কবিতা Adda

কবিতা Adda Lyrics of poems

 #"কলকাতা,প্রিয় কলকাতা❤💛" #কলকাতা,কেমন আছ তুমি?তোমার চৌরঙ্গি,গড়ের মাঠ,ইডেন গার্ডেন,কেমন আছে হাওড়া ব্রিজ?শ্যামবাজার?গড়িয়া...
19/07/2020

#"কলকাতা,প্রিয় কলকাতা❤💛" #

কলকাতা,কেমন আছ তুমি?তোমার চৌরঙ্গি,গড়ের মাঠ,
ইডেন গার্ডেন,কেমন আছে হাওড়া ব্রিজ?শ্যামবাজার?
গড়িয়াহাটের মোড়?ধর্মতলা?
কথা ছিল চিৎপুরের রাস্তায় খালি পায়ে হাঁটব,জীবন দেখতে দেখতে যাব খড়কুটোর,
মানুষের,কথা ছিল ফুটপাতের তেলেভাজা,কলবেরুনো ছোলাসেদ্ধ,আলুকাবলি,
লংকার আচার খেয়ে হাইড্রান্টের ভিড়ে দাঁড়িয়ে আঁজলা ভরে পান করব জল,
হাওড়া স্টেশনে ষোলো রকম মানুষের গা-ধাক্কা খেতে খেতে হাঁটব,
হুইসেল শুনে দৌড়ে ধরব ট্রেনের
হ্যান্ডেল।ট্রেন যাবে বোলপুর দুর্গাপুর জয়পুর...কী কী সব পুরের দিকে।
কথা ছিল দেশপ্রিয় পার্কের ঘাসে শুয়ে কচ্ছপের মতো হেঁটে-আসা ট্রাম দেখব,ট্রাম দেখব
আর জীবনানন্দের জন্য আমার মায়া হবে খুব।
কখনও খিদে -পেটে বসন্ত কেবিনের কাটলেট,
কখনও গিরিশমঞ্চে নাটক,নন্দনে সত্যজিতের ছবি,
সারা দুপুর পড়ে থাকব বইয়ের ওপর উবু হয়ে বইপাড়ায়,

কফি হাইজে ঠান্ডা কফি সামনে নিয়ে ঈশ্বরের চেয়ে বেশি ভাবব ঈশ্বরচন্দ্রের কথা।।
কথা ছিল।কথা কার সঙ্গে ছিল আমার?
রবীন্দ্রসদন?লেকের জল?মেমোরিয়াল? মনুমেন্ট? কার সঙ্গে?
নাকি ওই কালো পাথরের মাতঙ্গিনী হাজরার সঙ্গে কাকপক্ষী দেখেনি কথা হয়েছিল?
চুপিচুপি কাকে যে আমি কথা দিয়েছি যাব চুমু খাব দৌড়ব
ব্রক্ষ্মপুত্রের মতো দেখতে গঙ্গার দিকে
গঙ্গার হাওয়ার দিকে তীরের বালুর দিকে
ভোঁ-বাজা লঞ্চের দিকে...
কলকাতায় কারা তোমরা ব্রক্ষ্মপুত্রের লোক গো,
কারা তোমরা পদ্মা যমুনা সুরমা তিতাস আর শীতলক্ষার
ছলছল জল দেখেছিলে?তুমি,নয় তোমার বাবা,নয় তোমার ঠাকুর্দা
তোমার আমার গা থেকে কংসের গন্ধ নেবে নাও,
আমার নাকের ঘামে কর্ণফুলি,চোখে আস্ত একটি মেঘনা...
কথা কার সঙ্গে হয়েছিল আমার?মেট্রো রেল?শুকনো বকুল?
নাকি নিজের সঙ্গে নিজেরই?
আমার আঙুল কাঁপে তিরতির তৃষ্ণায়,কতদিন ছুঁই না কলকাতার চিবুক-
তার রোদে ভিজে বাড়ি ফিরি না,
কতদিন কেউ ঘুম পাড়ায় না সুতানটি গ্রামে পর্তুগিজ দস্যু আর
ইংরেজ বেনিয়ার ছড়ি-ঘোরানো আঙুল আর
লালচক্ষুর গল্প শোনাতে শোনাতে,
কতদিন কুয়াশা কেটে দৌড়নো হয় না এসপ্লানেডের ফুটপাথ ধরে সোজা...
আমার গা হাত পা শক্ত শেকলে বাঁধা,আমি তোমাকে একবার ছোঁবার জন্য
কাঁদছি কলকাতা,কাঁদছি বলে লোকে আমাকে দুয়ো দিচ্ছে,
ধুঁয়ো দিচ্ছে...
তোমাকে ভালবাসি বলে লোকে আমাকে ঢিল ছুড়ছে,কাদা ছুড়ছে,চোখের ভেতর
ঢেলে দিচ্ছে গোল মরিচের গুঁড়ো, মুখে পুরে দিচ্ছে
একতাল গোবল,,ভরদুপুরে ন্যাংটো করছে খোলা রাস্তায়...

কবে আমাদের দেখা হবে কলকাতা? সামনের শীতে, বসন্তে?
নাকি বসন্ত যাবে, ঝরাপাতার ওপর মরিচ হাঁটবে ভুঁইফোড় ইঁদুর,
বর্ষায় চুপসে যাবে রাসবিহারী এভিন্যু, তার যে গা মুছিয়ে দেব, যাওয়া হবে না;
বালিগঞ্জের আকাশে তুলো তুলো মেঘ জমবে
আর আমি বসে থাকব একা দরজা জানালা সাঁটা অন্ধকার ঘরে শ্বাস
ফেলার শব্দ যেন কেউ না শোনে এমন নি:শব্দে, আমার আর লেজআলা
ঘুড়ির পেছনে সারা বিকেল ছোটো হবে না, স্বপ্নগুলো লাটাইয়ে পেঁচাতে
পেঁচাতে শখের বয়স ফুরোলে........

মল্লিকাদের সাথে কথা ছিল দলবেঁধে গোল্লাছুট খেলব আবার,
মাঠ পড়ে আছে খরখরে, খোয়া ফেলা, খেলা হবে না;
প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিটে একজন খুব হ্নদয়বান মানুষের সামনে চেয়ার পেতে বসে
দুটো কষ্টের কথা বলার ছিল, বলা হবে না।

- তসলিমা নাসরিন
#কবিতা Adda #

 #"আমিই সেই মেয়ে" #আমিই সেই মেয়ে।বাসে ট্রেনে রাস্তায় আপনি যাকে রোজ দেখেনযার শাড়ি, কপালের টিপ কানের দুল আর পায়ের গোড়ালিআপ...
02/06/2020

#"আমিই সেই মেয়ে" #

আমিই সেই মেয়ে।
বাসে ট্রেনে রাস্তায় আপনি যাকে রোজ দেখেন
যার শাড়ি, কপালের টিপ কানের দুল আর পায়ের গোড়ালি
আপনি রোজ দেখেন।
আর
আরও অনেক কিছু দেখতে পাবার স্বপ্ন দেখেন।
স্বপ্নে যাকে ইচ্ছে মতন দেখেন।
আমিই সেই মেয়ে।

বিহারের প্রত্যন্ত গ্রামে দিনের আলোয় যার ছায়া মাড়ানো
আপনার ধর্মে নিষিদ্ধ, আর রাতের গভীরে যাকে বস্তি থেকে
তুলে আনতে পাইক বরকন্দাজ পাঠান আপনি
আর সুসজ্জিত বিছানায় যার জন্য অপেক্ষায় অধীন হয়
আপনার রাজকীয় লাম্পট্য
আমিই সেই মেয়ে।

আমিই সেই মেয়ে- আসামের চাবাগানে ঝুপড়ি কামিন বস্তি থেকে
যাকে আপনি নিয়ে যেতে চান সাহেবি বাংলোয় মধ্যরাতে
ফায়ার প্লেসের ঝলসে ওঠা আলোয় মদির চোখে দেখতে চান
যার অনাবৃত শরীর
আমি সেই মেয়ে।

রাজস্থানের শুকনো উঠোন থেকে পিপাসার জল আনতে যাকে আপনি
পাঠিয়ে দেন দশ মাইল দূরে সরকারি ইঁদারায়- আর কুড়ি মাইল
হেঁটে কান্ত বিধ্বস্ত যে রমণী ঘড়া কাঁখে ঘরে ফিরলেই যাকে বসিয়ে দেন
চুলার আগুনের সামনে আপনার রুটি বানাতে
আমিই সেই মেয়ে।

আমিই সেই মেয়ে- যাকে নিয়ে আপনি মগ্ন হতে চান গঙ্গার ধারে কিংবা
ভিক্টোরিয়ার সবুজে কিংবা সিনেমা হলের নীল অন্ধকারে, যার
চোখে আপনি একে দিতে চান ঝুটা স্বপ্নের কাজল আর ফুরিয়ে যাওয়া
সিগারেটের প্যাকেটের মত যাকে পথের পাশে ছুঁড়ে ফেলে আপনার ফুল সাজানো
গাড়ি শুভবিবাহ সুসম্পন্ন করতে ছুটে যায় শহরের পথে-
কনে দেখা আলোর গোধুলিতে একা দাঁড়িয়ে থাকা
আমিই সেই মেয়ে।

আমিই সেই মেয়ে- এমন কি দেবতারাও যাকে ক্ষমা করেন না। অহংকার
আর শক্তির দম্ভে যার গর্ভে রেখে যান কুমারীর অপমান
আর চোখের জলে কুন্তী হয়ে নদীর জলে
বিসর্জন দিতে হয় কর্ণকে। আত্মজকে।
আমিই সেই মেয়ে।

সংসারে অসময়ের আমিই ভরসা।
আমার ছাত্র পড়ানো টাকায় মায়ের ওষুধ কেনা হয়।
আমার বাড়তি রোজগারে ভাইয়ের বই কেনা হয়।
আমার সমস্ত শরীর প্রবল বৃষ্টিতে ভিজতে থাকে।
কালো আকাশ মাথায় নিয়ে
আমি ছাতা হয়ে থাকি।
ছাতার নিচে সুখে বাঁচে সংসার।

আপনি
আপনারা
আমার জন্য অনেক করেছেন।
সাহিত্যে কাব্যে শাস্ত্রে লোকাচারে আমাকে
মা বলে পুজো করেছেন।
প্রকৃতি বলে আদিখ্যেতা করেছেন- আর
শহর গঞ্জের কানাগলিতে
ঠোঁটে রঙ মাখিয়ে কুপি হাতে দাঁড় করিয়েও দিয়েছেন।
হ্যা, আমিই সেই মেয়ে।
একদিন হয়ত
হয়ত একদিন- হয়ত অন্য কোন এক দিন
আমার সমস্ত মিথ্যে পোশাক ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে
আমিই হয়ে উঠবো সেই অসামান্যা !
খোলা চুল মেঘের মত ঢাকবে আমার খোলা পিঠ।
দু চোখে জ্বলবে ভীষণ আগুন।
কপাল-ঠিকরে বেরুবে ভয়ঙ্কর তেজরশ্মি।
হাতে ঝলসে উঠবে সেই খড়গ।
দুপায়ের নুপুরে বেজে উঠবে রণদুন্দভি।
নৃশংস অট্টহাসিতে ভরে উঠবে আকাশ।
দেবতারাও আতঙ্কে স্তব্ধ হয়ে বলতে থাকবেন
মহামেঘপ্রভাং ঘোরাং মুক্তকেশীং চতুর্ভুজাং
কালিকাং দক্ষিণাং মুণ্ডমালা বিভুষিতাং।

বীভৎস দাবানলের মত
আমি এগোতে থাকবো ! আর আমার এগিয়ে যাবার পথের দুপাশে
মুণ্ডহীন অসংখ্য দেহ ছটফট করতে থাকবে-
সভ্যতার দেহ
প্রগতির দেহ-
উন্নতির দেহ-
সমাজের দেহ

হয়ত আমিই সেই মেয়ে ! হয়ত ! হয়ত বা।

-শুভ দাশগুপ্ত
#কবিতা Adda #

 #"চোখ" #খালি চুমু চুমু চুমুএত চুমু খেতে চাও কেন? প্রেমে পড়লেই বুঝি চুমু খেতে হয়! চুমু না খেয়ে প্রেম হয় না? শরীর স্পর...
16/05/2020

#"চোখ" #

খালি চুমু চুমু চুমু
এত চুমু খেতে চাও কেন?
প্রেমে পড়লেই বুঝি চুমু খেতে হয়!
চুমু না খেয়ে প্রেম হয় না?
শরীর স্পর্শ না করে প্রেম হয় না?

মুখোমুখি বসো,
চুপচাপ বসে থাকি চলো,
কোনও কথা না বলে চলো,
কোনও শব্দ না করে চলো,
শুধু চোখের দিকে তাকিয়ে চলো,
দেখ প্রেম হয় কি না !
চোখ যত কথা বলতে পারে, মুখ বুঝি তার সামান্যও পারে!
চোখ যত প্রেম জানে, তত বুঝি শরীরের অন্য কোনও অঙ্গ জানে !

- তসলিমা নাসরিন
#কবিতা Adda #

 #"যে টেলিফোন আসার কথা" # যে টেলিফোন আসার কথা সে টেলিফোন আসেনি।প্রতীক্ষাতে প্রতীক্ষাতেসূর্য ডোবে রক্তপাতেসব নিভিয়ে একলা ...
01/05/2020

#"যে টেলিফোন আসার কথা" #

যে টেলিফোন আসার কথা সে টেলিফোন আসেনি।
প্রতীক্ষাতে প্রতীক্ষাতে
সূর্য ডোবে রক্তপাতে
সব নিভিয়ে একলা আকাশ নিজের শূন‍্য বিছানাতে।
একান্তে যার হাসির কথা হাসেনি।
যে টেলিফোন আসার কথা আসেনি।

অপেক্ষমান বুকের ভিতর কাঁসর ঘন্টা শাঁখের উলু
একশ বনের বাতাস এসে একটা গাছে হুলুস্থূলু

আজ বুঝি তার ইচ্ছে আছে
ডাকবে আলিঙ্গনের কাছে
দীঘির পাড়ে হারিয়ে যেতে সাঁতার জলের মত্ত নাচে।
এখনো কি ডাকার সাজে সাজে নি?
যে টেলিফোন বাজার কথা বাজে নি।

তৃষ্ণা যেন জলের ফোঁটা বাড়তে বাড়তে বৃষ্টি বাদল
তৃষ্ণা যেন ধূপের কাঠি গন্ধে আঁকে সুখের আদল
খাঁ খাঁ মনের সবটা খালি
মরা নদীর চড়ার বালি
অথচ ঘর দুয়ার জুড়ে তৃষ্ণা বাজায় করতালি।
প্রতীক্ষা তাই প্রহরবিহীন
আজীবন ও সর্বজনীন
সরোবর তো সবার বুকেই, পদ্ম কেবল পর্দানশীন।
স্বপ্নকে দেয় সর্বশরীর, সমক্ষে সে ভাসেনা।
যে টেলিফোন আসার কথা সচরাচর আসেনা।

- পূর্ণেন্দু পত্রী
#কবিতা Adda #

 #"প্রেম" #যদি আমাকে কাজল পড়তে হয় তোমার জন্য, চুলে মুখে রঙ মাখতে হয়, গায়ে সুগন্ধি ছিটোতে হয়, সবচেয়ে ভালো শাড়িটা য...
01/05/2020

#"প্রেম" #

যদি আমাকে কাজল পড়তে হয় তোমার জন্য,
চুলে মুখে রঙ মাখতে হয়,
গায়ে সুগন্ধি ছিটোতে হয়,
সবচেয়ে ভালো শাড়িটা যদি পড়তে হয়,
শুধু তুমি দেখবে বলে মালাটা চুড়িটা পরে সাজতে হয়,
যদি তলপেটের মেদ,
যদি গলার বা চোখের কিনারের ভাঁজ কায়দা করে লুকোতে হয়,
তবে তোমার সঙ্গে অন্য কিছু, প্রেম নয় আমার।

প্রেম হলো আমার যা কিছু এলোমেলো
যা কিছু খুঁত, যা কিছুই ভুলভাল, অসুন্দর থাক, সামনে দাড়াঁবো,
তুমি ভালোবাসবে।
কে বলেছে প্রেম খুব সহজ, চাইলেই হয় !
এত যে পুরুষ দেখি চারিদিকে, কই প্রেমিক তো দেখি না !!

-তসলিমা নাসরিন
#কবিতা Adda #

 #চরিএ #তুমি মেয়ে, তুমি খুব ভাল করে মনে রেখোতুমি যখন ঘরের চৌকাঠ ডিঙোবেলোকে তোমাকে আড়চোখে দেখবে। তুমি যখন গলি ধরে হাঁটত...
30/04/2020

#চরিএ #

তুমি মেয়ে,
তুমি খুব ভাল করে মনে রেখো
তুমি যখন ঘরের চৌকাঠ ডিঙোবে
লোকে তোমাকে আড়চোখে দেখবে।
তুমি যখন গলি ধরে হাঁটতে থাকবে
লোকে তোমার পিছু নেবে, শিস দেবে।
তুমি যখন গলি পেরিয়ে বড় রাস্তায় উঠবে
লোকে তোমাকে চরিএহীন বলে গাল দেবে।

যদি তুমি অপদার্থ হও
তুমি পিছু ফিরবে
আর তা না হলে
যেভাবে যাচ্ছ, যাবে।

-তসলিমা নাসরিন
#কবিতা Adda #

 #" মেঘবালিকার জন্য রূপকথা" #আমি যখন ছোট ছিলামখেলতে যেতাম মেঘের দলেএক দিন এক মেঘবালিকাপ্রশ্ন করল কৌতূহলে“এই ছেলেটা      ...
30/04/2020

#" মেঘবালিকার জন্য রূপকথা" #

আমি যখন ছোট ছিলাম
খেলতে যেতাম মেঘের দলে
এক দিন এক মেঘবালিকা
প্রশ্ন করল কৌতূহলে

“এই ছেলেটা
নাম কী রে তোর ?”
আমি বললাম,
“ফুসমন্তর!”

মেঘবালিকা রেগেই আগুন,
“মিথ্যে কথা । নাম কি অমন
হয় কখনো ?”

আমি বললাম,
“নিশ্চয়ই হয়। আগে আমার
গল্প শোনো।”
সে বলল, “শুনব না, যা—
সেই তো রানি, সেই তো রাজা
সেই তো একই ঢালতলোয়ার
সেই তো একই রাজার কুমার
পক্ষিরাজে—
শুনব না আর।
ওসব বাজে।”

আমি বললাম “তোমার জন্যে
নতুন করে লিখব তবে।”

সে বলল, “সত্যি লিখবি ?
বেশ তা হলে
মস্ত করে লিখতে হবে।
মনে থাকবে ?
লিখেই কিন্তু আমায় দিবি।”
আমি বললাম, “তোমার জন্যে
লিখতে পারি এক পৃথিবী।”

লিখতে লিখতে লেখা যখন
সবে মাত্র দু-চার পাতা
হঠাৎ তখন ভূত চাপল
আমার মাথায়—

খুঁজতে খুঁজতে চলে গেলাম
ছোটবেলার মেঘের মাঠে
গিয়েই দেখি চেনা মুখ তো
একটিও নেই এ-তল্লাটে

একজনকো মনে হল
ওরই মধ্যে অন্যরকম
এগিয়ে গিয়ে বলি তাকেই!
“তুমিই কি সেই ? মেঘবালিকা
তুমি কি সেই ?”

সে বলেছে, “মনে তো নেই
আমার ও সব মনে তো নেই।”
আমি বললাম, “তুমি আমায়
লেখার কথা বলেছিলে—”
সে বলল, “সঙ্গে আছে ?
ভাসিয়ে দাও গাঁয়ের ঝিলে!
আর হ্যাঁ, শোনো—এখন আমি
মেঘ নেই আর, সবাই এখন
বৃষ্টি বলে ডাকে আমায়।”
বলেই হঠাৎ এক পশলায়—
চুল থেকে নখ—আমায় পুরো
ভিজিয়ে দিয়ে—
অন্য অন্য
বৃষ্টি বাদল সঙ্গে নিয়ে
মিলিয়ে গেল খরস্রোতায়
মিলিয়ে গেল দূরে কোথায়

দূরে দূরে . . .

“বৃষ্টি বলে ডাকে আমায়
বৃষ্টি বলে ডাকে আমায়—”
আপন মনে বলতে বলতে
আমি কেবল বসে রইলাম
ভিজে একশা কাপড়জামায়
গাছের তলায়
বসে রইলাম
বৃষ্টি নাকি মেঘের জন্য

এমন সময়
অন্য একটি বৃষ্টি আমায়
চিনতে পেরে বলল, “তাতে
মন খারাপের কী হয়েছে!
যাও ফিরে যাও—লেখো আবার।
এখন পুরো বর্ষা চলছে
তাই আমরা সবাই এখন
নানান দেশে ভীষণ ব্যস্ত।

তুমিও যাও, মন দাও গে
তোমার কাজে—
বর্ষা থেকে ফিরে আমরা
নিজেই যাব তোমার কাছে।”

এক পৃথিবী লিখব আমি
এক পৃথিবী লিখব বলে
ঘর ছেড়ে সেই বেরিয়ে গেলাম
ঘর ছেড়ে সেই ঘর বাঁধলাম
গহন বনে
সঙ্গী শুধু কাগজ কলম

একাই থাকব। একাই দুটো
ফুটিয়ে খাব—
দু-এক মুঠো
ধুলো বালি—যখন যারা
আসবে মনে
তাদের লিখব
লিখেই যাব!

এক পৃথিবীর একশোরকম
স্বপ্ন দেখার
সাধ্য থাকবে যে-রূপকথার—
সে-রূপকথা আমার একার।

ঘাড় গুঁজে দিন
লিখতে লিখতে
ঘাড় গুঁজে রাত
লিখতে লিখতে
মুছেছে দিন—মুছেছে রাত
যখন আমার লেখবার হাত
অসাড় হল,
মনে পড়ল
সাল কি তারিখ, বছর কি মাস
সেসব হিসেব
আর ধরিনি
লেখার দিকে তাকিয়ে দেখি
এক পৃথিবী লিখব বলে
একটা খাতাও
শেষ করিনি।

সঙ্গে সঙ্গে ঝমঝমিয়ে
বৃষ্টি এল খাতার উপর
আজীবনের লেখার উপর
বৃষ্টি এল এই অরণ্যে
বাইরে তখন গাছের নীচে
নাচছে ময়ূর আনন্দিত
এ-গাছ ও-গাছ উড়ছে পাখি
বলছে পাখি, “এই অরণ্যে
কবির জন্য আমরা থাকি।”
বলছে ওরা, “ কবির জন্যে
আমরা কোথাও আমরা কোথাও
আমরা কোথাও হার মানিনি—”

কবি তখন কুটির থেকে
তাকিয়ে আছে অনেক দূরে
বনের পরে মাঠের পরে
নদীর পরে
সেই যেখানে সারাজীবন
বৃষ্টি পড়ে, বৃষ্টি পড়ে
সেই যেখানে কেউ যায় যায়নি
কেউ যায় না কোনোদিনই—
আজ সে কবি দেখতে পাচ্ছে
সেই দেশে সেই ঝরনাতলায়
এদিক-ওদিক ছুটে বেড়ায়
সোনায় মোড়া মেঘহরিণী—
কিশোরবেলার সেই হরিণী!

- জয় গোস্বামী
#কবিতা Adda #

 #"শাড়ি" #বিয়েতে একান্নটা শাড়ি পেয়েছিল মেয়েটাঅষ্টমঙ্গলায় ফিরে এসে আরো ছটাএতো শাড়ি একসঙ্গে সে জীবনে দেখেনি।আলমারির প্রথম ...
30/04/2020

#"শাড়ি" #

বিয়েতে একান্নটা শাড়ি পেয়েছিল মেয়েটা
অষ্টমঙ্গলায় ফিরে এসে আরো ছটা
এতো শাড়ি একসঙ্গে সে জীবনে দেখেনি।

আলমারির প্রথম থাকে সে রাখলো সব নীল শাড়িদের
হালকা নীল একটাকে জড়িয়ে ধরে বলল, তুই আমার আকাশ
দ্বিতীয় থাকে রাখল সব গোলাপীদের
একটা গোলাপীকে জড়িয়ে সে বলল, ‘ তোর নাম অভিমান’
তৃতীয় থাকে তিনটি ময়ূর, যেন তিন দিক থেকে ছুটে আসা সুখ
তেজপাতা রং যে শাড়িটার, তার নাম দিল বিষাদ ।
সারা বছর সে শুধু শাড়ি উপহার পেল
এত শাড়ি সে কি করে এক জীবনে পড়বে ?

কিন্তু বছর যেতে না যেতেই ঘটে গেল সেই ঘটনাটা
সন্ধের মুখে মেয়েটি বেরিয়েছিল স্বামীর সঙ্গে, চাইনিজ খেতে ।
কাপড়ে মুখ বাঁধা তিনটি ছেলে এসে দাঁড়ালো
স্বামীর তলপেটে ঢুকে গেল বারো ইঞ্চি
ওপর থেকে নীচে। নীচে নেমে ডান দিকে ।
যাকে বলে এল ।
পড়ে রইলো খাবার, চিলি ফিস থেকে তখনও ধোঁয়া উড়ছে ।
এর নাম রাজনীতি, বলেছিল পাড়ার লোকেরা ।

বিয়েতে একান্নটা শাড়ি পেয়েছিল মেয়েটা
অষ্টমঙ্গলায় ফিরে এসে আরো ছটা।
একদিন দুপুরে শাশুড়ি ঘুমিয়ে, সমস্ত শাড়ি বের করে
ছতলার বারান্দা থেকে উড়িয়ে দিল নীচের পৃথিবীতে ।
শাশুড়ি পড়িয়ে দিয়েছেন তাকে সাদা থান
উনিশ বছরের একটা মেয়ে সে একা ।

কিন্তু সেই থানও এক ঝটকায় খুলে নিল তিনজন, পাড়ার মোড়ে
একটি সদ্য নগ্ন বিধবা মেয়ে দৌড়াচ্ছে আর চিৎকার করছে, ‘বাঁচাও’
পেছনে তিনজন, সে কি উল্লাস, নির্বাক পাড়ার লোকেরা ।

বিয়েতে একান্নটা শাড়ি পেয়েছিল মেয়েটা
অষ্টমঙ্গলায় ফিরে এসে আরো ছটা….

- সুবোধ সরকার
#কবিতা Adda #

 #"হঠাৎ দেখা" # রেলগাড়ির কামরায় হঠাৎ দেখা,ভাবিনি সম্ভব হবে কোনোদিন।আগে ওকে বারবার দেখেছিলালরঙের শাড়িতেডালিম ফুলের মতো রা...
30/04/2020

#"হঠাৎ দেখা" #

রেলগাড়ির কামরায় হঠাৎ দেখা,
ভাবিনি সম্ভব হবে কোনোদিন।
আগে ওকে বারবার দেখেছি
লালরঙের শাড়িতে
ডালিম ফুলের মতো রাঙা।

আজ পরেছে কালো রেশমের কাপড়,
আঁচল তুলেছে মাথায়
দোলনচাঁপার মতো চিকন-গৌর মুখখানি ঘিরে।

মনে হল, কালো রঙে একটা গভীর দূরত্ব
ঘনিয়ে নিয়েছে নিজের চার দিকে,
যে দূরত্ব সর্ষে-খেতের শেষ সীমানায়
শালবনের নীলাঞ্জনে।

থমকে গেল আমার সমস্ত মনটা,
চেনা লোককে দেখলেম অচেনার গাম্ভীর্যে।
হঠাৎ খবরের কাগজ ফেলে দিয়ে
আমাকে করলে নমস্কার।
সমাজবিধির পথ গেল খুলে,
আলাপ করলেম শুরু -
কেমন আছ, কেমন চলছে সংসার ইত্যাদি।
সে রইল জানলার বাইরের দিকে চেয়ে
যেন কাছের দিনের ছোঁয়াচ-পার হওয়া চাহনিতে।
দিলে অত্যন্ত ছোটো দুটো-একটা জবাব,
কোনোটা বা দিলেই না।
বুঝিয়ে দিলে হাতের অস্থিরতায় -
কেন এ-সব কথা,
এর চেয়ে অনেক ভালো চুপ করে থাকা।
আমি ছিলেম অন্য বেঞ্চিতে ওর সাথিদের সঙ্গে।
এক সময়ে আঙুল নেড়ে জানালে কাছে আসতে।
মনে হল কম সাহস নয়,
বসলুম ওর এক-বেঞ্চিতে।
গাড়ির আওয়াজের আড়ালে বললে মৃদুস্বরে,
কিছু মনে কোরো না,
সময় কোথা সময় নষ্ট করবার।
আমাকে নামতে হবে পরের স্টেশনেই,
দূরে যাবে তুমি,
দেখা হবে না আর কোনোদিনই।

তাই যে প্রশ্নটার জবাব এতকাল থেমে আছে,
শুনব তোমার মুখে।
সত্য করে বলবে তো ?
আমি বললেম, বলব
বাইরের আকাশের দিকে তাকিয়েই শুধোল,
আমাদের গেছে যে দিন
একেবারেই কি গেছে ?
কিছুই কি নেই বাকি ?
একটুকু রইলেম চুপ করে,
তারপর বললেম,
“রাতের সব তারাই আছে
দিনের আলোর গভীরে”
খটকা লাগল,
কী জানি বানিয়ে বললেম না কি।
ও বললে থাক্‌, এখন যাও ও দিকে।
সবাই নেমে গেল পরের স্টেশনে,
আমি চললেম একা।

-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
#কবিতা Adda #

 #"প্রাক্তন" #ঠিক সময়ে অফিস যায়? ঠিক মত খায় সকালবেলা?টিফিনবাক্স সঙ্গে নেয় কি? না ক্যান্টিনে টিফিন করে?জামাকাপড় কে কেঁচে ...
30/04/2020

#"প্রাক্তন" #

ঠিক সময়ে অফিস যায়? ঠিক মত খায় সকালবেলা?
টিফিনবাক্স সঙ্গে নেয় কি? না ক্যান্টিনে টিফিন করে?
জামাকাপড় কে কেঁচে দেয়? চা করে কে আগের মত?
দুগগার মা ক’টায় আসে? আমায় ভোরে উঠতে হ’ত।
সেই শার্ট টা পরে এখন? ক্যাটকেটে সেই নীল রঙ টা?
নিজের তো সব ওই পছন্দ। আমি অলিভ দিয়েছিলাম।
কোন রাস্তায় বাড়ি ফেরে? দোকানঘরের বাঁ পাশ দিয়ে?
শিবমন্দির, জানলা থেকে দেখতে পেতাম রিক্সা থামলো।
অফিস থেকে বাড়িই আসে? না কি সোজা আড্ডাতে যায়?
তাসের বন্ধু, ছাইপাঁশেরও - বন্ধুরা সব আসে এখন?
টেবিলঢাকা মেঝের উপর, সমস্ত ঘর ছাই ছড়ানো।
গেলাস গড়ায়, বোতল গড়ায় - টলতে টলতে শুতে যাচ্ছে।
কিন্তু বোতল ভেঙ্গে আবার, পায়ে ঢুকলে রক্তারক্তি।
তখন তো আর হুঁশ থাকেনা, রাতবিরেতে কে আর দেখবে !
কেন, ওই যে সেই মেয়েটা ! যার সঙ্গে ঘুরতো তখন!
কোন মেয়েটা? সেই মেয়েটা? সে তো কবেই সরে এসেছে ।
বেশ হয়েছে, উচিৎ শাস্তি। অতো কান্ড সামলাবে কে!
মেয়েটা যে গণ্ডগোলের প্রথম থেকেই বুঝেছিলাম।
কে তাহলে সঙ্গে আছে? দাদা বউদি? মা ভাইবোন!
তিনকুলে তো কেউ ছিলোনা, এক্কেবারে একলা এখন।
কে তাহলে ভাত বেড়ে দেয়?কে ডেকে দেয় সকাল সকাল?
রাত্তিরে কে দরজা খোলে? ঝক্কি পোহায় হাজার রকম?
কার বিছানায় ঘুমায় তবে? কার গায়ে হাত তোলে এখন?
কার গায়ে হাত তোলে এখন?

- জয় গোস্বামী
#কবিতা Adda #

20/04/2020

স্মৃতির বালুচরে মুখেরা ভিড় করে
কেন যে ভিড় করে?আমি তো ক্লান্ত।...
এখানে নদীপারে গোধূলি গান ধরে
আকাশ নীলে নীল; হৃদয় শান্ত;
ঘুমাবো আমি তাই ঘুমপাড়ানি গানে
ভরেছে চরাচর মিলেছে প্রাণে প্রাণ
তবুও ভিড় করে; মুখেরা ভিড় করে,
অতীতে এত জ্বালা; কে আগে জানতো!

দোসর কেউ নেই, চাইনে মিতালিও
তবুও পিছু ডাকে বিদুর, পার্থ
কী হবে প্রেম দিয়ে, দেহছর জ্বর সেও;
রাধার মুখ তবু কেমন আর্ত!
ঘুমুতে চাই আমি মাটিতে বুক মেখে,
মরণ চাই আমি আকাশে মুখ রেখে;
তবুও হাঁটে তারা-ক্ষুব্দ্ধ বলরাম,
অন্ধ কুরুরাজ, কুরুক্ষেত্র।

তোমরা ফিরে যাও। কোথায় দ্বারকায়
নারীর দেহমদে পশুরা লুব্দ্ধ;
কোথায় শিশুকেও জ‍্যান্ত ছিঁড়ে খায়
আহত নেকড়েরা; এমনকি যুদ্ধ!
কী হবে ঘুম থেকে সে-দেশে হেঁটে গেলে?
সুদর্শন আমি দিয়েছি ছুঁড়ে ফেলে।
এখানে এই ঘাসে হৃদয় ঢেকে নিয়ে
ঘুচাবে দ্বন্দ্বের জয়ের ক্লান্তি-
ব'লো না কথা পাখি, আস্তে ঝরো ফুল;
ঘুমের রাত আসে। শান্তি, শান্তি!

Address

India, Purba Medinipur
Tamluk
721649

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when কবিতা Adda posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category