16/01/2026
ভারতের সংবিধানের প্রস্তাবনা,মৌলিক অধিকার, রাস্ট্রের নির্দেশাত্মক নীতিসমূহ ও সংরক্ষন সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপুর্ন অনুচ্ছেদ
--এন.জি.বারুই (ননী গোপাল বাড়ই)
সংবিধানের প্রস্তাবনা
*******************
আমরা ভারতের জনগন ভারতকে একটি সার্বভৌম, সমাজতান্ত্রিক,ধর্মনিরপেক্ষ গনতান্ত্রিক সাধারনতন্ত্র রুপে গড়ে তুলতে এবং তার সকল নাগরিকদের জন্য নিশ্চয়াতা প্রদানে
ন্যায়বিচার-সামাজিক,অর্থনৈতিক
******** ও রাজনৈতিক
স্বাধীনতা -- চিন্তার, মতপ্রকাশ,
******** বিশ্বাস,ধর্ম ও
উপাসনার
সমতা-- মর্যাদা ও সুযোগ প্রাপ্তি
*****
ভ্রাতৃত্ব-- ব্যক্তি মর্যাদা আশ্বাসক
****** (জাতীয় ঐক্য ও সংহতি)
সে জন্য সত্যনিষ্ঠার সংগে সংকল্প করে আমাদের সংবিধান সভায় আজ ২৬ নভেম্বর ১৯৪৯ তারিখে, এই সংগে এই সংবিধান গ্রহন করছি, বিধিবদ্ধ করছি ও আমাদেরকে অর্পন করছি।
মৌলিক অধিকারঃ ( ১২--৩৫)
****************
১৩. সংবিধান ঘোষিত হওয়ার অব্যবহিত পুর্বে ভারতীয় ভুখন্ডে প্রচলিত থাকা সমস্ত রকমের আইনাদি সেরুপমতে যতদূর সেগুলি এই খন্ডের বিধান সমুহের সংগে অসংগতিপূর্ন সেগুলির অসংগতির ততদূর পর্যন্ত বাতিল হবে।
১৪. রাস্ট্র কোন ব্যক্তিকে আইনের সমীপে সাম্যতা অস্বীকার করবে না ও আইন সমুহের দ্বারা সমভাবে সুরক্ষা প্রদান করবে।
১৫. ধর্ম, বর্ন,জাতি,লিংগ,বাসস্থান এগুলির কোন একটি কারনে জনগনের মধ্যে বিভেদ সৃস্টি করতে রাস্ট্র বাধাদান করবে।
১৬. পিছিয়ে পড়া নাগরিক বৃন্দেরপক্ষে পদসমূহে নিয়োগের জন্য সংরক্ষন করতে, যেটি রাস্ট্রের মতে, রাস্ট্রের অধীনে যথাযথ প্রতিনিধিত্ব হয়নি এরুপ ক্ষেত্রে কোন কিছুই রাস্ট্রকে বাধা প্রদান করবে না।
১৭. অস্পৃশ্যতার অবসান ও এর যেকোন আচরন নিষিদ্ধকরন এবং আইনানুযায়ী দন্ডনীয় হবে।
*[অনুচ্ছেদ ১৭ নং এর উপর ভিত্তি করে তফসিলি অত্যাচার নিরোধক ও ক্ষতিপূরন আইন রচিত হয়েছে]*
১৮. সারস্বত ও সামরিক বৈশিস্ট ব্যত্তীত রাস্ট্র কতৃক পদবী অর্পিত হবে না।
১৯. স্বাধীনতার অধিকার -- (বাক স্বাধীনতা,বিনা অস্ত্রে ও শান্তিপূর্নভাবে সমবেত হওয়ার অধিকার, সংগঠন গড়ার অধিকার, রাস্ট্রের সর্বত্র স্বাধীনভাবে চলাফেরা করার অধিকার, ভারতের যেকোন জায়গায় বসবাস এবং স্থায়ীভাবে বসবাস করার অধিকার, যেকোন বৃত্তি, উপজীবিকা, ব্যবসা,বা কারবার চালানর অধিকার।)
২০. অপরাধ সমূহের জন্য দন্ড সম্পর্কিত সুরক্ষা।
কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে একই অপরাধের জন্য আদালতে একবারের বেশী নালিশ ও শাস্তি প্রদান করা যাবে না
২১. জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার সুরক্ষা।
২১ক. ৬ বছর থেকে ১৪ বছর পর্যন্ত শিশুদের জন্য রাস্ট্র বিনা খরচে আবশ্যিক শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করবে।
২২. গ্রেপ্তার হওয়া থেকে এবং কিছু ক্ষেত্র সমুহে আটক থাকা থেকে সুরক্ষা।
২৩. মনুষ্য ক্রয় বিক্রয় এবং বল পূর্বক( বেগার শ্রম) শ্রম করিয়ে নেওয়ার প্রতিষেধক।
২৪. ১৪ বছরের নীচে কোন শিশুকে কোন শিল্প,খনি অথবা বিপজ্জনক কাজে নিয়োগ করা যাবে না।
২৫. সকল মানুষের সমানভাবে বিবেকের স্বাধীনতা এবং স্বাধীনভাবে ধর্ম স্বীকার, আচরন,ও প্রচার করার অধিকার থাকবে।
২৬ ধর্মীয় বিষয় সমুহ ব্যবস্থাপনা করার স্বাধীনতা
(ধর্মীয় এবং দান বিষয়ক উদ্যেশ্য সমূহের জন্য প্রতিষ্ঠা করতে পারা ও পরিচালনা করতে পারা, ধর্মীয় বিষয়সমূহ ও নিজস্ব কার্যাদি পরিচালনা করতে পারা, স্থাবর, অস্থাবর সম্পত্তি অর্জন করতে পারা ও স্বত্ববান হোতে পারা, সেই সম্পত্তি আইনানুসারে পরিচালনা করতে পারা)
২৭. কোন বিশেষ ধর্মের উন্নতির জন্য আদায়, দান ট্যাক্সসমূহ প্রদান সংক্রান্তে স্বধীনতা
২৮. কিছু কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় নির্দেশ অথবা ধর্মীয় পূজার উপস্থিতির স্বাধীনতা
( রাস্ট্র সরকারের অর্থ ভান্ডার হোতে ব্যয়ীত কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোন ধর্মীয় নির্দেশ প্রদান করা যাবে না বা উক্ত প্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় উপাসনায় কাউকে উপস্থিত থাকতে বাধ্য করা যাবে না)
২৯. সংখ্যালঘুদের সাংস্কৃতিক ও শিক্ষা বিষয়ক স্বার্থাদির সুরক্ষা।
( ভারতে বসবাসকারী কোন অংশের যাদের নিজস্ব সুস্পস্ট ভাষা, লিপি বা সংস্কৃতি আছে, তাদের অধিকার থাকবে সেগুলি সংরক্ষন করার।, রাস্ট্রপরিচালিত বা তদ্বারা সাহায্যপ্রাপ্ত কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শুধুমাত্র ধর্ম বর্ন জাতি ভাষা বা এগুলির কোন একটির কারনে কোন ব্যক্তির ভর্তী হওয়াতে অস্বীকার করা যাবে না)
৩০.শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ স্থাপনে ও পরিচালনায় সংখ্যালঘুদের অধিকার।
৩২. সাংবিধান প্রদত্ত অধিকারসমূহের প্রয়োগের জন্য সুপ্রীম কোর্টে আবেদন করার অধিকার ।
৩৩.সংবিধান প্রদত্ত অধিকারে প্রয়োগের রদবদলে লোকসভার ক্ষমতা।
৩৪. কোন এলাকায় সামরিক আইন বলবৎ থাকাকালীন মৌলিক অধিকার সমূহের সংকোচন।
৩৫. সংসদ মৌলিক অধিকারের কার্যকর করতে বিধি প্রনয়ন করবে।
রাস্ট্র পরিচালনার নির্দেশাত্মক নীতিসমূহ
*******
৩৭.এই খন্ডে বর্নিত নীতিসমূহ কোন আদালত কতৃক প্রয়োগযোগ্য হবে না।
৩৮. জনকল্যানের উন্নয়নের জন্য রাস্ট্র একটি সমাজ ব্যবস্থা অর্জন করবেন।
৩৯.রাস্ট্র কতৃক অনুসরনকৃত কিছু কর্মপন্থার নীতিসমূহ [ ক).রাস্ট্র নির্দিস্টমতে, স্বীয় কর্মপদ্ধতিতে
চালিত করবে যাতে নাগরিকগন পুরুষ এবং মহিলাগন সমভাবে বেচে থাকার বা পর্যাপ্ত জীবিকা অর্জনের অধিকার প্রাপ্ত হন, খ). জনগনের বস্তু কেন্দ্রিক সম্পদের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রন এমনভাবে বন্টিত হয় যাতে সর্বোত্তমভাবে সাধারনের হিত সাধিত হয়।,
গ) অর্থনৈতিক ব্যবস্থার প্রয়োগপদ্ধতি এরুপ যেন না হয় যাতে করে জনসাধারনের ধন ও উৎপাদনের উপায়সমূহ কেন্দ্রীভূত হোয়ে পড়ে।
ঘ)সমান কাজের জন্য পুরুষ ও নারী উভয়েই সমান বেতন পায়, ঙ) পুরুষ ও নারী শ্রমিকগনের স্বাস্থ্য ও শক্তির এবং শিশুদের সুকুমার বয়সের অপপ্রয়োগ
করা যেন না হয় এবং আর্থিক প্রয়োজনে নাগরিকগন তাদের বয়স বা শক্তির অনুপযোগী কোন পেশায় প্রবৃত্য হোতে যেন বাধ্য না হন।
চ) স্বাস্থ্যকর পদ্ধতি এবং আত্মসম্মান এবং স্বাধীনতার শর্তাদিতে শিশুদের উন্নয়নের জন্য তাদের সুযোগ সমূহ ও সুবিধাসহ প্রদান এবং সেই শৈশব এবং যুবাবস্থা নিজ স্বার্থে নিয়োগ এবং নৈতিক এবং বস্তুগতভাবে পরিত্যাগের বিরুদ্ধে সুরক্ষাকৃত।
৩৯ক. সমবিচার এবং বিনা খরচে আইনী সহায়তা
৪০ গ্রামীন পঞ্চায়েত সমূহের গঠন।
৪১. কর্ম প্রাপ্তির ও শিক্ষা প্রাপ্তির এবং কিছু ক্ষেত্র সমূহে সরকারী সহায়তা প্রাপ্তির অধিকার
৪২. কাজের প্রকৃত এবং কল্যানকামী শর্তাদি এবং মাতৃকালীন সুযোগ সুবধা দানের ব্যবস্থা।
৪৩. শ্রমিকগনের জন্য জীবনধানের উপযোগী মজুরী
৪৪. নাগরিকগনের জন্য অভিন্ন আইন প্রনয়ন।
৪৫.শিশুগনের জন্য অবৈতনিক এবং আবশ্যিক শিক্ষার ব্যবস্থা
৪৬. তফসিলি জাতি ও উপজাতি এবং অন্যান্য দূর্বলতর শ্রেনীসমূহের শিক্ষা এবং অর্থনৈতিক স্বার্থাদির উন্নয়ন।
৪৭. রাস্ট্রের কর্তব্য খাদ্যপুস্টির স্তরের এবং জীবনধারনের মানের উন্নতিসাধন ও জনস্বাস্থ্যের উন্নতিকরন।
৪৮. আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক প্রনালীতে কৃষি ও পশুপালন সংগঠনের জন্য রাস্ট্র প্রায়াসী হবে এবং বিশেষত গাভী, গোবৎস ও অন্যান্য দুগ্ধবতী ও ভারবাহী গবাদি পশুসমুহের সংরক্ষন ও উন্নয়নে এবং সেরুপ পশুসমূহের হত্যা প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহন করবে।
৪৮ক. পরিবেশ রক্ষা এবং উন্নয়ন এবং বন ও বন্য প্রানী সংরক্ষন।
৪৯. জাতীয় গুরুত্বপূর্ন স্মারকসমূহ ও স্থানের সংরক্ষন
৫০. রাস্ট্রের কার্যনিবাহিকবর্গ হোতে বিচারপতি বর্গের পৃথকীকরন।
***********
অন্যান্য বিষয়সমূহ
****************
৩৩০. রাস্ট্র সংসদে এসসি এসটিদের প্রতিনিধিত্বের জন্য সংরক্ষনের ব্যবস্থা করবে ( ১০ বছর পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।)
৩৩২. বিধানসভায় তফসিলি জাতি ও উপজাতিদের জন্য সংরক্ষনের ব্যবস্থা করবে (১০ বছরের জন্য বলবৎ থাকবে)
৩৩৫. রাস্ট্রের কাজকর্ম সংক্রান্ত পরিসেবাসমূহ ও চাকুরীতে নিয়োগে প্রশাসনের কাজকর্ম রক্ষা করার কুশলতার সাথে সামঞ্জস্য রেখে তফসিলি জাতি সমূহ ও তফসিলি জাতিসমূহের সদস্যগনের দাবী বিবেচনা করতে হবে। অর্থাৎ প্রশাসনের উৎকর্শতার স্বার্থে নিয়োগ বা পদোন্নতির ক্ষেত্রে যে শিক্ষাগত যোগ্যতা চাওয়া হয় সেই মোতাবেক নিযুক্তিকরন করা হবে।
৩৩৮ তফসিলি জাতিসমূহের জন্য জাতীয় কমিশন গঠন
৩৩৮ক. তফসিলি উপজাতিসমূহের জন্য জাতীয় কমিশন গঠন।
৩৩৮খ. সামাজিক ও শিক্ষাগতভাবে অনগ্রসর শ্রেনীর জন্য একটি জাতী কমিশন গঠন (অনগ্রসর শ্রেনীর জন্য জাতীয় কমিশন।)
৩৪০.পিছিয়ে পড়া শ্রেনীসমূহের অবস্থা সমুহ তদন্তকরার জন্য একটি জাতীয় কমিশন নিয়োগ।
৩৪১. তফসিলি জাতির নির্দিস্টকরন
৩৪২. তফসিলি উপজাতি নির্দিস্টকরন।
৩৪২ক. শিক্ষা ও সামাজিক অনগ্রসর জাতীর(ওবিসি) নির্দিস্টকরন।
২৪৩ঘ. তফসিলি জাতি ও উপজাতির জন্য প্রত্যেক পঞ্চায়েত সংগঠনের আসনসমূহে সংরক্ষন থাকবে।
২৪৩ ন. প্রত্যেক পৌরসভায় তফসিলি জাতি ও উপজাতির জন্য আসনসমূহ সংরক্ষন থাকবে।
সংবিধান নিজে পড়ুন অন্যকে পড়ান।
নিজের অধিকার জানুন ও অধিকার
রক্ষা করুন।🌹