28/06/2026
📜 ঐতিহাসিক পদক্ষেপ! আগামী সোমবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় উঠছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল 🚩
আগামী ২৯ জুন, সোমবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচিত হতে চলেছে। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ইস্তেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করে, মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-র নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার তাদের প্রথম ১০০ দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবেই বিধানসভায় পেশ করতে চলেছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউনিফর্ম সিভিল কোড – UCC) বিল। এটি কেবল একটি আইনি সংস্কার নয়, বরং সমাজের প্রতিটি নাগরিকের জন্য সাম্য, ন্যায় ও আধুনিকতার নতুন দিগন্ত উন্মোচনের প্রতীক।
👉🏽কেন প্রয়োজন এই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি?
বহু বছর ধরে ভারতের দেওয়ানি আইন ধর্মভিত্তিক পৃথক পারিবারিক আইনের ওপর নির্ভরশীল। এর ফলে বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার, দত্তক গ্রহণ ও সম্পত্তির অধিকারের মতো বিষয়গুলিতে নাগরিকরা ভিন্ন ভিন্ন আইনের আওতায় থাকেন। বিশেষ করে নারী ও সমাজের দুর্বল অংশগুলি ধর্মীয় আইনের কঠোরতায় প্রায়শই ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হন। UCC-র মাধ্যমে সবার জন্য একটি অভিন্ন, যুগোপযোগী ও ধর্মনিরপেক্ষ আইনি কাঠামো তৈরি হবে, যা দেশের সংবিধানের ৪৪ নম্বর ধারার নির্দেশিক নীতিরও বাস্তবায়ন ঘটাবে।
👉🏽কেন এই বিল স্বাগতযোগ্য:
1️⃣ নারী ক্ষমতায়ন ও সমান অধিকার: UCC বলবৎ হলে বহুবিবাহ ও হালালা-র মতো কুপ্রথা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হবে। বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, ভরণপোষণ ও উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে নারীরা পুরুষের সমান অধিকার পাবেন। প্রতিটি নারী তাঁর জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়া ও প্রয়োজনে সম্মানজনক ভাবে সম্পর্ক বিচ্ছেদের আইনি সুরক্ষা পাবেন।
2️⃣ সামাজিক ন্যায় ও সাম্যের প্রতিষ্ঠা: কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের ব্যক্তিগত আইন নয়, বরং একটাই আইন সবার জন্য প্রযোজ্য হবে। এর মাধ্যমে “সব ধর্মের প্রতি সমান শ্রদ্ধা” এবং “আইনের চোখে সবাই সমান” – এই মৌলিক চেতনা সুপ্রতিষ্ঠিত হবে। ধর্মীয় পরিচয় নয়, নাগরিক পরিচয়ই মুখ্য হয়ে উঠবে।
3️⃣ জাতীয় সংহতি জোরদার: ভিন্ন ভিন্ন সম্প্রদায়ের জন্য ভিন্ন আইন থাকলে তা পরোক্ষে বিভাজনের বীজ বপন করে। অভিন্ন আইন আনার ফলে “এক দেশ, এক আইন”-এর বাস্তব প্রতিফলন ঘটবে এবং জাতীয় সংহতি ও অখণ্ডতার বোধ আরও সুদৃঢ় হবে। এটি একবিংশ শতাব্দীর উন্নত ভারত নির্মাণের পথে জরুরি পদক্ষেপ।
4️⃣ আইনি জটিলতা হ্রাস: বর্তমানে পারিবারিক মামলাগুলিতে ধর্মীয় আইনের ভিন্ন ব্যাখ্যার কারণে বিচারপ্রক্রিয়া অত্যন্ত দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল হয়। UCC কার্যকর হলে একটি স্বচ্ছ, সহজ ও সর্বজনীন আইনি কাঠামো তৈরি হবে, যা আদালতের বোঝা কমাবে এবং সাধারণ মানুষের দ্রুত বিচারপ্রাপ্তি নিশ্চিত করবে।
5️⃣ প্রগতিশীল ভাবমূর্তি: পশ্চিমবঙ্গ এই সাহসী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে গোটা দেশের কাছে এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। ক্ষুদ্র রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সমাজসংস্কারের পথ দেখানোই প্রকৃত উন্নয়ন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বারবার বলেছেন, “আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছি।” প্রথম ১০০ দিনেই এই সাহসী সংস্কার তা প্রমাণ করে।
একটি আধুনিক, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে এই বিল কেবল আইনের বইয়ে নতুন অধ্যায় যোগ করবে না, এটি প্রতিটি মা-বোন, প্রতিটি যুবসমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সম্মান ও সুযোগের দরজা খুলে দেবে। ধর্ম যার যার, কিন্তু আইন হবে সবার জন্য এক – এই বার্তাই আমরা আগামী সোমবার বিধানসভায় দেখতে চলেছি।
জয় হিন্দ! বন্দে মাতরম! 🇮🇳
Suvendu Adhikari Nisith Pramanik Dr Shankar Ghosh Narendra Modi Agnimitra Paul BJP West Bengal Bharatiya Janata Party (BJP) Dadhiram Roy Anandamay Barman