05/05/2026
পশ্চিমবঙ্গে ২৭ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। এরা কোনো 'মৃত ব্যক্তি' বা 'বাংলাদেশী' ছিলেন না। এরা ছিলেন সত্যিকারের মানুষ, যাঁরা তাঁদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আগেই আবেদন করেছিলেন। এই ভোটারদের আবেদনের শুনানি ট্রাইব্যুনাল শেষ না হওয়া পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন স্থগিত রাখতে পারত। কিন্তু তারা তা করেনি। এই নির্বাচনের দ্বিতীয় পর্ব পর্যন্ত সময়মতো মাত্র প্রায় ১৬০৭ জন ভোটারের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। শুনানি হওয়া প্রায় প্রতিটি আবেদনই অন্যায়ভাবে নাম বাদ দেওয়ার ঘটনা বলে প্রমাণিত হয়েছে। যেকোনো কার্যকর গণতন্ত্রে, যেখানে বিপুল সংখ্যক ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার হারিয়েছেন, সেটিকে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন বলে গণ্য করা যায় না। আমি বলছি না যে তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ফিরিয়ে দেওয়া হলে তারা নিশ্চিতভাবে জিতে যেত, হয়তো বিজেপিও জিততে পারত, কিন্তু প্রশ্নটা এই নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন একটি বিস্তৃত পরিসর। দিল্লি-মহারাষ্ট্র-বিহার-বাংলার পর থেকে এই পরিসরের কাঁটাটি ক্রমশই অন্যায্যতার দিকে ঝুঁকেছে। প্রতিবারই বিরোধী দলগুলো কোনো না কোনোভাবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যথারীতি অংশগ্রহণ করে, এই ভেবে যে নির্বাচন কমিশন, ইডি, সিবিআই ইত্যাদির আপোস সত্ত্বেও তারা জয় ছিনিয়ে আনতে পারবে। এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর প্রতিবারই তাদের ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। প্রশ্ন হলো, কোন পর্যায়ে গিয়ে তারা অনুভব করবে যে এই অন্যায়ের মাত্রা এতটাই চরমে পৌঁছেছে যে নির্বাচন বর্জন করা উচিত? আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, ঐ ২৭ লক্ষ আপিলের শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত TMC-র এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানানো উচিত ছিল।
এখন আমার দিদির নাম ভোটার লিস্ট থেকে ডিলিট হয়ে আছে !!