর পর তাঁকেও যেন প্রমীলার পাশেই সমাহিত করা হয়। কবির সেই চাওয়া পুরন হয়নি।............
লেখক মোহাম্মদ কাশেম তাঁর স্মৃতিকথায় লিখেছেন -
ভারত ভাগের আয়োজন চলছে। তরুণ মুসলিম লীগ নেতারা তখন পাকিস্তান আন্দোলন করছেন। বাঁধ সাধলেন নজরুল। তিনি বললেন ‘পাকিস্তান না ফাঁকিস্থান?’ এটি মেকি, ভুয়া আন্দোলন; নিরক্ষর মুসলমানদের মুখের গ্রাস কেড়ে এরাঁ নেতা বনতে চান। কবি অনেক রাতে ফেরেন। ফাঁকিস্থান আন্দোলনকারীরা মওকা মতো কবিকে পেছন থেকে আক্রমণ করল। ঘাড়ে ও মাথায় কঠিন আঘাত পেয়ে জ্ঞান হারালেন কবি। সঠিক চিকিৎসা না হওয়ায় কবির সুষুম্নাকাণ্ড ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে পরে। ১৯৪২-এ বাকরুদ্ধ হয়ে যান।...................
তথ্য সংগৃহীত - প্রতাপ সাহা
ধন্যবাদ।।