An Animesh

An Animesh কিছু ব্যতিক্রমী পোস্ট... সঙ্গে থাকুন।
(2)

একটা সময় ছিল, যখন পাড়ার কাকিমা, মাসিমা, পিসিমারা ঠিক বিকেল বেলা এপাড়া থেকে ওপাড়ায় হেঁটে যেতেন একবাটি লাউশাকের চচ্চড়ি বা ...
17/08/2026

একটা সময় ছিল, যখন পাড়ার কাকিমা, মাসিমা, পিসিমারা ঠিক বিকেল বেলা এপাড়া থেকে ওপাড়ায় হেঁটে যেতেন একবাটি লাউশাকের চচ্চড়ি বা মোচার ঘন্ট হাতে নিয়ে। মুখে মিষ্টি হাসি, গলায় আন্তরিকতা — “দিদি গো, বানিয়েছিলাম। খেয়ে দেখো না!”

না, আজ আর তারা নেই। না মানে বলতে চাইছি, অনেকে আছেন শারীরিকভাবে। কিন্তু নেই সেই আন্তরিকতা, নেই সেই সম্পর্কের নিবিড় সেতুবন্ধন। এখন যদি কেউ ভুল করে দরজায় কড়া নাড়ে, সন্তান মা-বাবাকে সাবধান করে — “আঃ! আগে ভালো করে দেখে নিও, ফলিডল টলিডল মিশিয়ে কিছু এনেছে কিনা!”

একটা সময় ছিল, কোনও বৃদ্ধ মানুষকে বাজারভর্তি ব্যাগ নিয়ে হাঁটতে দেখলে একদল তরুণ হেসে হেসে তার হাত থেকে ব্যাগটা নিয়ে তাঁর দাওয়ায় তুলে দিয়ে আসছেন, গল্প করতে করতে।

আজও সেই বৃদ্ধ মানুষটিও আছেন। হাতে রয়েছে বাজার ঠাসা ব্যাগও। কিন্তু এখন চারপাশে তরুণ ঘুরে বেড়ায় মোটরবাইকে চড়ে, কানে ইয়ারফোন গোঁজা — আর তাদের মুখ থেকে শোনা যায়, “দাদু ঘাটে যাবার শখ হয়েছে নাকি? সরতে কি হয়? কানে কী হয়েছে? ন্যাবা?”

এ কেবল ভদ্রতার অবলুপ্তি নয়, এটা এক সামাজিক অবক্ষয়ের নিদর্শন।

একটা দিন ছিল, যখন গোটা পাড়া কাঁপত কিশোর-তরুণদের হইহুল্লোড়ে। গাছের আম ধ্বংস করা, রোদেলা দুপুরে পুকুর তোলপাড় করা, মাচায় আড্ডা দিতে দিতে গার্লস স্কুলের মেয়েদের ঝাড়ি মারা। আর হঠাৎ পাশের পাড়ার কেউ মারা গেলে সেই কিশোরদেরই কেউ বলত না, কিন্তু তারাই নিজেরাই যেচে স্বেচ্ছায় শববাহক হয়ে উঠত।

আজকের দিনে, সেই কিশোররাও আছে। তবে হাতে রয়েছে স্মার্টফোন। তাদের কাছে ভালোবাসা, দায়িত্ব, সামাজিকতা এখন “অ্যাপে বুকিং” করা এক যান্ত্রিক বিষয়। পাশের পাড়া তো দূর, পাশের বাড়ি বা নিজের বাড়ির কেউ মারা গেলেও তারা তাদের দামী ফোন থেকে "শববাহীযান" বুক করে দেয় - কোমরে গামছা বাঁধে না।

আগেকার নেতারা Car নয়, ভুট ভুট করা বুলেট নয়, স্রেফ সাইকেল - নাহলে পায়ে হেঁটে ঘামে ভেজা পাঞ্জাবী আর ব্যাগ কাঁধে - ভোট ফোটের সময় না, এমনিই মাঝে মাঝে নরম বিকেলে দুয়ারে দুয়ারে এসে জানতে চাইতেন - "মেজো মেয়েটার জ্বর কমেছে তো? ডাক্তার কী বলছে? সবজি চাষে মাজরা পোকা কতটা ক্ষতি করছে? বড়ো ছেলেটা ডিভিশনে খেলতে যাচ্ছে তো? ঢকঢক করে কাচের গ্লাসে জল খেতেন। সঙ্গে দুটো বাতাসা। তৃপ্তি করে। এই প্রশ্নগুলো ছিল আন্তরিকতা আর দায়িত্ববোধের পরিচয়।

আজও নেতা আছেন। তবে তিনি দূরে। তার চারপাশে পিএ, পিএ-র পিএ, দাদা, দাদার বড়দা – এক জটিল প্রটোকলের দেয়াল। পৌঁছাতে গেলে আগে দলের পতাকা ধরতে হয়, তারপর তো দেখা।

আমাদের এক্কাদোক্কা, চু-কিত-কিত, রামলীলা, ঠাকুরমার ঝুলির গল্পের সেই শৈশব — সবই আজ নিরুদ্দেশ।

আমার সেই মাস্টারমশাই নেই, যিনি বলতেন — "তোর সার্টিফিকেট দেখে যদি বুঝতে হয় তুই শিক্ষিত - সেই সার্টিফিকেটের মাথায় মারি ঝাঁটার বাড়ি"।

আজকের শিক্ষা কেবল নম্বর, কেবল গ্রেড, কেবলমাত্র একটা রেজাল্ট।

হারিয়ে যাচ্ছে পাড়ার মাচায় সন্ধ্যার আড্ডা, যেখানে পিকাসো থেকে রবীন্দ্রনাথ, নন্দীগ্রাম থেকে কালীঘাট নিয়ে তরতাজা আলোচনা — সেও নেই।

এখনকার মাচা মানে ফাঁকা জায়গা, অথবা সেটিও নেই — সেখানে এখন পার্কিং কিংবা ফ্রী ফায়ার বা পাব-জীর আসর।

হারিয়ে যাচ্ছে সেই কলতলা, যেখানে একবালতি জল ফেলতে ফেলতে চলত জীবনের নানা গল্প, কিংবা লাইব্রেরির পাতার ফাঁকে গোঁজা চিঠির প্রেম — সব আজ ডিলিট বাটনের নিচে চাপা পড়ে গেছে।

ভোরের আজান আর শুকসারির গানের সুর একসাথে মিশে যে বাতাসে আমাদের মন ছুঁয়ে যেত — সেই বাতাসে এখন কেবল গন্ধবিহীন এয়ারফ্রেশনার।

আমাদের 'আমি'র নিরুদ্দেশ যাত্রা...

নিরুদ্দেশ হচ্ছে কেবল আমাদের চারপাশ নয় — নিরুদ্দেশ হচ্ছে আমাদের নিজস্ব 'আমি'।

নিরুদ্দেশ হচ্ছে সেই পরিবার, যেখানে একসাথে খাওয়া, গল্প বলা, মন খারাপ করা — সবই হতো ভাগ করে।

নিরুদ্দেশ হচ্ছে সেই পাড়া, যেখানে একসাথে উৎসব, একসাথে শোক, একসাথে বেঁচে থাকা ছিল।

নিরুদ্দেশ হচ্ছে সেই গ্রাম, সেই শহর, সেই স্বদেশ — যেখানে মানুষ ছিল মানুষের পাশে।

এই নিরুদ্দেশতা শুধুই পুরনো সময়ের স্মৃতি নয় — এ এক সামাজিক সঙ্কটের প্রতিচ্ছবি। আমরা কি পারি না আবার খুঁজে পেতে, সেই মানুষগুলোকে, সেই সম্পর্কগুলোকে, সেই শিকড়গুলোকে?

হয়তো সময় বদলাবে, মানুষ বদলাবে — কিন্তু সম্পর্ক, সংস্কৃতি, সহানুভূতি, ভদ্রতা — এসব যে মানবসমাজের মেরুদণ্ড, তা ভুললে চলবে না।

নিরুদ্দেশ হয়ে যাওয়া জিনিসগুলোকে আমরা হয়তো ফিরে আনতে পারব না ঠিক আগের মতো করে। কিন্তু কিছুটা হলেও যদি চেষ্টা করি, তবে আবার তৈরি হতে পারে এক নতুন পাড়া, এক নতুন পরিবার, এক নতুন আমি।

✍️ An Animesh An Animesh

বড় ছেলে ক্যানাডায়, বাকি দুই ছেলে আর এক মেয়ে আমেরিকায়—বিদেশে প্রতিষ্ঠিত, স্বচ্ছল, উচ্চশিক্ষিত, সফল। অথচ যে বাবা তাঁদের জ...
17/08/2026

বড় ছেলে ক্যানাডায়, বাকি দুই ছেলে আর এক মেয়ে আমেরিকায়—বিদেশে প্রতিষ্ঠিত, স্বচ্ছল, উচ্চশিক্ষিত, সফল। অথচ যে বাবা তাঁদের জন্য দিনরাত সংগ্রাম করেছেন, সেই বাবাই একা ঘরের কোণে পড়ে থেকেছেন শেষ সময়ে। ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে গেছেন। তাঁর পাশে দাঁড়াবার মতো একজন সন্তানও আসেনি। শেষ দিনগুলোতেও তাঁকে লোকের দরজায় গিয়ে হাত পাততে হয়েছে। কারণ পেট চালানোর জন্য টাকার দরকার ছিল। ভাবুন, কী ভয়ংকর পরিণতি!

একসময় বেসরকারি একটি কোম্পানির কর্মচারী ছিলেন মৃদুল বাবু। চার সন্তানের জনক তিনি। সন্তানদের মানুষ করতে গিয়ে জীবনের প্রতিটি আয়-রোজগার খরচ করেছেন তাঁদের জন্য। এমনকি তাঁর PF এর টাকাটাও জমা রেখে লোন নিয়ে সন্তানকে উচ্চ শিক্ষায় বিদেশে পাঠিয়েছিলেন।

কিন্তু তাঁর একটিমাত্র সন্তান অনিয়মিত কিছু মাসোহারা ছাড়া তাঁদের খোঁজ পর্য্যন্ত নেয় না।

সন্তান যদি মেধাবী হয়, মা-বাবা তাঁকে গড়ে তুলতে সবকিছু উজাড় করে দেন। বাড়ি বিক্রি করেন, সোনা-গহনা বিক্রি করেন, নিজের স্বপ্ন ত্যাগ করেন। সন্তানের সাফল্যে তাঁদের আনন্দের সীমা থাকে না। কিন্তু সেই সন্তানেরাই যখন উচ্চ পদে পৌঁছে যান, বিদেশে বাস করতে শুরু করেন, তখন অনেক সময় বাবা-মা হয়ে ওঠেন অবহেলিত।

এই চরম অথচ নিষ্ঠুর সত্যটি একবার বৃদ্ধাশ্রমে গিয়ে দেখুন। পরিসংখ্যানই বলছে—৯০% মা-বাবা যারা সেখানে আছেন, তাঁদের সন্তানেরা উচ্চশিক্ষিত, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, সেনা অফিসার, সচিব কিংবা বিদেশে প্রতিষ্ঠিত।

কিন্তু গরিব পরিবারের সন্তানরা যত কষ্টই পাক, বাবা-মাকে ফেলে রাখার ঘটনা তুলনামূলক কম।

অথচ যারা “সভ্য, শিক্ষিত, ভদ্র” পরিচয়ে নিজেদের বড় বলে মনে করেন, তাঁরাই অনেক বেশি দায়ী এই অমানবিক দৃশ্যের জন্য।

এখানে প্রশ্ন জাগে—শিক্ষা যদি আমাদের মানবতা না শেখায়, তবে সেই শিক্ষার মূল্য কী? ডিগ্রি, পদ, অর্থ, গাড়ি, বিদেশের চাকরি—এসবই যদি বাবা-মায়ের চোখের জল শুকাতে না পারে, তবে এই সাফল্যই বা কোন কাজে?

সন্তানদের বড় করতে গিয়ে মা-বাবা দিনরাত কষ্ট করেছেন, অনাহারে থেকেছেন, সমাজের তিরস্কার সহ্য করেছেন। অথচ সেই সন্তানরাই আজ বাবা-মাকে অমানবিক পরিণতির দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। এটা কি শিক্ষার অর্জন, নাকি শিক্ষার ব্যর্থতা?

শেষে একটা কথা বলতেই হয়—যে মেধা, যে শিক্ষা, যে সাফল্য বাবা-মাকে একা ফেলে দেয়, এমন মেধা বা শিক্ষার সত্যিই কি প্রয়োজন আছে? মানবতা ছাড়া সেই মেধা অমানুষকে আরও অমানবিক করে তোলে।

প্রশ্নটা আমাদের সবার সামনে—আমরা কেমন সন্তান হয়ে উঠছি? বাবা-মা আমাদের জন্য জীবন কাটিয়ে দিয়েছেন, আমরা কি তাঁদের শেষ সময়ে পাশে থাকব, নাকি উচ্চশিক্ষার দম্ভে তাঁদের পরিত্যাগ করব? উত্তরটা আমাদের হাতেই।

✍️ An Animesh An Animesh

আমাদের মুখ থেকে বের হওয়া প্রতিটি শব্দের ভেতরে লুকিয়ে থাকে একপ্রকার শক্তি, আবেগ ও প্রভাব। ভালো কথা যেমন একজন মানুষের মন...
16/08/2026

আমাদের মুখ থেকে বের হওয়া প্রতিটি শব্দের ভেতরে লুকিয়ে থাকে একপ্রকার শক্তি, আবেগ ও প্রভাব। ভালো কথা যেমন একজন মানুষের মনকে আশীর্বাদের মতো ছুঁয়ে যায়, তেমনি তির্যক বা কঠিন কথা অন্যের বুকের ভেতর বিষের মতো ঢুকে যায়। কিন্তু আমরা প্রায়ই বুঝতে পারি না, আমাদের অবহেলায় বলা একেকটা বাক্য কারো জীবনে কতটা গভীর ক্ষত তৈরি করতে পারে।

ভাবুন তো, যদি সত্যিই মানুষের বলা কথাগুলো খেতে হতো? যে শব্দ বের করলাম, সেটাই যদি আমাদের থালায় পরিবেশন হয়ে আসতো?

সুন্দর, ভদ্র, কোমল বাক্যগুলো হতো মিষ্টি, সুস্বাদু। কারো প্রশংসা করলে, ভালোবাসা জানালে, উৎসাহ দিলে মনে হতো যেন মধু খাচ্ছি। কিন্তু যেদিন রাগে বা অভিমানে আমরা কাউকে কটু কথা বলি, অপমান করি, ব্যথা দিই—সেদিন সেই শব্দগুলো যদি খেতে হতো, তবে মনে হতো বিষাক্ত কোনো ফল খেয়ে গলা জ্বলে যাচ্ছে। তিতা, কর্কশ, অখাদ্য।

মানুষ তখনই হয়তো বুঝতো, কথার ওজন কেমন। কারণ চোখের আঘাতের ক্ষত দেখা যায়, কিন্তু কথার আঘাত অদৃশ্য থেকেও অন্তরকে রক্তাক্ত করে। আমরা প্রায়ই বলি—“আমি তো শুধু মজা করেই বলেছিলাম” কিংবা “রাগের মাথায় বেরিয়ে গেছে”—কিন্তু যার ওপর পড়ে, সে জানে কষ্ট কতখানি।

কথা একবার মুখ থেকে বের হলে আর ফেরানো যায় না। আপনি হয়তো পরে ক্ষমা চাইতে পারেন, কিন্তু আঘাতটা থেকে যায়। যেমন একটা কাগজ একবার ছিঁড়ে ফেললে যতই আঠা লাগান, দাগ থেকে যায়। তেমনি তিতা কথার ক্ষতও সহজে মুছে যায় না।

ভেবে দেখুন, আপনার একটুখানি কঠিন বাক্যের জন্য কেউ হয়তো পুরো রাত কেঁদেছে, কারো আত্মসম্মান ভেঙে গেছে, কেউ আবার ভিতরে ভিতরে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছে। অথচ আপনি হয়তো ভুলেই গেছেন, কখন কি বলেছিলেন। কিন্তু তার ভেতরে সেই শব্দগুলো প্রতিধ্বনি হয়ে বাজতে থেকেছে।

কথা শুধু আঘাত দেয় না, বরং বাঁচাতেও পারে। একটুখানি ভালোবাসার বাক্য, একটুখানি সাহস দেওয়া কথা কারো জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। আপনি হয়তো জানেনও না, আপনার বলা কোনো প্রশংসা, কোনো আন্তরিক শুভেচ্ছা, কোনো সহানুভূতির বাক্য একজন মানুষকে বাঁচিয়ে রাখতে পারে।

তাই কথার ক্ষেত্রে আমাদের দায়িত্ব সবচেয়ে বড়। কথা বলার আগে এক মুহূর্ত ভেবে দেখা দরকার—এটা কি শুনে অন্যের ভালো লাগবে, নাকি কষ্ট পাবে? কারণ আমরা যদি নিজের বলা কথাই একদিন খেতে বাধ্য হতাম, তাহলে নিশ্চিতভাবে চাইতাম প্রতিটি বাক্য যেন মিষ্টি হয়, অন্তত খাওয়ার মতো হয়।

সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অনুশোচনা হলো নিজের মুখের কথায় নিজের কাছে তিতা লাগা। যখন বুঝবো, অকারণে কাউকে আঘাত করেছি, অকারণে কারো চোখে জল এনে দিয়েছি—তখন সেই অপরাধবোধ চেপে বসবে বুকের ওপর।

তাই কথার আগে ভেবে বলা, মনে মেপে বলা সবচেয়ে বড় প্রজ্ঞা। কারণ কথার কোনো ওষুধ নেই। ভাঙা সম্পর্ক হয়তো জোড়া লাগানো যায়, ভুল হয়তো মাফ করে দেওয়া যায়, কিন্তু কথার দাগ থেকে যায় সারা জীবন।

মানুষ যদি সত্যিই নিজের কথাগুলো খেতে পারতো, তবে হয়তো পৃথিবীতে ঝগড়া, অপমান, কষ্ট অনেক কমে যেত।

✍️ An Animesh An Animesh

বৃদ্ধাশ্রমে এক বৃদ্ধ বসে আছেন বারান্দায়, হাতে পুরোনো একটা ছবি—ছোটবেলায় ছেলেটা স্কুলের পোশাকে হেসে দাঁড়িয়ে আছে। চোখে ...
15/08/2026

বৃদ্ধাশ্রমে এক বৃদ্ধ বসে আছেন বারান্দায়, হাতে পুরোনো একটা ছবি—ছোটবেলায় ছেলেটা স্কুলের পোশাকে হেসে দাঁড়িয়ে আছে। চোখে জল এসে ভেসে ওঠে স্মৃতি। মনে পড়ে—কত যত্নে মানুষ করেছিলেন, কত সতর্কতায় আগলে রেখেছিলেন পৃথিবীর কাঁটা থেকে। কিন্তু আজ সেই ছেলেটাই আর পাশে নেই। প্রশ্ন জাগে—শুধুই কি ছেলেটাই দোষী?

আমরা প্রায়ই বলি, “এই প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা কত অকৃতজ্ঞ! মা-বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে নিশ্চিন্তে থাকে।” কিন্তু কখনও ভেবেছেন, তারা এমন হলো কীভাবে? একটা শিশু তো জন্ম থেকেই ভালোবাসা নিয়ে জন্মায়, সহানুভূতি নিয়ে। তারপর ধীরে ধীরে আমরা নিজেরাই তার সেই মানবিকতাটা মুছে ফেলি।

যখন বলি—
“টিফিন অন্যকে দিবি না, নিজে খাস।”
“খাতা কাউকে ধার দিবি না।”
“বন্ধুর মা যদি জিজ্ঞেস করে কার কাছে পড়িস, কিছু বলবি না, মিথ্যে বলবি।”
তখন আমরা বুঝে না বুঝে ওদের শেখাচ্ছি—দেওয়া মানেই ক্ষতি, ভাগ করা মানেই বোকামি।

সন্তানের মঙ্গলের কথা ভেবেই এসব বলা হয়, কিন্তু এর মধ্যেই ঢুকে যায় স্বার্থপরতার বীজ। ছোট থেকেই ওরা শেখে—নিজেকে বাঁচাও, নিজেরটা আগে ভাবো। ফলাফল, বড় হয়ে যখন দেখে বাবা-মা অসুস্থ, নির্ভরশীল, তখন সেই শৈশবের শেখা কথাগুলোই মাথায় বাজে—“নিজেকে আগে দেখো।” আর তখনই শুরু হয় দূরত্ব, অজুহাত, আর শেষমেশ বৃদ্ধাশ্রম।

তাহলে দোষটা কার?
শুধু ছেলের নয়। দোষ আমাদের সমাজের, আমাদের মানসিকতার। আমরা সন্তানের কাছে ‘মানুষ’ চাই না, চাই ‘বুদ্ধিমান মেশিন’। ভালো নম্বর, চাকরি, বেতন—এই তিনটাকেই সফলতার মানদণ্ড বানিয়ে ফেলেছি। অথচ ওদের শেখাইনি—মানুষ হওয়াটাই আসল সাফল্য।

বৃদ্ধাশ্রম মানেই পরিত্যাগ নয়, কখনও কখনও প্রয়োজনে সেখানে থাকা দরকারও হতে পারে। কিন্তু প্রশ্নটা থাকে—সেই প্রয়োজনটা কেন এত নিঃসঙ্গ, কেন এত আত্মিক দূরত্বে ভরা? উত্তরটা লুকিয়ে আছে শৈশবে শেখানো সেই ছোট ছোট কথাগুলোর ভেতরেই।

তাই এখনো সময় আছে। সন্তানের মনে ভালোবাসা, সহানুভূতি, মমতা রোপণ করুন। তাকে শেখান ভাগ করতে, সাহায্য করতে, মিথ্যে না বলতে, সম্পর্ককে মূল্য দিতে। ও বুঝুক—মানুষ হওয়াই সবচেয়ে বড় অর্জন।

তখন একদিন, বৃদ্ধাশ্রমের ঘরে কোনো মা হয়তো একই পুরোনো ছবি হাতে নিয়ে হাসবেন—এই ভেবে যে, তাঁর ছেলেটা এখনো সেই ছোটবেলার মতোই, মানবিক আর আপন।

✍️ An Animesh An Animesh

একটা প্রশ্ন করি, আচ্ছা! আপনি Facebook ব্যবহার করছেন, নাকি Facebook আপনাকে ব্যবহার করছে?হয়তো উত্তর দেবেন, “আমি তো নিজের ...
14/08/2026

একটা প্রশ্ন করি, আচ্ছা! আপনি Facebook ব্যবহার করছেন, নাকি Facebook আপনাকে ব্যবহার করছে?

হয়তো উত্তর দেবেন, “আমি তো নিজের ইচ্ছাতেই Facebook খুলি!”

কিন্তু একটু ভেবে বলুন। সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রথম কাজ কী?

ফোন হাতে নেওয়া। প্রথমে Notification দেখলেন। তারপর Facebook খুললেন। একটা পোস্ট দেখলেন, তারপর আরেকটা। তারপর Reel। তারপর আরেকটা Reel।

ভাবতে ভাবতে কখন যে ৩০ মিনিট, ১ ঘণ্টা চলে গেল, আপনি বুঝতেই পারলেন না।

Facebook-এর মতো Social Media Platform-এর কাছে আপনার সবচেয়ে মূল্যবান জিনিস আপনার টাকা নয়। আপনার Attention।

আপনি যত বেশি সময় Facebook-এ থাকবেন, তত বেশি কনটেন্ট দেখবেন, তত বেশি বিজ্ঞাপন দেখবেন, আর তত বেশি আপনার Attention-এর মূল্য তৈরি হবে।

আপনি ভাবছেন, “আমি তো শুধু একটু Timepass করছি।”

কিন্তু সেই একটু একটু করেই প্রতিদিন আপনার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় চলে যাচ্ছে।

ধরুন, আপনি প্রতিদিন মাত্র ২ ঘণ্টা Facebook-এ কাটান।

এক বছরে সেটা প্রায় ৭৩০ ঘণ্টা।

অর্থাৎ ৩০ দিনের বেশি সময়!

একবার ভাবুন, এই ৭৩০ ঘণ্টা যদি আপনি নিজের Skill শেখা, ব্যবসা, পড়াশোনা, শরীরচর্চা, পরিবার কিংবা নিজের ভবিষ্যতের জন্য ব্যবহার করতেন, তাহলে এক বছরে আপনার জীবন কতটা বদলাতে পারত?

আর একটা বিষয় আরও গুরুত্বপূর্ণ।

Facebook শুধু আপনার সময় নেয় না। অনেক সময় আপনার মনের অবস্থাও প্রভাবিত করে।

অন্যের সুন্দর বাড়ি দেখছেন। কারও বিদেশ ভ্রমণ দেখছেন। কারও নতুন গাড়ি দেখছেন। কারও সাফল্যের গল্প দেখছেন।

তারপর নিজের জীবনের সঙ্গে তুলনা করছেন।

অথচ আপনি দেখছেন তাদের জীবনের কয়েকটি সাজানো মুহূর্ত, আর তুলনা করছেন নিজের পুরো জীবনের সঙ্গে।

ফলে আপনার কাছে নিজের জীবনটাই ছোট মনে হতে শুরু করে।

তাই Facebook খারাপ নয়। সমস্যা হলো Facebook কীভাবে ব্যবহার করছেন।

আপনি যদি জ্ঞান, শিক্ষা, ব্যবসা, যোগাযোগ এবং ভালো কনটেন্টের জন্য ব্যবহার করেন, তাহলে Facebook আপনার শক্তিশালী হাতিয়ার হতে পারে।

কিন্তু যদি ঘণ্টার পর ঘণ্টা শুধু Scroll করেন, তাহলে একটা সময় বুঝবেন, আপনি Facebook ব্যবহার করছিলেন না। Facebook আপনার Attention ব্যবহার করছিল।

তাই আজ থেকে Facebook খোলার আগে নিজেকে একটা প্রশ্ন করুন,

“আমি এখানে কেন এসেছি?”

উত্তর যদি না থাকে, তাহলে হয়তো ফোনটা বন্ধ করার সময় এসেছে।

কারণ আপনার জীবনের সবচেয়ে দামি জিনিস টাকা নয়।

আপনার সময়।

✍️ An Animesh An Animesh

১৮৫৯ সালের এক অন্ধকারময় রাত। ভারতের রাজপুতানার প্রান্তে অবস্থিত ঝোপঝাড়ে ঘেরা ছোট্ট এক দুর্গ, যার চারপাশে ঘন জঙ্গল আর প...
14/08/2026

১৮৫৯ সালের এক অন্ধকারময় রাত। ভারতের রাজপুতানার প্রান্তে অবস্থিত ঝোপঝাড়ে ঘেরা ছোট্ট এক দুর্গ, যার চারপাশে ঘন জঙ্গল আর পাহাড়ের ভাঁজে লুকিয়ে থাকা এক সাহসী যোদ্ধা – রামচন্দ্র পান্ডুরং ইয়েওয়ালকর। তিনি জানতেন, ব্রিটিশ সেনারা তাঁর পিছু নিয়েছে, কিন্তু তবুও অদম্য চিত্তে পরিকল্পনা করে চলেছিলেন এক নতুন আঘাতের।

তাঁর সঙ্গে ছিলেন অল্প কয়েকজন অনুগত যোদ্ধা। তাঁরা গোপন সঙ্কেত ও ছায়ার মতো চলাফেরা করতেন। দৃষ্টির আড়ালে থেকেও ব্রিটিশদের ঘুম হারাম করে দিয়েছিলেন তিনি।

কিন্তু এইবার খেলাটা ছিল অন্যরকম।

১৮৫৭ সালে যখন সিপাহী বিদ্রোহ শুরু হয়, তখন রামচন্দ্র পান্ডুরং, ঝাঁসির রানী লক্ষ্মীবাই, নানাসাহেব ও অন্যান্য বিদ্রোহীদের সঙ্গে একত্রিত হন। ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে তিনি অসাধারণ গেরিলা কৌশল অবলম্বন করে বহু যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন।

ঝাঁসির যুদ্ধে তিনি রানী লক্ষ্মীবাইয়ের পাশে থেকে ইংরেজ সেনাদের রীতিমতো নাকানিচোবানি খাইয়ে দেন। তাঁর কৌশল ছিল দ্রুত আক্রমণ করে স্থান পরিবর্তন, যাতে ব্রিটিশ বাহিনী বিভ্রান্ত হয়ে পড়ত। একবার তো তিনি ইংরেজদের সেনাঘাঁটিতে ভুয়া চিঠি পাঠিয়ে ভুল বার্তা ছড়িয়ে দেন, আর সেই ফাঁকে তিনি নিজে সৈন্য নিয়ে অন্য অঞ্চল দখল করে নেন। ব্রিটিশ বাহিনী এক বছরেরও বেশি সময় ধরে তাকে দমন করতে ব্যর্থ হয়।

বিদ্রোহের পর ব্রিটিশরা তাঁর ওপর পুরস্কার ঘোষণা করে। কিন্তু তিনি ছিলেন এক কৌশলী পালিয়ে বেড়ানোর মাস্টার। তিনি কখনও গোপনে বিদর্ভে, কখনও রাজপুতানায়, কখনও মধ্যপ্রদেশের গভীর অরণ্যে গেরিলা যুদ্ধ চালিয়ে যান।

রাজা মনসিংহ, যার সঙ্গে রামচন্দ্র পান্ডুরং যুদ্ধের সময় জোট বেঁধেছিলেন।
এক রাতে তাঁকে গোপনে আমন্ত্রণ জানান মনসিংহ।
বলেছিলেন—
"আসুন, এখানে নিরাপদে থাকুন। ব্রিটিশরা এখানে ঘেঁষতেও পারবে না। আমার দুর্গ আপনার জন্য খোলা।"

রামচন্দ্র পান্ডুরং কিছুটা দ্বিধায় পড়লেও নিজের পুরনো সম্পর্কের খাতিরে সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন। তাঁর সহযোদ্ধারা সন্দেহ করলেও, তিনি বিশ্বাসঘাতকতার গন্ধ পাননি।

মনসিংহের প্রাসাদে ঢোকার পর রামচন্দ্র একটি ছোট্ট কক্ষে বিশ্রাম নিতে যান। বাইরে পাহারা বসানো হয়েছে – কথিত “রক্ষীরা”। কিন্তু সেই পাহারার আড়ালেই লুকিয়ে ছিল ব্রিটিশ গোয়েন্দা।

রাত ঠিক তিনটা। হঠাৎই দরজায় প্রবল শব্দ। ঘরের জানালা দিয়ে আলোর ঝলকানি – ব্রিটিশ সেনারা হানা দিয়েছে। তিনি বুঝতে পারেন, তিনি ধরা পড়েছেন। ছুরি হাতে প্রতিরোধের চেষ্টা করেন, কিন্তু গায়ে ক্লান্তি, সৈন্য নেই পাশে। আধাঘণ্টার মাথায় তাঁকে জোরপূর্বক বন্দি করা হয়।

ব্রিটিশ অফিসার ক্যাপ্টেন হার্ডিং চিৎকার করে বলেন—
"Catch him alive! He is more dangerous than ten thousand men!"

রামচন্দ্র পান্ডুরং বন্দি অবস্থাতেও মাথা নিচু করেননি। ব্রিটিশদের মুখের দিকে তাকিয়ে কড়া ভাষায় বলেন—
"আমি ধরা পড়েছি, কিন্তু আমার বিশ্বাস ধরা পড়েনি। একদিন ভারত জেগে উঠবেই!"

মনসিংহ, মুখ ঘুরিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন – চোখে লজ্জার ছায়া। কিন্তু খুব দেরি হয়ে গেছে। একজন ইতিহাসের নায়ক সেই রাতে বন্দি হয়েছিলেন, কিন্তু তাঁর কাহিনি রয়ে গেছে চির জাগরুক।

কয়েক সপ্তাহ পরে রামচন্দ্র কে বিচারে দাঁড় করানো হয়। আদালত তাঁকে দেশদ্রোহী হিসাবে আখ্যা দেয়।
১৮৫৯ সালের ১৮ এপ্রিল তাঁর ফাঁসি হয়।
কিন্তু ব্রিটিশরা বুঝতে পারেনি— তারা রামচন্দ্র পান্ডুরং তোপে কে ফাঁসিতে ঝোলালেও, তিনি আগামীর বিপ্লবীদের কাছে আদর্শ হয়ে আর ভারতের ইতিহাসে বীর সংগ্রামী তাঁতিয়া টোপে নামেই জীবিত থেকে যান।

✍️ An Animesh An Animesh

আচ্ছা, কী মনে হয়? ধনীরা কি হঠাৎ করেই Luck-এর জোরে টাকার পাহাড় বানিয়ে ফেলেছে?সত্যি বলতে, সবাই ভাগ্যের ওপর নির্ভর করেনি...
13/08/2026

আচ্ছা, কী মনে হয়? ধনীরা কি হঠাৎ করেই Luck-এর জোরে টাকার পাহাড় বানিয়ে ফেলেছে?

সত্যি বলতে, সবাই ভাগ্যের ওপর নির্ভর করেনি। তারা এমন এক Game খেলেছে, যার নিয়ম তোমাকে হয়তো কেউ শেখায়নি।

স্কুল-কলেজ তোমাকে শিখিয়েছে কীভাবে পরীক্ষায় পাশ করতে হয়, কীভাবে একটা চাকরি খুঁজতে হয়। কিন্তু খুব কম ক্ষেত্রেই শেখানো হয়েছে কীভাবে Wealth Create করতে হয়, কীভাবে Asset Build করতে হয়, কিংবা কীভাবে টাকাকে নিজের জন্য কাজ করাতে হয়।

আর এখানেই আসল Difference।

এই লেখা তাদের জন্য নয়, যারা শুধু একই Routine মেনে জীবন কাটাতে চায়। এটা তাদের জন্য, যারা নিজের Mindset বদলাতে চায়, নিজের সীমাবদ্ধতা ভাঙতে চায় এবং জীবনের Financial Freedom নিয়ে সিরিয়াস।

📌 Rule No. 1: নীরবতা

ধনীরা সবসময় ঢাকঢোল পিটিয়ে কাজ করে না।

তারা নীরবে Investment করে, ব্যবসা বাড়ায়, Asset তৈরি করে। আর আমরা অনেক সময় কাজ শুরু করার আগেই Social Media-তে তার ঘোষণা দিয়ে ফেলি।

মনে রাখো, Announcement নয়, Action-ই আসল।

যে মানুষ প্রতিদিন নিজের পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলে, সে সবসময় কাজ করে না। আর যে মানুষ নীরবে নিজের কাজ করে যায়, একদিন তার Result-ই কথা বলে।

📌 Rule No. 2: Network

তুমি কার সঙ্গে প্রতিদিন সময় কাটাচ্ছো, সেটা তোমার ভবিষ্যতের ওপর বড় প্রভাব ফেলে।

ধনীরা শুধু পরিচিত মানুষের সংখ্যা বাড়ায় না, তারা Quality Network তৈরি করে।

যারা নতুন কিছু শেখায়, নতুন Opportunity দেখায়, সাহস দেয় এবং দরজা খুলতে সাহায্য করে, তাদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ ভুল মানুষের সঙ্গে বেশি সময় কাটালে তোমার Energy কমে যায়, আর সঠিক মানুষের সঙ্গে থাকলে তোমার চিন্তার পরিধি বাড়ে।

তাই শুধু বন্ধু বেছে নিও না। নিজের Environment-টাও বেছে নাও।

📌 Rule No. 3: Be Your Own Boss

৯-৫-এর চাকরি খারাপ নয়। কিন্তু শুধু বেতনের ওপর নির্ভর করে সারাজীবন চললে Financial Freedom পাওয়া কঠিন হতে পারে।

ধনীরা বোঝে, Income-এর পাশাপাশি Ownership তৈরি করতে হয়।

ব্যবসা হতে পারে, Investment হতে পারে, Intellectual Property হতে পারে, কিংবা এমন কোনো Asset হতে পারে যা ভবিষ্যতে Income তৈরি করবে।

অন্য কেউ তোমাকে বেতন দেবে, আর তুমি সেই টাকা দিয়ে খরচ চালাবে।

অন্যদিকে Ownership থাকলে তোমার তৈরি করা Asset তোমার হয়ে কাজ করতে পারে।

Income তোমাকে বাঁচিয়ে রাখে, Ownership তোমাকে এগিয়ে নিতে পারে।

📌 Rule No. 4: ঋণকে শুধু ভয় নয়, বুঝতে শেখো

আমাদের অনেককে শেখানো হয়েছে, ঋণ মানেই বিপদ।

কিন্তু সব ঋণ এক নয়।

যে ঋণ কোনো Income Generating Asset তৈরি করতে সাহায্য করে এবং যার repayment পরিকল্পিতভাবে করা যায়, সেটাকে আর ভোগের জন্য নেওয়া ঋণের সঙ্গে এক করে দেখা ঠিক নয়।

অন্যদিকে শুধু গাড়ি, দামি ফোন বা Lifestyle Upgrade দেখানোর জন্য অতিরিক্ত ঋণ নেওয়া ভবিষ্যতের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে।

সহজ কথায়,

যে Debt তোমার Income বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি করে, সেটাকে বোঝার চেষ্টা করো। আর যে Debt শুধু তোমার খরচ বাড়ায়, সেটার ব্যাপারে সতর্ক থাকো।

📌 Rule No. 5: Money Making System তৈরি করো

চাকরিতে অনেক সময় তুমি নিজের Time-এর বিনিময়ে Income পাও।

তাই সময়ের একটা সীমা আছে।

কিন্তু ব্যবসা, Investment বা Digital Asset-এর মতো কিছু Scalable System তৈরি করা গেলে একই সময়কে বারবার ব্যবহার করার সুযোগ তৈরি হয়।

তুমি ঘুমাচ্ছো, তবুও যদি কোনো Business Process, Investment বা Digital Product তোমার জন্য Income তৈরি করতে থাকে, তখন তুমি শুধু নিজের সময় বিক্রি করছো না।

তুমি একটা System Build করছো।

📌 Rule No. 6: প্রতিদিন শেখো

ধনীরা সব জানে না। কিন্তু তারা জানে যে তাদের আরও শিখতে হবে।

তাই তারা বই পড়ে, নতুন Skill শেখে, অভিজ্ঞ মানুষের কাছ থেকে শেখে, নিজের ভুল Analyze করে।

আজ তুমি যে Skill শিখছো, সেটা হয়তো আজই টাকা দেবে না।

কিন্তু Knowledge + Skill + Consistency দীর্ঘমেয়াদে তোমার Market Value বাড়াতে পারে।

তাই প্রতিদিন অন্তত কিছুটা সময় নিজের Self-Improvement-এর জন্য রাখো।

📌 Rule No. 7: Sell করতে শেখো

একটা কঠিন সত্য হলো, পৃথিবীতে ভালো Skill থাকার পাশাপাশি সেটার Value Communicate করতেও জানতে হয়।

কেউ Product বিক্রি করে, কেউ Service, কেউ নিজের Expertise, কেউ Personal Brand।

তুমি যত ভালো কাজই করো না কেন, মানুষ যদি না জানে তুমি কী Value দিতে পারো, তাহলে সেই Skill-এর বাজার তৈরি করা কঠিন।

তাই Selling মানে শুধু কিছু বিক্রি করা নয়। Selling মানে নিজের Value বোঝাতে পারা।

এই সাতটি Rule কোনো Get Rich Quick Formula নয়।

শুধু এগুলো পড়ে আগামী বারো মাসে কেউ ধনী হয়ে যাবে, এমন Guarantee দেওয়াও ঠিক নয়।

কিন্তু তুমি যদি নিজের Mindset, Network, Skill, Income এবং Asset Building নিয়ে সিরিয়াসভাবে কাজ শুরু করো, তাহলে বারো মাস পর অন্তত তুমি আগের মানুষটি থাকবে না।

কারণ Wealth শুধু টাকা দিয়ে তৈরি হয় না।

Wealth প্রথমে তৈরি হয় Mindset-এ, তারপর Skill-এ, তারপর Action-এ।

মনে রেখো, তোমার ভবিষ্যৎ ভাগ্য লিখবে না।
তোমার প্রতিদিনের Decision-গুলোই ধীরে ধীরে সেই ভবিষ্যৎ তৈরি করবে।

✍️ An Animesh An Animesh

আজ থেকে আঠারো বছর আগে আপনার কোল আলো করে একটা শিশু এসেছিল। তখন ওর প্রতিটি হাসি, প্রতিটি প্রথম পদক্ষেপ, প্রতিটি ছোট্ট সাফল...
12/08/2026

আজ থেকে আঠারো বছর আগে আপনার কোল আলো করে একটা শিশু এসেছিল। তখন ওর প্রতিটি হাসি, প্রতিটি প্রথম পদক্ষেপ, প্রতিটি ছোট্ট সাফল্যে আপনি গর্বিত হয়েছেন। চোখের পলকেই সেই শিশুটি এখন আঠারো বছরের যুবক/যুবতী।

এখন আর সে কেবল আপনার বাচ্চা নয়, এখন ও জীবনের নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করছে—যেখানে নিজে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, নিজে দায়িত্ব নিতে হবে, আর নিজেকে প্রমাণ করতে হবে। মা-বাবা হিসেবে আপনার সবচেয়ে বড় কাজ হলো তাকে এই যাত্রার জন্য প্রস্তুত করে দেওয়া।

১. দায়িত্ব দিন

আঠারো পেরোনো মানেই ওকে এখন কিছু দায়িত্ব দিতে হবে। যেমন—ছোট ভাইবোনদের পড়ানো বা দেখাশোনা করা, ঘরে ছোটখাটো সমস্যা সামলানো, এমনকি বিদ্যুৎ বিল বা গ্যাস বিল জমা দেওয়ার মতো কাজও দেওয়া যায়। এইসব কাজে প্রথমে গড়িমসি করবে, ভুলও করবে। কিন্তু একবার দায়িত্ব নেওয়ার স্বাদ পেয়ে গেলে ওর ভেতরে আত্মবিশ্বাস গড়ে উঠবে। জীবনের বড় সিদ্ধান্ত নিতে গেলে এই আত্মবিশ্বাসই তাকে ভরসা দেবে।

২. বাজারে পাঠান

বাজারে দরদাম করা শুধু সবজি কেনার ব্যাপার নয়, এটা হচ্ছে জীবনের প্রথম নেগোসিয়েশন ক্লাস। দাম কমানোর চেষ্টা, বিক্রেতার যুক্তি শোনা, নিজের যুক্তি দাঁড় করানো—এসবের মধ্য দিয়েই শিখবে বোঝাপড়া আর কূটনৈতিক ব্যবহার। সপ্তাহে অন্তত একদিন তাকে বাজারে পাঠান। এতে সাহস, প্র্যাকটিক্যাল বুদ্ধি আর হিসাব শেখার দারুণ অনুশীলন হবে।

৩. অল্প রোজগার করুক

এই বয়সে ছোটখাটো কাজ করে আয় করার অভিজ্ঞতা অমূল্য। সেটা টিউশনি হতে পারে, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ফটোগ্রাফি, কোডিং বা যেকোনো ফ্রিল্যান্স কাজও হতে পারে। সংসারের প্রয়োজনে না হলেও নিজের আয় মানেই টাকার মূল্য বোঝা। আপনি যতবারই বলুন না কেন, টাকা কষ্ট করে আয় করতে হয়—ও আসলেই বুঝবে তখনই, যখন ওর প্রথম আয় হাতে আসবে।

৪. উড়ু উড়ু মনকে বোঝান

আঠারোতে এসে মন অস্থির হবেই। বিপরীত লিঙ্গের প্রতি রোমান্টিক আকর্ষণ তৈরি হবে, স্বপ্ন দেখবে, কখনো অযৌক্তিক সিদ্ধান্তও নিতে চাইবে। এটাকে অস্বীকার করলে চলবে না। খোলামেলা কথা বলুন, বন্ধুর মতো। প্রেম বা সম্পর্ক লজ্জার বিষয় নয়, কিন্তু দিকভ্রান্ত হলে সেটা তার পড়াশোনা, ক্যারিয়ার, মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে। তাই এ বয়সের ঝুঁকিগুলো বুঝিয়ে বলুন—কড়া শাসনে নয়, ভালোবাসায়।

৫. মতামত নিন

পারিবারিক সিদ্ধান্তে তাকে যুক্ত করুন। যেমন—কোথায় ঘুরতে যাবেন, কোন জিনিস কেনা উচিত, এমনকি ব্যবসা বা জমিজমা নিয়েও তার মতামত শুনুন। এতে ওর ভেতরে দায়িত্ববোধ বাড়বে, সিদ্ধান্ত নেওয়ার কৌশল শিখবে, এবং নিজের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে—এই আত্মবিশ্বাসও তৈরি হবে।

৬. মহৎ মানুষের সান্নিধ্যে নিন

সবাই বিখ্যাত মানেই মহৎ নয়। জীবনের সেরা শিক্ষা অনেক সময় সাধারণ কিন্তু অসাধারণ গুণের মানুষের কাছ থেকেই আসে। আপনার জীবনে যারা সততা, মানবিকতা, পরিশ্রমের দৃষ্টান্ত—সেই মানুষদের কাছে নিয়ে যান। হয়তো তিনি গ্রাম্য স্কুলশিক্ষক, হয়তো তিনি আপনার কোনো পুরোনো বন্ধু। কিন্তু তাদের আভা আপনার সন্তানের চরিত্রে আলো জ্বালাতে পারে।

৭. সেরা গল্পগুলো শোনান

রিয়েল লাইফ স্টোরির মতো মোটিভেশন আর কিছু নেই। আপনার জীবনের লড়াই, সাফল্য, ব্যর্থতা, সংগ্রামের গল্প ওকে বলুন। দাদু-দিদার জীবনের অভিজ্ঞতাও শোনাতে পারেন। এই গল্পগুলো তাকে শুধু অনুপ্রাণিত করবে না, জীবনের কঠিন সময়গুলোতে ভরসা হিসেবেও কাজ করবে।

৮. সম্পর্কের ভরসা দিন

আপনার সবচেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধু বা কাছের আত্মীয়ের সাথে তার পরিচয় করিয়ে দিন। যাতে সে জানে, মা-বাবা না থাকলেও কারো কাছে সে আশ্রয় নিতে পারবে। এ সম্পর্কগুলো তার ভবিষ্যতে সুরক্ষার জাল হয়ে দাঁড়াবে।

৯. সমস্যা শেয়ার করুন

সবকিছু গোপন রাখবেন না। পরিবারের কিছু সমস্যা, চ্যালেঞ্জ, কষ্ট তার সাথে ভাগ করে নিন। এতে ও বুঝবে, মা-বাবার জীবনও সংগ্রামের। এই বোঝাপড়া ওকে পরিণত করবে। তবে হ্যাঁ, বলার সীমা বজায় রাখতে হবে—অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে দিলে হতাশা তৈরি হতে পারে।

আঠারো পার করা মানে শুধু ভোট দেওয়ার বয়স নয়, এটা হচ্ছে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর প্রথম ধাপ। মা-বাবা হিসেবে আপনার দায়িত্ব—তার পাশে দাঁড়িয়ে তাকে শেখানো, গাইড করা, আর বিশ্বাস করা যে সে পারবে।

✍️ An Animesh An Animesh

এ কোন প্রজন্মের সঙ্গে আছি আমরা? যাদের হাতে অসীম সম্ভাবনা, কিন্তু মনের ভেতরটা আশ্চর্যভাবে ফাঁকা। এরা স্মার্টফোনে পৃথিবী ঘ...
12/08/2026

এ কোন প্রজন্মের সঙ্গে আছি আমরা? যাদের হাতে অসীম সম্ভাবনা, কিন্তু মনের ভেতরটা আশ্চর্যভাবে ফাঁকা। এরা স্মার্টফোনে পৃথিবী ঘুরে দেখে, কিন্তু নিজের জানালার বাইরের আকাশটা দেখতে ভুলে গেছে। এরা প্রযুক্তিতে দক্ষ, কিন্তু বাস্তব জীবনে অনভ্যস্ত।

এরা কেউ জানে না কোথায় যাচ্ছে, কেন যাচ্ছে, বা আদৌ যেতে চায় কি না। বই পড়ার সময় নেই, কিন্তু স্ক্রল করার সময় আছে। চিন্তা করার অভ্যাস হারিয়েছে, তাই সিদ্ধান্ত নিতেও ভয় পায়। জীবনে কোনও মিশন নেই, কিন্তু রিলসে মিশে আছে সময়ের সিংহভাগ।

রোদে হাঁটতে চায় না, বৃষ্টিতে ভিজতে চায় না। ধুলাবালিতে অ্যালার্জি, ঘামে অস্বস্তি, কষ্টে অরুচি। আধা কিলোমিটার দূরে যাওয়ার জন্য আধা ঘণ্টা রিক্সার অপেক্ষা। শরীরচর্চা, খেলাধুলা, পরিশ্রম—সবই “অপ্রয়োজনীয় কষ্ট” বলে ধরে নিয়েছে। আরামই এদের ধর্ম, শর্টকাটই এদের জীবনদর্শন।

তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো, এরা মানুষে মানুষে সম্পর্ক গড়ার শিল্পটাই হারিয়ে ফেলেছে। সিনিয়রদের প্রতি সম্মান নেই, কথা বলার ভদ্রতা নেই। মুখোমুখি হলে চোখে চোখ রাখে না, অথচ অনলাইনে সাহসী মন্তব্যের ঝড় তোলে। গায়ে ধাক্কা লাগলে “সরি” বলা এদের কাছে দুর্বলতার লক্ষণ। বিনয় আর কৃতজ্ঞতা যেন কোনো পুরনো গল্পের অংশ।

এরা সূর্যোদয় দেখে না, সূর্যাস্তে মোবাইল স্ক্রল করে। ভোর মানে এদের ঘুমের সময়, রাত মানে অনলাইন জীবনের শুরু। সারা দিন ভার্চুয়াল দুনিয়ায় হারিয়ে থেকে, বাস্তব জীবনের প্রতি এদের আগ্রহ প্রায় শূন্য। গাছ, পাখি, নদী, মাঠ—সবই এদের কাছে স্ক্রিনে দেখা দৃশ্য মাত্র।

ইতিহাসের নাম শুনলে বিরক্ত হয়, সাহিত্য মানে একঘেয়েমি। শিল্প, সংগীত, নাটক—এসব তাদের কাছে “অপ্রয়োজনীয়”। বই কেনে না, পড়ে না, পড়লেও বোঝে না। অথচ বইয়ের পাতার ভেতরেই তো একটা জাতির আত্মা লুকিয়ে থাকে। এরা সেই আত্মাকে চিনতে চায় না, কারণ তার জন্য সময় লাগে—আর ধৈর্য তো নেই।

এরা গাছে চড়তে পারে না, সাঁতার জানে না, কিছু আঁকতে পারে না। ভয় এদের একমাত্র স্থায়ী সঙ্গী। কষ্ট পেলেই ভেঙে পড়ে, ব্যর্থতা দেখলেই পিছু হটে। এই প্রজন্ম জানে না লড়াই কাকে বলে, জানে না অধ্যবসায় কেমন লাগে। পরিশ্রমের জায়গায় আছে তাড়াহুড়ো, সাফল্যের জায়গায় আছে প্রদর্শন।

এরা নিজের জগতে বন্দি। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব—এগুলিই তাদের বাস্তবতা। অন্যের সুখে আনন্দ পায় না, নিজের ব্যর্থতায় শেখে না। নিজের মুখোশ এতটাই শক্ত করে বেঁধেছে যে, সত্যিকারের হাসিটা কেমন তা ভুলে গেছে।

শ্রদ্ধা, শৃঙ্খলা, দায়িত্ব—এই শব্দগুলো এদের অভিধানে নেই। কখন চুপ থাকতে হয়, কখন কথা বলতে হয়—এই সহজ জিনিসগুলোও আর শেখানো হয় না। শিক্ষার মানে এখন শুধু নম্বর পাওয়া, মানুষ হওয়া নয়।

তবে সব শেষ হয়নি। এই অস্থিরতার মাঝেও কিছু তরুণ আছে যারা ভাবছে, খুঁজছে, পড়ছে, প্রশ্ন করছে। ওদের মধ্যেই ভবিষ্যতের আলোর রেখা। কারণ প্রতিটি যুগেই কিছু মানুষ থাকে যারা অন্ধকারে আলো জ্বালায়।

তবে এটা অস্বীকার করতে পারি না, এই প্রজন্মকে দোষ দেওয়া সহজ, কিন্তু বোঝানো কঠিন। কারণ তাদের হারিয়ে যাওয়ার পেছনে দায় শুধু তাদের নয়, আমরাও আছি। পরিবার, সমাজ, শিক্ষা—সব জায়গায় আমরা ব্যর্থ হয়েছি মানুষ গড়ার ক্ষেত্রে। এখন দরকার অভিযোগ নয়, অনুপ্রেরণা। তবেই হয়তো এই অস্থির প্রজন্ম একটু শান্ত হবে, আর আমরা আবার মানুষ হয়ে উঠব।

✍️ An Animesh An Animesh

আমরা প্রায়ই নিজেদের জীবন নিয়ে অসন্তুষ্ট থাকি। মনে হয়—“আমার শরীরটা ইচ্ছে মতো নয়”, “আমার কাছে বেশি টাকা নেই”, “আমার জী...
11/08/2026

আমরা প্রায়ই নিজেদের জীবন নিয়ে অসন্তুষ্ট থাকি। মনে হয়—“আমার শরীরটা ইচ্ছে মতো নয়”, “আমার কাছে বেশি টাকা নেই”, “আমার জীবনটা খুবই একঘেয়ে।” অথচ আমরা ভুলে যাই, এই একই জীবন অন্য কারও কাছে স্বপ্নের মতো।

ভাবুন তো, আপনি হয়তো মনে করেন আপনার শরীর আকর্ষণীয় নয়। কিন্তু হুইলচেয়ারে বসা একজন মানুষ হয়তো আপনাকে দেখেই ভাবে—“ইশ, আমি যদি এই লোকটার মতো অন্তত একটু হাঁটতে বা দৌড়াতে পারতাম!” আবার আপনার কাছে হয়তো টাকা কম, কিন্তু আপনার কোনো বন্ধু হয়তো আপনার জীবনকেই ধনী জীবনের প্রতীক হিসেবে দেখে।

প্রকৃতি আমাদের একটি বড় শিক্ষা দেয়। পিঁপড়ের চোখে মানুষ একেবারে দৈত্যাকার প্রাণী। আবার হাতির চোখে মানুষ অতি ক্ষুদ্র—হাতি হয়তো খেয়ালই করবে না, পায়ের নিচে চাপা পড়লেও। একই বাস্তবতাকে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে কতটা আলাদা মনে হয়!

তুলনা হলো সুখের সবচেয়ে বড় শত্রু। যখন আমরা কারো জীবন, সাফল্য, সৌন্দর্য বা সম্পদের সাথে নিজেদের মাপতে শুরু করি, তখনই নিজের ভেতরে শূন্যতা তৈরি হয়। মন বলে—“আমি তো তেমন কিছুই না।” অথচ বাস্তবতা হলো, প্রত্যেক মানুষের জীবনই আলাদা। একজনের যা নেই, সেটিই অন্যজনের কাছে ঈর্ষণীয়।

একটা ছোট্ট উদাহরণ নিন—আপনি হয়তো মনে করেন আপনার চাকরি বোরিং। কিন্তু বেকার একজন যুবক আপনার মতো একটা স্থিতিশীল আয়ের চাকরির স্বপ্নই দেখছে। আবার যে ব্যবসায়ী কোটি টাকা আয় করছে, সে হয়তো আপনার চাকরির নিশ্চিন্ত জীবনের স্বাধীনতাকেই হিংসে করছে।

আমাদের চিন্তাধারা আসলে শক্তির উৎস। আপনি যদি প্রতিদিন জীবনের সমস্যাগুলো নিয়েই ব্যস্ত থাকেন, তবে সেই সমস্যাগুলো আরও বড় হয়ে আপনার সামনে আসবে। কারণ আপনার মন, সময় আর এনার্জি সবকিছুই সেদিকেই চলে যাচ্ছে।

অন্যদিকে, আপনি যদি কৃতজ্ঞতার চর্চা করেন—ছোট ছোট প্রাপ্তি নিয়ে আনন্দ করেন—তাহলে জীবনে শান্তি আসবে। যখনই আপনি বলেন, “আমার জীবন আসলে খারাপ নয়, আমার অনেক কিছুই আছে,” তখন মহাবিশ্ব যেন আরও নতুন আশীর্বাদ দিয়ে আপনাকে পুরস্কৃত করে।

এখানে একটা সহজ অনুশীলন আছে। প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে তিনটি জিনিস লিখে ফেলুন যেগুলোর জন্য আপনি কৃতজ্ঞ। হতে পারে সেটি খুব সাধারণ কিছু—আজকে প্রিয় খাবার খেয়েছেন, একজন বন্ধুর সাথে ভালো সময় কেটেছে, বা পরিবারের কারো কাছ থেকে প্রশংসা পেয়েছেন।

কিছুদিনের মধ্যেই দেখবেন আপনার দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে শুরু করেছে। আপনি হয়তো বুঝবেন, আসলে সুখ মানে বড় কিছু পাওয়া নয়—বরং যা আছে, সেটাকে মূল্য দেওয়া।

অনেক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা ইতিবাচক চিন্তায় অভ্যস্ত, তাদের মানসিক চাপ তুলনামূলকভাবে কম হয়। এমনকি শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপরও এর প্রভাব পড়ে। ইতিবাচক মানুষদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি, ঘুম ভালো হয়, আর সম্পর্কগুলোও টেকসই হয়।

অন্যদিকে, সবসময় নেতিবাচকভাবে চিন্তা করলে হতাশা, উদ্বেগ আর ক্রোধ জীবনের প্রতিটি কোণ দখল করে নেয়। ফলে আমরা শুধু মানসিকভাবেই নয়, শারীরিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হই।

জীবন আসলে নির্ভর করে আমরা কিভাবে দেখি তার ওপর। আপনি চাইলে সমস্যার দিকে তাকিয়ে সারাজীবন হতাশ হতে পারেন। আবার চাইলে প্রাপ্তির দিকে তাকিয়ে প্রতিদিন নতুন আনন্দ খুঁজে নিতে পারেন।

তাই একবার চেষ্টা করে দেখুন—নিজেকে কারো সাথে তুলনা নয়, বরং কৃতজ্ঞতার চোখে নিজের জীবনকে দেখুন। যেখানে মনোযোগ যায়, সেখানেই এনার্জি প্রবাহিত হয়। আপনি যদি সুখে মনোযোগ দেন, তবে মহাবিশ্বও আপনাকে আরও সুখী করার সুযোগ পাঠাবে।

✍️ An Animesh An Animesh

Address

Jaynagar
Kolkata
743337

Telephone

+919932207540

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when An Animesh posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to An Animesh:

Shortcuts

Share