12/01/2026
'আমার বিদায় বাণী - আদর্শ ও একতা। ফাঁসির রজ্জু আমার মাথার ওপর ঝুলছে। মৃত্যু আমার দরজায় করাঘাত করছে। মন আমার অসীমের পানে ধেয়ে চলেছে। এই তো আমার সাধনার সময়। এই তো আমার মৃত্যুকে বন্ধুর মতো আলিঙ্গন করার সময়, হারানো দিনগুলোকে নতুন করে স্মরণ করার সময়।
আমার ভাই-বোনেরা, তোমাদের সবার উদ্দেশ্যে বলছি- আমার এই বৈচিত্র্যহীন জীবনের একঘেয়েমিকে তোমরা ভেঙে দাও, আমাকে উৎসাহ দাও। এই আনন্দময়, পবিত্র ও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আমি তোমাদের জন্যে কি রেখে গেলাম? শুধু একটিমাত্র জিনিস, তা হল আমার স্বপ্ন। একটি সোনালী স্বপ্ন। স্বাধীন ভারতের স্বপ্ন। এক শুভ মুহূর্তে আমি প্রথম এই স্বপ্ন দেখেছিলাম। উৎসাহ ভরে সারা জীবন তার পেছনে উন্মত্তের মতো ছুটেছিলাম। জানি না, এই স্বপ্নকে আমি কতটুকু সফল করতে পেরেছি।
আমার মৃত্যুর শীতল স্পর্শ যদি তোমাদের মনকে এতটুকু স্পর্শ করে, তবে আমার এই সাধনাকে তোমরা তোমাদের অনুগামীদের মধ্যে ছড়িয়ে দিও যেমন আমি তোমাদের দিয়েছিলাম। বন্ধুগণ, এগিয়ে চলো। কখনো পিছিয়ে যেও না। দাসত্বের দিন চলে যাচ্ছে। স্বাধীনতার লগ্ন আসন্ন। ওঠো, জাগো। জয় আমাদের সুনিশ্চিত।
১৯৩০ সালের ১৮ই এপ্রিলের চট্টগ্রাম-বিদ্রোহের কথা কোনদিনও ভুলোনা। জালালাবাদ, জুলধা, চন্দননগর ও ধলঘাট-এর সংগ্রামের কথা সব সময়েই মনে রেখো। যে সব বীর সৈনিক স্বাধীনতা-সংগ্রামে জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাঁদের নাম মনের গভীরে রক্তাক্ষরে লিখে রেখো।
আমার একান্ত অনুরোধ, এই সংগঠনে যেন বিভেদ না আসে। জেলের বাইরে এবং ভেতরে সবার জন্য আমার আশীর্বাদ ও ভালোবাসা রইল। বিদায়!' — বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক! বন্দে মাতরম্।'
[চট্টগ্রাম জেল, ১১ জানুয়ারী, ১৯৩৪, সন্ধ্যা ৭টা]
[মৃত্যুর কয়েক ঘন্টা পূর্বে দেশের তরুণ ছাত্র-যুবকের উদ্দেশ্যে লেখা সূর্য সেনের একটি চিঠি]
ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলনের আপোষহীন ধারার মহান বিপ্লবী মাস্টারদা সূর্য সেন স্মরণে।
ছবি: কাশিবাটী, রায়গঞ্জ