09/03/2026
পরম করুনাময় ভগবান শ্রীকৃষ্ণের অশেষ কৃপা, করুণা ও দয়ায় এবং শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ গোসাঁইর আশীর্বাদে আমাদের দীর্ঘদিনের এক আন্তরিক ইচ্ছা আজ সফলতার আলো দেখেছে। আপনাদের মত অসংখ্য ভক্তবৃন্দ, শুভানুধ্যায়ী এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের আন্তরিক সহযোগিতা, সমর্থন ও উৎসাহে আমরা আমাদের বৈষ্ণব কুলোমণি শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ গোসাঁইর পবিত্র আবির্ভাব তিথি ও তিরোভাব তিথি শ্রী মদনগুপ্তের প্রসিদ্ধ ফুল পঞ্জিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে সক্ষম হয়েছি আমরা। এই মহৎ উদ্যোগটি কেবল একটি তারিখ সংযোজন নয়, বরং আমাদের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য, ভক্তি, বিশ্বাস ও গুরুপরম্পরার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদনের এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।
এই শুভ উদ্যোগ বাস্তবায়নের পেছনে অসংখ্য মানুষের আন্তরিক শ্রম, নিষ্ঠা ও সহযোগিতা রয়েছে। সর্বপ্রথম আমরা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি ফুল পঞ্জিকা কর্তৃপক্ষের প্রতি। তারা অত্যন্ত আন্তরিকতা, সৌজন্যতা ও শ্রদ্ধার সঙ্গে আমাদের প্রস্তাবিত বিষয়টি গ্রহণ করেছেন। তাদের সুন্দর ব্যবহার ও সহযোগিতামূলক মনোভাব আমাদেরকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। আমাদের আবেদনের গুরুত্ব উপলব্ধি করে তারা কথা অনুযায়ী এই পবিত্র তিথিদ্বয়কে ফুল পঞ্জিকায় স্থায়ীভাবে অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের বিষয়। এজন্য আমরা ফুল পঞ্জিকা কর্তৃপক্ষের নিকট আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।
এছাড়াও আমরা গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি সেই সকল ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীদের, যারা এই মহৎ কাজে আর্থিকভাবে সাহায্য ও সমর্থন প্রদান করেছেন। তাদের আন্তরিক দান ও সহযোগিতা না থাকলে এই উদ্যোগকে বাস্তবে রূপ দেওয়া এত সহজ হতো না। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কৃপায় এবং গুরুদেবের আশীর্বাদে তাদের এই মহান অবদান আমাদের সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
শুধু আর্থিক সহযোগিতাই নয়, অনেকেই তাদের মহামূল্যবান সময়, পরামর্শ, পরিশ্রম ও বিভিন্নভাবে সহায়তা করেছেন। কেউ সংগঠনের কাজে যুক্ত ছিলেন, কেউ প্রয়োজনীয় যোগাযোগ স্থাপন করেছেন, কেউ আবার নীরবে পর্দার আড়ালে থেকে এই উদ্যোগকে সফল করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। প্রত্যেকের অবদান আমাদের কাছে অমূল্য এবং আমরা সকলের প্রতিই গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
এই মহৎ কাজে যাঁরা বিশেষভাবে এগিয়ে এসে আমাদের অনুপ্রাণিত করেছেন ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে সর্বপ্রথম শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি পূজ্জ্বনীয় শ্রী শ্রী শ্রীহরি গোসাঁই (বড় আখড়া, চন্ডিপুর) মহাশয়কে। তাঁর আধ্যাত্মিক প্রেরণা, আশীর্বাদ ও নির্দেশনা আমাদের এই উদ্যোগকে শক্ত ভিত্তি প্রদান করেছে। একইভাবে আমরা কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি শ্রী শ্রী সাধন দাস বৈষ্ণব (ঢাকা আখড়া)-এর প্রতি, যিনি সর্বদা আমাদের উৎসাহিত করেছেন এবং এই কাজের প্রতি গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
শ্রদ্ধানীয় শ্রী উপেন্দ্র বৈষ্ণব (মৌগ্রাম বিশিষ্ট কীর্তনীয়া) মহাশয়ের অবদানও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তাঁর অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতা আমাদের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান। একইভাবে সম্মানীয় শ্রী রামানন্দ বৈষ্ণব (ধীরেন) মহাশয়, যিনি BSUP-এর উপদেষ্টা এবং পরিষদের প্রাক্তন সভাপতি, তিনি আমাদের এই উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন এবং সর্বদা উৎসাহ প্রদান করেছেন।
আমরা আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি মাননীয় শ্রী ভূপেন্দ্র বৈষ্ণব মহাশয়কে, যিনি BSUP-এর বর্তমান সভাপতি হিসেবে এই উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে সমর্থন করেছেন। একইভাবে শ্রী বলরাম বৈষ্ণব মহাশয়, বৈষ্ণব সমাজ উন্নয়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এই মহৎ কাজে গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করেছেন।
এছাড়াও যাঁরা বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন তাঁদের প্রতিও আমরা গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সর্বশ্রী অগ্নি বৈষ্ণব (ব্যবসায়ী), অরবিন্দু বৈষ্ণব (ব্যবসায়ী), জয়লাল বৈষ্ণব (ব্যবসায়ী), অরুন কুমার বৈষ্ণব (ব্যবসায়ী), স্বর্গীয় অভিমোহন বৈষ্ণব, রাহুল বৈষ্ণব (আন্তর্জাতিক এনজিও সদস্য), শচীন্দ্র বৈষ্ণব (শিক্ষক, কলেজরোড কালাইন), মাধব বৈষ্ণব (শিক্ষক, মৌগ্রাম), রামকৃষ্ণ বৈষ্ণব (বলাই) ব্যবসায়ী, গুমড়া বাজার, তপন বৈষ্ণব (ব্যবসায়ী), অনিমেষ বৈষ্ণব (যুব ব্যবসায়ী, শিলচর), প্রমোদলাল বৈষ্ণব (কিংকর) চিকিৎসক, খোকনলাল বৈষ্ণব (রাজা) ব্যবসায়ী, কালাইন বাজার, শৈলেন বৈষ্ণব (ব্যবসায়ী) এবং নিপেশ বৈষ্ণব (পঞ্চায়েত সদস্য, শিবনগর)।
তাঁদের প্রত্যেকের সহযোগিতা, আন্তরিকতা ও উৎসাহ আমাদের এই উদ্যোগকে সফলতার পথে এগিয়ে নিয়ে গেছে। আমরা বিশ্বাস করি, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ গোসাঁইর পবিত্র জীবন, আদর্শ ও ভক্তিধারার সঙ্গে আরও গভীরভাবে পরিচিত হতে পারবে।
পরিশেষে আমরা আবারও পরম করুনাময় ভগবান শ্রীকৃষ্ণের চরণে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি এবং প্রার্থনা করি যেন তাঁর অশেষ কৃপা ও আশীর্বাদ আমাদের সকলের উপর বর্ষিত হয়। একইসঙ্গে গুরুদেব শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ গোসাঁইর চরণে প্রণাম জানিয়ে আমরা কামনা করি, তাঁর পবিত্র নাম, লীলা ও আদর্শ যুগ যুগ ধরে ভক্ত হৃদয়ে জাগ্রত থাকুক এবং আমাদের সমাজকে আধ্যাত্মিক পথে পরিচালিত করুক।
সকলের প্রতি আবারও আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।
হরিনাম সংকীর্তনের মাধ্যমে ভগবানের মহিমা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ুক—এই কামনাই রইল।
হরে কৃষ্ণ। 🙏