আজাদ গণ মোর্চা

  • Home
  • আজাদ গণ মোর্চা

আজাদ গণ মোর্চা Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from আজাদ গণ মোর্চা, Political organisation, .

গণ রাজনৈতিক সংগঠন। যার মূল উদ্দেশ্য হলো – মানুষের গণতান্ত্রিক ক্ষমতায়ন এবং জীবন-জীবিকা-শিক্ষা-স্বাস্থ্যসহ মানুষের মৌলিক অধিকারগুলোর বিকাশ ও সম্প্রসারণ ঘটানো, দলিত-আদিবাসী-সংখ্যালঘুদের জন্য সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা।

উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের আলিগঞ্জ এলাকায় সোমবার দুপুরে একটি তিনতলা বাণিজ্যিক ভবনে ভয়াবহ আগুন লেগে কমপক্ষে ১৫ জনের মৃত্যু ...
22/06/2026

উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের আলিগঞ্জ এলাকায় সোমবার দুপুরে একটি তিনতলা বাণিজ্যিক ভবনে ভয়াবহ আগুন লেগে কমপক্ষে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও সাতজন। উষা মেহতা মার্গের ওই ভবনে একটি অ্যানিমেশন ও কোচিং সেন্টার চলত, যেখানে মূলত ১৬ থেকে ১৭ বছর বয়সী ছাত্রছাত্রীরা পড়তে আসত।
বিকেল তিনটে নাগাদ আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে ধোঁয়ায় ভবন ভরে যায়। বেরোনোর পথ না পেয়ে সাত-আটজন ছাত্র উপর থেকে লাফ দিতে বাধ্য হয়। মৃতদের বেশিরভাগ ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে মারা গেছেন বলে জানা গেছে। ১৪টি দমকল গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ চালায়। আহতদের কিং জর্জ মেডিকেল ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি করা হয়েছে।
খবর বেরোতেই রাষ্ট্রযন্ত্র সচল হয়ে উঠেছে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আলিগড়ের কর্মসূচি ফেলে ছুটলেন লখনউ। প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করলেন প্রতি মৃতের পরিবার পাবেন দুই লক্ষ টাকা। উপমুখ্যমন্ত্রী ঘটনাস্থলে গিয়ে X-এ ছবি পোস্ট করলেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রওনা দিলেন। রাষ্ট্রপতি বললেন "অত্যন্ত হৃদয়বিদারক।" রাহুল গান্ধী সমবেদনা জানালেন।
এত মানুষ। এত ব্যথা। এত উদ্বেগ।
শুধু আগুন লাগার আগে কেউ একবার ভবনটায় উঁকি মারেননি।
ভারতে এই দৃশ্যটা আসলে খুব পরিচিত। এতটাই পরিচিত যে দেখতে দেখতে চোখ সয়ে গেছে। আগুন লাগবে, মানুষ মরবে, নেতারা আসবেন, তদন্ত কমিটি বসবে, কিছুদিন পর রিপোর্ট ফাইলে ঢুকবে, তারপর পরের আগুনের জন্য অপেক্ষা।
২০১৯ সালে সুরাটে একটা কোচিং সেন্টারে আগুন লেগেছিল। বাইশটি বাচ্চা মারা গিয়েছিল। টেরেসে ক্লাস হত, নিচে শর্ট সার্কিট হতেই কাঠের সিঁড়ি পুড়ে গেল — বেরোনোর আর পথ রইল না। তখনও একই কান্না, একই প্রতিশ্রুতি।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে দিল্লির রাজেন্দ্র নগরে রাউজ আইএএস কোচিং সেন্টারের বেসমেন্টে জল ঢুকে তিনজন আইএএস পরীক্ষার্থী ডুবে মারা গেলেন। বেসমেন্টে লাইব্রেরি চলত বেআইনিভাবে। তদন্তে বেরোল, MCD আগে থেকেই জানত। তবু কিছু করেনি। সেই ঘটনার পরেই দিল্লির একটি বিখ্যাত কোচিং প্রতিষ্ঠানের মালিক অকপটে বলে দিলেন যে দিল্লিতে একটিও কোচিং সেন্টারের ফায়ার NOC নেই — শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে একটিও না। কেউ চমকাল না। কারণ সবাই জানে।
রাজকোটে গেমিং জোনে আগুনের পর গুজরাট সরকার রাজ্যের প্রায় দশ হাজার ভবনে ফায়ার অডিট করেছিল। দেখা গেল প্রায় কেউই নিয়মের ধার ধারে না। মানে তালিকা ছিল, জানাও ছিল — শুধু করার ইচ্ছেটুকু ছিল না।
আসলে কোচিং সেন্টারগুলো বেআইনি তলায় চলে কারণ ভাড়া কম পড়ে। ভাড়া কম হলে, মুনাফা বাড়ে। আর সেই বেআইনি চলাটা চলতে দেওয়া হয় — কেন, সেটা আর বলতে হবে না, সবাই বোঝেন।
আইনে আছে, নিয়ম ভাঙলে জরিমানা সর্বোচ্চ পঞ্চাশ হাজার টাকা। আর অবহেলায় কেউ মারা গেলে সর্বোচ্চ ছ'মাসের জেল। এই ভয়ে কেউ ঘুম হারায় না। ঘুম হারানোর কথাও নয়।
লখনউয়ের ঘটনার পরে উত্তরপ্রদেশ সরকার বলেছে একই ধরনের ভবনগুলো খতিয়ে দেখা হবে। এই কথাটা সুরাটের পরেও বলা হয়েছিল। দিল্লির পরেও। রাজকোটের পরেও। প্রতিবারই বলা হয়, প্রতিবারই ভুলে যাওয়া হয়।
আজ পনেরোটি পরিবার কাঁদছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন দোষীরা ছাড় পাবে না। প্রধানমন্ত্রী দুই লক্ষ টাকা দেবেন। রাষ্ট্রপতির বুক ভেঙে গেছে।
পরের আগুনে ঠিক এই কথাগুলোই আবার বলা হবে, হয়তো একটু অদলবদল করে।
ভবন পরিদর্শনের কথাটা কেউ বলবেন না — কারণ সেটা বললে পরের আগুনটা লাগত না, আর তাহলে শোক প্রকাশ করার সুযোগও আর থাকত না।


১৮৭১ সালের প্যারি কমিউন কী ছিল? কেন মাত্র ৭২ দিনের জন্য টিকে থাকা এই সরকারকে বিশ্বের প্রথম শ্রমিক-পরিচালিত রাষ্ট্র বলা হ...
22/06/2026

১৮৭১ সালের প্যারি কমিউন কী ছিল? কেন মাত্র ৭২ দিনের জন্য টিকে থাকা এই সরকারকে বিশ্বের প্রথম শ্রমিক-পরিচালিত রাষ্ট্র বলা হয়? কীভাবে সাধারণ শ্রমিক, কারিগর এবং খেটে-খাওয়া মানুষ রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে নিজেদের শাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছিলেন?

>

এই পর্বে আমরা জানব—
🔹 প্যারি কমিউনের জন্ম কীভাবে হয়েছিল?
🔹 কমিউন ক্ষমতায় এসে কী কী বৈপ্লবিক পদক্ষেপ নিয়েছিল?
🔹 কেন প্যারি কমিউনের পতন হলো?
🔹 এই অভিজ্ঞতা থেকে কার্ল মার্ক্স কী শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন?



#প্যারি_কমিউন #মার্ক্সবাদ #শ্রমিক_আন্দোলন #কার্ল_মার্ক্স #ফ্রেডরিক_এঙ্গেলস #শ্রমিক_শ্রেণি

গতকাল রবিবার ছুটির দিন, তাই মেয়েগুলো ফ্যাক্টরির ভেতরের ঘরেই ছিল। আসাম, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড থেকে আসা প্রায় ১২০ জন পরিযায়ী...
22/06/2026

গতকাল রবিবার ছুটির দিন, তাই মেয়েগুলো ফ্যাক্টরির ভেতরের ঘরেই ছিল। আসাম, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড থেকে আসা প্রায় ১২০ জন পরিযায়ী শ্রমিক, বেশিরভাগই মেয়ে, বয়স চব্বিশ-পঁচিশ, কোম্পানির ক্যাম্পাসেই থাকতেন। তামিলনাড়ুর তিরুভাল্লুর জেলায় পেরিয়াপালায়মের কাছে কান্নিগাইপের গ্রামে সেন্ট পিটার্স পল সিফুডস এক্সপোর্টসের চিংড়ি কারখানা থেকে রবিবার দুপুরে হঠাৎ অ্যামোনিয়া গ্যাস বেরোতে শুরু করল। প্রসেসিং সেকশন থেকে গ্যাস ছড়িয়ে গেল পুরো ক্যাম্পাসে, যেখানে শ্রমিকরা ঘুমিয়ে বা বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। নিঃশ্বাস আটকে আসা, মাথা ঘোরা, বমি— এসব উপসর্গ নিয়ে অন্তত সাতজন মহিলা শ্রমিক মারা গেলেন, ষাটের বেশি মানুষ হাসপাতালে, তার মধ্যে ন'জনকে পাঠাতে হলো চেন্নাইয়ের স্ট্যানলি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

ঘটনার সবচেয়ে বিশ্রী অংশটা পরে বেরিয়ে এল। স্থানীয় মানুষজন বলছেন, এই কারখানা গত দশ বছর ধরে বেআইনিভাবে চলছিল। রাতের অন্ধকারে বারবার গ্যাস ছাড়ার অভিযোগ নিয়ে তারা বারবার প্রশাসনের কাছে দরখাস্ত দিয়েছেন, কেউ কানে তোলেনি। মানে যে বিপদটা বছরের পর বছর সবাই জানত, সেটা প্রশাসনের ফাইলে চাপা পড়েছিল, যতদিন না সাতটা মানুষ মরে গেল। আর তারপর সেই একই পুরনো নাটক শুরু হলো— মুখ্যমন্ত্রী দুই লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করলেন, তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি বসল, চব্বিশ ঘণ্টায় অন্তর্বর্তী রিপোর্ট আর তিন দিনে চূড়ান্ত রিপোর্ট দেওয়ার কথা, কোম্পানির দুই মালিককে সাময়িক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তুলে নিয়ে যাওয়া হলো। এই প্যাটার্নটা আমরা মুখস্থ করে ফেলেছি— শোকবার্তা, কমিটি, ক্ষতিপূরণের চেক, আর তারপর সব চুপচাপ হারিয়ে যাওয়া। কমিটির রিপোর্ট কোনোদিন আলোর মুখ দেখে না, মালিকরা কিছুদিন পর জামিনে বেরিয়ে আবার ব্যবসা চালু করে দেয়, আর প্রশাসন ব্যস্ত হয়ে যায় পরের ঘটনায়।

এর কয়েক মাস আগেই, জানুয়ারিতে, কলকাতার আনন্দপুরে নাজিরাবাদে ওয়াও মোমোর গুদামে যে আগুন লাগল, সেটাও একই গল্প। গভীর রাতে আগুন লাগে, ভেতরে ঘুমিয়ে থাকা পরিযায়ী শ্রমিকরা বেরোনোর পথ পায়নি, কারণ ফায়ার সেফটির কোনো ব্যবস্থাই ছিল না। প্রথমে বলা হলো আট জন মারা গেছে, তারপর কুড়ি, তারপর শোনা গেল পঁচিশ-তিরিশ জন, এমনকি মৃতদেহ আলাদা করে চেনার জন্য ডিএনএ টেস্ট করাতে হলো, এতটাই ভয়াবহ ছিল আগুনের তাণ্ডব। ফায়ার ডিপার্টমেন্ট নাকি আগে থেকেই উদ্বেগ জানিয়েছিল, তাও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। মজার ব্যাপার হলো এত বড় একটা ব্র্যান্ড, যাদের প্রোডাক্ট সারা দেশের সুপারমার্কেটে বিক্রি হয়, তাদের গুদামেই মানুষ থাকার কোনো বৈধ ব্যবস্থা ছিল না, অথচ আজ পর্যন্ত আসল মালিকদের গায়ে আঁচড় পর্যন্ত লাগেনি— ধরা পড়েছে ম্যানেজার, ডেপুটি ম্যানেজার, পাশের গুদাম মালিক। আসল কোম্পানির বোর্ডরুমে বসা মানুষগুলো এখনো বিলেতে ঘুরছেন, কারখানা চালাচ্ছেন, ব্র্যান্ড বিক্রি করছেন।

এটা বিচ্ছিন্ন কোনো দুর্ঘটনা না, এটা একটা সিস্টেম। ২০২০ সালে বিশাখাপত্তনমে এলজি পলিমার্স থেকে স্টাইরিন গ্যাস লিক করে এগারো জন মারা যান, হাজার হাজার মানুষ অসুস্থ হন, সেই কারখানারও পরিবেশগত ছাড়পত্র নিয়ে পুরনো অভিযোগ ছিল। ২০১৭ সালে দিল্লির বাওয়ানায় একটা বেআইনি বাজি কারখানায় আগুনে সতেরো জন শ্রমিক পুড়ে মারা যান, যাদের বেশিরভাগই পরিযায়ী, সেই বিল্ডিংয়ে ফায়ার এক্সিট পর্যন্ত ছিল না। ২০২১ সালে তামিলনাড়ুরই নেভেলিতে বয়লার ফেটে চোদ্দ জন মারা যান। প্রতিটা ঘটনায় গল্পটা এক— নিরাপত্তা আইন ভাঙা হয়েছে, ফ্যাক্টরি ইন্সপেক্টরের চোখ এড়িয়ে গেছে, স্থানীয় মানুষের অভিযোগ বছরের পর বছর ফাইলবন্দি হয়ে পড়ে আছে, আর শেষে লাশের সংখ্যা দিয়ে খবরের শিরোনাম তৈরি হয়। যে আইনে এদের ধরার কথা, সেই ফ্যাক্টরিজ অ্যাক্ট ১৯৪৮ সালের, এত পুরনো আর এত দুর্বলভাবে প্রয়োগ হয় যে জরিমানার অঙ্কটা প্রায় রসিকতার মতো শোনায়। ফৌজদারি মামলা প্রমাণ করতে বছরের পর বছর লেগে যায়, ততদিনে মৃত শ্রমিকের পরিবার মামলা চালানোর শক্তিটুকুও হারিয়ে ফেলে।

এই গোটা ব্যবস্থাটাই শ্রমিকের জীবনকে সস্তা বানিয়ে রেখেছে, আর এর পেছনে রাজনৈতিক দলের রং কোনো ফারাক গড়ে না। তামিলনাড়ুতে যে সরকারই থাকুক, বাংলায় যে সরকারই থাকুক, দিল্লিতে যে সরকারই থাকুক, ফ্যাক্টরি ইন্সপেকশনের লোকবল কমিয়ে আনা, লেবার ডিপার্টমেন্টকে অকেজো করে রাখা, কর্পোরেট মালিকদের সঙ্গে রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখা— এসব সব সরকারের অভিন্ন চরিত্র। শ্রমিক মরলে শোকবার্তা আসে চটজলদি, কিন্তু যে আইন বদলালে আর কেউ মরবে না, সেই আইন সংসদে কোনোদিন আলোচনাতেই ওঠে না। কারণ মালিকপক্ষের চাঁদা ছাড়া কোনো দলের নির্বাচন চলে না, আর মৃত শ্রমিকের পরিবারের কাছে এমপি-এমএলএ পাঠানোর কোনো লাভ নেই। যতদিন এই আঁতাতটা ভাঙা না যাচ্ছে, ততদিন প্রতিটা নতুন দুর্ঘটনার পর আমরা একই শোকবার্তা, একই তদন্ত কমিটি, আর একই বিস্মৃতি দেখতেই থাকব— আর কোনো এক রবিবার দুপুরে অন্য কোনো রাজ্যে অন্য কোনো মেয়ে শেষ নিঃশ্বাস ফেলবে তার থাকার ঘরে, যেখানে তার বেঁচে থাকার কথা ছিল।




সরকার বলছে আপনার বাড়িতে গ্যাস আছে। শৌচাগার আছে। বিদ্যুৎ আছে। আপনি জানেন নেই। কিন্তু সরকারি কাগজে আছে — তাই আছে।এই একটা ...
21/06/2026

সরকার বলছে আপনার বাড়িতে গ্যাস আছে। শৌচাগার আছে। বিদ্যুৎ আছে। আপনি জানেন নেই। কিন্তু সরকারি কাগজে আছে — তাই আছে।

এই একটা লাইনেই আসলে গোটা গল্পটা বোঝা যায়। The Hindu-র রিপোর্ট বলছে, চলতি জনগণনায় মাঠে নামা গণনাকারীরা — যাঁরা বেশিরভাগ সরকারি স্কুলশিক্ষক আর অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী — বাড়ি বাড়ি ঘুরে যা দেখছেন, তা সরকারের দাবির সঙ্গে মিলছে না। উজ্জ্বলা যোজনার গ্যাস সংযোগ কাগজে আছে, চুলোয় নেই। স্বচ্ছ ভারতের শৌচাগারের দেওয়াল উঠেছে, দরজা নেই, ব্যবহার হয় না। সৌভাগ্য প্রকল্পে মিটার লেগেছে, তার কাটা। তাঁরা যা দেখেছেন তাই লিখেছেন। আর সঙ্গে সঙ্গে উপর থেকে নির্দেশ এসেছে — ফিরে যাও, "ঠিক" করে এসো। রাজস্থানের Census Operations-এর ডিরেক্টর চিঠি দিয়েছেন জেলার কর্তাদের, "মাঠের তথ্যে গরমিল ধরা পড়েছে।" গণনাকারীরা নিজেরাই বলছেন, তাঁদের বলা হয়েছে এমন কিছু লেখা যাবে না যা সরকারকে খারাপ দেখাবে।

এটাকে যদি বিচ্ছিন্ন একটা ঘটনা মনে হয়, তাহলে ভুল হবে। কারণ The Wire-এর সাংবাদিক পামেলা ফিলিপোজ সম্প্রতি যা লিখেছেন, তা পড়লে বোঝা যায় — এটা একটা অনেক বড় ছবির একটা টুকরো মাত্র।

প্রথম কথা হলো, এই সেন্সাসটাই অস্বাভাবিক। ১৮৭২ সাল থেকে ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু হওয়া দশ বছরের যে ধারা, তা প্রথমবার ভেঙেছে ২০২১-এ। অতিমারির অজুহাত দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পাকিস্তান-সহ পৃথিবীর বেশিরভাগ দেশ ততদিনে নিজেদের গণনা শেষ করে ফেলেছে, ভারত ২০২৩-এও সেই কাজে হাত দেয়নি। কেন? কারণ গণনার পরপরই করতে হয় ডিলিমিটেশন — আসন পুনর্বিন্যাস, যা রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর। আর সেই সঙ্গে মনে রাখা দরকার অমিত শাহর ২০১৯-এর সেই কুখ্যাত উক্তি — "chronology samjhiye" — আগে CAA আসবে, তারপর NRC। এই দেরিটা কাকতালীয়, নাকি একটা নির্দিষ্ট জনতাত্ত্বিক ছকের অংশ?

এবার এই ২০২৭-এর সেন্সাস প্রথমবার পুরোপুরি ডিজিটাল, প্রথমবার জাতিভিত্তিক গণনা করবে। আর এটা একা চলছে না। ভারতের প্রখ্যাত ভাষাবিদ জি এন দেবী একটা ভয়ংকর পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন — এই সেন্সাস একই সময়ে চলছে আরও দুটো গণনা প্রক্রিয়ার পাশাপাশি। একটা হলো SIR (Special Intensive Revision) — যার ফলে ইতিমধ্যে প্রায় দশ কোটি মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে উধাও হয়ে গেছে। আরেকটা হলো "জনতাত্ত্বিক পরিবর্তন" নিয়ে গঠিত হাই-লেভেল কমিটি, যাদের কাজ "দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি", "অবৈধ অভিবাসন" আর "অস্বাভাবিক জনতাত্ত্বিক পরিবর্তন" পরীক্ষা করা। এই তিনটে জিনিস একসঙ্গে রাখলে দেবীর সিদ্ধান্ত হলো — একটা নিরীহ দেখতে গণনা প্রক্রিয়া আসলে একটা "ইচ্ছাকৃত বর্জনের" প্রকল্প হয়ে উঠতে পারে।

আর এখানেই এনুমারেটরদের মিথ্যা লিখতে বাধ্য করার ঘটনাটা একটা বড় প্রশ্নের জন্ম দেয়। যদি কাউকে এমন তথ্য লিখতে বাধ্য করা হয় যা বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না, তাহলে এই গণনা আদৌ "গণনা" থাকছে কি? নাকি এটা হয়ে উঠছে একটা বাছাই প্রক্রিয়া — কাকে নাগরিক বলে গণ্য করা হবে, কাকে নয়, কার দারিদ্র্য রেকর্ডে থাকবে, কার থাকবে না?

এই অস্বচ্ছতা ইচ্ছাকৃত। আগে RTI করলে সেন্সাস নিয়ে প্রশ্নের জবাব পাওয়া যেত। এখন সব RTI অনুত্তরিত পড়ে থাকছে। কোন প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে তথ্য সংগ্রহে, তাও গোপন রাখা হয়েছে। আগে সেন্সাসের ফল দুটো ধাপে আসত, প্রাথমিক আর চূড়ান্ত, পুরো প্রক্রিয়ায় কয়েক বছর লাগত যাতে যাচাই-বাছাই হয়। এবার দাবি করা হচ্ছে, ডিজিটাল হওয়ার সুবাদে মাত্র আট মাসে ফলাফল বেরিয়ে যাবে। ১৪০ কোটি মানুষ গোনা, আর তাও এত কম সময়ে — দেবীর মতে এটা বাস্তবসম্মতই নয়।

ল্যাটিন শব্দ 'census'-এর দুটো অর্থ আছে। একটা হলো গণনা করা। আরেকটা হলো নজরদারি — যেখান থেকে এসেছে 'censor' শব্দটা। ভয়টা ঠিক এখানেই। একটা সাধারণ গোনার কাজ কখন যেন নজরদারি আর নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার হয়ে উঠছে।

এবার একটু ভাবুন এর ফল কী দাঁড়াতে পারে।

ধরুন আপনার গ্রামে এখনও খোলা মাঠে যেতে হয়। আপনি পঞ্চায়েতে গেলেন অভিযোগ করতে। কর্তা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে বললেন, রেকর্ডে তো সব ঠিক আছে, আপনি মিথ্যে বলছেন। কারণ জনগণনার খাতায় লেখা আছে শৌচাগার আছে। আপনার অভিজ্ঞতার কোনো দাম নেই, কাগজের দাম আছে। অথবা গ্যাস নেই, ভর্তুকি পাচ্ছেন না, অফিসে গেলে বলবে আপনার নামে সংযোগ অ্যাকটিভ দেখাচ্ছে। বিদ্যুৎ নেই মাসের পর মাস, অভিযোগ করতে গেলে বলবে আপনার এলাকায় সংযোগের হার শতভাগ। তাহলে আপনি কি পাগল? না। আপনাকে পাগল বানানো হচ্ছে।

এই মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতেই ঠিক হবে কোন রাজ্য, কোন জেলা কত আসন পাবে আগামী লোকসভায় — ডিলিমিটেশনের মাধ্যমে। জনসংখ্যা, দারিদ্র্যের হার, পশ্চাৎপদতার সূচক — এসবের ভিত্তিতেই কেন্দ্রীয় বরাদ্দ ঠিক হয়, ফাইন্যান্স কমিশনের সুপারিশ ঠিক হয়। আপনার রাজ্য আসলে যত গরিব, তার চেয়ে কম গরিব দেখানো হলে, আপনার রাজ্যের ভাগে কেন্দ্রীয় টাকা কমে যাবে। রেশন কার্ড, আবাস যোজনার তালিকা, স্বাস্থ্য বীমার যোগ্যতা — সবই তৈরি হয় এই ডেটাবেস থেকে। আপনার বাড়িতে কাগজে-কলমে সব "আছে" দেখানো হলে, ভবিষ্যতে কোনো নতুন প্রকল্পে আপনি আর "যোগ্য" বলে গণ্য নাও হতে পারেন।

আর জাতিভিত্তিক তথ্য, SIR-এর ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া, "জনতাত্ত্বিক পরিবর্তন" নিয়ে কমিটি — এই তিনটে একসঙ্গে মিলিয়ে পড়লে প্রশ্নটা আরও গভীর হয়ে যায়। কে "প্রকৃত" নাগরিক, কে নয় — সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার একটা পরিকাঠামো কি তৈরি হচ্ছে এই সেন্সাসের আড়ালে? CAA-NRC-র সেই পুরনো "chronology"-র কথা মাথায় রাখলে এই আশঙ্কাটা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

সবচেয়ে ভয়ংকর জায়গাটা হলো, যখন একটা গোটা ব্যবস্থা শিখিয়ে দেয় সত্যি বলাটাই বিপজ্জনক। আজ একজন শিক্ষক বা অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীকে বলা হচ্ছে মিথ্যা লিখতে। কাল হয়তো তিনি নিজেই ভুলে যাবেন সত্যি আর মিথ্যার ফারাকটা কোথায়। এভাবেই একটা প্রশাসনিক ব্যবস্থা ধীরে ধীরে মিথ্যাকে অভ্যাসে পরিণত করে। যে রাষ্ট্র নিজের চোখকেই বিশ্বাস করে না, সেই রাষ্ট্র কোনোদিন নিজের রোগ সারাতে পারে না — কারণ রোগ ধরা পড়ারই উপায় থাকে না।

জনগণনা একটা দেশের আয়না হওয়ার কথা। সেই আয়নায় যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল ছবি আঁকা হয়, আর সঙ্গে যদি গণনার আড়ালে বাছাই আর বাদ দেওয়ার একটা প্রকল্প চলে, তাহলে এটা আর গণনা থাকে না। এটা হয়ে ওঠে নজরদারি। ঠিক যা ল্যাটিন শব্দটার অন্য মানেতেই লুকিয়ে ছিল গোড়া থেকে।



দিল্লির ইউপিএসসি অফিস থেকে যখন প্রতি বছর সিভিল সার্ভিসের চূড়ান্ত রেজাল্ট বেরোয়, তখন তালিকার একটা কলামে লেখা থাকে ‘EWS’—য...
21/06/2026

দিল্লির ইউপিএসসি অফিস থেকে যখন প্রতি বছর সিভিল সার্ভিসের চূড়ান্ত রেজাল্ট বেরোয়, তখন তালিকার একটা কলামে লেখা থাকে ‘EWS’—যার মানে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল শ্রেণি। সাধারণ চোখে দেখলে মনে হবে, এই কোটা বোধহয় দেশের সবচেয়ে অভাবী আর গরিব পরিবারের সন্তানদের আইএএস-আইপিএস হওয়ার একটা বড় সুযোগ। কিন্তু একটু খোঁজখবর নিলেই বোঝা যায়, ভেতরের গল্পটা একদম আলাদা।
সম্প্রতি ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ একটি অনুসন্ধানী রিপোর্টে ২০২৫ সালের পরীক্ষায় এই গরিব কোটায় চাকরি পাওয়া ১০৪ জন প্রার্থীর আসল পরিচয় সামনে এনেছে। তাদের কোচিং সেন্টারের রেকর্ড, স্কুল-কলেজের তথ্য আর সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল ঘেঁটে দেখা গেছে, এই গরিবি আসলে শুধুই কাগজে-কলমে। মোট ৯৫৮ জন সফল প্রার্থীর মধ্যে এই ১০৪ জন ইডব্লিউএস কোটা ব্যবহার করেছেন ঠিকই, কিন্তু তাদের জীবনযাত্রার মান মোটেও কোনো গরিব মানুষের মতো নয়।
পরিসংখ্যান বলছে, এই সফল প্রার্থীদের মধ্যে চৌষট্টি শতাংশেরই বেশি প্রার্থী বাজিরাম অ্যান্ড রবি, দৃষ্টি আইএএস বা নেক্সটআইএএস-এর মতো নামকরা সব কোচিং সেন্টারে পড়েছেন, যেখানে বছরে শুধু পড়ার ফি-ই আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা। প্রায় চুয়াল্লিশ শতাংশ প্রার্থী পড়াশোনা করেছেন নামী বেসরকারি স্কুলে এবং একটা বড় অংশের পরিবার ব্যবসা কিংবা কর্পোরেট সেক্টরের বড় চাকরির সাথে যুক্ত। সরকারের নিয়ম অনুযায়ী, বছরে আট লাখ টাকা পর্যন্ত আয় হলে এই কোটা পাওয়া যায়। কিন্তু যে পরিবার দিল্লির নামী কোচিংয়ে লাখ লাখ টাকা খরচ করতে পারে, সন্তানকে দামি প্রাইভেট স্কুলে পড়াতে পারে, তারা আর যাই হোক প্রকৃত অর্থে গরিব বা অসহায় নয়। এর ফলে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হচ্ছে সেই আসল অভাবী পরিবারগুলোর, যাদের না আছে আয়ের সার্টিফিকেট জোগাড় করার ক্ষমতা, আর না আছে দিল্লির কোচিংয়ে টাকা ঢালার সামর্থ্য।
প্রাক্তন ডিওপিটি সচিব সত্যানন্দ মিশ্র নিজেই স্বীকার করেছেন যে, শুধুমাত্র ট্যাক্স রিটার্ন বা নিজের দেওয়া ঘোষণার ওপর ভিত্তি করে এই সার্টিফিকেট দেওয়ার নিয়মটা ভীষণ বিপজ্জনক। সচ্ছল মানুষেরা যদি এই সুবিধা কুক্ষিগত করে নেয়, তাহলে এই সংরক্ষণের আসল উদ্দেশ্যটাই মাটি হয়ে যাবে। ২০১৯ সালে যখন এই কোটা চালু করা হয়েছিল, তখনই অনেকে প্রশ্ন তুলেছিলেন এবং আজকের পরিসংখ্যান সেই আশঙ্কাই সত্যি প্রমাণ করছে।
এখানে আসল সমস্যাটা শুধু জালিয়াতির নয়, সমস্যাটা আমাদের শাসন ব্যবস্থার। ভারতের সংবিধানে দলিত, আদিবাসী বা অনগ্রসর শ্রেণির জন্য সংরক্ষণ আনা হয়েছিল শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলা সামাজিক বঞ্চনার বিরুদ্ধে লড়াই করতে, যার মূল ভিত্তি ছিল সামাজিক ও শিক্ষাগত অনগ্রসরতা। এই নতুন কোটা এক লহমায় সেই ঐতিহাসিক যুক্তিটাকে মুছে দিয়ে সংরক্ষণকে স্রেফ আয়ের অঙ্কে নামিয়ে এনেছে। ফলে সংরক্ষণের যে আসল চেতনা—যে এটা কোনো দারিদ্র্য দূরীকরণ প্রকল্প নয়, বরং সামাজিক বৈষম্য দূর করার হাতিয়ার—সেটাই হারিয়ে গেছে। আর এই সুযোগটাই নিচ্ছেন তারা, যাদের ইতিমধ্যে শিক্ষা, টাকা-পয়সা আর সামাজিক যোগাযোগের সব পথ খোলা ছিল। দিনশেষে প্রশ্নটা তাই শুধু নিয়মের ফাঁকফোকর বন্ধ করার নয়; প্রশ্ন হলো, রাষ্ট্র যখন "গরিবের কোটা" বলে একটা ব্যবস্থা তৈরি করে, তখন দেশের আসল সুবিধাবঞ্চিত মানুষগুলো সেই টেবিলে বসার সুযোগটুকুও আদৌ পায় কি না।


রোজ একটা ডাম্পার আসে। বালি ফেলে যায়। কেউ দেখে না, কেউ বলে না। আর এভাবেই, আমাদের চোখের সামনে দিয়েই, কলকাতার সবথেকে মূল্...
21/06/2026

রোজ একটা ডাম্পার আসে। বালি ফেলে যায়। কেউ দেখে না, কেউ বলে না। আর এভাবেই, আমাদের চোখের সামনে দিয়েই, কলকাতার সবথেকে মূল্যবান জিনিসটা শেষ করে দিচ্ছে কিছু লোক।
এই শহরে যত নর্দমার জল, যত বর্জ্য, সব গিয়ে পড়ে পূর্ব কলকাতার এক বিশাল জলাভূমিতে — নাম ইস্ট কলকাতা ওয়েটল্যান্ড। প্রায় বারো হাজার পাঁচশো হেক্টর জুড়ে ছড়িয়ে আছে এই জলাভূমি, উত্তর আর দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার সাঁইত্রিশটা মৌজা ধরে। ২০০২ সালে রামসার কনভেনশন একে আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
এবার আসল কথায় আসি — এই প্রাকৃতিক ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টটা আসলে কাজ করে কীভাবে?

কলকাতা শহরের নর্দমার জল প্রথমে পাইপলাইন দিয়ে এসে পড়ে বড় বড় খাল ধরে — যেমন বাগজোলা খাল, কেষ্টপুর খাল। এই খাল বেয়ে জল ঢোকে ওয়েটল্যান্ডের ভেতরে থাকা অসংখ্য মাছের ভেড়িতে। ভেড়িতে ঢোকার পর প্রথম ধাপে সূর্যের আলো জলের উপর পড়ে, আর সেই আলো পেয়ে জলে থাকা অ্যালগি হু হু করে বাড়তে শুরু করে। এই অ্যালগি জলের মধ্যে থাকা নাইট্রোজেন, ফসফরাসের মতো পুষ্টি উপাদান শুষে নেয় — যেগুলো আসলে নর্দমার জলে থাকা বর্জ্য। অ্যালগি বাড়লে জলে অক্সিজেনের পরিমাণ বেড়ে যায়, আর সেই অক্সিজেন ব্যবহার করে জলে থাকা ব্যাকটেরিয়া বাকি জৈব বর্জ্য ভেঙে ফেলে।
এই প্রক্রিয়াকে বিজ্ঞানীরা বলেন "অ্যালগাল-ব্যাকটেরিয়াল সিম্বায়োসিস" — অ্যালগি অক্সিজেন তৈরি করে, ব্যাকটেরিয়া সেই অক্সিজেন খেয়ে দূষণ ভাঙে, আবার ব্যাকটেরিয়ার ভাঙা জিনিস অ্যালগির খাবার হয়ে যায়। এভাবে চক্রটা নিজে থেকেই চলতে থাকে, কোনো যন্ত্র লাগে না, কোনো রাসায়নিক লাগে না। জল একটা ভেড়ি থেকে আরেকটা ভেড়িতে যেতে যেতে ধাপে ধাপে পরিষ্কার হতে থাকে। সাধারণত জল পনেরো থেকে কুড়ি দিন এই ভেড়িগুলোর মধ্যে দিয়ে ঘুরে বেরোয়, আর ততক্ষণে রোগ-জীবাণু আর ভারী জৈব দূষণের অনেকটাই শেষ হয়ে যায়।
এই পরিষ্কার হওয়া জলেই মৎস্যজীবীরা রুই, কাতলা, তেলাপিয়ার মতো মাছ চাষ করেন। মাছ এই অ্যালগি আর প্ল্যাঙ্কটন খেয়ে বড় হয় — অর্থাৎ যে বর্জ্য মাছ খাচ্ছে, সেটাই আবার শহরের মানুষের পাতে ফিরে আসছে প্রোটিন হিসেবে। আর যে জল ভেড়ি পেরিয়ে শেষমেশ বিদ্যাধরী নদীতে গিয়ে মেশে, সেই জল আর শহরের সেই বিষাক্ত নর্দমার জল থাকে না।
এই গোটা ব্যবস্থাটা কলকাতাকে একটাও বড় সুয়েজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট বানাতে দেয়নি এতদিন। বিনা পয়সায়, বিনা যন্ত্রে এই কাজটা করে দিচ্ছে এই জলাভূমি। আর এই জিনিসটাকেই এখন প্রোমোটাররা গিলে খাচ্ছে।
গত তিরিশ বছরে এই জলাভূমি তার আয়তনের ছত্রিশ শতাংশ হারিয়ে ফেলেছে। নির্মিত এলাকা ১৯৯১ সালে ছিল মাত্র ছয় শতাংশ, এখন সেটা বেড়ে কুড়ি শতাংশ হয়ে গেছে — আর এই বদলের পেছনে মূল কারণ একটাই, রিয়েল এস্টেট ব্যবসা। মাছ চাষের জমি ঊনত্রিশ শতাংশ থেকে নেমে এসেছে ষোলো শতাংশে। প্রোমোটাররা একের পর এক ভেড়ি কিনছে, বালি ফেলছে, তারপর তুলছে ফ্ল্যাট আর গোডাউন।
আর সবচেয়ে লজ্জার কথাটা বলি। এই দখলদারির পেছনে শুধু প্রোমোটার নেই। একটা জনস্বার্থ মামলায় সরাসরি অভিযোগ উঠেছে যে সরকার আর বেসরকারি দুই পক্ষই এই জলাভূমি ভরাট করছে, খোদ রাজ্য সরকার নিজেই বেসরকারি পক্ষকে ভরাটের অনুমতি দিচ্ছে, আর অজুহাত দিচ্ছে যে বর্তমান আইন নাকি দখলদারি ঠেকাতে যথেষ্ট না। আইন ২০০৬ সালেই পাশ হয়েছে। আদালতও বারবার নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু প্রশাসন কিছুই করছে না — স্থানীয় মানুষরা নিজেরাই বলছেন, দখলদাররা কোনো শাস্তির মুখোমুখি হয় না, তাই তারা আরও সাহস পাচ্ছে।
এদিকে ধাপার জঞ্জাল ফেলার জায়গাও উপচে পড়ছে, আর সেটাও এখন জলাভূমির ভেতরে ঢুকে পড়ছে। প্রশাসনের কাছে শহরের বর্জ্য সামলানোর কোনো বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা নেই — অথচ যে জলাভূমি এতদিন এই কাজটা বিনা পয়সায় করে দিয়েছে, তাকেই বালি দিয়ে বুজিয়ে দিচ্ছে তারা।
ভাবুন তো — এই জলাভূমি যেদিন পুরোপুরি শেষ হয়ে যাবে, সেদিন কী হবে? শহরের নর্দমার জল কোথায় যাবে? বন্যার জল কে শুষে নেবে? কোটি কোটি টাকার যে ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট বানাতে হবে, তার খরচ আমাদের করের টাকা থেকেই যাবে। আর ততদিনে যাদের পকেট ভরবে, তারা ফ্ল্যাট বিক্রি করে অন্য জায়গায় চলে যাবে।
এটা শুধু পরিবেশের গল্প না। এটা একটা শ্রেণির গল্প — শহরের প্রাকৃতিক সম্পদকে কিছু লোক ব্যক্তিগত মুনাফায় বদলে ফেলছে, আর তার মাশুল গুনতে হবে আমাদের। যে মাছ আমরা খাই, যে জল আমরা ব্যবহার করি, যে বাতাসে আমরা শ্বাস নিই — সবকিছুর সঙ্গে এই জলাভূমি জড়িয়ে আছে।
এখনই প্রশ্ন তোলার সময়। কে অনুমতি দিচ্ছে এই ভরাটের? কোন দপ্তর চোখ বুজে বসে আছে? রোজ যে ডাম্পারগুলো বালি ফেলছে, তাদের পেছনে কার হাত আছে?

কলকাতার এই ফুসফুস,কিডনিটা না বাঁচাতে পারলে, গোটা শহরটাই একদিন দম বন্ধ হয়ে মরবে।

#ইস্টকলকাতাওয়েটল্যান্ড #পরিবেশ #কলকাতারকিডনি

ইতিহাস পড়ুন। গল্পকথা না।>
20/06/2026

ইতিহাস পড়ুন। গল্পকথা না।

>

"এককথায় বলতে গেলে, দেশভাগ ছিল হিন্দু ও মুসলিম মুৎসুদ্দি বুর্জোয়াদের দ্বারা পরিচালিত, কংগ্রেস-মহাসভা-লীগ কর্তৃক অভিনীত একটা প্রোজেক্ট, যে প্রোজেক্টের ‘সুফল’ আজকের দিনেও তাঁদের উত্তরসূরীরা নিজ নিজ রাষ্ট্রে ভোগ করে চলেছেন, মেহনতি জনগণকে ধর্ম-সম্প্রদায়ের ভিত্তিতে ভাগ করে শাসন ও শোষণ করার মাধ্যমে।"



১৪ জুন। স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির ১৩৫তম সমাবর্তন। মঞ্চে উঠছেন গুগল আর অ্যালফাবেটের সিইও সুন্দর পিচাই, যিনি নিজে এই বিশ্...
20/06/2026

১৪ জুন। স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির ১৩৫তম সমাবর্তন। মঞ্চে উঠছেন গুগল আর অ্যালফাবেটের সিইও সুন্দর পিচাই, যিনি নিজে এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই প্রাক্তনী। আর ঠিক সেই মুহূর্তে স্টেডিয়াম ছেড়ে বেরিয়ে যেতে শুরু করল প্রায় দুশো ছাত্রছাত্রী। কারও গায়ে কেফিয়াহ, কারও হাতে প্যালেস্টাইনের পতাকা, কেউ বাজাচ্ছে whistle, কেউ উঁচিয়ে ধরেছে ব্যানার — তাতে লেখা "জেনোসাইড রানস অন গুগল", "আইস স্পাইজ উইথ গুগল এআই"।
এই পদযাত্রা গিয়ে থামল আরবোরেটামে, যেখানে তারা নিজেদের মতো করে আয়োজন করল "পিপলস কমেন্সমেন্ট" — মূল অনুষ্ঠানের পাল্টা, একটা সমান্তরাল সমাবর্তন। সেখানে বক্তৃতা দিতে এলেন মাহমুদ খলিল, কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই পরিচিত নাম, যাঁকে ২০২৫ সালে আইসিই আটক করেছিল গাজা নিয়ে মুখ খোলার "অপরাধে"। তিনি বললেন — "যখন আরাম আর বিবেকের মধ্যে বেছে নেওয়ার সময় আসে, বিবেককেই বেছে নাও।"
এই প্রতিবাদের লক্ষ্য একটাই নাম — প্রজেক্ট নিম্বাস। ২০২১ সালে ইসরায়েলের অর্থ মন্ত্রক, গুগল আর অ্যামাজনের সঙ্গে সই করা প্রায় ১২০ কোটি ডলারের চুক্তি, যার আওতায় ইসরায়েলি সরকার, প্রতিরক্ষা মন্ত্রক আর নিরাপত্তা বাহিনী পাচ্ছে ক্লাউড আর এআই পরিষেবা। স্টুডেন্টস ফর জাস্টিস ইন প্যালেস্টাইন আর নো টেক ফর অ্যাপারথাইড — এই দুই ছাত্র সংগঠন মিলেই সংগঠিত করেছিল এই ওয়াকআউট। তাদের অভিযোগ পরিষ্কার — গুগল শুধু ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সঙ্গে নয়, প্যালান্টিরের মতো সংস্থার সঙ্গেও হাত মিলিয়ে কাজ করছে, যারা ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন দমন নীতি আর আইসিই-র কাজেও জড়িত।
মজার ব্যাপার হল, পিচাই তাঁর বক্তৃতায় একবারও এআই নিয়ে মুখ খোলেননি। অথচ গত এক বছর ধরে যিনি নিজের পার্সোনাল এআই এজেন্ট, জেমিনি-চালিত ম্যারিনারের কথা বলে বেড়িয়েছেন বিশ্বজুড়ে, তিনি এখানে পুরোপুরি চুপ। কারণ একটাই — এই সিজনে একের পর এক টেক সিইও যখনই এআই নিয়ে গর্ব করতে গেছেন, ছাত্ররা তাঁদের দুয়ো দিয়েছে। পিচাই সেই ফাঁদ এড়াতে চেয়েছিলেন, কিন্তু প্রজেক্ট নিম্বাসের প্রশ্ন এড়াতে পারেননি।
অনুষ্ঠান শেষে বিবিসি-র এক সাংবাদিক জিজ্ঞেস করেছিলেন প্রতিবাদ নিয়ে তাঁর কোনো প্রতিক্রিয়া আছে কিনা। পিচাই কোনো জবাব দেননি।
আর প্রতিবাদের পাল্টা প্রতিক্রিয়াও এসেছে যথারীতি। সিলিকন ভ্যালির প্রভাবশালী বিনিয়োগকারী বিনোদ খোসলা এক্স-এ লিখেছেন, এই ছাত্ররা "নির্বোধ, সংকীর্ণমনা আর স্বার্থপর" — কারণ তারা নাকি বিশ্বের তিনশো কোটি দরিদ্র মানুষের কথা না ভেবে নিজেদের "স্বার্থে" প্রতিবাদ করছে। অর্থাৎ যে প্রযুক্তি গণহত্যার যন্ত্রে পরিণত হচ্ছে, তার সমালোচনা করাটাই এখন "স্বার্থপরতা" — পুঁজির ভাষ্যে এভাবেই উল্টে যায় ন্যায়ের প্রশ্ন।

স্মরণ করিয়ে দেওয়া ভালো — এটা পরপর তৃতীয় বছর, যখন স্ট্যানফোর্ডের সমাবর্তনে ছাত্ররা ওয়াকআউট করল প্যালেস্টাইনের প্রশ্নে। ২০২৪ সালেও যখন গুগলের নিজস্ব কর্মীরা প্রজেক্ট নিম্বাসের প্রতিবাদ করেছিলেন, কোম্পানি তাঁদের মধ্যে অন্তত পঁচিশ জনকে বরখাস্ত করেছিল। প্রতিবাদ থামেনি, বরং প্রতিটা বছর আরও ছড়িয়ে পড়ছে — ক্যাম্পাস থেকে ক্যাম্পাসে, স্টেজ থেকে স্টেজে।
প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো যতই "ইনোভেশন" আর "এআই-চালিত ভবিষ্যতের" গল্প শোনাক, তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশ স্পষ্ট করে দিচ্ছে — গণহত্যায় ব্যবহৃত প্রযুক্তির পেছনে যাঁরা টাকা ঢালছেন, তাঁদের হাততালি দিয়ে স্বাগত জানানো আর সম্ভব নয়।

আদানি যেখানে সরকার, সরকার যেখানে আদানিকয়লা বিদ্যুতের বাজারে গত এক দশক ধরে এক ধরনের নীরবতা ছিল। দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি প্রা...
20/06/2026

আদানি যেখানে সরকার, সরকার যেখানে আদানি

কয়লা বিদ্যুতের বাজারে গত এক দশক ধরে এক ধরনের নীরবতা ছিল। দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি প্রায় বন্ধই হয়ে গিয়েছিল। জলবায়ু প্রতিশ্রুতি, সৌরবিদ্যুতের সস্তা হয়ে ওঠা, অর্থনৈতিক বিকাশ হয়নি বলে কয়লা-নির্ভরতা কমছিল। কিন্তু ২০২৪ সালে হঠাৎ ছবিটা পাল্টে গেল। লোকসভা ভোটের ঠিক মুখে কেন্দ্রীয় সরকার কয়লা সরবরাহের নীতি বদলে দিল, আর তারপর একে একে রাজ্যগুলো দীর্ঘমেয়াদী বিদ্যুৎ কেনার টেন্ডার ডাকতে শুরু করল। দ্য রিপোর্টার্স কালেক্টিভের সাম্প্রতিক অনুসন্ধান বলছে, ২০২৪-এর মার্চ থেকে ২০২৬-এর জানুয়ারি পর্যন্ত মোট বারোটি এমন বড় টেন্ডার হয়েছে, যার মধ্যে আটটি বিজেপি-শাসিত রাজ্যের। আর সবকটিতেই জিতেছে আদানি গোষ্ঠী, একা অথবা যৌথভাবে। উল্টোদিকে বিরোধী-শাসিত রাজ্যগুলোর তুলনীয় টেন্ডারে আদানি জিতেছে মাত্র একবার। পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল সরকারের আমলে তো আদানি যোগ্য বিবেচিত হয়েও টেন্ডার থেকে নিজেই সরে দাঁড়িয়েছিল। পরের পঁচিশ বছরে এই চুক্তিগুলো থেকে আদানির আয় হবে আনুমানিক ১৩.২৭ লক্ষ কোটি টাকা।

এটা নিছক কাকতালীয় নয়, এর পেছনে একটা প্যাটার্ন আছে। মহারাষ্ট্রে রাজ্য সরকার এমন একটা টেন্ডার ডাকল, যেখানে একই সংস্থাকে একসঙ্গে কয়লা আর সৌরবিদ্যুৎ দুটোই সরবরাহ করতে হবে— এমন শর্ত পূরণ করতে পারে হাতে গোনা কয়েকটা সংস্থা, তার মধ্যে আদানি অন্যতম। নিয়ম অনুযায়ী রাজ্য বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রক কমিশনের পূর্বানুমতি ছাড়া এই টেন্ডার ডাকাই বেআইনি ছিল, অথচ নির্বাচনী আদর্শ আচরণবিধির অজুহাত দেখিয়ে সেই নিয়ম এড়িয়ে যাওয়া হল। প্রতিযোগী সংস্থাগুলো প্রকাশ্যেই অভিযোগ করেছিল যে এত বড় ক্ষমতার বরাত একটামাত্র সংস্থাকে দেওয়া মানে প্রতিযোগিতাকে গলা টিপে মারা। রাজ্য সরকার তাতে কান দেয়নি। বরাত শেষ পর্যন্ত আদানির ঘরেই গেছে। রাজস্থানেও প্রায় একই ছকে একটা টেন্ডার সাজানো হয়েছিল, সাংবাদিকদের অনুসন্ধানের চাপে সেটা পরে বাতিল করতে হয়।

মধ্যপ্রদেশে গল্পটা আরও কৌশলী। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ৪১০০ মেগাওয়াটের টেন্ডারে তিনটে সংস্থা জিতেছিল, আদানি পেয়েছিল ৮০০ মেগাওয়াট। কিন্তু আগস্টে কেন্দ্রীয় কয়লা মন্ত্রক রাজ্যকে বাড়তি কয়লা বরাদ্দ করার পর রাজ্য সরকার প্রথমবারের মতো এক "গ্রিনশু অপশন" চালু করল, যাতে আগের টেন্ডারেই বাড়তি ক্ষমতা একই দামে আরও কেনা যায়— মানে নতুন করে নিলাম ডাকতে হয় না। সেপ্টেম্বরে এই বাড়তি বরাত প্রথমে দুটো সংস্থাকে দেওয়া হয়, দুজনেই প্রত্যাখ্যান করে। শেষে সেটা যায় আদানির কাছে। এক বছরের মধ্যে এটাই ছিল আদানি পাওয়ারের পঞ্চম বড় বরাত। বিহারে তো রীতিমতো লোক দেখিয়ে— সরকার এক হাজার একর জমি বছরে মাত্র এক টাকায় লিজ দিয়েছে আদানিকে কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র বানানোর জন্য। অসমে রাজ্য সরকার নিজের তহবিল থেকে টাকা দিয়ে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের বাড়তি বিদ্যুৎ কিনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, অথচ রাজ্যের নিজস্ব বিদ্যুৎকর্মী ইউনিয়নই বলেছিল এত ক্ষমতার দরকার নেই।

এই প্যাটার্নটা নতুন নয়, পুরনো ক্ষতের ওপর নতুন প্রলেপ মাত্র। ২০০৮ সালে মোদী যখন গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী, তখনই আদানি গোষ্ঠী একটা কয়লা ব্লক পেয়েছিল এমন এক নিয়মের অধীনে, যেটাকে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর নিজেই "অনুপযুক্ত" বলে চিহ্নিত করেছিল। পরে সুপ্রিম কোর্ট গোটা কয়লা বরাদ্দ প্রক্রিয়াটাই বেআইনি ঘোষণা করে বাতিল করে দেয়, অথচ মোদী সরকার এমন আইনি কৌশল করেছিল যাতে আদানির হাতে থাকা সেই ব্লকটা বহাল থেকে যায়। আজও সেখান থেকে আশি মিলিয়ন টনের বেশি কয়লা তোলা হয়ে গেছে। আর ২০২৪-এর নভেম্বরে আমেরিকার আদালত আদানি ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে— সৌরবিদ্যুৎ চুক্তি পেতে ভারতীয় সরকারি আধিকারিকদের আড়াইশো মিলিয়ন ডলারেরও বেশি ঘুষ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সেই অভিযোগের তদন্তে কেন্দ্রীয় সরকার আজও গড়িমসি করে যাচ্ছে। অথচ বিরোধী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা কয়েক কোটি টাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়ে যান, প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ শিল্পপতি দুই হাজার কোটির অভিযোগেও অবাধে ঘোরাফেরা করেন।

এই পুরো ছবিটা মিলিয়ে দেখলে স্পষ্ট হয়— এটা নিছক "Competitive Bidding"-এর গল্প নয়। যেখানে নিয়ম বাধা হয়ে দাঁড়ায়, সেখানে নিয়ম বদলে দেওয়া হয়। যেখানে নিয়ন্ত্রকের অনুমতি দরকার, সেখানে অনুমতি ছাড়াই কাজ চলে। যেখানে প্রতিযোগী সংস্থা আপত্তি তোলে, সেই আপত্তি অগ্রাহ্য হয়। শেষ পর্যন্ত বোঝা গিয়ে যায় কাদের পকেট থেকে এই দাম মেটানো হবে— সাধারণ গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল থেকে, কুড়ি-পঁচিশ বছর ধরে। রাষ্ট্র যখন একটামাত্র শিল্পগোষ্ঠীর স্বার্থরক্ষায় নিয়মকানুন বেঁকিয়ে দেয়, তখন সেটা আর বাজার অর্থনীতি থাকে না, সেটা হয়ে দাঁড়ায় রাষ্ট্রক্ষমতা আর কর্পোরেট পুঁজির এক অশুভ আঁতাত। জনগণের টাকায়, জনগণের নামে চলা এই রাষ্ট্রযন্ত্র শেষ পর্যন্ত কাদের স্বার্থরক্ষা করছে— এই প্রশ্নটা আজ আর এড়িয়ে যাওয়ার উপায় নেই।



৭৫ বছর বয়সী সাংবাদিক প্রবীর পুরকায়স্থ, নিউজক্লিকের প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক, ২০২৩ সালের ৩ অক্টোবর গ্রেপ্তার হয়েছিলেন ইউএপি...
20/06/2026

৭৫ বছর বয়সী সাংবাদিক প্রবীর পুরকায়স্থ, নিউজক্লিকের প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক, ২০২৩ সালের ৩ অক্টোবর গ্রেপ্তার হয়েছিলেন ইউএপিএ-র মতো কঠোর আইনে। অভিযোগ ছিল, তাঁর সংবাদমাধ্যম চীনপন্থী প্রচারে আর্থিক মদত পেয়েছে — একটা নিউ ইয়র্ক টাইমসের রিপোর্টের ভিত্তিতে, যার প্রমাণ আজও আদালতে দাখিল হয়নি।
২০২৪ সালের ১৫ মে সুপ্রিম কোর্ট তাঁর গ্রেপ্তার আর রিমান্ডকে "ইনভ্যালিড ইন দ্য আইজ অফ ল" বলে বাতিল করে দিয়েছিল, কারণ গ্রেপ্তারের কারণ তাঁকে লিখিতভাবে জানানো হয়নি — সংবিধানের ২২(১) অনুচ্ছেদের সরাসরি লঙ্ঘন। তারপরও তদন্তকারী সংস্থার বিরুদ্ধে কোনো শাস্তি বা জবাবদিহিতা নির্ধারিত হয়নি। ইউএপিএ-র সাজার হার সারা দেশে মাত্র ১.৫% থেকে ৪% — অর্থাৎ এই আইনে গ্রেপ্তার হওয়া প্রায় সবাই শেষ পর্যন্ত বেকসুর খালাস পান, কিন্তু তার আগে বছরের পর বছর জেলে কাটিয়ে দিতে হয়। স্ট্যান স্বামী, জিএন সাইবাবা, ওমর খালিদ, হনি বাবু — এই তালিকা দীর্ঘ।
সম্প্রতি দিল্লি হাইকোর্ট নিউজক্লিকের বিরুদ্ধে দিল্লি পুলিশের এফআইআর আর ইডির মানি লন্ডারিং মামলা খারিজ করে দিয়েছে। বিচারপতি নীনা বনসল কৃষ্ণ এই প্রক্রিয়াকে "আইনের প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত অপব্যবহার" আর স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর "ইচ্ছাকৃত আক্রমণ" বলে অভিহিত করেছেন। রায়ের পর প্রবীর পুরকায়স্থ অল্ট নিউজের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁর সাক্ষাৎকারের অংশবিশেষ নিচে দেওয়া হলো।

প্রশ্ন: দিল্লি হাইকোর্টের রায় নিয়ে আপনার প্রথম প্রতিক্রিয়া কী?

একটা স্বস্তির অনুভূতি আছে। তবে আমি এই অনুভূতিকে খুব বেশি দূর নিয়ে যেতে চাই না, কারণ অন্য মামলাগুলো এখনও চলছে, আর তারা এই রায়কেও সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করার পরিকল্পনা করছে। তাই আমরা একটা একটা করে ধাপ পার করছি। তবে এটা নিউজক্লিকের জন্য, আমার ব্যক্তিগতভাবে, আর গোটা সাংবাদিক মহলের জন্য একটা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

প্রশ্ন: গত ছয় বছরে এই অভিযোগগুলো নিউজক্লিকের ওপর কী প্রভাব ফেলেছে?

এটা প্রতিষ্ঠানের জন্য একটা বড় আঘাত ছিল, আর সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানো সহজ হয়নি। তবে এর প্রভাব শুধু প্রতিষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না — মানবিক মূল্যটাও হিসেবে ধরতে হবে। সাংবাদিকরা হঠাৎ করে চাকরি হারিয়েছেন।

প্রশ্ন: এই গোটা ঘটনায় কতজন মানুষ চাকরি হারিয়েছেন?

আমাদের দুই ধরনের কর্মী ছিলেন — বেতনভুক্ত স্টাফ সাংবাদিক, আর স্বাধীন লেখক। দুটো মিলিয়ে সংখ্যাটা প্রায় ৭৫-৮০ জন হবে।

প্রশ্ন: আপনার গ্রেপ্তারের পর নিউজরুমে কী হয়েছিল?

বিশেষ করে আমার গ্রেপ্তারের পর, এটাকে শুধু "গুরুতর প্রভাব" বললে কমই বলা হবে। প্রতিষ্ঠানটা কার্যত অচল হয়ে পড়েছিল। এটাই আসল কথা।

বেশিরভাগ মানুষ বিকল্প কাজ খুঁজতে বাধ্য হয়েছিলেন। তাঁদের পাওনা টাকা, এমনকি প্রভিডেন্ট ফান্ডের অংশও দীর্ঘদিন আটকে ছিল। আজও প্রায় ২৫-৩০ জন কঠিন পরিস্থিতিতে আছেন, বেশিরভাগটাই পার্ট টাইম কাজ করে কোনোরকমে চলছেন।

দুটো বড় কারণ এখানে কাজ করেছে। প্রথমত, তাঁদের অনেকেই পেশাগত বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেছিলেন। দ্বিতীয়ত, অনেক সংবাদমাধ্যমের কাছে নিউজক্লিক থেকে আসা কাউকে নিয়োগ করাটাই একটা প্রশ্নচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আমার মতে, এটাই গোটা ঘটনার সবচেয়ে ভয় ধরানো দিক।

প্রশ্ন: একজন সাংবাদিক হিসেবে হাইকোর্টের রায়টা পড়ার সময় আপনি এর গভীরতর তাৎপর্য কী দেখেছেন?

আমাদের শুধু ইডির মামলাটাকেই বিচ্ছিন্নভাবে দেখা উচিত নয়। আরও অনেক সন্ত্রাস-বিরোধী আইন আর প্রতিরোধমূলক আটক আইন আছে, যেগুলো রাষ্ট্রের হাতে থাকা আলাদা আলাদা হাতিয়ার।

শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা হলো, সংবাদমাধ্যমকে যদি স্বাধীনভাবে কাজ করতে না দেওয়া হয়, তাহলে কী হবে। আজকাল আপনি যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় একটা পোস্ট করেন, তখন আপনিও কি সংবাদমাধ্যমের অংশ? যোগাযোগ প্রযুক্তি যেভাবে জনপরিসর বাড়িয়েছে, সেভাবেই এই ধরনের হস্তক্ষেপের সুযোগও অনেক বেড়ে গেছে।

প্রশ্ন: ২০২৩ সালের নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনকে এই মামলার একটা টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে দেখা হয়। এখন ফিরে তাকিয়ে আপনি ওই প্রতিবেদন আর তার ভূমিকাকে কীভাবে দেখেন?

নিউ ইয়র্ক টাইমসের মতো প্রকাশনার ভারতে অনেক বিশ্বাসযোগ্যতা আছে, আর অনেকেই তাদের প্রতিবেদনকে চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করেন। আমার মতে, এনওয়াইটি একটা সন্দেহজনক ভূমিকা পালন করেছে। চীন-যোগ প্রতিষ্ঠার চেষ্টায় তারা বারবার নিউজক্লিকের একটামাত্র প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করেছিল — চীনা বিপ্লবের ঐতিহাসিক তাৎপর্য নিয়ে একটা লেখা, যাকে চীনা রাষ্ট্রীয় প্রচার বলে সমান করে দেওয়াটা হাস্যকর।

মানচিত্র সংক্রান্ত অভিযোগগুলোও একইভাবে ভিত্তিহীন। আমরা সবসময় ভারত সরকারের সার্ভেয়ার জেনারেলের প্রকাশিত মানচিত্রই ব্যবহার করতাম।

আমার মনে হয়, এই গোটা শিকার-অভিযানের পরিবেশ তৈরিতে এনওয়াইটির একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

প্রশ্ন: বিচারপতি গোটা আইনি প্রক্রিয়া নিয়েও কড়া সমালোচনা করেছেন। কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর রাজনৈতিক অপব্যবহার নিয়ে আপনার কী মত?

আমার মনে হয় না এটা শুধু একটা প্রযুক্তিগত বিষয়। আমার কাছে, এটা আরও অনেক বড় একটা প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত — মানুষ আর রাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কটা আসলে কেমন হওয়া উচিত?

আমার মনে হয়, এই রায়ের পর দুটো জিনিস ঘটতে পারে। প্রথমত, মানুষ সরকারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর বেশি সাহস পাবে। দ্বিতীয়ত, সরকার যেভাবে প্রকাশ্যে সমালোচনা দমন করার চেষ্টা করেছে, তাতে কিছুটা লাগাম পড়তে পারে।

রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তারাও হয়তো বুঝতে শুরু করবেন, আইন লঙ্ঘন করলে একদিন তাঁদেরও জবাবদিহি করতে হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার ভারসাম্য রাষ্ট্রের দিকে অসামঞ্জস্যভাবে হেলে ছিল। আমার মনে হয়, এই রায় সেই ভারসাম্যকে অন্তত কিছুটা হলেও মানুষের দিকে ফিরিয়ে দিয়েছে। আমার কাছে, এটাই একটা গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

---
সাক্ষাৎকার কৃতজ্ঞতা: অল্ট নিউজ (Alt News), ১৫ জুন, ২০২৬

Address


700011

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when আজাদ গণ মোর্চা posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to আজাদ গণ মোর্চা:

  • Want your organization to be the top-listed Government Service?

Share